১৭ এপ্রিল, ২০২৬
১৬ এপ্রিল, ২০২৬
১৫ এপ্রিল, ২০২৬
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
৭ এপ্রিল, ২০২৬
মতামত
শেষ কয়েক ঘন্টা বৈদেশিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা থাকলেও আবারো এটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় একে জলদস্যুতা উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজ শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে পুনরায় সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে থাকবে। ইরানের জয়েন্ট মিলিটারি কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, "হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এখন থেকে এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।" বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গত শুক্রবার ইরান হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আভাস দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য পরিস্থিতি বদলে দেয়। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরান যতক্ষণ পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে না পৌঁছাবে, ততক্ষণ মার্কিন অবরোধ "পুরো শক্তিতে" জারি থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান শনিবার সকালে পুনরায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। হরমোজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এমন আশায় তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু হরমোজ প্রণালী ফের বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।
হজযাত্রীদের জন্য সুখবর এলো ধর্মমন্ত্রীর কাছ থেকে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে হজের খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান প্রশ্ন রেখে জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার হজ পালনে খরচ কমানোর লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা। এর উত্তরে ধর্মমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ পরিশোধও সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে।, তবে আশার কথা হলো, মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা এবং চাহিদার ভিত্তিতে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের খরচের চাপ কমতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। -
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময় এই জলপথটি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে। ইরানের এই আকস্মিক ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম কমল ১০ ডলার ইরানের এই ইতিবাচক বার্তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ধাক্কায় ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ মাত্র একদিন আগে শুক্রবার সকালেও এই তেলের দাম ছিল ৯৮ ডলারের ওপরে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের দাম কমেছে প্রায় ১০ ডলার। সংঘাতের জেরে এক সময় তেলের দাম ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা এখন আবার ৯০ ডলারের নিচে নামল। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ? বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চরম সংকট ও মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। শুধু তেল নয়, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার তৈরির উপকরণও এই পথ দিয়ে আসে, যা সংকটের মুখে পড়েছিল। ট্রাম্পের স্বাগত বার্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ইরানের এই সিদ্ধান্তকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই জলপথকে আর ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। এদিকে ইরানের এই ঘোষণায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকসহ ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ঝুঁকি কি পুরোপুরি কেটেছে? তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শিপিং সংস্থা ‘বিমকো’র মতে, এই জলপথে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে অনেক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এখনই এই পথ ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও (IMO) বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভোক্তাদের জন্য কতটা স্বস্তির? অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণাটি স্বস্তিদায়ক হলেও সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, যুক্তরাজ্যের মতো কিছু দেশে ইতিমধ্যেই পেট্রল ও ডিজেলের দাম সামান্য কমতে শুরু করেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিই ইরানকে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, এবার হজ খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং আগামী বছর আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে। উদ্বোধনের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই ফ্লাইটে ৪১৮ জন হজযাত্রী রয়েছে। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখানে ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি। হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন এবং একটি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন এবং এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ এর যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন এবং দু'হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। দোয়া করেন তারা যাতে নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারেন। হজ ফ্লাইট উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সরকার গঠন করেছি ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ। এবার হজের ব্যবস্থাপনা হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে। সেজন্য আমরা এসে এবার খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাইনি। তারপরও চেষ্টা করেছি যতটুকু করা যায়। এবার একটা জিনিস করতে পেরেছি সেটা হলো ১২ হাজার টাকার মত খরচ কমাতে পেরেছি।' তিনি আরও বলেন, 'আশা করি আগামী বছর যারা হজে যাবেন, তাদের জন্য আরেকটু কমাতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি আরও ভালো করার জন্য যাতে হাজীদের আগামী বছর কষ্ট কম হয়।' হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আমি দোয়া করি আপনারা যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন।' এই সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি মাধ্যম অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যাবেন। সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হজযাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি আরও ভালো ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার, যাতে আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের কষ্ট আরও কম হয়।’ শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর পরপরই রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইটটি সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের সীমাবদ্ধতা ও প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছি। অথচ এবারের হজের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের হাতে খুব বেশি সময় বা সুযোগ ছিল না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি যতটুকু করা যায়। এবার হজের খরচ আমরা ১২ হাজার টাকার মতো কমাতে পেরেছি।’ হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা পবিত্র আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য দোয়া করবেন, যাতে সবাই শান্তিতে থাকতে পারে। আমি দোয়া করি, আপনারা যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে হজ পালন করে সুস্থভাবে দেশে ফিরতে পারেন।’ হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ পবিত্র হজ পালনে যাচ্ছেন। হজযাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবারও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় প্রণালীটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর তিনি এই ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি বিশ্বের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখনো স্পষ্ট নয়, জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আবার ফিরে গেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে, যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়। তাঁর ভাষায়, ইরানের সঙ্গে লেনদেন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান বজায় থাকবে। অন্যদিকে ইরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, মার্কিন অবরোধ চলতে থাকলে প্রণালী খোলা রাখা সম্ভব নয়। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, পরিস্থিতি এমন হলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। একই সঙ্গে সামরিক জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর প্রবেশ এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় প্রায় ২০টি জাহাজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হলেও বেশিরভাগই মাঝপথে ফিরে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় একসঙ্গে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা ছিল। এদিকে হরমুজ প্রণালি খোলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। তবে শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ আরও গভীর হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব উপাদান অন্য কোথাও স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই। সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিলেও ইরান সীমিত সময়ের জন্য বিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে আলোচনায় বড় অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তথ্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেটে দাবি করা হচ্ছে যে, ‘নকল বন্ধে এবার পরীক্ষার আগে রুটিন দেওয়া হবে না এবং কোন বিষয়ে পরীক্ষা হবে তা কেবল পরীক্ষার হলে গিয়েই জানা যাবে।’ তবে এই তথ্যটি সম্পূর্ণ অত্য ও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষার রুটিন নিয়ে যে খবরটি ছড়ানো হচ্ছে তা নিছক একটি গুজব। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। মূলত শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষার রুটিন যথাসময়ে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোনো ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত এই ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিবরণীতে আরও বলা হয়, সরকারি কোনো ঘোষণা বা রুটিন পরিবর্তনের খবর জানতে সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল নোটিশ অনুসরণ করাই শ্রেয়। কোনো ভিত্তিহীন সংবাদ শেয়ার করে গুজব ছড়াতে সহায়তা না করার জন্যও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগী হতে এবং কোনো ধরণের গুজবে কান দিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট না করতে। পরীক্ষার রুটিন এবং আনুষঙ্গিক তথ্য বোর্ডগুলোর নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ীই সম্পন্ন হবে। বাসস
আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, "দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।" কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণাটি সবার জন্য সঠিক নয়। আর এই তীব্র গরমে আমাদের মনে হতে পারে অতিরিক্ত পানি খেলে হয়তো শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ হবে এমনকি বারবার পিপাসা পেলে আমরা অধিক পরিমাণ পানি খাই। কিন্তু অতিরিক্ত পানি পান আপনার শরীরের জন্য উল্টো বিপদের কারণ হতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানবো, আপনার শরীরের ওজন এবং কাজের ধরন অনুযায়ী ঠিক কতটুকু পানি আপনার জন্য প্রয়োজন। ৮ গ্লাস পানির ধারণা কি ভুল? ১৯৪৫ সালে প্রথম '৮ গ্লাস পানি'র একটি গাইডলাইন সামনে আসে। কিন্তু মানুষ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যায়—আমরা প্রতিদিন যে খাবার (ফলমূল, সবজি, ডাল) খাই, তার থেকেও প্রচুর পানি শরীরে প্রবেশ করে। তাই ঢকঢক করে আলাদাভাবে ৮ গ্লাস পানি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? পুষ্টিবিদদের মতে, পানির চাহিদা নির্ভর করে আপনার ওজনের ওপর। একটি সহজ হিসাব মনে রাখতে পারেন: আপনার শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩৫ মিলি পানি প্রয়োজন। হিসাবটি এমন: যদি আপনার ওজন ৬০ কেজি হয়, তবে ৬০ × ৩৫ = ২১০০ মিলি (অর্থাৎ ২.১ লিটার)। যদি আপনার ওজন ৮০ কেজি হয়, তবে ৮০ × ৩৫ = ২৮০০ মিলি (অর্থাৎ ২.৮ লিটার)। পিপাসা লাগলেই কি পানি খাবেন? অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শরীর যখন পানির অভাব বোধ করে, তখন সে 'পিপাসা'র মাধ্যমে সংকেত দেয়। তাই জোর করে পানি পান করার চেয়ে পিপাসা মেটানোই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে বয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পিপাসার সংকেত অনেক সময় কাজ করে না, তাদের নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করানো উচিত। কীভাবে বুঝবেন আপনি কম পানি খাচ্ছেন? আপনার শরীর নিজেই জানান দেবে যে সে তৃষ্ণার্ত। যদি প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়, বুঝবেন আপনি ডিহাইড্রেটেড। আদর্শ রং হবে একদম হালকা হলুদ বা পানির মতো হয়। যদি বারবার ঠোঁট বা মুখ শুকিয়ে আসে। তারপরে পর্যাপ্ত পানির অভাবে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে, যা মাথাব্যথার কারণ।এবং সবশেষে কোনো কারণ ছাড়াই দুর্বল লাগা। এই লক্ষণ গুলো দেখলেই বুঝবেন আপনার পানি খাওয়া কম হচ্ছে তাই নির্ধারিত পরিমাণ পানি অবশ্যই খাবেন অতিরিক্ত পানি পানে যে সমস্যা হতে পারে বেশি পানি পান করলে রক্তের সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'হাইপোনাট্রেমিয়া' বলে। এর ফলে মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়া বা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই 'বেশি ভালো' মনে করে লিটার লিটার পানি পান করা বন্ধ করুন। কখন পানি পান করা জরুরি? ১. ঘুম থেকে উঠে: শরীরকে সচল করতে এক গ্লাস পানি চমৎকার কাজ করে। ২. ব্যায়ামের আগে ও পরে: ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে। ৩. তীব্র গরমে: আমাদের দেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম বেশি হয়, তাই পানির পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো উচিত।
শেষ কয়েক ঘন্টা বৈদেশিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা থাকলেও আবারো এটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় একে জলদস্যুতা উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজ শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে পুনরায় সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে থাকবে। ইরানের জয়েন্ট মিলিটারি কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, "হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এখন থেকে এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।" বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গত শুক্রবার ইরান হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আভাস দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য পরিস্থিতি বদলে দেয়। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরান যতক্ষণ পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে না পৌঁছাবে, ততক্ষণ মার্কিন অবরোধ "পুরো শক্তিতে" জারি থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান শনিবার সকালে পুনরায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। হরমোজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এমন আশায় তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু হরমোজ প্রণালী ফের বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬০ দিনের বিশেষ ‘ছাড়’ দেওয়ার খবরটি নাকচ করে দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছে সরকার। আজ শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা কিংবা এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছাড় সংক্রান্ত তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। এমনকি বিভাগের কোনো অনুমোদিত কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এ ধরণের কোনো মন্তব্য বা তথ্য প্রদান করেননি। সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ার তেলের ওপর বিশেষ ছাড় কার্যকর থাকবে। বিষয়টি নজরে আসার পর মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরণের কোনো প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো দাপ্তরিক বা হালনাগাদ তথ্য নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি তথ্য। বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে যে তথ্যগুলো ছড়ানো হচ্ছে, তা অনুমোদিত নয়। এ ধরণের অপপ্রচার জাতীয় জ্বালানি নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। জাতীয় স্পর্শকাতর এই বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার এবং সরকারি তথ্যের সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | রাত ১১:৪৯
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা থামছেই না। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল), সারাদেশে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর ১৫ এপ্রিলের নির্ধারিত নতুন দামেই স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে। আপনি যদি বিয়ের গয়না কেনা বা এই খাতে বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তবে আজকের সর্বশেষ রেটটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সর্বশেষ বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। আজকের স্বর্ণের দাম: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ নিচে আজকের বাজারের সর্বশেষ দরের তালিকা দেওয়া হলো: ২২ ক্যারেট: ২,৫০,১৯৩ টাকা (প্রতি ভরি) ২১ ক্যারেট: ২,৩৮,৮২০ টাকা (প্রতি ভরি) ১৮ ক্যারেট : ২,০৪,৭০৩ টাকা (প্রতি ভরি) সনাতন পদ্ধতি : ১,৬৬,৭৩৭ টাকা (প্রতি ভরি) দেখুনঃ সোনার দামের সর্বশেষ আপডেট স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কিছুটা বাড়তি। আজ ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬০৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫,৭৭৪টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪,৯৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (বিশুদ্ধ সোনা) সংকট দেখা দেওয়ায় বাজুস গত ১৫ এপ্রিল এই নতুন দাম ঘোষণা করে, যা আজ ১৭ এপ্রিলও কার্যকর রয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে আমাদের দেশের বাজারে। আপনারা যারা আজ স্বর্ণ কেনার কথা ভাবছেন, তারা দোকানে গিয়ে দামের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। কারণ গয়না কেনার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং নূন্যতম ৬% মজুরি যুক্ত করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়। নির্ভরযোগ্য এবং হলমার্ক করা দোকান থেকে স্বর্ণ কেনাই আপনার জন্য নিরাপদ হবে।
আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে বিতর্কিত ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল (Silent Expel)-এর কোনো সুযোগ থাকছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা আইনসম্মত নয় এবং শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালায় থাকা এ সংক্রান্ত ২৯ নম্বর ধারাটি অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। পুরনো নীতিমালায় থাকা এই বিধানের বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনেও এমন কোনো নিয়ম ছিল না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ কাজ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কাউকে শাস্তি দিতে হলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার (Due Process) মধ্য দিয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থী নকল করেছে কি না, তা পরীক্ষা কক্ষেই প্রমাণিত হতে হবে। পরীক্ষা শেষে নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ নিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে গোলযোগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ১৯৬১ সালের পুরনো ও অসংগতিপূর্ণ নীতিমালার কোনো কপি থেকে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শঙ্কা দূর করতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রী জানান: এসএসসি পরীক্ষা: আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা: আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে এবং পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করা হবে। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবারের কড়াকড়ি আইনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের জন্য। আমরা চাই তারা যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। আমরা পরীক্ষার্থীদের পেছনে ছুটছি না, বরং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জবাবদিহিতার দিকে নজর দিচ্ছি।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ | বিকেল ৫:১৬
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দলটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিজীবী রয়েছেন। তাদের বেতন স্কেল সর্বশেষ বৃদ্ধি পেয়েছিল প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে। অথচ গত এক দশকে ৫০ শতাংশেরও বেশি মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে এবং জীবনযাপনের নানামুখী ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি বর্তমান জীবনমান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দ্রুততম সময়ে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় সরকারি খাতের এই বিপুল সংখ্যক চাকরিজীবী ও তাদের পরিবার বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি বেতনের অন্তর্ভুক্ত চাকরিজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৪৮টি সভা ও মতামত গ্রহণের মাধ্যমে গত ২১ জানুয়ারি ৯ম বেতন কমিশনের প্রস্তাব প্রদান করেছে। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ে শুরু থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টি সোচ্চার ছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু থেকেই বিভিন্ন পেশাজীবীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিল। ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের আন্দোলনেও সরকারি বেতনভুক্ত চাকরিজীবীদের আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, এবার হজ খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং আগামী বছর আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে। উদ্বোধনের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই ফ্লাইটে ৪১৮ জন হজযাত্রী রয়েছে। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখানে ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি। হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন এবং একটি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন এবং এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ এর যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন এবং দু'হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। দোয়া করেন তারা যাতে নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারেন। হজ ফ্লাইট উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সরকার গঠন করেছি ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ। এবার হজের ব্যবস্থাপনা হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে। সেজন্য আমরা এসে এবার খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাইনি। তারপরও চেষ্টা করেছি যতটুকু করা যায়। এবার একটা জিনিস করতে পেরেছি সেটা হলো ১২ হাজার টাকার মত খরচ কমাতে পেরেছি।' তিনি আরও বলেন, 'আশা করি আগামী বছর যারা হজে যাবেন, তাদের জন্য আরেকটু কমাতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি আরও ভালো করার জন্য যাতে হাজীদের আগামী বছর কষ্ট কম হয়।' হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আমি দোয়া করি আপনারা যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন।' এই সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি মাধ্যম অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যাবেন। সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, "দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।" কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণাটি সবার জন্য সঠিক নয়। আর এই তীব্র গরমে আমাদের মনে হতে পারে অতিরিক্ত পানি খেলে হয়তো শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ হবে এমনকি বারবার পিপাসা পেলে আমরা অধিক পরিমাণ পানি খাই। কিন্তু অতিরিক্ত পানি পান আপনার শরীরের জন্য উল্টো বিপদের কারণ হতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানবো, আপনার শরীরের ওজন এবং কাজের ধরন অনুযায়ী ঠিক কতটুকু পানি আপনার জন্য প্রয়োজন। ৮ গ্লাস পানির ধারণা কি ভুল? ১৯৪৫ সালে প্রথম '৮ গ্লাস পানি'র একটি গাইডলাইন সামনে আসে। কিন্তু মানুষ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যায়—আমরা প্রতিদিন যে খাবার (ফলমূল, সবজি, ডাল) খাই, তার থেকেও প্রচুর পানি শরীরে প্রবেশ করে। তাই ঢকঢক করে আলাদাভাবে ৮ গ্লাস পানি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত? পুষ্টিবিদদের মতে, পানির চাহিদা নির্ভর করে আপনার ওজনের ওপর। একটি সহজ হিসাব মনে রাখতে পারেন: আপনার শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩৫ মিলি পানি প্রয়োজন। হিসাবটি এমন: যদি আপনার ওজন ৬০ কেজি হয়, তবে ৬০ × ৩৫ = ২১০০ মিলি (অর্থাৎ ২.১ লিটার)। যদি আপনার ওজন ৮০ কেজি হয়, তবে ৮০ × ৩৫ = ২৮০০ মিলি (অর্থাৎ ২.৮ লিটার)। পিপাসা লাগলেই কি পানি খাবেন? অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শরীর যখন পানির অভাব বোধ করে, তখন সে 'পিপাসা'র মাধ্যমে সংকেত দেয়। তাই জোর করে পানি পান করার চেয়ে পিপাসা মেটানোই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে বয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পিপাসার সংকেত অনেক সময় কাজ করে না, তাদের নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করানো উচিত। কীভাবে বুঝবেন আপনি কম পানি খাচ্ছেন? আপনার শরীর নিজেই জানান দেবে যে সে তৃষ্ণার্ত। যদি প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়, বুঝবেন আপনি ডিহাইড্রেটেড। আদর্শ রং হবে একদম হালকা হলুদ বা পানির মতো হয়। যদি বারবার ঠোঁট বা মুখ শুকিয়ে আসে। তারপরে পর্যাপ্ত পানির অভাবে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে, যা মাথাব্যথার কারণ।এবং সবশেষে কোনো কারণ ছাড়াই দুর্বল লাগা। এই লক্ষণ গুলো দেখলেই বুঝবেন আপনার পানি খাওয়া কম হচ্ছে তাই নির্ধারিত পরিমাণ পানি অবশ্যই খাবেন অতিরিক্ত পানি পানে যে সমস্যা হতে পারে বেশি পানি পান করলে রক্তের সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'হাইপোনাট্রেমিয়া' বলে। এর ফলে মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়া বা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই 'বেশি ভালো' মনে করে লিটার লিটার পানি পান করা বন্ধ করুন। কখন পানি পান করা জরুরি? ১. ঘুম থেকে উঠে: শরীরকে সচল করতে এক গ্লাস পানি চমৎকার কাজ করে। ২. ব্যায়ামের আগে ও পরে: ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে। ৩. তীব্র গরমে: আমাদের দেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম বেশি হয়, তাই পানির পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো উচিত।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। ২০১৫ সালের পর দশ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন বেতন কাঠামো ঘোষিত হয়নি। বিভিন্ন সংগঠনের দাবি ও প্রস্তাবনার আলোকে নবম বা নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে? কী কী প্রস্তাব এসেছে, সুযোগ-সুবিধা এবং গ্রেড সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান প্রস্তাবগুলো হলো: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের প্রস্তাব সর্বনিম্ন বেতন: ৩৫,০০০ টাকা (বর্তমান ৮,২৫০ টাকা) সর্বোচ্চ বেতন: ১,৪০,০০০ টাকা (বর্তমান ৭৮,০০০ টাকা) গ্রেড সংখ্যা: ২০টি থেকে কমিয়ে ১২টি করার সুপারিশ এই প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৪ গুণ এবং সর্বোচ্চ বেতন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের প্রস্তাব সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৩২,০০০ টাকা সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,২৮,০০০ টাকা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি পে কমিশনের সুপারিশে প্রত্যাশিত বেতন একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, পে কমিশন সুপারিশে: সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২৫,০০০ টাকা সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৫০,০০০ টাকা গ্রেড সংখ্যা কমানো এবং বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ৩০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাবে: প্রথম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন: ২,৩৪,০০০ টাকা দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন: ১,৮৮,০০০ থেকে ২,৪০,৬৭০ টাকা তৃতীয় গ্রেডের বেতন: ১,৮০,০০০ থেকে ২,২৫,৩৫০ টাকা তবে সচিবরা ৩-৪ গুণ বেতন বৃদ্ধির এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেননি। তারা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রস্তাবিত সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা বৃদ্ধি নবম পে স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে: বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রস্তাবিত হার: মূল বেতনের ৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত (পদভেদে) কর্মচারী সংগঠনগুলো ২০% এর নিচে বাড়ি ভাড়া মানতে রাজি নয় বর্তমানে অনেক গ্রেডে মাত্র ৫-১০% বাড়ি ভাড়া রয়েছে চিকিৎসা ভাতা প্রস্তাবিত: ৩,০০০ টাকা (বর্তমান ১,৫০০ টাকা) বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয়ের দাবি শিক্ষা ভাতা প্রস্তাবিত: ২,০০০ টাকা সন্তানদের শিক্ষা খরচের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুপারিশ ধোলাই ভাতা প্রস্তাবিত: ১,০০০ টাকা বর্তমান খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ অস্থায়ী মহার্ঘ ভাতা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আগে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৫০% মহার্ঘ ভাতা চালুর দাবি উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই দাবি জোরদার হচ্ছে। গবেষণা অনুদান (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবে: অধ্যাপক: ১০ লাখ টাকা বার্ষিক সহযোগী অধ্যাপক: ৫ লাখ টাকা সহকারী অধ্যাপক: ৩ লাখ টাকা প্রভাষক: ২ লাখ টাকা পেনশন সুবিধা নিম্ন বেতনভোগীদের জন্য ১০০% পেনশন চালুর দাবি পেনশন গ্রাচুইটি হার ১ টাকা = ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব গ্রেড সংস্কার: সুবিধা ও অসুবিধা নবম পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এর সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ: বর্তমান পরিস্থিতি বর্তমান গ্রেড সংখ্যা: ২০টি প্রথম থেকে দশম গ্রেড: কর্মকর্তা পর্যায় একাদশ থেকে বিংশ গ্রেড: কর্মচারী পর্যায় গ্রেড কমানোর সুবিধা ১. বেতন বৈষম্য হ্রাস: গ্রেড কম হলে বেতনের পার্থক্য যৌক্তিক হবে ২. পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি: কম গ্রেডে পদোন্নতি দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা ৩. প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস: কম গ্রেড মানে সহজ বেতন কাঠামো ৪. সমতা প্রতিষ্ঠা: উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে ব্যবধান কমবে গ্রেড কমানোর সম্ভাব্য অসুবিধা ১. পদের স্বল্পতা: কম গ্রেডে একই পদে বেশি কর্মচারী থাকলে পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে ২. পুনর্বিন্যাস জটিলতা: বর্তমান কর্মচারীদের নতুন গ্রেডে স্থাপন জটিল হবে ৩. বিশেষায়িত পদের সমস্যা: কিছু বিশেষায়িত পদের গ্রেড নির্ধারণে জটিলতা প্রস্তাবিত গ্রেড কাঠামো বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাব: ১২ গ্রেড: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন ১৬ গ্রেড: কিছু সূত্রে ১৬ গ্রেডের কথা উল্লেখ রয়েছে ১০ গ্রেড: কিছু কর্মচারী সংগঠন মাত্র ১০টি গ্রেডের পক্ষে গ্রেড ভিত্তিক বেতন পার্থক্যের প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের ১২ গ্রেড প্রস্তাবে: ১ম থেকে ২য় গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ২য় থেকে ৩য় গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৩য় থেকে ৪র্থ গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৪র্থ থেকে ৫ম গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড: ৫,০০০ টাকা করে কমছে ৯ম থেকে ১০ম গ্রেড পার্থক্য: ১০,০০০ টাকা ১০ম থেকে ১১তম গ্রেড পার্থক্য: ৮,০০০ টাকা ১১তম থেকে ১২তম গ্রেড পার্থক্য: ৭,০০০ টাকা এই কাঠামোতে উচ্চ গ্রেডে বেশি পার্থক্য এবং নিম্ন গ্রেডে কম পার্থক্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান বেতন ব্যবস্থার সমস্যা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়। পূর্বে: ৪ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড ৮, ১২, ১৫ বছর পূর্তিতে টাইম স্কেল বর্তমানে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের নামে ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি করে মাত্র ১০ টাকা বেতন বৃদ্ধি হয়, যা কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। পদোন্নতি বৈষম্য ১-১০ গ্রেডের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পান ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫-২০ বছরেও পদোন্নতি পান না ব্লক পোস্টের কারণে অনেকে সারাজীবন একই গ্রেডে থাকেন বেতন বৈষম্যের চিত্র অষ্টম পে স্কেলে: ২০তম থেকে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত মোট ৮টি গ্রেডে বেতন বাড়ে মাত্র ৩,০৫০ টাকা ১-১০ গ্রেডে গ্রেড ভিত্তিক ব্যবধানের হার সর্বনিম্ন ২.২২% ও সর্বোচ্চ ৯.৬০% একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগে বেতন গ্রেড ও পদ মর্যাদায় বৈষম্য দাবি সংস্কার: সংগঠনগুলোর দাবিনামা সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো নবম পে স্কেলে যেসব সংস্কার চায়: মূল দাবিসমূহ ১. বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামো - গ্রেড অনুযায়ী বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ ২. এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন ৩. ৫ বছর পর পর পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড প্রদান ৪. টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল সহ জ্যেষ্ঠতা বজায় ৫. সচিবালয়ে ন্যায় পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন ৬. সকল ভাতা বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় ৭. নিম্ন বেতনভোগীদের জন্য রেশন ও ১০০% পেনশন ৮. কাজের ধরণ অনুযায়ী পদ, নাম ও গ্রেড একীভূতকরণ বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে দাবি কর্মচারী সংগঠনগুলো যুক্তি দিয়েছে: ২০১৫ সালের পর অন্তত দুটি কমিশন হওয়া উচিত ছিল দুইবারের সময়ে একবার পে স্কেল হওয়ায় অন্তত ১৫০% বৃদ্ধি হওয়া উচিত ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালে মূল বেতন প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল সর্বশেষ আপডেট ও সরকারের অবস্থান পে কমিশনের অগ্রগতি কমিশন গঠন: জুলাই ২০২৫, চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সভা সংখ্যা: ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫টি পূর্ণ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত মতামত সংগ্রহ: প্রায় আড়াই শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সাথে আলোচনা সম্পন্ন সময়সীমা: জানুয়ারি ২০২৫-এ সুপারিশ জমা দেওয়ার লক্ষ্য তিন ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ১. প্রথম ধাপ: জানুয়ারিতে কমিশনের সুপারিশ জমা ২. দ্বিতীয় ধাপ: সচিব কমিটিতে পর্যালোচনা ও অনুমোদন ৩. তৃতীয় ধাপ: উপদেষ্টা পরিষদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট জারি সরকারের বক্তব্য অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে এটি বাস্তবায়ন করবেন। তবে পে কমিশনের সুপারিশ দ্রুত জমা হওয়ার আশা করা হচ্ছে। কর্মচারীদের আলটিমেটাম বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের সুপারিশসহ গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছে। তবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০ ডিসেম্বর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মূল্যস্ফীতি ও বাস্তবতা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০১৫ থেকে ৭ বছরে ৪০% বেতন বৃদ্ধি হলেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১০০-১৫০% বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে একজন মানুষ দিনে তিন বেলা ডাল-ভাত-ভর্তা খেলে খরচ প্রায় ১৫০ টাকা ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য মাসে অন্তত ২৭ হাজার টাকা খাবার খরচ বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সব খরচে ৫০ হাজার টাকাতেও চলে না জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ১৭-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমান বেতনে: বাসা ভাড়া দিতে পারেন না যথাযথ পরিবারের ৬ জন সদস্যের মাসের বাজার সদাই সামাল দিতে হিমশিম ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে কষ্ট মাস শেষ হওয়ার আগেই ঋণ করে সংসার চালাতে হয় প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা কর্মচারীদের প্রত্যাশা ১. যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধি - মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ২. বৈষম্য নিরসন - সব গ্রেডে সমান বৃদ্ধির হার ৩. দ্রুত বাস্তবায়ন - আর বিলম্ব না করা ৪. সার্ভিস বেনিফিট - পুরাতন কর্মচারীরাও যেন সুবিধা পান বিশেষজ্ঞদের মতামত মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা কম তবে মোট বেতন (Gross Salary) এবং ভাতার ওপর জোর দেওয়া হবে নিম্ন গ্রেডের বেতন আনুপাতিক হারে বেশি বাড়ানোর সম্ভাবনা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবসম্মত বৃদ্ধি হবে সম্ভাব্য বাস্তবায়নের সময় সুপারিশ জমা: জানুয়ারি ২০২৫ চূড়ান্ত অনুমোদন: ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৫ কার্যকর হওয়া: ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে সম্ভাবনা সতর্কতা: ভুয়া তথ্য থেকে সাবধান সোশ্যাল মিডিয়াতে পে স্কেল নিয়ে প্রায়ই ভিত্তিহীন খবর বা ভুয়া গেজেট ছড়িয়ে পড়ে। যেমন: "আগামী মাসেই বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে" "১০টি গ্রেড বাতিল হচ্ছে" "পে স্কেল ঘোষণা হয়ে গেছে" মনে রাখবেন: পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। এর আগে যা শোনা যায়, তা মূলত প্রস্তাবনা বা আলোচনা। উপসংহার নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সবকিছু মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১২টি করা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামো এবং ভাতা বৃদ্ধির দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত একটি সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। জাতীয় বেতন কমিশন জানুয়ারিতে তাদের সুপারিশ জমা দিলে এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশিত হলে দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হবে। নবম পে স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। সর্বশেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ বিঃদ্রঃ এই তথ্যগুলো বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবনা এবং সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত। চূড়ান্ত বেতন কাঠামো পে কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো প্রস্তাবনা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
বিদেশের মাটিতে ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু ভিসা পাওয়ার ঝক্কি আর বিশাল বাজেটের কথা ভেবে অনেকেই পিছিয়ে যান। তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে পরিকল্পনা করেন, তবে মাত্র ১ লাখ টাকার বাজেটে অনায়াসেই জীবনসঙ্গী বা বন্ধুকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার সব দেশ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন কিছু দেশ আছে যেখানে যাওয়ার জন্য কোনো আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই বেঁচে যায়। আজ আপনাদের এমন ৫টি দেশের কথা জানাব, যেখানে কম খরচে রাজকীয় ভ্রমণ উপভোগ করা যায়। পাহাড় ও মেঘের রাজ্য নেপাল বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নেপাল সব সময়ই তালিকার শীর্ষে থাকে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপালে প্রথমবার প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ভিসা ফি লাগে না। ১ লাখ টাকার বাজেটে কাঠমান্ডু, পোখরা এবং নাগরকোট। এই তিন শহর দুই জন মিলে খুব চমৎকারভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা এই দেশটিতে যেমন কম খরচে থাকা যায়, তেমনি পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা বা প্যারাগ্লাইডিং করার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ অনেকেই মনে করেন মালদ্বীপ মানেই লাখ লাখ টাকার খরচ, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। লাক্সারি রিসোর্ট এড়িয়ে যদি আপনি মাফুশি বা হুলহুমালের মতো লোকাল আইল্যান্ডগুলোতে থাকেন, তবে ১ লাখ টাকায় দুই জন মিলে চার দিন কাটিয়ে আসা সম্ভব। নীল সমুদ্রের ওপর ওয়াটার স্পোর্টস কিংবা ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতা কোনো ভিসা ছাড়াই পেয়ে যাবেন অন-অ্যারাইভাল সুবিধার মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লঙ্কা দ্বীপ শ্রীলঙ্কা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত বন্ধুসুলভ একটি দেশ। পাহাড়, চা বাগান আর ঐতিহাসিক সব স্থাপনায় ঘেরা এই দেশে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা। ক্যান্ডির পাহাড় থেকে শুরু করে নুয়ারা এলিয়ার ঝরনা পর্যন্ত দুই জন মিলে ৫ থেকে ৬ দিনের একটি ট্রিপ ১ লাখ টাকার মধ্যেই বেশ আয়েশ করে শেষ করা যায়। এখানকার আবহাওয়া এবং খাবার দুই-ই বাঙালির খুব পছন্দের। বাজেট ফ্রেন্ডলি ভিয়েতনাম বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের কাছে ভিয়েতনাম একটি দারুণ আকর্ষণীয় গন্তব্য। যদিও এখানে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সরাসরি নেই, তবে খুব স্বল্প খরচে অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে নেওয়া যায়। ১ লাখ টাকার বাজেটে ভিয়েতনামের বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড, হ্যালং বের ক্রুজ ভ্রমণ এবং হো চি মিন সিটির জাঁকজমক অনায়াসেই উপভোগ করা সম্ভব। যারা একটু ভিন্ন ধাঁচের সংস্কৃতি দেখতে চান, তাদের জন্য ভিয়েতনাম সেরা পছন্দ হতে পারে। শপিং ও বিনোদনের থাইল্যান্ড থাইল্যান্ড মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফি মওকুফ বা ভিসা ফ্রি সুবিধা দিয়ে থাকে। যখন এই সুযোগ থাকে, তখন ব্যাংকক আর পাতায়াতে দুই জন মিলে ৪-৫ দিনের ভ্রমণ ১ লাখ টাকার বাজেটে খুব সহজেই সম্ভব হয়। স্ট্রিট ফুড আর কেনাকাটার জন্য থাইল্যান্ডের কোনো তুলনা হয় না। তাই আপনার পরবর্তী ট্রিপের পরিকল্পনা শুরু করার আগে এই দেশগুলোর তালিকাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে পারেন। সঠিক সময়ে টিকিট বুক করলে এই বাজেটেও আপনি পেতে পারেন রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ।
তীব্র গরমে বাচ্চাদের ত্বকের যত্নে সাধারণ ক্রিম ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঘামাচি, র্যাশ এবং কালচে ভাব দূর করতে এই সময় ভারী ক্রিমের বদলে হালকা বা ওয়াটার-বেসড ক্রিম বেছে নেওয়া প্রয়োজন। আপনার শিশুর ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোন ক্রিমটি সেরা হবে, বা গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো তা নিয়েই আজকের আলোচনা। গরমে শিশুর ত্বকে ক্রিম ব্যবহারের আগে যা জানা জরুরি অতিরিক্ত গরমে ভারী তৈলাক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, যা থেকে র্যাশ হতে পারে। তাই এই সময় এমন ক্রিম বাছাই করতে হবে যা: হালকা ও দ্রুত শোষণযোগ্য প্যারাবেন ও কেমিক্যালমুক্ত প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ (অ্যালোভেরা বা ক্যালামাইন) গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন ক্রিম ভালো? ( সেরা ৫টি বেবি ক্রিম ) এখানে কয়েকটি জনপ্রিয় এবং চিকিৎসকদের পছন্দের ক্রিমের তালিকা দেওয়া হলো: ক. সেবামড বেবি প্রোটেক্টিভ ফেসিয়াল ক্রিম এটি শিশুর ত্বকের পিএইচ (pH) ৫.৫ বজায় রাখে। গরমে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং অস্বস্তি কমাতে এটি বেশ কার্যকর। এটি মোটেও চটচটে নয়। খ. হিমালয়া বেবি ক্রিম যাঁরা ভেষজ উপাদান পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি ভালো। এতে আছে কান্ট্রি ম্যালো এবং অলিভ অয়েল, যা ত্বককে শীতল রাখে এবং পুষ্টি যোগায়। গ. আভিওনো বেবি ময়েশ্চারাইজিং লোশন ওটমিল সমৃদ্ধ এই লোশনটি গরমের র্যাশ বা চুলকানি কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। এটি সেনসিটিভ ত্বকের জন্য সেরা। ঘ. জনসন’স বেবি ক্রিম (সোফ্ট ক্যাটাগরি) হালকা টেক্সচারের জন্য এটি গরমে ভালো কাজ করে। এটি দ্রুত ত্বকে মিশে যায় এবং কোনো আঠালো ভাব রাখে না। ঙ. ডাবর লাল টেইল বা ক্যালামাইন লোশন যদি শিশুর শরীরে ঘামাচি বা অতিরিক্ত ঘাম হয়, তবে সাধারণ ক্রিমের বদলে ভালো মানের ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। এটি ত্বককে ঠান্ডা রাখে। মনে রাখবেন - বাচ্চার ত্বকে নতুন কোনো ক্রিম ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট (Patch Test) করে নিন। অর্থাৎ বাচ্চার কানের পিছনে বা হাতের সামান্য অংশে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি কোনো লাল ভাব বা চুলকানি না হয়, তবেই পুরো শরীরে ব্যবহার করুন।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের ছবি অনেক আগের হওয়ায় অনেকেরই বর্তমান চেহারার সাথে তা মেলে না। আবার অনেক সময় ছবি অস্পষ্ট আসার কারণে বিভিন্ন জায়গায় ভেরিফিকেশনে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই, আপনি চাইলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে আপনার আইডি কার্ডে ছবি পরিবর্তন করে নিতে পারেন। এই কাজটি কীভাবে করবেন তা নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো। ভোটার আইডি কার্ডে ছবি পরিবর্তন করার নিয়ম ছবি পরিবর্তনের জন্য প্রথমেই আপনাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। যদি আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট করা থাকে, তবে আপনার ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। লগইন করার পর আপনার প্রোফাইলে গিয়ে 'সংশোধন' বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখানে মনে রাখা ভালো যে, ছবি পরিবর্তনের আবেদনটি অনলাইনে শুরু করা গেলেও এটি পুরোপুরি শেষ করতে আপনাকে সশরীরে অফিসে যেতে হতে হবে। অনলাইনে সংশোধনের ফরমে আপনি ছবি পরিবর্তনের অপশনটি সিলেক্ট করবেন। এই পর্যায়ে আপনাকে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র আপলোড করতে হতে পারে। সাধারণত বর্তমান ছবি পরিবর্তনের জন্য আপনার বর্তমান চেহারার সাথে মিল আছে এমন কোনো প্রমাণপত্র, যেমন পাসপোর্ট বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের কপি স্ক্যান করে জমা দিতে হয়। এরপর সরকারি নির্ধারিত ফি বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে জমা দিয়ে আবেদনের অনলাইন ধাপটি শেষ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি দিনক্ষণ দেখে আপনার নিকটস্থ উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। কারণ ছবি যেহেতু একটি বায়োমেট্রিক তথ্য, তাই এটি অনলাইনের মাধ্যমে নিজে নিজে পরিবর্তন করা যায় না। অফিসে যাওয়ার সময় আপনার সাথে আবেদনের অনলাইন কপির প্রিন্ট কপি এবং অরিজিনাল এনআইডি কার্ডটি নিয়ে যাবেন। নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পর দায়িত্বরত কর্মকর্তা আপনার তথ্যগুলো যাচাই করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তারা ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে আপনার নতুন ছবি তুলে নেবেন এবং আপনার আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট পুনরায় গ্রহণ করবেন। এই নতুন ছবিই আপনার পরবর্তী এনআইডি কার্ডে যুক্ত করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কিছুদিন পর আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে যে আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে। তখন আপনি অনলাইন থেকে নতুন ছবির এনআইডি কার্ডটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে একটু সময় লাগলেও আপনার পরিচয়পত্রের ছবি একদম আপ-টু-ডেট হয়ে যাবে, যা পরবর্তী সব ধরণের ভেরিফিকেশনে আপনাকে সাহায্য করবে।
আপনি কি ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ইনফরমেশন গভর্নেন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী? দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড (Akij Resources Limited) তাদের ডকুমেন্ট কন্ট্রোল বিভাগে 'Assistant Manager' পদে জনবল নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে । পেশাদার পরিবেশে যারা নিজেদের ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। এক নজরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে ছক আকারে বিজ্ঞপ্তির মূল তথ্যগুলো দেওয়া হলো: বিষয় বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম আকিজ রিসোর্সেস (Akij Resources) পদের নাম Assistant Manager - Document Control Management শিক্ষাগত যোগ্যতা BBA (Management/MIS) অথবা BA (Library Management) প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ৩ থেকে ৭ বছর বেতন আলোচনা সাপেক্ষে আবেদনের শেষ সময় ২২ এপ্রিল ২০২৬ আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কিছু বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকতে হবে: শিক্ষাগত পটভূমি: প্রার্থীদের ম্যানেজমেন্ট (Management), এমআইএস (MIS) অথবা ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে স্নাতক হতে হবে । বিশেষ প্রশিক্ষণ: ISO ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ইন্টারনাল অডিট বা ডকুমেন্ট কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS)-এর ওপর প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেশন থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে । অভিজ্ঞতা: ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা রেকর্ড ম্যানেজমেন্টে ৩ থেকে ৫ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে । কারিগরি জ্ঞান: গুগল ওয়ার্কস্পেস (Google Workspace), ইআরপি (ERP) এবং এইচআরএমএস (HRMS) পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে । প্রধান দায়িত্বসমূহ একজন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে আপনার প্রধান কাজ হবে প্রতিষ্ঠানের এন্টারপ্রাইজ-ওয়াইড ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS) তদারকি করা । যার মধ্যে থাকবে: নথিপত্রের কোডিং, ফাইলিং স্ট্রাকচার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা । ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল উভয় সিস্টেমে তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা । আইএসও (ISO) বা আইএমএস (IMS) অডিটের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা । বিভিন্ন বিভাগকে নথিপত্র সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের বিষয়ে সহায়তা প্রদান করা । কিভাবে আবেদন করবেন? আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি Bdjobs.com-এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে । আবেদনের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬ ।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন এক আলোচিত ঘটনা যুক্ত হয়েছে। সৌদি আরবের শীর্ষ ক্লাব আল নাসেরের নারী দলের অধিনায়ক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ক্যাথলিন সৌজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করেছেন। তার জীবনে এটি একটি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা যায়, সৌজা বর্তমানে সৌদি আরবেই বসবাস করছেন এবং আল নাসেরের হয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফুটবলের প্রতি তার পরিশ্রম ও নিষ্ঠা, পাশাপাশি ধর্মীয় অঙ্গীকার দুই ক্ষেত্রেই তার আন্তরিকতা তাকে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এনে দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের এই সিদ্ধান্ত তার প্রতি সেই শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আল নাসেরের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বার্তায় সৌজার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে ওমরাহ পালনের সময়কার তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও সমর্থনের বার্তা ভেসে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের অনেকেই নতুন বিশ্বাসের মাধ্যমে পাওয়া শান্তি ও তৃপ্তির কথা প্রকাশ্যে শেয়ার করেছেন। সৌজার সিদ্ধান্তও সেই ধারারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। আল নাসর এক বিবৃতিতে সৌজার এই যাত্রাকে সুন্দর ও অনুপ্রেরণামূলক পথচলা বলে উল্লেখ করেছে এবং তার ক্রীড়া ও আধ্যাত্মিক জীবনে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অনেক ক্রীড়াপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার ও নতুন ধর্মীয় জীবনের মধ্যে যে ভারসাম্য তিনি গড়ে তুলছেন, তা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। সৌজার ইসলাম গ্রহণ ও ওমরাহ পালন শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বহুমাত্রিকতা ও বিভিন্ন সংস্কৃতি-ধর্মের প্রতি উন্মুক্ততারও প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফুটবল মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার এই আধ্যাত্মিক যাত্রা তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রীড়াবিদদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .