১৬ এপ্রিল, ২০২৬
১৫ এপ্রিল, ২০২৬
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
৭ এপ্রিল, ২০২৬
৪ এপ্রিল, ২০২৬
৪ এপ্রিল, ২০২৬
মতামত
প্রতিহিংসা ও বিভাজন পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও আমাদের মধ্যকার বিরোধ যেন কখনোই শত্রুতায় রূপ না নেয়। কারণ জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি এবং বিভাজনই আমাদের দুর্বলতা। দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সক্রিয় উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। বিশেষ করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুণীজনদের এই অবিস্মরণীয় অবদান আগামীর প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হীন দলীয় স্বার্থে জাতীয় নেতাদের ভূমিকা খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই; বরং ঐতিহাসিক সত্য মেনে নেওয়াটাই হবে প্রকৃত দেশপ্রেম। সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে বিপর্যস্ত একটি শাসনকাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং বাস্তবমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। এছাড়া দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জুলাই সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার জ্বালানি খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যতা বর্জন এবং পারিবারিক পর্যায়েও অমিতব্যয়িতা পরিহার করার জন্য দেশবাসীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এক অন্যরকম দৃশ্য দেখা যায়, যখন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে পৌঁছান। এসময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছার জবাব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিরোধী দলীয় নেতা এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন। বাসস / এস এস
হজযাত্রীদের জন্য সুখবর এলো ধর্মমন্ত্রীর কাছ থেকে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে হজের খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান প্রশ্ন রেখে জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার হজ পালনে খরচ কমানোর লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা। এর উত্তরে ধর্মমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ পরিশোধও সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে।, তবে আশার কথা হলো, মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা এবং চাহিদার ভিত্তিতে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের খরচের চাপ কমতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। -
দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরের সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এবং দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি জেলার মানুষ এই বিশেষ কার্ডের সুবিধা পাবেন। জেলাগুলো হলো— খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী। এই কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি খাল খনন ও নদী সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী জুন ২০২৬ সালের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রায় ২৭০০ কিলোমিটার খাল খনন ও সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো আগামী ৫ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন করা, যা কৃষি ও পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনবে। পরিবেশ রক্ষায় সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যার মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ চারা এখনই রোপণের জন্য তৈরি আছে। শুধু পরিবেশ নয়, শিক্ষাখাতেও আসছে বড় চমক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলগুলোতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এছাড়া ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসায় আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় বড় খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আইসিটি খাতের উন্নয়নে এবং বাংলাদেশে দ্রুত ‘পেপাল’ (PayPal) সেবা চালুর জন্য এরই মধ্যে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা এবং ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় ঋণের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতেও আসছে বড় পরিবর্তন। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বেকারদের জন্য বড় খবর হলো, সরকার মোট ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কর্মসংস্থান—সব খাতেই একগুচ্ছ নতুন সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে এক কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সভা, কর্মশালা কিংবা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে হবে। যানবাহন চলাচলে জ্বালানি খরচ কমানোর লক্ষ্যেই মূলত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি মাথায় রেখে দেশে জ্বালানি তেলের সাশ্রয় করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে সরকারি কার্যক্রম যেন কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে আয়োজিত যেকোনো প্রোগ্রামে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের সশরীরে আসার প্রয়োজন পড়বে না। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভাগীয় পর্যায়ের কোনো প্রোগ্রামে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের কোনো প্রোগ্রামে উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনের মাধ্যমেই যুক্ত হবেন। অর্থাৎ, বড় কোনো প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে সভা আয়োজন পুরোপুরি পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি যানবাহনের পেছনে জ্বালানি খরচ অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। সরকারের এই উদ্যোগটি মূলত আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি বড় ধাপ। এখন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং বা জুম-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই অফিশিয়াল কাজগুলো সেরে নিতে হবে। তবে যদি কোনো সভা বা প্রশিক্ষণ সশরীরে আয়োজন করা একান্তই জরুরি হয়ে পড়ে, তবেই কেবল বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে তা করা যাবে। অন্যথায়, সাধারণ সব কার্যক্রম অনলাইনেই সম্পন্ন করতে হবে যাতে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একদিকে যেমন জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে কর্মকর্তাদের সময়ও বাঁচবে এবং সরকারি কাজে আরও গতিশীলতা আসবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এটি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ই-ভ্যাট সিস্টেমে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আরও নয় দিন বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি এবং ই-ভ্যাট সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে সৃষ্ট প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা মাথায় রেখে জনস্বার্থে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা ১ক অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ব্যবসায়ী মহলে এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নববর্ষের ছুটিতে অনেক ব্যবসায়ী ও হিসাবরক্ষক অফিসে ছিলেন না। তার ওপর ই-ভ্যাট সিস্টেমে প্রযুক্তিগত জটিলতা তো ছিলই। এখন অতিরিক্ত নয় দিন সময় পাওয়ায় রিটার্ন প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া সহজ হবে। এনবিআর নতুন সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে।
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবর আসার পরেও খুচরা বাজারে দাম কমেনি। পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। অর্থাৎ এখনো আগের দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ফলে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। আজ রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনো কেজিপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অথচ পাইকারি বাজারে দাম কমে এসেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবর পাওয়ার পর ক্রেতারা আশা করেছিলেন দাম কমবে। কিন্তু বাজারে সেই প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানির ফলে পাইকারি বাজারে দাম কেজিপ্রতি ৩০থেকে ৪০ টাকা কমেছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা এখনো আগের দামেই বিক্রি করছেন। এর আসল কারন এখনো ভোক্তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়, এবং ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে আমদানি শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ৫০ আইপি (আমদানি অনুমতি পত্র) ইস্যু করা হচ্ছিল যার প্রতিটি ৩০ টন পর্যন্ত পেয়াজ আমদানির অনুমতি ছিল। মতিঝিল এলাকার একজন ক্রেতা জানান, গত কয়েক দিন ধরে পেঁয়াজের দাম একই আছে। আমদানির খবর শুনে ভেবেছিলাম দাম কমবে, কিন্তু বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। মিরপুর এলাকার একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজার থেকে তারা এখনো আগের দামেই পেঁয়াজ কিনছেন। তাই খুচরা দামও কমানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানি শুরু হওয়ার পর পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা নরম হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি বাড়লে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে খুচরা পর্যায়েও দাম কমবে। তবে সেজন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে। এদিকে সাধারণ ক্রেতারা দ্রুত দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
ব্যাংক এশিয়া পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আবারো প্রকাশ করেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যাংক এশিয়া অডিট অফিসিয়াল থেকে ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। ব্যাংক এশিয়া চাকরির আবেদন শুরু হয়েছে ১০ ডিসেম্বর থেকে এবং শেষ তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এক নজরে ব্যাংক এশিয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫ বিষয় বিস্তারিত তথ্য ব্যাংকের নাম ব্যাংক এশিয়া পিএলসি (Bank Asia PLC) পদের নাম অডিট অফিসিয়াল (Audit Official) থেকে ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (First Vice President) মোট পদ সংখ্যা নির্দিষ্ট নয় চাকরির ধরন স্থায়ী/ফুলটাইম চাকরির ক্যাটাগরি ব্যাংক জব, সরকারি ব্যাংক চাকরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ আবেদনের শুরু ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ আবেদনের শেষ তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ আবেদনের মাধ্যম অনলাইন (bdjobs.com) কর্মস্থল ঢাকা ব্যাংক এশিয়া অডিট অফিসিয়াল নিয়োগ - শিক্ষাগত যোগ্যতা যোগ্যতার ধরন বিস্তারিত বিবরণ শিক্ষাগত যোগ্যতা অডিটিং/ব্যাংকিং/ফিন্যান্স/একাউন্টিং বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর কর্ম অভিজ্ঞতা ন্যূনতম ৩ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা (আর্টিকেলশিপ সহ) অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র অডিটিং, জেনারেল ব্যাংকিং, কাস্টমার সার্ভিস, ক্রেডিট অপারেশন, ফরেন ট্রেড, অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং বয়স সীমা পদ অনুযায়ী ব্যাংক এশিয়া চাকরি ২০২৫ - অতিরিক্ত যোগ্যতা ও দক্ষতা অডিটিং, জেনারেল ব্যাংকিং, ক্রেডিট অপারেশন বা ফরেন ট্রেড সেক্টরে ন্যূনতম ৩ থেকে ১৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রার্থীদের IFRS-9, BASEL-III, রিস্ক বেসড সুপারভিশন এবং স্ট্রেস টেস্টিং সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এছাড়া MS Office ব্যবহারে দক্ষতা এবং ইংরেজিতে চমৎকার লিখিত ও মৌখিক যোগাযোগ দক্ষতা আবশ্যক। কর্মস্থল ও চাকরির বিবরণ কর্মস্থল: ঢাকা (ব্যাংক এশিয়া টাওয়ার, কারওয়ান বাজার) চাকরির ধরন: ফুলটাইম/স্থায়ী কর্ম এলাকা: ব্যাংকের সকল শাখা, বিভাগ ও সহায়ক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে (যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পদ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে) সুবিধাদি: নির্বাচিত প্রার্থীরা ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক বেতন, উৎসব বোনাস (বছরে দুইবার), প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, চিকিৎসা সুবিধা, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং কর্মী ঋণ সুবিধাসহ আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আরো দেখুন নিয়োগ দিচ্ছে মিডল্যান্ড ব্যাংক আবেদন শেষ ১১ই জানুয়ারি প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা ব্যাংকিং অডিট বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ৩-১৫ বছরের অভিজ্ঞতা IFRS-9, BASEL-III, রিস্ক বেসড সুপারভিশন সম্পর্কে জ্ঞান MS Office ও অডিট সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষতা ইংরেজিতে চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা (মৌখিক ও লিখিত) শক্তিশালী বিশ্লেষণাত্মক ও সমস্যা সমাধান ক্ষমতা 📌 চাকরি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও কাজের বিবরণ বিস্তারিত দেখুন ব্যাংক এশিয়া চাকরি ২০২৫ - আবেদনের আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ব্যাংক এশিয়া একটি সমান সুযোগের নিয়োগদাতা (Equal Opportunity Employer) শুধুমাত্র শর্টলিস্টেড/যোগ্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যেকোনো আবেদন গ্রহণ/বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করে যোগ্য প্রার্থীদের ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী আকর্ষণীয় বেতন প্রদান করা হবে ব্যাংক এশিয়া জব এপ্লাই ২০২৫ - আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা বিডিজবস ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সরাসরি আবেদন করতে: এখানে ক্লিক করুন আবেদনের সময়সূচী: বিবরণ তারিখ আবেদন শুরু ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ আবেদনের শেষ তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ আবেদনের মাধ্যম অনলাইন (শুধুমাত্র bdjobs.com) সতর্কতা: দেরিতে বা অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অথচ এই রোগটি নিয়ে আমাদের সমাজে এমন কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা শিশুর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময় আধুনিক চিকিৎসার বদলে কবিরাজি বা কুসংস্কারের ওপর ভরসা করায় শিশুর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নিই হাম নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্য। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হলো, হাম হলে শিশুকে গোসল করানো যাবে না। অনেকে মনে করেন শরীর ভেজালে হামের গুটি ভেতরে বসে যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। হাম হলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তাই কুসুম কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছিয়ে দেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শে গোসল করানো অত্যন্ত জরুরি। শরীর পরিষ্কার না রাখলে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আরেকটি প্রচলিত ভুল বিশ্বাস হলো, হাম হলে শিশুকে মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ানো যাবে না। বলা হয় এসব খাবার খেলে রোগ বাড়ে। বাস্তবতা হলো, হামের সময় শিশু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়ে শিশুকে আরও বেশি করে প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন যাতে সে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে। গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেকে মনে করেন হাম বা 'বসন্ত' কোনো দৈব ঘটনা, তাই এর জন্য ঝাড়ফুঁক বা নিমপাতা দিয়ে শরীর ঝাড়ানোই যথেষ্ট। এই কুসংস্কারের কারণে অনেক বাবা-মা শিশুকে হাসপাতালে নিতে দেরি করেন। মনে রাখবেন, হাম থেকে নিউমোনিয়া, ব্রেইন ইনফেকশন বা অন্ধত্বের মতো ভয়াবহ সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুর শরীরে লালচে দানা বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে কোনো কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আরো পড়ুনঃ হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে? অনেকে মনে করেন একবার হামের টিকা দিলে আর কখনোই হাম হবে না, তাই দ্বিতীয়বার টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি বড় ভুল। শিশুদের সুরক্ষার জন্য হামের দুটি ডোজই পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজটি না দিলে শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা তৈরি হয় না। তাই সরকারি টিকা কার্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা নিশ্চিত করুন। পরিশেষে, হাম কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আপনার অবহেলা বা ভুল বিশ্বাসের কারণে শিশুর বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ান এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে আপনার শিশুর জীবন বাঁচাতে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। দেশটির সারাওয়াক রাজ্য সরকার নীতিগতভাবে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তাদের সম্মতি জানিয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রী আবাং হাজি আবদুল রহমান জোহারির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত উঠে আসে। সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন কৃষি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোতেও বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। হাইকমিশনার বাংলাদেশের বিশাল ও দক্ষ মানবসম্পদ এবং কৃষিখাতের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে জানান যে, দক্ষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণির শ্রমিক সরবরাহের মাধ্যমে সারাওয়াকের উন্নয়নে বাংলাদেশ আরও বড় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। বৈঠকের অন্যতম প্রধান দিক ছিল শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা। এছাড়া কৃষি খাতে সহযোগিতা এবং সৌরশক্তিসহ সবুজ প্রযুক্তি বিনিময়ের জন্য আলাদা আরেকটি এমওইউ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুই পক্ষ। সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাদের অঞ্চলের উন্নয়ন কৌশলে কৃষি ও নির্মাণ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে বাংলাদেশিদের অবদান অনস্বীকার্য। এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনার এই ফলাফলগুলো দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন। এর ফলে শুধু যে শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হবে তা নয়, বরং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে পুনরায় 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এই দিনটিকে 'ক-শ্রেণি' ভুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পুনরায় সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে পূর্বের ন্যায় 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও জানান, "বিগত ১৬ বছর এই দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এখন থেকে এটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।" ঐতিহাসিক ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অনন্য অধ্যায় রচিত হয়েছিল। সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখতেই সরকার এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আধিপত্যবাদ ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ এক নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ দেড় যুগ পর বর্তমান সরকার সেই ছুটি ও দিবসের মর্যাদা পুনর্বহাল করলো। মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রতি বছরের ৬ জুলাইকে 'জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | রাত ১১:২০
আবারো বেড়েছে দেশের রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে। ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব করলে এই চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর নির্ধারিত ‘বিপিএম-৬’ পদ্ধতি অনুসরণ করে বর্তমানে বাংলাদেশের নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০.৩৭ বিলিয়ন ডলারে। সাধারণত আমদানিসহ বিভিন্ন দায় মেটানোর সক্ষমতা যাচাইয়ে আইএমএফ-এর এই নিট রিজার্ভের হিসাবটিকেই বিশ্বব্যাপী বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বর্তমানে সারাদেশে শিক্ষকতা পেশায় আলোচনার তুঙ্গে হল জাতীয় পে স্কেল ২০২৫ বাস্তবায়ন। আর এই আদেশ অনুযায়ী এবং বর্তমান প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা কেমন অনেকেই জানে না। অনেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই প্রশ্নটা ঠিকমতো জেনে নেন না, পরে হতাশ হন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বেতনকাঠামো আসলে নির্দিষ্ট, শুধু পদ বুঝে হিসাবটা মেলাতে হবে। চলুন দেখে আসি এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত। এমপিও মানে হলো Monthly Payment Order। বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মোতাবেক বেতন পান। প্রতি মাসে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি অংশ পরিশোধ করা হয়। এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত? বর্তমানে একজন নতুন প্রভাষকের মূল বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে, যা নবম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। সহকারী অধ্যাপকেরা ষষ্ঠ গ্রেডে পান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। আর অধ্যক্ষদের বেতন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মূল বেতনের সাথে যোগ হয় বাড়িভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। উৎসব ভাতা হিসেবে এখন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দুই ঈদে দুটি ভাতা পেয়ে থাকেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা, এছাড়া বৈশাখী ভাতাও আছে। ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি কলেজের এক প্রভাষক জানিয়েছেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভেবেছিলেন বেতন আরও বেশি হবে। পরে বুঝেছেন, মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মাস শেষে হাতে যা আসে সেটা দিয়ে ঢাকায় সংসার চালানো বেশ কষ্টকর। এবার আসা যাক সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে। নবম পে স্কেল ২০২৫ নিয়ে শিক্ষক মহলে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনায় জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট গত অক্টোবরে পে কমিশনের সাথে মতবিনিময়ে তাদের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করতে হবে। প্রস্তাবিত গ্রেড অনুযায়ী একজন প্রভাষকের জন্য গ্রেড-৯-এ ৫৫ হাজার, সহকারী অধ্যাপকের গ্রেড-৬-এ ৮০ হাজার এবং অধ্যক্ষের জন্য গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের প্রস্তাবিত ১০ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ হারে দেওয়া, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমপরিমাণ করা এবং অবসর ফান্ডের টাকা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন পে স্কেলেও বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আশঙ্কা আছে। সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা নতুন পে স্কেলে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যেখানে এমপিও শিক্ষকরা এখনো মাত্র ৫০০ টাকা পাচ্ছেন। পে কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা অপেক্ষায় আছেন, এবার অন্তত একটা সম্মানজনক বেতন কাঠামো মিলবে কিনা।
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | দুপুর ১২:৬
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দলটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিজীবী রয়েছেন। তাদের বেতন স্কেল সর্বশেষ বৃদ্ধি পেয়েছিল প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে। অথচ গত এক দশকে ৫০ শতাংশেরও বেশি মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে এবং জীবনযাপনের নানামুখী ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি বর্তমান জীবনমান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দ্রুততম সময়ে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় সরকারি খাতের এই বিপুল সংখ্যক চাকরিজীবী ও তাদের পরিবার বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি বেতনের অন্তর্ভুক্ত চাকরিজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৪৮টি সভা ও মতামত গ্রহণের মাধ্যমে গত ২১ জানুয়ারি ৯ম বেতন কমিশনের প্রস্তাব প্রদান করেছে। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ে শুরু থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টি সোচ্চার ছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু থেকেই বিভিন্ন পেশাজীবীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিল। ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের আন্দোলনেও সরকারি বেতনভুক্ত চাকরিজীবীদের আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
হজযাত্রীদের জন্য সুখবর এলো ধর্মমন্ত্রীর কাছ থেকে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে হজের খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান প্রশ্ন রেখে জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার হজ পালনে খরচ কমানোর লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা। এর উত্তরে ধর্মমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ পরিশোধও সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে।, তবে আশার কথা হলো, মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা এবং চাহিদার ভিত্তিতে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের খরচের চাপ কমতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। -
দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অথচ এই রোগটি নিয়ে আমাদের সমাজে এমন কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা শিশুর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময় আধুনিক চিকিৎসার বদলে কবিরাজি বা কুসংস্কারের ওপর ভরসা করায় শিশুর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নিই হাম নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্য। সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হলো, হাম হলে শিশুকে গোসল করানো যাবে না। অনেকে মনে করেন শরীর ভেজালে হামের গুটি ভেতরে বসে যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। হাম হলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়, তাই কুসুম কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছিয়ে দেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শে গোসল করানো অত্যন্ত জরুরি। শরীর পরিষ্কার না রাখলে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আরেকটি প্রচলিত ভুল বিশ্বাস হলো, হাম হলে শিশুকে মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ানো যাবে না। বলা হয় এসব খাবার খেলে রোগ বাড়ে। বাস্তবতা হলো, হামের সময় শিশু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়ে শিশুকে আরও বেশি করে প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন যাতে সে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে। গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেকে মনে করেন হাম বা 'বসন্ত' কোনো দৈব ঘটনা, তাই এর জন্য ঝাড়ফুঁক বা নিমপাতা দিয়ে শরীর ঝাড়ানোই যথেষ্ট। এই কুসংস্কারের কারণে অনেক বাবা-মা শিশুকে হাসপাতালে নিতে দেরি করেন। মনে রাখবেন, হাম থেকে নিউমোনিয়া, ব্রেইন ইনফেকশন বা অন্ধত্বের মতো ভয়াবহ সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুর শরীরে লালচে দানা বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে কোনো কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আরো পড়ুনঃ হাম কি আবার মহামারি হতে যাচ্ছে? অনেকে মনে করেন একবার হামের টিকা দিলে আর কখনোই হাম হবে না, তাই দ্বিতীয়বার টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি বড় ভুল। শিশুদের সুরক্ষার জন্য হামের দুটি ডোজই পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজটি না দিলে শরীরে পর্যাপ্ত সুরক্ষা তৈরি হয় না। তাই সরকারি টিকা কার্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা নিশ্চিত করুন। পরিশেষে, হাম কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আপনার অবহেলা বা ভুল বিশ্বাসের কারণে শিশুর বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ান এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে আপনার শিশুর জীবন বাঁচাতে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। ২০১৫ সালের পর দশ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন বেতন কাঠামো ঘোষিত হয়নি। বিভিন্ন সংগঠনের দাবি ও প্রস্তাবনার আলোকে নবম বা নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে? কী কী প্রস্তাব এসেছে, সুযোগ-সুবিধা এবং গ্রেড সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান প্রস্তাবগুলো হলো: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের প্রস্তাব সর্বনিম্ন বেতন: ৩৫,০০০ টাকা (বর্তমান ৮,২৫০ টাকা) সর্বোচ্চ বেতন: ১,৪০,০০০ টাকা (বর্তমান ৭৮,০০০ টাকা) গ্রেড সংখ্যা: ২০টি থেকে কমিয়ে ১২টি করার সুপারিশ এই প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৪ গুণ এবং সর্বোচ্চ বেতন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের প্রস্তাব সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৩২,০০০ টাকা সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,২৮,০০০ টাকা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি পে কমিশনের সুপারিশে প্রত্যাশিত বেতন একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, পে কমিশন সুপারিশে: সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২৫,০০০ টাকা সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৫০,০০০ টাকা গ্রেড সংখ্যা কমানো এবং বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ৩০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাবে: প্রথম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন: ২,৩৪,০০০ টাকা দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন: ১,৮৮,০০০ থেকে ২,৪০,৬৭০ টাকা তৃতীয় গ্রেডের বেতন: ১,৮০,০০০ থেকে ২,২৫,৩৫০ টাকা তবে সচিবরা ৩-৪ গুণ বেতন বৃদ্ধির এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেননি। তারা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রস্তাবিত সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা বৃদ্ধি নবম পে স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে: বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রস্তাবিত হার: মূল বেতনের ৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত (পদভেদে) কর্মচারী সংগঠনগুলো ২০% এর নিচে বাড়ি ভাড়া মানতে রাজি নয় বর্তমানে অনেক গ্রেডে মাত্র ৫-১০% বাড়ি ভাড়া রয়েছে চিকিৎসা ভাতা প্রস্তাবিত: ৩,০০০ টাকা (বর্তমান ১,৫০০ টাকা) বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয়ের দাবি শিক্ষা ভাতা প্রস্তাবিত: ২,০০০ টাকা সন্তানদের শিক্ষা খরচের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুপারিশ ধোলাই ভাতা প্রস্তাবিত: ১,০০০ টাকা বর্তমান খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ অস্থায়ী মহার্ঘ ভাতা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আগে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৫০% মহার্ঘ ভাতা চালুর দাবি উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই দাবি জোরদার হচ্ছে। গবেষণা অনুদান (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবে: অধ্যাপক: ১০ লাখ টাকা বার্ষিক সহযোগী অধ্যাপক: ৫ লাখ টাকা সহকারী অধ্যাপক: ৩ লাখ টাকা প্রভাষক: ২ লাখ টাকা পেনশন সুবিধা নিম্ন বেতনভোগীদের জন্য ১০০% পেনশন চালুর দাবি পেনশন গ্রাচুইটি হার ১ টাকা = ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব গ্রেড সংস্কার: সুবিধা ও অসুবিধা নবম পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এর সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ: বর্তমান পরিস্থিতি বর্তমান গ্রেড সংখ্যা: ২০টি প্রথম থেকে দশম গ্রেড: কর্মকর্তা পর্যায় একাদশ থেকে বিংশ গ্রেড: কর্মচারী পর্যায় গ্রেড কমানোর সুবিধা ১. বেতন বৈষম্য হ্রাস: গ্রেড কম হলে বেতনের পার্থক্য যৌক্তিক হবে ২. পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি: কম গ্রেডে পদোন্নতি দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা ৩. প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস: কম গ্রেড মানে সহজ বেতন কাঠামো ৪. সমতা প্রতিষ্ঠা: উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে ব্যবধান কমবে গ্রেড কমানোর সম্ভাব্য অসুবিধা ১. পদের স্বল্পতা: কম গ্রেডে একই পদে বেশি কর্মচারী থাকলে পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে ২. পুনর্বিন্যাস জটিলতা: বর্তমান কর্মচারীদের নতুন গ্রেডে স্থাপন জটিল হবে ৩. বিশেষায়িত পদের সমস্যা: কিছু বিশেষায়িত পদের গ্রেড নির্ধারণে জটিলতা প্রস্তাবিত গ্রেড কাঠামো বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাব: ১২ গ্রেড: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন ১৬ গ্রেড: কিছু সূত্রে ১৬ গ্রেডের কথা উল্লেখ রয়েছে ১০ গ্রেড: কিছু কর্মচারী সংগঠন মাত্র ১০টি গ্রেডের পক্ষে গ্রেড ভিত্তিক বেতন পার্থক্যের প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের ১২ গ্রেড প্রস্তাবে: ১ম থেকে ২য় গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ২য় থেকে ৩য় গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৩য় থেকে ৪র্থ গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৪র্থ থেকে ৫ম গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড: ৫,০০০ টাকা করে কমছে ৯ম থেকে ১০ম গ্রেড পার্থক্য: ১০,০০০ টাকা ১০ম থেকে ১১তম গ্রেড পার্থক্য: ৮,০০০ টাকা ১১তম থেকে ১২তম গ্রেড পার্থক্য: ৭,০০০ টাকা এই কাঠামোতে উচ্চ গ্রেডে বেশি পার্থক্য এবং নিম্ন গ্রেডে কম পার্থক্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান বেতন ব্যবস্থার সমস্যা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়। পূর্বে: ৪ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড ৮, ১২, ১৫ বছর পূর্তিতে টাইম স্কেল বর্তমানে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের নামে ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি করে মাত্র ১০ টাকা বেতন বৃদ্ধি হয়, যা কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। পদোন্নতি বৈষম্য ১-১০ গ্রেডের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পান ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫-২০ বছরেও পদোন্নতি পান না ব্লক পোস্টের কারণে অনেকে সারাজীবন একই গ্রেডে থাকেন বেতন বৈষম্যের চিত্র অষ্টম পে স্কেলে: ২০তম থেকে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত মোট ৮টি গ্রেডে বেতন বাড়ে মাত্র ৩,০৫০ টাকা ১-১০ গ্রেডে গ্রেড ভিত্তিক ব্যবধানের হার সর্বনিম্ন ২.২২% ও সর্বোচ্চ ৯.৬০% একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগে বেতন গ্রেড ও পদ মর্যাদায় বৈষম্য দাবি সংস্কার: সংগঠনগুলোর দাবিনামা সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো নবম পে স্কেলে যেসব সংস্কার চায়: মূল দাবিসমূহ ১. বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামো - গ্রেড অনুযায়ী বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ ২. এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন ৩. ৫ বছর পর পর পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড প্রদান ৪. টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল সহ জ্যেষ্ঠতা বজায় ৫. সচিবালয়ে ন্যায় পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন ৬. সকল ভাতা বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় ৭. নিম্ন বেতনভোগীদের জন্য রেশন ও ১০০% পেনশন ৮. কাজের ধরণ অনুযায়ী পদ, নাম ও গ্রেড একীভূতকরণ বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে দাবি কর্মচারী সংগঠনগুলো যুক্তি দিয়েছে: ২০১৫ সালের পর অন্তত দুটি কমিশন হওয়া উচিত ছিল দুইবারের সময়ে একবার পে স্কেল হওয়ায় অন্তত ১৫০% বৃদ্ধি হওয়া উচিত ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালে মূল বেতন প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল সর্বশেষ আপডেট ও সরকারের অবস্থান পে কমিশনের অগ্রগতি কমিশন গঠন: জুলাই ২০২৫, চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সভা সংখ্যা: ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫টি পূর্ণ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত মতামত সংগ্রহ: প্রায় আড়াই শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সাথে আলোচনা সম্পন্ন সময়সীমা: জানুয়ারি ২০২৫-এ সুপারিশ জমা দেওয়ার লক্ষ্য তিন ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ১. প্রথম ধাপ: জানুয়ারিতে কমিশনের সুপারিশ জমা ২. দ্বিতীয় ধাপ: সচিব কমিটিতে পর্যালোচনা ও অনুমোদন ৩. তৃতীয় ধাপ: উপদেষ্টা পরিষদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট জারি সরকারের বক্তব্য অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে এটি বাস্তবায়ন করবেন। তবে পে কমিশনের সুপারিশ দ্রুত জমা হওয়ার আশা করা হচ্ছে। কর্মচারীদের আলটিমেটাম বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের সুপারিশসহ গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছে। তবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০ ডিসেম্বর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মূল্যস্ফীতি ও বাস্তবতা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০১৫ থেকে ৭ বছরে ৪০% বেতন বৃদ্ধি হলেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১০০-১৫০% বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে একজন মানুষ দিনে তিন বেলা ডাল-ভাত-ভর্তা খেলে খরচ প্রায় ১৫০ টাকা ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য মাসে অন্তত ২৭ হাজার টাকা খাবার খরচ বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সব খরচে ৫০ হাজার টাকাতেও চলে না জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ১৭-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমান বেতনে: বাসা ভাড়া দিতে পারেন না যথাযথ পরিবারের ৬ জন সদস্যের মাসের বাজার সদাই সামাল দিতে হিমশিম ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে কষ্ট মাস শেষ হওয়ার আগেই ঋণ করে সংসার চালাতে হয় প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা কর্মচারীদের প্রত্যাশা ১. যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধি - মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ২. বৈষম্য নিরসন - সব গ্রেডে সমান বৃদ্ধির হার ৩. দ্রুত বাস্তবায়ন - আর বিলম্ব না করা ৪. সার্ভিস বেনিফিট - পুরাতন কর্মচারীরাও যেন সুবিধা পান বিশেষজ্ঞদের মতামত মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা কম তবে মোট বেতন (Gross Salary) এবং ভাতার ওপর জোর দেওয়া হবে নিম্ন গ্রেডের বেতন আনুপাতিক হারে বেশি বাড়ানোর সম্ভাবনা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবসম্মত বৃদ্ধি হবে সম্ভাব্য বাস্তবায়নের সময় সুপারিশ জমা: জানুয়ারি ২০২৫ চূড়ান্ত অনুমোদন: ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৫ কার্যকর হওয়া: ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে সম্ভাবনা সতর্কতা: ভুয়া তথ্য থেকে সাবধান সোশ্যাল মিডিয়াতে পে স্কেল নিয়ে প্রায়ই ভিত্তিহীন খবর বা ভুয়া গেজেট ছড়িয়ে পড়ে। যেমন: "আগামী মাসেই বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে" "১০টি গ্রেড বাতিল হচ্ছে" "পে স্কেল ঘোষণা হয়ে গেছে" মনে রাখবেন: পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। এর আগে যা শোনা যায়, তা মূলত প্রস্তাবনা বা আলোচনা। উপসংহার নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সবকিছু মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১২টি করা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামো এবং ভাতা বৃদ্ধির দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত একটি সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। জাতীয় বেতন কমিশন জানুয়ারিতে তাদের সুপারিশ জমা দিলে এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশিত হলে দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হবে। নবম পে স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। সর্বশেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ বিঃদ্রঃ এই তথ্যগুলো বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবনা এবং সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত। চূড়ান্ত বেতন কাঠামো পে কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো প্রস্তাবনা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
বিদেশের মাটিতে ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু ভিসা পাওয়ার ঝক্কি আর বিশাল বাজেটের কথা ভেবে অনেকেই পিছিয়ে যান। তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে পরিকল্পনা করেন, তবে মাত্র ১ লাখ টাকার বাজেটে অনায়াসেই জীবনসঙ্গী বা বন্ধুকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার সব দেশ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন কিছু দেশ আছে যেখানে যাওয়ার জন্য কোনো আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই বেঁচে যায়। আজ আপনাদের এমন ৫টি দেশের কথা জানাব, যেখানে কম খরচে রাজকীয় ভ্রমণ উপভোগ করা যায়। পাহাড় ও মেঘের রাজ্য নেপাল বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নেপাল সব সময়ই তালিকার শীর্ষে থাকে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপালে প্রথমবার প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ভিসা ফি লাগে না। ১ লাখ টাকার বাজেটে কাঠমান্ডু, পোখরা এবং নাগরকোট। এই তিন শহর দুই জন মিলে খুব চমৎকারভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা এই দেশটিতে যেমন কম খরচে থাকা যায়, তেমনি পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা বা প্যারাগ্লাইডিং করার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ অনেকেই মনে করেন মালদ্বীপ মানেই লাখ লাখ টাকার খরচ, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। লাক্সারি রিসোর্ট এড়িয়ে যদি আপনি মাফুশি বা হুলহুমালের মতো লোকাল আইল্যান্ডগুলোতে থাকেন, তবে ১ লাখ টাকায় দুই জন মিলে চার দিন কাটিয়ে আসা সম্ভব। নীল সমুদ্রের ওপর ওয়াটার স্পোর্টস কিংবা ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতা কোনো ভিসা ছাড়াই পেয়ে যাবেন অন-অ্যারাইভাল সুবিধার মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লঙ্কা দ্বীপ শ্রীলঙ্কা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত বন্ধুসুলভ একটি দেশ। পাহাড়, চা বাগান আর ঐতিহাসিক সব স্থাপনায় ঘেরা এই দেশে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা। ক্যান্ডির পাহাড় থেকে শুরু করে নুয়ারা এলিয়ার ঝরনা পর্যন্ত দুই জন মিলে ৫ থেকে ৬ দিনের একটি ট্রিপ ১ লাখ টাকার মধ্যেই বেশ আয়েশ করে শেষ করা যায়। এখানকার আবহাওয়া এবং খাবার দুই-ই বাঙালির খুব পছন্দের। বাজেট ফ্রেন্ডলি ভিয়েতনাম বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের কাছে ভিয়েতনাম একটি দারুণ আকর্ষণীয় গন্তব্য। যদিও এখানে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সরাসরি নেই, তবে খুব স্বল্প খরচে অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে নেওয়া যায়। ১ লাখ টাকার বাজেটে ভিয়েতনামের বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড, হ্যালং বের ক্রুজ ভ্রমণ এবং হো চি মিন সিটির জাঁকজমক অনায়াসেই উপভোগ করা সম্ভব। যারা একটু ভিন্ন ধাঁচের সংস্কৃতি দেখতে চান, তাদের জন্য ভিয়েতনাম সেরা পছন্দ হতে পারে। শপিং ও বিনোদনের থাইল্যান্ড থাইল্যান্ড মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফি মওকুফ বা ভিসা ফ্রি সুবিধা দিয়ে থাকে। যখন এই সুযোগ থাকে, তখন ব্যাংকক আর পাতায়াতে দুই জন মিলে ৪-৫ দিনের ভ্রমণ ১ লাখ টাকার বাজেটে খুব সহজেই সম্ভব হয়। স্ট্রিট ফুড আর কেনাকাটার জন্য থাইল্যান্ডের কোনো তুলনা হয় না। তাই আপনার পরবর্তী ট্রিপের পরিকল্পনা শুরু করার আগে এই দেশগুলোর তালিকাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে পারেন। সঠিক সময়ে টিকিট বুক করলে এই বাজেটেও আপনি পেতে পারেন রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ।
রাতের বেলা পাশের মানুষটার নাক ডাকার শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত বিরক্তি। অনেকে হাসিঠাট্টা করেন, কেউ কেউ বালিশ দিয়ে কান চাপেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নাক ডাকাকে শুধু বিরক্তির বিষয় ভাবলে ভুল হবে। কিছু ক্ষেত্রে এটা গুরুতর রোগের সংকেত। চট্টগ্রামের একটি ভুক্তভোগী পরিবার থেকে জানা গেছে, তাদের পরিবারের একজন মধ্যবয়স্ক সদস্য বছরের পর বছর ধরে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকতেন। পরিবার এটাকে স্বাভাবিক ধরেই নিয়েছিল। একদিন রাতে তিনি ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্লিপ অ্যাপনিয়াতে ভুগছিলেন, যেটা ধরা পড়েনি। নাক ডাকার পেছনে সাধারণ কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ওজন, ঘুমানোর ভুল ভঙ্গি, নাকের হাড় বাঁকা বা অ্যালার্জি। এগুলো তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু যখন নাক ডাকার সাথে হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরে আবার শুরু হয়, তখন সেটাকে বলা হয় অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। এই অবস্থায় ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বারবার কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সাথে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সরাসরি সংযোগ প্রমাণিত হয়েছে গবেষণায়। দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব এবং মেজাজ খিটখিটে থাকা এই রোগের সাধারণ লক্ষণ। বিপদের সংকেত হলো ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস করা বা শ্বাস আটকে গিয়ে হঠাৎ জেগে ওঠা, পাশের মানুষ যদি লক্ষ্য করেন যে ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে যাচ্ছে এবং সারারাত ঘুমানোর পরেও সকালে ক্লান্ত লাগা। এই লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসা আছে এবং সেটা কার্যকর। ওজন কমানো, ঘুমানোর সময় পাশ ফিরে শোয়া, CPAP মেশিন ব্যবহার এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্লিপ অ্যাপনিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু সেজন্য আগে রোগটাকে রোগ বলে চিনতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের ছবি অনেক আগের হওয়ায় অনেকেরই বর্তমান চেহারার সাথে তা মেলে না। আবার অনেক সময় ছবি অস্পষ্ট আসার কারণে বিভিন্ন জায়গায় ভেরিফিকেশনে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই, আপনি চাইলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে আপনার আইডি কার্ডে ছবি পরিবর্তন করে নিতে পারেন। এই কাজটি কীভাবে করবেন তা নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো। ভোটার আইডি কার্ডে ছবি পরিবর্তন করার নিয়ম ছবি পরিবর্তনের জন্য প্রথমেই আপনাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। যদি আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট করা থাকে, তবে আপনার ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। লগইন করার পর আপনার প্রোফাইলে গিয়ে 'সংশোধন' বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখানে মনে রাখা ভালো যে, ছবি পরিবর্তনের আবেদনটি অনলাইনে শুরু করা গেলেও এটি পুরোপুরি শেষ করতে আপনাকে সশরীরে অফিসে যেতে হতে হবে। অনলাইনে সংশোধনের ফরমে আপনি ছবি পরিবর্তনের অপশনটি সিলেক্ট করবেন। এই পর্যায়ে আপনাকে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র আপলোড করতে হতে পারে। সাধারণত বর্তমান ছবি পরিবর্তনের জন্য আপনার বর্তমান চেহারার সাথে মিল আছে এমন কোনো প্রমাণপত্র, যেমন পাসপোর্ট বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের কপি স্ক্যান করে জমা দিতে হয়। এরপর সরকারি নির্ধারিত ফি বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে জমা দিয়ে আবেদনের অনলাইন ধাপটি শেষ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি দিনক্ষণ দেখে আপনার নিকটস্থ উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। কারণ ছবি যেহেতু একটি বায়োমেট্রিক তথ্য, তাই এটি অনলাইনের মাধ্যমে নিজে নিজে পরিবর্তন করা যায় না। অফিসে যাওয়ার সময় আপনার সাথে আবেদনের অনলাইন কপির প্রিন্ট কপি এবং অরিজিনাল এনআইডি কার্ডটি নিয়ে যাবেন। নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পর দায়িত্বরত কর্মকর্তা আপনার তথ্যগুলো যাচাই করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তারা ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে আপনার নতুন ছবি তুলে নেবেন এবং আপনার আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট পুনরায় গ্রহণ করবেন। এই নতুন ছবিই আপনার পরবর্তী এনআইডি কার্ডে যুক্ত করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কিছুদিন পর আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে যে আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে। তখন আপনি অনলাইন থেকে নতুন ছবির এনআইডি কার্ডটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে একটু সময় লাগলেও আপনার পরিচয়পত্রের ছবি একদম আপ-টু-ডেট হয়ে যাবে, যা পরবর্তী সব ধরণের ভেরিফিকেশনে আপনাকে সাহায্য করবে।
আপনি কি ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ইনফরমেশন গভর্নেন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী? দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড (Akij Resources Limited) তাদের ডকুমেন্ট কন্ট্রোল বিভাগে 'Assistant Manager' পদে জনবল নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে । পেশাদার পরিবেশে যারা নিজেদের ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। এক নজরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে ছক আকারে বিজ্ঞপ্তির মূল তথ্যগুলো দেওয়া হলো: বিষয় বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম আকিজ রিসোর্সেস (Akij Resources) পদের নাম Assistant Manager - Document Control Management শিক্ষাগত যোগ্যতা BBA (Management/MIS) অথবা BA (Library Management) প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ৩ থেকে ৭ বছর বেতন আলোচনা সাপেক্ষে আবেদনের শেষ সময় ২২ এপ্রিল ২০২৬ আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কিছু বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকতে হবে: শিক্ষাগত পটভূমি: প্রার্থীদের ম্যানেজমেন্ট (Management), এমআইএস (MIS) অথবা ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে স্নাতক হতে হবে । বিশেষ প্রশিক্ষণ: ISO ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ইন্টারনাল অডিট বা ডকুমেন্ট কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS)-এর ওপর প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেশন থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে । অভিজ্ঞতা: ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা রেকর্ড ম্যানেজমেন্টে ৩ থেকে ৫ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে । কারিগরি জ্ঞান: গুগল ওয়ার্কস্পেস (Google Workspace), ইআরপি (ERP) এবং এইচআরএমএস (HRMS) পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে । প্রধান দায়িত্বসমূহ একজন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে আপনার প্রধান কাজ হবে প্রতিষ্ঠানের এন্টারপ্রাইজ-ওয়াইড ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS) তদারকি করা । যার মধ্যে থাকবে: নথিপত্রের কোডিং, ফাইলিং স্ট্রাকচার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা । ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল উভয় সিস্টেমে তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা । আইএসও (ISO) বা আইএমএস (IMS) অডিটের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা । বিভিন্ন বিভাগকে নথিপত্র সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের বিষয়ে সহায়তা প্রদান করা । কিভাবে আবেদন করবেন? আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি Bdjobs.com-এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে । আবেদনের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬ ।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন এক আলোচিত ঘটনা যুক্ত হয়েছে। সৌদি আরবের শীর্ষ ক্লাব আল নাসেরের নারী দলের অধিনায়ক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ক্যাথলিন সৌজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করেছেন। তার জীবনে এটি একটি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা যায়, সৌজা বর্তমানে সৌদি আরবেই বসবাস করছেন এবং আল নাসেরের হয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফুটবলের প্রতি তার পরিশ্রম ও নিষ্ঠা, পাশাপাশি ধর্মীয় অঙ্গীকার দুই ক্ষেত্রেই তার আন্তরিকতা তাকে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এনে দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের এই সিদ্ধান্ত তার প্রতি সেই শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আল নাসেরের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বার্তায় সৌজার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে ওমরাহ পালনের সময়কার তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও সমর্থনের বার্তা ভেসে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের অনেকেই নতুন বিশ্বাসের মাধ্যমে পাওয়া শান্তি ও তৃপ্তির কথা প্রকাশ্যে শেয়ার করেছেন। সৌজার সিদ্ধান্তও সেই ধারারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। আল নাসর এক বিবৃতিতে সৌজার এই যাত্রাকে সুন্দর ও অনুপ্রেরণামূলক পথচলা বলে উল্লেখ করেছে এবং তার ক্রীড়া ও আধ্যাত্মিক জীবনে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অনেক ক্রীড়াপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার ও নতুন ধর্মীয় জীবনের মধ্যে যে ভারসাম্য তিনি গড়ে তুলছেন, তা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। সৌজার ইসলাম গ্রহণ ও ওমরাহ পালন শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বহুমাত্রিকতা ও বিভিন্ন সংস্কৃতি-ধর্মের প্রতি উন্মুক্ততারও প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফুটবল মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার এই আধ্যাত্মিক যাত্রা তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রীড়াবিদদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .