রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের সুবাদে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশের গ্রস রিজার্ভ এখন ৩৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে উন্নীত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯.৮১ বিলিয়ন ডলার। মাত্র দুদিন আগে, ১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪.২৫ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ছিল ২৯.৬১ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ মাত্র দুদিনের ব্যবধানে রিজার্ভ আরও কিছুটা বেড়েছে। সদ্যসমাপ্ত মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসায় এই রিজার্ভ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং আমদানি ব্যয় মেটানো অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা থামছেই না। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল), সারাদেশে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর ১৫ এপ্রিলের নির্ধারিত নতুন দামেই স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে। আপনি যদি বিয়ের গয়না কেনা বা এই খাতে বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তবে আজকের সর্বশেষ রেটটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সর্বশেষ বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। আজকের স্বর্ণের দাম: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ নিচে আজকের বাজারের সর্বশেষ দরের তালিকা দেওয়া হলো: ২২ ক্যারেট: ২,৫০,১৯৩ টাকা (প্রতি ভরি) ২১ ক্যারেট: ২,৩৮,৮২০ টাকা (প্রতি ভরি) ১৮ ক্যারেট : ২,০৪,৭০৩ টাকা (প্রতি ভরি) সনাতন পদ্ধতি : ১,৬৬,৭৩৭ টাকা (প্রতি ভরি) দেখুনঃ সোনার দামের সর্বশেষ আপডেট স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কিছুটা বাড়তি। আজ ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬০৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫,৭৭৪টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪,৯৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (বিশুদ্ধ সোনা) সংকট দেখা দেওয়ায় বাজুস গত ১৫ এপ্রিল এই নতুন দাম ঘোষণা করে, যা আজ ১৭ এপ্রিলও কার্যকর রয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে আমাদের দেশের বাজারে। আপনারা যারা আজ স্বর্ণ কেনার কথা ভাবছেন, তারা দোকানে গিয়ে দামের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। কারণ গয়না কেনার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং নূন্যতম ৬% মজুরি যুক্ত করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়। নির্ভরযোগ্য এবং হলমার্ক করা দোকান থেকে স্বর্ণ কেনাই আপনার জন্য নিরাপদ হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ই-ভ্যাট সিস্টেমে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আরও নয় দিন বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি এবং ই-ভ্যাট সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে সৃষ্ট প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা মাথায় রেখে জনস্বার্থে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা ১ক অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ব্যবসায়ী মহলে এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নববর্ষের ছুটিতে অনেক ব্যবসায়ী ও হিসাবরক্ষক অফিসে ছিলেন না। তার ওপর ই-ভ্যাট সিস্টেমে প্রযুক্তিগত জটিলতা তো ছিলই। এখন অতিরিক্ত নয় দিন সময় পাওয়ায় রিটার্ন প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া সহজ হবে। এনবিআর নতুন সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে।
দেশে এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের কোনো সরবরাহ সংকট তৈরি হয়নি বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সাথে তিনি জানিয়েছেন, উচ্চমূল্যে তেল কিনে সরবরাহ সচল রাখার এই ধারা দীর্ঘদিন টেকানো কঠিন, তাই সরকারি তহবিল ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানির দাম নিয়ে শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে। শুক্রবার চট্টগ্রামে একটি স্কলারশিপ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর গভীর আঘাত করেছে। বাংলাদেশ তার জ্বালানির একটি বড় অংশ ওই অঞ্চল থেকে আমদানি করে, তাই এই প্রভাব এখানেও অনিবার্যভাবে এসে পড়েছে। সরকার বাড়তি দামে বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে দেশের সরবরাহ চেইন সচল রেখেছে। সরকারি তহবিলে চাপ কমাতে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জ্বালানি ব্যবহারে ৩০ শতাংশ রেশনিং কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। আমির খসরু বলেন, 'জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে কোনো আপস করার সুযোগ নেই।' তিনি আরও জানান, এই সংকট বাংলাদেশের একার নয়, আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ একই চাপে রয়েছে। পুঁজিবাজার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিনির্ভর বিনিয়োগকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .