১৯ এপ্রিল, ২০২৬
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
১৬ এপ্রিল, ২০২৬
১৫ এপ্রিল, ২০২৬
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
মতামত
বিদ্যুৎ সংকটের এই দুঃসময়ে বকেয়া বিল পরিশোধের তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে ভারতীয় কোম্পানি আদানি। বকেয়া দ্রুত শোধ না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে তারা। চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বরাবর পাঠানো চিঠিতে তারিখ দেওয়া আছে ১৭ এপ্রিল। তবে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চিঠিটি ১৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার রাতে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। চিঠি পাওয়ার পর করণীয় ঠিক করা হবে। চিঠিতে আদানি জানিয়েছে, বকেয়া বিল পরিশোধে দেরির কারণে প্রকল্পের অর্থপ্রবাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি কিনে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। চুক্তি অনুসারে আদানির কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির কেন্দ্রটি। এটির সরবরাহ বন্ধ হলে চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি তৈরি হবে। এ কারণেই এই সময়ে বকেয়া আদায়ে চিঠি দিয়েছে তারা। এর আগেও বকেয়া শোধের তাগাদা দিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি পিডিবির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল আদানি। সেই চিঠিতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল। আদানির সর্বশেষ চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানির মোট পাওনা ৬৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রতি ডলারে ১২২ টাকা দরে ৪ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা) নিয়ে কোনো বিরোধ নেই, যা ৪ থেকে ৫ মাসের বিলের সমান। তারপরও বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই দ্রুত পুরো বকেয়া শোধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিত বিল দিতে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বকে আদানি গুরুত্ব দেয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে মন্ত্রীর সুবিধামতো সময়ে সাক্ষাৎ করার জন্যও সময় চাওয়া হয়েছে। পিডিবি ও আদানি সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বকেয়া প্রায় ৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদানির দিক থেকে কয়েক দফা তাগাদা দিলে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে নিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ করেছে পিডিবি। একই সঙ্গে কিছু কিছু করে পুরোনো বকেয়াও শোধ করা হয়। এতে মোট বকেয়া কমতে থাকে। তবে গত ডিসেম্বর থেকে আবার বিল পরিশোধ কমিয়ে দেয় পিডিবি। এতে বকেয়া আবার বাড়তে শুরু করে। উল্লেখ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার দাম নিয়ে পিডিবির সঙ্গে আদানির বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আদানি কয়লার বাড়তি দাম ধরে বিল করছে, আর পিডিবি বাজারদরে বিল পরিশোধ করছে। আদানির চুক্তির বিরুদ্ধে দেশের উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা চলমান। আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর করণীয় নির্ধারণ করবে পিডিবি। রিট আবেদনের পর আদালতের আদেশে আদানির চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা বর্তমানে কাজ করছেন।
হজ যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি সফর। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যান হজ পালনে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সফরে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ভ্রমণ, খাবারের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত হাঁটা, গরম আবহাওয়া এবং ক্লান্তির কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা হজে যাওয়ার অন্তত এক মাস আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, কিডনি, চোখ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁরা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁরা ইনসুলিন বহনের সঠিক নিয়ম জেনে নেবেন। অতিরিক্ত গরমে ইনসুলিন নষ্ট হতে পারে। তাই ঠান্ডা ব্যাগে সংরক্ষণ করা ভালো, ঠান্ডা ব্যাগ না থাকলে কিনে নিবেন । সঙ্গে গ্লুকোমিটার, পর্যাপ্ত স্ট্রিপ ও প্রেসক্রিপশন রাখবেন । খাবারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা যাবে না। শুকনো খাবার, খেজুর, বিস্কুট বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখা উচিত। হঠাৎ মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটা উপকারী হলেও অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরের সংকেত বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
ইরানের সঙ্গে নতুন দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানে এই বৈঠক হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এখনো বেশ কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই বুধবার পাকিস্তানে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে। এমনকি কোনো সমঝোতা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন। অন্যদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি তেহরান ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার আশায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে উত্তেজনা এখনো কাটেনি। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন অবরোধ ও ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। দেশটি আটক জাহাজ ও নাবিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান আলোচনায় বসবে। তবে তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। পাকিস্তান সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতে পারে। ব্যর্থ হলে আবারও সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদঃ রয়টার্স
বিদ্যুৎ সংকটের এই দুঃসময়ে বকেয়া বিল পরিশোধের তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে ভারতীয় কোম্পানি আদানি। বকেয়া দ্রুত শোধ না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে তারা। চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বরাবর পাঠানো চিঠিতে তারিখ দেওয়া আছে ১৭ এপ্রিল। তবে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চিঠিটি ১৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার রাতে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। চিঠি পাওয়ার পর করণীয় ঠিক করা হবে। চিঠিতে আদানি জানিয়েছে, বকেয়া বিল পরিশোধে দেরির কারণে প্রকল্পের অর্থপ্রবাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি কিনে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। চুক্তি অনুসারে আদানির কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির কেন্দ্রটি। এটির সরবরাহ বন্ধ হলে চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি তৈরি হবে। এ কারণেই এই সময়ে বকেয়া আদায়ে চিঠি দিয়েছে তারা। এর আগেও বকেয়া শোধের তাগাদা দিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি পিডিবির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল আদানি। সেই চিঠিতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল। আদানির সর্বশেষ চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানির মোট পাওনা ৬৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রতি ডলারে ১২২ টাকা দরে ৪ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা) নিয়ে কোনো বিরোধ নেই, যা ৪ থেকে ৫ মাসের বিলের সমান। তারপরও বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই দ্রুত পুরো বকেয়া শোধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিত বিল দিতে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বকে আদানি গুরুত্ব দেয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে মন্ত্রীর সুবিধামতো সময়ে সাক্ষাৎ করার জন্যও সময় চাওয়া হয়েছে। পিডিবি ও আদানি সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বকেয়া প্রায় ৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদানির দিক থেকে কয়েক দফা তাগাদা দিলে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে নিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ করেছে পিডিবি। একই সঙ্গে কিছু কিছু করে পুরোনো বকেয়াও শোধ করা হয়। এতে মোট বকেয়া কমতে থাকে। তবে গত ডিসেম্বর থেকে আবার বিল পরিশোধ কমিয়ে দেয় পিডিবি। এতে বকেয়া আবার বাড়তে শুরু করে। উল্লেখ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার দাম নিয়ে পিডিবির সঙ্গে আদানির বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আদানি কয়লার বাড়তি দাম ধরে বিল করছে, আর পিডিবি বাজারদরে বিল পরিশোধ করছে। আদানির চুক্তির বিরুদ্ধে দেশের উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা চলমান। আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর করণীয় নির্ধারণ করবে পিডিবি। রিট আবেদনের পর আদালতের আদেশে আদানির চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়োগ করা আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা বর্তমানে কাজ করছেন।
২১ এপ্রিল, ২০২৬ | দুপুর ২:২৫
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা ‘ফুয়েল সারচার্জ’ নামে নতুন মাশুল বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে কারণ দেখিয়ে সাড়ে ৮ শতাংশ অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হয়েছে। গত সোমবার স্টেকহোল্ডারদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে জানানো হয়, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন এই চার্জ কার্যকর হবে। বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের সহায়ক অংশ হিসেবে ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো বা অফডক কাজ করছে। দেশের শতভাগ রপ্তানি পণ্য এবং ৬৪ ধরনের আমদানি পণ্যের হ্যান্ডলিং হয় এসব ডিপোতে। বছরে গড়ে ৩ লাখ আমদানি ও সাড়ে ৭ লাখ রপ্তানি কনটেইনার পরিচালনা করা হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় গঠিত ট্যারিফ কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো মাশুল বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ নেই। কিন্তু বিকডা কোনো কমিটি বা ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় তৈরি পোশাক খাতসহ আমদানি-রপ্তানিনির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজিএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজিএমইএর পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, বিকডা আলাদা কোনো সত্তা নয়, এটি বন্দরের অংশ। বন্দর, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। এতে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা উদ্বিগ্ন। বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববাজারে আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের অন্য কোনো খাত এত দ্রুত বাড়তি চার্জ নেয়নি। অফডক কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মাশুল বাড়ানোর চিঠি দিয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে বিকডার দাবি, এটি মাশুল বৃদ্ধি নয়, বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। বিকডার সেক্রেটারি রুহুল আমিন শিকদার বলেন, অফডকের যন্ত্রপাতি, লরি ও কনটেইনার পরিবহন সবই ডিজেলনির্ভর। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ হিসাব করে সাড়ে ৮ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্যারিফ কমিটি থাকলেও তা দীর্ঘদিন কার্যকর হয়নি। হঠাৎ তেলের দাম বাড়ায় কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
আগামীকাল একুশে এপ্রিল মঙ্গলবার সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে দেশের মাধ্যমিক স্তরের বড় আসর এসএসসিতে এবারও মেয়েদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এবার এই ৯টি বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ১২ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন, যেখানে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন। পরিসংখ্যান বলছে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৮৪ হাজার বেশি। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা বেশি (১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন)। কারিগরি বোর্ডেও ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন এবং মানবিক বিভাগে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মতে, ২০২৫ সালের তুলনায় এবার সামগ্রিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেশের শিক্ষা খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
২০ এপ্রিল, ২০২৬ | রাত ১০:৪৭
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দলটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিজীবী রয়েছেন। তাদের বেতন স্কেল সর্বশেষ বৃদ্ধি পেয়েছিল প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে। অথচ গত এক দশকে ৫০ শতাংশেরও বেশি মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে এবং জীবনযাপনের নানামুখী ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি বর্তমান জীবনমান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দ্রুততম সময়ে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় সরকারি খাতের এই বিপুল সংখ্যক চাকরিজীবী ও তাদের পরিবার বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি বেতনের অন্তর্ভুক্ত চাকরিজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৪৮টি সভা ও মতামত গ্রহণের মাধ্যমে গত ২১ জানুয়ারি ৯ম বেতন কমিশনের প্রস্তাব প্রদান করেছে। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ে শুরু থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টি সোচ্চার ছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু থেকেই বিভিন্ন পেশাজীবীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিল। ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের আন্দোলনেও সরকারি বেতনভুক্ত চাকরিজীবীদের আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, এবার হজ খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং আগামী বছর আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে। উদ্বোধনের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই ফ্লাইটে ৪১৮ জন হজযাত্রী রয়েছে। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখানে ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি। হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন এবং একটি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন এবং এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ এর যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন এবং দু'হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। দোয়া করেন তারা যাতে নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারেন। হজ ফ্লাইট উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সরকার গঠন করেছি ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ। এবার হজের ব্যবস্থাপনা হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে। সেজন্য আমরা এসে এবার খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাইনি। তারপরও চেষ্টা করেছি যতটুকু করা যায়। এবার একটা জিনিস করতে পেরেছি সেটা হলো ১২ হাজার টাকার মত খরচ কমাতে পেরেছি।' তিনি আরও বলেন, 'আশা করি আগামী বছর যারা হজে যাবেন, তাদের জন্য আরেকটু কমাতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি আরও ভালো করার জন্য যাতে হাজীদের আগামী বছর কষ্ট কম হয়।' হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আমি দোয়া করি আপনারা যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন।' এই সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি মাধ্যম অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যাবেন। সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
হজ যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতির একটি সফর। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় যান হজ পালনে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সফরে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ভ্রমণ, খাবারের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত হাঁটা, গরম আবহাওয়া এবং ক্লান্তির কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা হজে যাওয়ার অন্তত এক মাস আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, কিডনি, চোখ ও হৃদরোগের ঝুঁকি আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁরা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁরা ইনসুলিন বহনের সঠিক নিয়ম জেনে নেবেন। অতিরিক্ত গরমে ইনসুলিন নষ্ট হতে পারে। তাই ঠান্ডা ব্যাগে সংরক্ষণ করা ভালো, ঠান্ডা ব্যাগ না থাকলে কিনে নিবেন । সঙ্গে গ্লুকোমিটার, পর্যাপ্ত স্ট্রিপ ও প্রেসক্রিপশন রাখবেন । খাবারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা যাবে না। শুকনো খাবার, খেজুর, বিস্কুট বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখা উচিত। হঠাৎ মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হজের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটা উপকারী হলেও অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরের সংকেত বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। ২০১৫ সালের পর দশ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন বেতন কাঠামো ঘোষিত হয়নি। বিভিন্ন সংগঠনের দাবি ও প্রস্তাবনার আলোকে নবম বা নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে? কী কী প্রস্তাব এসেছে, সুযোগ-সুবিধা এবং গ্রেড সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান প্রস্তাবগুলো হলো: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের প্রস্তাব সর্বনিম্ন বেতন: ৩৫,০০০ টাকা (বর্তমান ৮,২৫০ টাকা) সর্বোচ্চ বেতন: ১,৪০,০০০ টাকা (বর্তমান ৭৮,০০০ টাকা) গ্রেড সংখ্যা: ২০টি থেকে কমিয়ে ১২টি করার সুপারিশ এই প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৪ গুণ এবং সর্বোচ্চ বেতন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের প্রস্তাব সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৩২,০০০ টাকা সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,২৮,০০০ টাকা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি পে কমিশনের সুপারিশে প্রত্যাশিত বেতন একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, পে কমিশন সুপারিশে: সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২৫,০০০ টাকা সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৫০,০০০ টাকা গ্রেড সংখ্যা কমানো এবং বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ৩০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাবে: প্রথম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন: ২,৩৪,০০০ টাকা দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন: ১,৮৮,০০০ থেকে ২,৪০,৬৭০ টাকা তৃতীয় গ্রেডের বেতন: ১,৮০,০০০ থেকে ২,২৫,৩৫০ টাকা তবে সচিবরা ৩-৪ গুণ বেতন বৃদ্ধির এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেননি। তারা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রস্তাবিত সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা বৃদ্ধি নবম পে স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে: বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রস্তাবিত হার: মূল বেতনের ৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত (পদভেদে) কর্মচারী সংগঠনগুলো ২০% এর নিচে বাড়ি ভাড়া মানতে রাজি নয় বর্তমানে অনেক গ্রেডে মাত্র ৫-১০% বাড়ি ভাড়া রয়েছে চিকিৎসা ভাতা প্রস্তাবিত: ৩,০০০ টাকা (বর্তমান ১,৫০০ টাকা) বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয়ের দাবি শিক্ষা ভাতা প্রস্তাবিত: ২,০০০ টাকা সন্তানদের শিক্ষা খরচের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুপারিশ ধোলাই ভাতা প্রস্তাবিত: ১,০০০ টাকা বর্তমান খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ অস্থায়ী মহার্ঘ ভাতা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আগে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৫০% মহার্ঘ ভাতা চালুর দাবি উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই দাবি জোরদার হচ্ছে। গবেষণা অনুদান (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবে: অধ্যাপক: ১০ লাখ টাকা বার্ষিক সহযোগী অধ্যাপক: ৫ লাখ টাকা সহকারী অধ্যাপক: ৩ লাখ টাকা প্রভাষক: ২ লাখ টাকা পেনশন সুবিধা নিম্ন বেতনভোগীদের জন্য ১০০% পেনশন চালুর দাবি পেনশন গ্রাচুইটি হার ১ টাকা = ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব গ্রেড সংস্কার: সুবিধা ও অসুবিধা নবম পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এর সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ: বর্তমান পরিস্থিতি বর্তমান গ্রেড সংখ্যা: ২০টি প্রথম থেকে দশম গ্রেড: কর্মকর্তা পর্যায় একাদশ থেকে বিংশ গ্রেড: কর্মচারী পর্যায় গ্রেড কমানোর সুবিধা ১. বেতন বৈষম্য হ্রাস: গ্রেড কম হলে বেতনের পার্থক্য যৌক্তিক হবে ২. পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি: কম গ্রেডে পদোন্নতি দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা ৩. প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস: কম গ্রেড মানে সহজ বেতন কাঠামো ৪. সমতা প্রতিষ্ঠা: উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে ব্যবধান কমবে গ্রেড কমানোর সম্ভাব্য অসুবিধা ১. পদের স্বল্পতা: কম গ্রেডে একই পদে বেশি কর্মচারী থাকলে পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে ২. পুনর্বিন্যাস জটিলতা: বর্তমান কর্মচারীদের নতুন গ্রেডে স্থাপন জটিল হবে ৩. বিশেষায়িত পদের সমস্যা: কিছু বিশেষায়িত পদের গ্রেড নির্ধারণে জটিলতা প্রস্তাবিত গ্রেড কাঠামো বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাব: ১২ গ্রেড: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন ১৬ গ্রেড: কিছু সূত্রে ১৬ গ্রেডের কথা উল্লেখ রয়েছে ১০ গ্রেড: কিছু কর্মচারী সংগঠন মাত্র ১০টি গ্রেডের পক্ষে গ্রেড ভিত্তিক বেতন পার্থক্যের প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের ১২ গ্রেড প্রস্তাবে: ১ম থেকে ২য় গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ২য় থেকে ৩য় গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৩য় থেকে ৪র্থ গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৪র্থ থেকে ৫ম গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড: ৫,০০০ টাকা করে কমছে ৯ম থেকে ১০ম গ্রেড পার্থক্য: ১০,০০০ টাকা ১০ম থেকে ১১তম গ্রেড পার্থক্য: ৮,০০০ টাকা ১১তম থেকে ১২তম গ্রেড পার্থক্য: ৭,০০০ টাকা এই কাঠামোতে উচ্চ গ্রেডে বেশি পার্থক্য এবং নিম্ন গ্রেডে কম পার্থক্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান বেতন ব্যবস্থার সমস্যা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়। পূর্বে: ৪ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড ৮, ১২, ১৫ বছর পূর্তিতে টাইম স্কেল বর্তমানে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের নামে ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি করে মাত্র ১০ টাকা বেতন বৃদ্ধি হয়, যা কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। পদোন্নতি বৈষম্য ১-১০ গ্রেডের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পান ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫-২০ বছরেও পদোন্নতি পান না ব্লক পোস্টের কারণে অনেকে সারাজীবন একই গ্রেডে থাকেন বেতন বৈষম্যের চিত্র অষ্টম পে স্কেলে: ২০তম থেকে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত মোট ৮টি গ্রেডে বেতন বাড়ে মাত্র ৩,০৫০ টাকা ১-১০ গ্রেডে গ্রেড ভিত্তিক ব্যবধানের হার সর্বনিম্ন ২.২২% ও সর্বোচ্চ ৯.৬০% একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগে বেতন গ্রেড ও পদ মর্যাদায় বৈষম্য দাবি সংস্কার: সংগঠনগুলোর দাবিনামা সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো নবম পে স্কেলে যেসব সংস্কার চায়: মূল দাবিসমূহ ১. বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামো - গ্রেড অনুযায়ী বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ ২. এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন ৩. ৫ বছর পর পর পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড প্রদান ৪. টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল সহ জ্যেষ্ঠতা বজায় ৫. সচিবালয়ে ন্যায় পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন ৬. সকল ভাতা বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় ৭. নিম্ন বেতনভোগীদের জন্য রেশন ও ১০০% পেনশন ৮. কাজের ধরণ অনুযায়ী পদ, নাম ও গ্রেড একীভূতকরণ বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে দাবি কর্মচারী সংগঠনগুলো যুক্তি দিয়েছে: ২০১৫ সালের পর অন্তত দুটি কমিশন হওয়া উচিত ছিল দুইবারের সময়ে একবার পে স্কেল হওয়ায় অন্তত ১৫০% বৃদ্ধি হওয়া উচিত ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালে মূল বেতন প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল সর্বশেষ আপডেট ও সরকারের অবস্থান পে কমিশনের অগ্রগতি কমিশন গঠন: জুলাই ২০২৫, চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সভা সংখ্যা: ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫টি পূর্ণ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত মতামত সংগ্রহ: প্রায় আড়াই শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সাথে আলোচনা সম্পন্ন সময়সীমা: জানুয়ারি ২০২৫-এ সুপারিশ জমা দেওয়ার লক্ষ্য তিন ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ১. প্রথম ধাপ: জানুয়ারিতে কমিশনের সুপারিশ জমা ২. দ্বিতীয় ধাপ: সচিব কমিটিতে পর্যালোচনা ও অনুমোদন ৩. তৃতীয় ধাপ: উপদেষ্টা পরিষদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট জারি সরকারের বক্তব্য অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে এটি বাস্তবায়ন করবেন। তবে পে কমিশনের সুপারিশ দ্রুত জমা হওয়ার আশা করা হচ্ছে। কর্মচারীদের আলটিমেটাম বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের সুপারিশসহ গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছে। তবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০ ডিসেম্বর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মূল্যস্ফীতি ও বাস্তবতা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০১৫ থেকে ৭ বছরে ৪০% বেতন বৃদ্ধি হলেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১০০-১৫০% বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে একজন মানুষ দিনে তিন বেলা ডাল-ভাত-ভর্তা খেলে খরচ প্রায় ১৫০ টাকা ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য মাসে অন্তত ২৭ হাজার টাকা খাবার খরচ বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সব খরচে ৫০ হাজার টাকাতেও চলে না জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ১৭-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমান বেতনে: বাসা ভাড়া দিতে পারেন না যথাযথ পরিবারের ৬ জন সদস্যের মাসের বাজার সদাই সামাল দিতে হিমশিম ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে কষ্ট মাস শেষ হওয়ার আগেই ঋণ করে সংসার চালাতে হয় প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা কর্মচারীদের প্রত্যাশা ১. যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধি - মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ২. বৈষম্য নিরসন - সব গ্রেডে সমান বৃদ্ধির হার ৩. দ্রুত বাস্তবায়ন - আর বিলম্ব না করা ৪. সার্ভিস বেনিফিট - পুরাতন কর্মচারীরাও যেন সুবিধা পান বিশেষজ্ঞদের মতামত মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা কম তবে মোট বেতন (Gross Salary) এবং ভাতার ওপর জোর দেওয়া হবে নিম্ন গ্রেডের বেতন আনুপাতিক হারে বেশি বাড়ানোর সম্ভাবনা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবসম্মত বৃদ্ধি হবে সম্ভাব্য বাস্তবায়নের সময় সুপারিশ জমা: জানুয়ারি ২০২৫ চূড়ান্ত অনুমোদন: ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৫ কার্যকর হওয়া: ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে সম্ভাবনা সতর্কতা: ভুয়া তথ্য থেকে সাবধান সোশ্যাল মিডিয়াতে পে স্কেল নিয়ে প্রায়ই ভিত্তিহীন খবর বা ভুয়া গেজেট ছড়িয়ে পড়ে। যেমন: "আগামী মাসেই বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে" "১০টি গ্রেড বাতিল হচ্ছে" "পে স্কেল ঘোষণা হয়ে গেছে" মনে রাখবেন: পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। এর আগে যা শোনা যায়, তা মূলত প্রস্তাবনা বা আলোচনা। উপসংহার নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সবকিছু মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১২টি করা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামো এবং ভাতা বৃদ্ধির দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত একটি সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। জাতীয় বেতন কমিশন জানুয়ারিতে তাদের সুপারিশ জমা দিলে এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশিত হলে দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হবে। নবম পে স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। সর্বশেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ বিঃদ্রঃ এই তথ্যগুলো বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবনা এবং সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত। চূড়ান্ত বেতন কাঠামো পে কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো প্রস্তাবনা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাইক কেড়ে নেওয়া ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক সাবেক নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল ১৯ এপ্রিল রোববার দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পর সংক্ষিপ্তভাবে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানোয়ার উদ্দিন বলেন, অনুষ্ঠানের মধ্যে সারোয়ার আওয়াল নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর লোকজন এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা মাইক নিয়ে নেন এবং তাঁর কক্ষে তালা দেন। তবে সারোয়ার আওয়াল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি গালাগাল করেননি। অভিভাবকদের অনুরোধে সেখানে গিয়েছিলেন এবং তালা দেওয়ার বিষয়েও কিছু জানেন না। এ ঘটনায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
বিদেশের মাটিতে ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু ভিসা পাওয়ার ঝক্কি আর বিশাল বাজেটের কথা ভেবে অনেকেই পিছিয়ে যান। তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে পরিকল্পনা করেন, তবে মাত্র ১ লাখ টাকার বাজেটে অনায়াসেই জীবনসঙ্গী বা বন্ধুকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার সব দেশ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন কিছু দেশ আছে যেখানে যাওয়ার জন্য কোনো আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই বেঁচে যায়। আজ আপনাদের এমন ৫টি দেশের কথা জানাব, যেখানে কম খরচে রাজকীয় ভ্রমণ উপভোগ করা যায়। পাহাড় ও মেঘের রাজ্য নেপাল বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নেপাল সব সময়ই তালিকার শীর্ষে থাকে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপালে প্রথমবার প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ভিসা ফি লাগে না। ১ লাখ টাকার বাজেটে কাঠমান্ডু, পোখরা এবং নাগরকোট। এই তিন শহর দুই জন মিলে খুব চমৎকারভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা এই দেশটিতে যেমন কম খরচে থাকা যায়, তেমনি পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা বা প্যারাগ্লাইডিং করার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ অনেকেই মনে করেন মালদ্বীপ মানেই লাখ লাখ টাকার খরচ, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। লাক্সারি রিসোর্ট এড়িয়ে যদি আপনি মাফুশি বা হুলহুমালের মতো লোকাল আইল্যান্ডগুলোতে থাকেন, তবে ১ লাখ টাকায় দুই জন মিলে চার দিন কাটিয়ে আসা সম্ভব। নীল সমুদ্রের ওপর ওয়াটার স্পোর্টস কিংবা ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতা কোনো ভিসা ছাড়াই পেয়ে যাবেন অন-অ্যারাইভাল সুবিধার মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লঙ্কা দ্বীপ শ্রীলঙ্কা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত বন্ধুসুলভ একটি দেশ। পাহাড়, চা বাগান আর ঐতিহাসিক সব স্থাপনায় ঘেরা এই দেশে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা। ক্যান্ডির পাহাড় থেকে শুরু করে নুয়ারা এলিয়ার ঝরনা পর্যন্ত দুই জন মিলে ৫ থেকে ৬ দিনের একটি ট্রিপ ১ লাখ টাকার মধ্যেই বেশ আয়েশ করে শেষ করা যায়। এখানকার আবহাওয়া এবং খাবার দুই-ই বাঙালির খুব পছন্দের। বাজেট ফ্রেন্ডলি ভিয়েতনাম বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের কাছে ভিয়েতনাম একটি দারুণ আকর্ষণীয় গন্তব্য। যদিও এখানে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সরাসরি নেই, তবে খুব স্বল্প খরচে অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে নেওয়া যায়। ১ লাখ টাকার বাজেটে ভিয়েতনামের বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড, হ্যালং বের ক্রুজ ভ্রমণ এবং হো চি মিন সিটির জাঁকজমক অনায়াসেই উপভোগ করা সম্ভব। যারা একটু ভিন্ন ধাঁচের সংস্কৃতি দেখতে চান, তাদের জন্য ভিয়েতনাম সেরা পছন্দ হতে পারে। শপিং ও বিনোদনের থাইল্যান্ড থাইল্যান্ড মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফি মওকুফ বা ভিসা ফ্রি সুবিধা দিয়ে থাকে। যখন এই সুযোগ থাকে, তখন ব্যাংকক আর পাতায়াতে দুই জন মিলে ৪-৫ দিনের ভ্রমণ ১ লাখ টাকার বাজেটে খুব সহজেই সম্ভব হয়। স্ট্রিট ফুড আর কেনাকাটার জন্য থাইল্যান্ডের কোনো তুলনা হয় না। তাই আপনার পরবর্তী ট্রিপের পরিকল্পনা শুরু করার আগে এই দেশগুলোর তালিকাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে পারেন। সঠিক সময়ে টিকিট বুক করলে এই বাজেটেও আপনি পেতে পারেন রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ।
গরমের সময় অনেক বাসায় একটি সাধারণ অভিযোগ শোনা যায়। ফ্যান চলছে, কিন্তু আগের মতো বাতাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই তখন মনে করেন ফ্যানের মোটর নষ্ট হয়ে গেছে বা নতুন ফ্যান কেনার সময় হয়েছে। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হয় জমে থাকা ধুলাবালি। গৃহস্থালি ইলেকট্রিক যন্ত্র মেরামতের সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ানদের মতে, সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান কিংবা স্ট্যান্ড ফ্যান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ব্লেডের ওপর ধুলার স্তর জমে যায়। এতে ব্লেডের ডিজাইন অনুযায়ী বাতাস ঠেলার ক্ষমতা কমে যায়। ফল হিসেবে ফ্যান ঘুরলেও বাতাস দুর্বল লাগে। বাস্তব ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ৪ থেকে ৬ মাস পরিষ্কার না করা ফ্যান পরিষ্কার করার পর অনেক সময় ঘরের বাতাসের পার্থক্য সহজেই বোঝা যায়। বিশেষ করে যেসব ঘরে জানালা খোলা থাকে বা রাস্তার ধুলা বেশি ঢোকে, সেখানে ফ্যান দ্রুত নোংরা হয়। প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টি সহজ। ফ্যানের ব্লেড নির্দিষ্ট কোণে তৈরি হয় যাতে ঘোরার সময় বাতাস নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যখন ব্লেডে ধুলা জমে, তখন তার মসৃণতা নষ্ট হয়। এতে বায়ুপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্লেড ভারসাম্যও হারায়, ফলে শব্দ বাড়ে এবং কম্পন তৈরি হয়। তবে সব সময় শুধু পরিষ্কার করলেই সমাধান হবে, এমন নয়। যদি ক্যাপাসিটর দুর্বল হয়ে যায়, মোটরের কয়েল গরম হয়ে যায় বা বেয়ারিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বাতাস কমতেই পারে। সে ক্ষেত্রে একজন দক্ষ মিস্ত্রির মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। ইলেকট্রিক সার্ভিস সেন্টারের কর্মীদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, অনেক গ্রাহক নতুন ফ্যান কিনতে চান, কিন্তু পরিষ্কার ও ছোটখাটো সার্ভিস করার পর পুরোনো ফ্যানই আবার ভালো পারফরম্যান্স দেয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অন্তত দুই থেকে তিন মাস পরপর ফ্যান পরিষ্কার করা উচিত। এতে বাতাস ভালো পাওয়া যায়, শব্দ কম হয় এবং মোটরের ওপর চাপও কম পড়ে। সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, ফ্যান পরিষ্কার করলে সত্যিই বাতাস বাড়ার অনুভূতি পাওয়া যায়। কারণ এতে ফ্যান তার স্বাভাবিক দক্ষতায় ফিরে আসে। তাই বাতাস কম মনে হলে নতুন ফ্যান কেনার আগে পরিষ্কার করাই হতে পারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সমাধান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় প্রতিদিনই নতুন কিছু ঘটছে। একদিকে প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষকে বিস্মিত করছে, অন্যদিকে বাড়ছে শঙ্কাও। সেই শঙ্কার কেন্দ্রে এবার এসেছে এআই কোম্পানি এনথ্রপিক ক্লাউডি এর নতুন মডেল Mythos। এবং ক্লেইম করা হচ্ছে বিশ্বের আজ অব্দি যত এআই মডেল রিলিজ হয়েছে তার মধ্যে সবচাইতে বেশি শক্তিশালী টুলস হচ্ছে ক্লাউডি মাইথস। প্রশ্ন উঠেছে, যদি প্রযুক্তিটি এত উন্নত হয়, তাহলে সেটি সবার জন্য প্রকাশ করা হলো না কেন? আর যদি প্রকাশ না করা হয়, তাহলে কি এটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ? মাইথস কী এবং কেন আলোচনায়? গত কয়েকদিন আগে কোম্পানিটি তাদের নতুন এই মডেল Cloudy opus এর সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশ করার সাথে একটি বেঞ্চমার্ক প্রকাশ করেছিল এবং সেখানে তাদের বিভিন্ন এআই মডেল এর পারফর্মেন্স হার দেখানো হয়েছিল। যদিও সব কয়টা মডেলের মধ্যে মাইথস এর কার্যকারিতার হার প্রায় ৭০ ভাগ সফল । তবেপ্রযুক্তি বিশ্বে এটি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, কারণ কোম্পানিটি নিজেই এই টুল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করেনি। এনথ্রপিকের এআই মাইথস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত। তবে প্রযুক্তি মহলের আলোচনা অনুযায়ী, এটি এমন একটি উন্নত এআই সিস্টেম যা জটিল ডিজিটাল কাজ, সফটওয়্যার বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্তকরণ এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে শক্তিশালী সক্ষমতা দেখিয়েছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এআই নয়। বরং এটি এমন ধরনের টুল, যা মানুষের হয়ে প্রযুক্তিগত কাজও করতে পারে। এখানেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কেন সাধারণ মানুষের জন্য রিলিজ করা হয়নি এনথ্রপিক সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এই টুলস কে এমন ভাবে তৈরি করেছে যা তাদের নিজেদের ভাবনার বাইরে। এবং বিশ্বের যত প্রকার এআই মডেল এই অব্দি তৈরি হয়েছে তার মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী এআই টুল এটা। তাই সবার হাতে দিলে অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে মাইথস এর মতো সিস্টেম ভুল হাতে গেলে সাইবার হামলা, নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে বের করা, ভুয়া কনটেন্ট তৈরি, প্রতারণা কিংবা ডিজিটাল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কাজে ব্যবহার হতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিটি মূলত তিনটি কারণে এটি উন্মুক্ত করেনি। প্রথম কারণ নিরাপত্তা। উন্নত AI যদি সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে দিতে পারে, তাহলে হ্যাকাররাও সেটিকে ব্যবহার করতে পারে। কারণ টেস্টিং পারপাসে এনথ্রপিক মজিলা ফায়ারফক্সের একটি প্যাচেড ভার্সনের প্রায় দেড়শরও বেশি দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছিল যেটি ফায়ারফক্স ব্রাউজারের জন্য বিরাট হুমকি। দ্বিতীয় কারণ ভুল ব্যবহার। সাধারণ ব্যবহারকারী যদি সীমাবদ্ধতা না বুঝে এআই কে সংবেদনশীল কাজে ব্যবহার করেন, তাহলে বড় ক্ষতি হতে পারে। তৃতীয় কারণ নিয়ন্ত্রণ। এআই যত শক্তিশালী হয়, তত বেশি নজরদারি ও নীতিমালার প্রয়োজন হয়। নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এমন টুল বাজারে ছাড়লে ঝুঁকি বাড়ে। মানুষের জন্য সত্যিই হুমকি কি না এখানে বাস্তবতা একটু ভিন্ন। মাইথস নিজে “খারাপ” নয়। প্রযুক্তি নিজে কখনো ভালো বা মন্দ নয়। এটি ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। যেমন একটি কম্পিউটার দিয়ে চিকিৎসা গবেষণা করা যায়, আবার সাইবার অপরাধও করা যায়। তেমনি উন্নত AI দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়, আবার অপব্যবহারও সম্ভব। তবে মাইথস এর মতো টুল যদি মানব পর্যবেক্ষণ ছাড়া কাজ করে, তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত, ভুয়া তথ্য, স্বয়ংক্রিয় প্রতারণা এবং সাইবার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাংলাদেশি বাস্তবতায় কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশে এআই ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা, অফিস কর্মী অনেকেই এআই ব্যবহার করছেন। কিন্তু সচেতনতার ঘাটতি এখনো বড় সমস্যা। অনেকে এয়াই কে শতভাগ নির্ভুল মনে করেন। যাচাই ছাড়া ব্যবহার করেন। যদি মাইথস এর মতো আরও শক্তিশালী টুল ভবিষ্যতে উন্মুক্ত হয়, তাহলে ভুল তথ্য, প্রতারণা ও ডেটা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, অনলাইন লেনদেন, সরকারি তথ্য, ব্যক্তিগত ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে এটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সুত্রঃ রয়টার্স
আপনি কি ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ইনফরমেশন গভর্নেন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী? দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড (Akij Resources Limited) তাদের ডকুমেন্ট কন্ট্রোল বিভাগে 'Assistant Manager' পদে জনবল নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে । পেশাদার পরিবেশে যারা নিজেদের ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। এক নজরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে ছক আকারে বিজ্ঞপ্তির মূল তথ্যগুলো দেওয়া হলো: বিষয় বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম আকিজ রিসোর্সেস (Akij Resources) পদের নাম Assistant Manager - Document Control Management শিক্ষাগত যোগ্যতা BBA (Management/MIS) অথবা BA (Library Management) প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ৩ থেকে ৭ বছর বেতন আলোচনা সাপেক্ষে আবেদনের শেষ সময় ২২ এপ্রিল ২০২৬ আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কিছু বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকতে হবে: শিক্ষাগত পটভূমি: প্রার্থীদের ম্যানেজমেন্ট (Management), এমআইএস (MIS) অথবা ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে স্নাতক হতে হবে । বিশেষ প্রশিক্ষণ: ISO ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ইন্টারনাল অডিট বা ডকুমেন্ট কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS)-এর ওপর প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেশন থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে । অভিজ্ঞতা: ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা রেকর্ড ম্যানেজমেন্টে ৩ থেকে ৫ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে । কারিগরি জ্ঞান: গুগল ওয়ার্কস্পেস (Google Workspace), ইআরপি (ERP) এবং এইচআরএমএস (HRMS) পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে । প্রধান দায়িত্বসমূহ একজন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে আপনার প্রধান কাজ হবে প্রতিষ্ঠানের এন্টারপ্রাইজ-ওয়াইড ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS) তদারকি করা । যার মধ্যে থাকবে: নথিপত্রের কোডিং, ফাইলিং স্ট্রাকচার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা । ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল উভয় সিস্টেমে তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা । আইএসও (ISO) বা আইএমএস (IMS) অডিটের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা । বিভিন্ন বিভাগকে নথিপত্র সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের বিষয়ে সহায়তা প্রদান করা । কিভাবে আবেদন করবেন? আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি Bdjobs.com-এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে । আবেদনের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬ ।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন এক আলোচিত ঘটনা যুক্ত হয়েছে। সৌদি আরবের শীর্ষ ক্লাব আল নাসেরের নারী দলের অধিনায়ক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ক্যাথলিন সৌজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করেছেন। তার জীবনে এটি একটি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা যায়, সৌজা বর্তমানে সৌদি আরবেই বসবাস করছেন এবং আল নাসেরের হয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফুটবলের প্রতি তার পরিশ্রম ও নিষ্ঠা, পাশাপাশি ধর্মীয় অঙ্গীকার দুই ক্ষেত্রেই তার আন্তরিকতা তাকে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এনে দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের এই সিদ্ধান্ত তার প্রতি সেই শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আল নাসেরের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বার্তায় সৌজার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে ওমরাহ পালনের সময়কার তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও সমর্থনের বার্তা ভেসে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের অনেকেই নতুন বিশ্বাসের মাধ্যমে পাওয়া শান্তি ও তৃপ্তির কথা প্রকাশ্যে শেয়ার করেছেন। সৌজার সিদ্ধান্তও সেই ধারারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। আল নাসর এক বিবৃতিতে সৌজার এই যাত্রাকে সুন্দর ও অনুপ্রেরণামূলক পথচলা বলে উল্লেখ করেছে এবং তার ক্রীড়া ও আধ্যাত্মিক জীবনে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অনেক ক্রীড়াপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার ও নতুন ধর্মীয় জীবনের মধ্যে যে ভারসাম্য তিনি গড়ে তুলছেন, তা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। সৌজার ইসলাম গ্রহণ ও ওমরাহ পালন শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বহুমাত্রিকতা ও বিভিন্ন সংস্কৃতি-ধর্মের প্রতি উন্মুক্ততারও প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফুটবল মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার এই আধ্যাত্মিক যাত্রা তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রীড়াবিদদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .