মতামত

সারাদেশ
দেশের আজ কোথাও বৃষ্টি হবে কিনা, যা জানালো আবহাওয়া অফিস

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষের জন্য অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আভাস দেওয়া হয়েছে।  আবহাওয়া অফিসের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায়ও দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু এক জায়গাতেও অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।  আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশের ওপর দিয়ে এখন মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বাড়ছে। এর ফলে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির আভাস রয়েছে।  এদিকে রাজধানী ঢাকায় আজ পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ।  তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের কিছু অঞ্চলে গরমের তীব্রতা এখনো কমেনি। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

২২ মে, ২০২৬ | সকাল ১১:৩২






গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের খাবার তালিকা ও জরুরি কিছু নিয়ম

গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার প্রতিটি মায়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময়ে গর্ভের শিশুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি হওয়া শুরু হয়। তাই মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। সঠিক খাবার মা ও শিশু দুজনকেই সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের খাবার তালিকা গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার প্রতিটি হবু মায়ের জন্যই একটি বিশেষ এবং স্পর্শকাতর সময়। এই শুরুর দিনগুলোতে গর্ভের শিশুর শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো তৈরি হওয়া শুরু হয়, তাই মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। সঠিক খাবার মা ও শিশু দুজনকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক ধকল কাটাতে সাহায্য করে। এই সময়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু সহজ ও পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত যা হজম করা সহজ এবং যা শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে। প্রথম ৩ মাসে ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক গঠনের জন্য প্রথম ৩ মাস ফলিক অ্যাসিড খাওয়া অনেক জরুরি। এর জন্য আপনার প্রতিদিনের খাবারে সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, লাল শাক এবং ব্রকলি রাখা উচিত। পাশাপাশি ডাল, শিম এবং বিভিন্ন ধরণের লেবুতে প্রচুর ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই খাবারগুলো মায়ের শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতেও দারুণ কাজ করে। ডিম ও চর্বিহীন মাংস ডিমকে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউজ। গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রতিদিন অন্তত একটি করে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ডিমে থাকা প্রোটিন এবং কোলিন শিশুর কোষ গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া চর্বিহীন মুরগির মাংস এবং ছোট-বড় মাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া যায়, যা এই সময়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করে। ক্যালসিয়ামের জন্য দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার শিশুর হাড় ও দাঁত মজবুত করার জন্য এই সময়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম দরকার। প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস ফোটানো তরল দুধ বা এক বাটি টকদই খাওয়ার চেষ্টা করুন। যারা সরাসরি দুধ খেতে পারেন না বা যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তারা ছানা বা পনির খেতে পারেন। এটি মায়ের শরীরের হাড়ের ক্ষয় রোধ করতেও সাহায্য করে। শুকনো ফল ও বাদাম প্রথম ৩ মাসে অনেক মায়েরই সকালের দিকে বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরার সমস্যা হয়। এই সময়ে এক মুঠো কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা চিনা বাদাম খেলে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। শুকনো ফল যেমন খেজুর বা কিসমিসও এই সময়ে বিকেলের নাস্তা হিসেবে খুব ভালো ও পুষ্টিকর অপশন। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার এই সময়ে শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। বমি বা গ্যাস্ট্রিকের কারণে শরীর যেন ডিহাইড্রেটেড না হয়ে পড়ে, সেজন্য দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পরিষ্কার পানি পান করুন। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের রস খেতে পারেন। এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রথম ৩ মাসে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন কিছু খাবার গর্ভাবস্থার শুরুতে বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিম ও মাংস, অপাস্তুরিত দুধ, এবং কাঁচা পেঁপে বা আনারস। এই খাবারগুলো গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এবং বাইরের খোলা বা বাসি খাবার খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা উচিত। প্রথম ৩ মাসের কিছু জরুরি টিপস একবারে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে ৪-৫ বার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে বমি ভাব ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেক কমে আসবে। খাবার তালিকায় বৈচিত্র্য রাখুন যেন সব ধরণের পুষ্টি শরীর সমানভাবে পায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিতে অবহেলা করবেন না। উপসংহার গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস একটু সাবধানে এবং নিয়ম মেনে চললে পুরো জার্নিটা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজের পছন্দের এবং পুষ্টিকর খাবারগুলো তালিকায় রাখুন। যেকোনো নতুন খাবার নিয়মিত শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার গাইনি ডাক্তারের সাথে একবার কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। মুক্ত বাতাসে হালকা হাঁটাচলা করুন এবং সবসময় দুশ্চিন্তামুক্ত ও হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।

স্বাস্থ্য
টানা দুই পতনের পর আবারো বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না মেলায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম। টানা দুই দিনের পতনের পর বৃহস্পতিবার (২১ মে) নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি বাজার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে,  এমন শঙ্কা থেকেই বাজারে চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার খবর। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আবারও তেলের বাজারে ঝুঁকির হিসাব কষতে শুরু করেছেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রশ্নই আসে না। হোয়াইট হাউস থেকেও একই ধরনের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না। প্রয়োজন হলে আরও কয়েক দিন, এমনকি তার চেয়েও বেশি সময় অপেক্ষা করতে প্রস্তুত আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দীর্ঘ হলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে।

আন্তর্জাতিক
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

আপনার জন্য






জাতীয়
বায়তুল মোকাররমে ঈদুল আজহার ৫ জামাত: কোনটা কখন অনুষ্ঠিত হবে?

পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীর মুসল্লিদের সুবিধার্থে এখানে পর্যায়ক্রমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায়। গতকাল ২১ ই মে বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) পক্ষ থেকে এই পাঁচটি জামাতের সময়সূচি এবং এতে দায়িত্ব পালনকারী ইমাম ও মুকাব্বিরদের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদের সই করা এই তালিকা অনুযায়ী, সকাল ৭টার প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত এবং সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই জামাতে ইমাম হিসেবে থাকবেন যথাক্রমে ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান ও মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাতে মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন এবং সর্বশেষ বা পঞ্চম জামাতটি শুরু হবে সকাল পৌনে ১১টায় (১০টা ৪৫ মিনিটে), যেখানে ইমামতির দায়িত্বে থাকবেন জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। আমাদের সংবাদকক্ষের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার মতো ব্যস্ত ও জনবহুল শহরে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবার পক্ষে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার দিন সকালে পশু কোরবানি নিয়ে অনেককে ব্যস্ত থাকতে হয়, আবার জরুরি সেবায় নিয়োজিত অনেকের সকালে ডিউটি থাকে। তাদের জন্য বায়তুল মোকাররমের এই পর্যায়ক্রমিক জামাতের ব্যবস্থা বিশাল এক স্বস্তির জায়গা। সকাল ৭টা থেকে শুরু করে প্রায় ১১টা পর্যন্ত একের পর এক জামাত চলার কারণে রাজধানীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ নিজেদের সুবিধামতো সময়ে জাতীয় মসজিদে এসে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। এটি শুধু ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যই বজায় রাখে না, বরং ঈদের দিনের ব্যস্ততাকে সুন্দরভাবে সামলে নিতে সাধারণ মানুষকে দারুণভাবে সাহায্য করে। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে কোনো ইমাম উপস্থিত থাকতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থাও ঠিক করে রেখেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইফার সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম এবং বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের দিন সকালে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে, সবাইকে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২২ মে, ২০২৬ | সকাল ১০:২৬

অর্থনীতি ও বাণিজ্য
১ কেজির ইলিশ ৩ হাজার, ২০০ গ্রামের দামও ৮০০, ঈদের আগে ইলিশ যেন সোনার হরিণ

কোরবানির ঈদের আগে মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে ক্রেতাদের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে রূপালি ইলিশের দাম শুনেই চমকে উঠছেন সাধারণ মানুষ, কারণ এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে এখন পকেট থেকে খসছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা! আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে মাছের এই চড়া দামের চিত্রই চোখে পড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সাইজ অনুযায়ী ইলিশের দাম ওঠানামা করছে। এক কেজি সাইজের ইলিশ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হলেও, ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। এমনকি ২০০ গ্রাম সাইজের ছোট জাটকা ইলিশের কেজিও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়! ইলিশের পাশাপাশি চিংড়ির বাজারেও আগুন। আকার ও জাতভেদে এক কেজি চিংড়ি কিনতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। কোরবানির ঈদের ঠিক আগে মানুষের আনুষঙ্গিক কেনাকাটার একটি বড় চাপ থাকে। ঠিক এমন সময়ে ইলিশ বা বড় চিংড়ির মতো সুস্বাদু মাছগুলো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে চলে গেছে। বাজারে পর্যাপ্ত মাছ থাকলেও দাম এতটা চড়া রাখা হয়েছে যে, সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে সস্তা মাছের দিকেই ঝুঁকছেন। উৎসবের আগে মাছের এমন আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজারের বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। বড় মাছের দাম বেশি থাকলেও, বাজারে তুলনামূলক সস্তায় মিলছে চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়া। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া রুই মাছ ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা এবং দেশি টেংরা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের স্বাদ নিতে চাইলে পাঁচমিশালি মাছ কেনা যাচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। মাছের বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে মাছ ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া বলেন, "মাছের দাম আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। তবে বাজারে বেশি মাছ এলে দাম কিছুটা কমে যায়। যেমন আজ পাঙাশ বেশি এসেছে বলে আমরা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। তবে ইলিশসহ অন্য সব মাছের দাম আগের মতোই বাড়তি।

শিক্ষা
মাউশি - গ্রাফিক দিগন্ত পোস্ট
দেশের সব স্কুল কলেজের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিল মাউশি, যা থাকছে নির্দেশনায়

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোকে নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদ করার জন্য আগামী ৪ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইটের কাজ শেষ করে একটি নির্দিষ্ট গুগল ফর্মে তথ্য জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সই করা এক আদেশে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় তথ্য বাতায়নের অধীনে থাকা অফিস ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট চালু থাকলেও সেখানে দরকারি তথ্য নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে না। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নির্দেশনা রয়েছে, যা অনেকেই মানছেন না। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ভর্তির তথ্য, পরীক্ষার নোটিশ বা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত আপডেট না থাকায় তারা প্রায়ই চরম ভোগান্তিতে পড়েন। মাউশির এই সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলে এখন থেকে ঘরে বসেই সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানার মতো জরুরি বিষয়গুলো খুব সহজেই জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে স্কুল-কলেজগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, তেমনি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় এবং হয়রানি দুটোই কমে আসবে। মাউশি তাদের আদেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী সব অফিসের ওয়েবসাইটে কর্মরতদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় কনটেন্ট সবার সামনে তুলে ধরা এখন বাধ্যতামূলক। তাই আগামী ৪ জুনের মধ্যে মাউশির আওতাধীন সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা অফিসসহ স্কুল-কলেজগুলোকে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি অথবা হালনাগাদ নিশ্চিত করতে হবে। কাজ শেষ করে নির্ধারিত একটি গুগল ফর্ম লিংকে (https://forms.gle/RbTAqoNqi3FVdg5u7) দ্রুত তথ্য জমা দেওয়ার জন্যও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে।

২২ মে, ২০২৬ | সকাল ১০:৫৫

রাজনীতি
সজিব ওয়াজেদ
সজীব ওয়াজেদ জয়ের অজানা তথ্য ফাঁস করলো জুলকারনাইন সায়ের

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের গোপন বিবাহ বিচ্ছেদের খবর এবং বিপুল অঙ্কের খোরপোষের তথ্য ফাঁস করে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। আজ বুধবার (২০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক চাঞ্চল্যকর পোস্টে তিনি এই গোপন নথির কিছু অংশ সামনে আনেন। জুলকারনাইন তার পোস্টে লিখেছেন, তিনি সাধারণত এসব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কাজ করেন না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পলাতক স্বৈরাচার ও তার দোসরদের আস্ফালন দেখেই সাধারণ মানুষকে আসল সত্যটা জানানোর তাগিদ অনুভব করেছেন। এই পোস্টে তিনি জয়ের সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের সেটেলমেন্ট চুক্তির দুটি পাতা প্রকাশ করেন। সম্পূর্ণ ৩৪৬ পাতার বিশাল এক নথির মধ্যে ২২ পাতার মূল চুক্তির অংশবিশেষ এটি। এই নথির তথ্য অনুযায়ী, জয় তার সাবেক স্ত্রীকে এককালীন ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলার দেবেন, যা ২০২৫ সালের ১ জুনের মধ্যে করমুক্ত অবস্থায় শোধ করার কথা বলা হয়েছে। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, শুধু এককালীন অর্থই নয়, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত আগামী ১০ বছর ধরে প্রতি মাসে ক্রিস্টিনাকে ২০ হাজার ডলার করে খোরপোষ দেবেন তিনি। হিসাব অনুযায়ী, এই ১০ বছরে মোট ২৪ লাখ ডলার দিতে হবে তাকে। আমাদের পোর্টালের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এই নথির সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি কেবল বিচ্ছেদের খবর নয়, বরং এর পেছনের বিশাল অর্থের উৎস এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক। জুলকারনাইন তার পোস্টে একটি বড় প্রশ্ন তুলেছেন এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জয় কীভাবে আয় করলেন? নথিতে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনের সঙ্গে তার মালিকানার অংশীদারিত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে। আমরা জানি, গত সরকারের আমলে সামিট গ্রুপ সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সেই গ্রুপের সঙ্গে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সরাসরি স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকেই সামনে নিয়ে আসে। এত এত ট্রাস্টের নেপথ্যে জমানো এই বিশাল অর্থের উৎস নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পোস্টের শেষ অংশে এই সাংবাদিক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই পুরো নথিতে এমন আরও অনেক ভয়ংকর তথ্য লুকিয়ে আছে। সেগুলো যখন একে একে সামনে আসবে, তখন বুক ফুলিয়ে দেশে ফেরার খোয়াবের বদলে তাদের একটাই কথা মনে হবে 'ধরণী দ্বিধা হও'।

ধর্ম
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল

ইসলামি ক্যালেন্ডারে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ একটি সময়। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এই দিনগুলোর শপথ করেছেন, যা এর বিশাল মর্যাদার প্রমাণ দেয়। এই দিনগুলোতে ইবাদতের সওয়াব অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল এবং ফজিলত যা অবশ্যই আপনার পালন করা উচিৎ তা নিচে আলোচনা করা হলো।  জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল ইসলামে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনকে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ সময়গুলোর একটি বলা হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন:  “ফজরের শপথ এবং দশ রাতের শপথ” (সূরা আল ফজর, আয়াত ১ ও ২)।  ইসলামিক স্কলারদের মতে, এই “দশ রাত” বলতে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনকে বোঝানো হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এই দিনগুলোর আমল আল্লাহর কাছে অন্য দিনের চেয়ে বেশি প্রিয়।” (সুনান আবু দাউদ)। তাই একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হিসেবে আপনার আমার উচিত জেলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল করা। সবচাইতে বেশি যে নয়টি আমল মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হয় তা হল -  ১. খাঁটি মনে তাওবা করা তাওবা মানে হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। অতীতের সব পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তা চিরতরে ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আল্লাহর অবাধ্য না হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করাই হলো সত্যিকারের তাওবা। জিলহজের এই পবিত্র দিনগুলোতে তাওবা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশাল সুযোগ রয়েছে। কুরআনের আয়াত: ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ تُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ تَوۡبَةٗ نَّصُوحًا عَسَىٰ رَبُّكُمۡ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمۡ سَيِّ‍َٔاتِكُمۡ وَيُدۡخِلَكُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ ﴾ অর্থ: ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা কর—বিশুদ্ধ তাওবা; সম্ভবত তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সূরা আত-তাহরীম: ৮) ২. ফরজ ও নফল সালাত গুরুত্ব দিয়ে আদায় করা এই দিনগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত ঠিকমতো আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করা উচিত। নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি কাছে যেতে পারে। হাদিসে কুদসি: «وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي بها» অর্থ: আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দা নফল ইবাদত দ্বারাই সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নিই যে, আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে এবং পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে হাঁটে।’ (সহিহ বুখারি) ৩. সিয়াম বা রোজা পালন করা জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা একটি বিশেষ আমল। বিশেষ করে এই দিনগুলোতে রোজা রাখলে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হাদিস: «ما من عبد يصوم يوماً في سبيل الله إلا باعد الله بذلك اليوم وجهه عن النار سبعين خريفاً» অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখবে, ওই একদিনের রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম) ৪. হজ ও ওমরাহ পালন করা যাদের আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য আছে, তাদের জন্য এই দিনগুলোতে হজ ও ওমরাহ পালন করা শ্রেষ্ঠ ইবাদত। হাদিস: «العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما، والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجـنة» অর্থ: ‘এক ওমরাহ থেকে অন্য ওমরাহ হলো মধ্যবর্তী পাপসমূহের কাফফারা। আর কবুল হজের একমাত্র পুরস্কার হলো জান্নাত।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) ৫. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা জিলহজের প্রথম দশ দিনে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই সময়ে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ পড়া সবচেয়ে উত্তম। কুরআনের আয়াত: ﴿ وَيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡلُومَٰتٍ ﴾ অর্থ: ‘...এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তারা যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ (সূরা আল-হজ: ২৮) > হাদিস: «ما من أيام أعظم عند الله ولا أحب إليه من العمل فيهن من هذه العشر، فأكثروا فيهن من التهليل والتكبير والتحميد» অর্থ: নবী (সা.) বলেন, ‘এ দশ দিনে আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও মহান আর কোনো আমল নেই। তাই তোমরা এই সময়ে বেশি করে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ আদায় করো।’ (মুসনাদে আহমাদ) ৬. তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ পাঠ করা এই দিনগুলোতে সশব্দে তাকবির পাঠ করা সুন্নত। সাহাবিরা এই সময়ে বাজারে গিয়ে সশব্দে তাকবির পাঠ করতেন। তাকবিরটি হলো: আরবি তাকবির: اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَاإِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।) ৭. আরাফার দিন রোজা রাখা যারা হজে যাননি, তাদের জন্য ৯ জিলহজ বা আরাফার দিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতের। হাদিস: «احتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده» অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এই রোজাটি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম) ৮. কুরবানির দিনের বিশেষ মর্যাদা জিলহজের ১০ তারিখকে ‘ইয়াওমুন নাহার’ বা শ্রেষ্ঠ হজের দিন বলা হয়। হাদিস: «إن أعظم الأيام عند الله تبارك وتعالى: يوم النحر ثم يوم القر» অর্থ: ‘আল্লাহর নিকট দিবসসমূহের মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হলো কুরবানির দিন, তারপর পরবর্তী দিনগুলো।’ (সুনানে আবু দাউদ) ৯. কুরবানি করা ঈদুল আজহার দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু জবেহ করাই হলো কুরবানি। সামর্থ্যবানদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কুরআনের আয়াত: ﴿ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ﴾ অর্থ: ‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও কুরবানি করো।’ (সূরা আল-কাওসার: ২) হাদিস: «من ذبح بعد الصلاة، فقد تم نسكه، وأصاب سنة المسلمين» অর্থ: ‘যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের পর কুরবানির পশু জবেহ করল, তার কুরবানি পরিপূর্ণ হলো এবং সে মুসলিমদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করল।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল আমাদের জন্য আল্লাহর অফুরন্ত রহমত ও ক্ষমা লাভের এক দারুণ সুযোগ। তাই দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নেক আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা আমাদের সবার একান্ত কর্তব্য।





স্বাস্থ্য
গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের খাবার তালিকা ও জরুরি কিছু নিয়ম

গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার প্রতিটি মায়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময়ে গর্ভের শিশুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি হওয়া শুরু হয়। তাই মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। সঠিক খাবার মা ও শিশু দুজনকেই সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের খাবার তালিকা গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস বা প্রথম ট্রাইমেস্টার প্রতিটি হবু মায়ের জন্যই একটি বিশেষ এবং স্পর্শকাতর সময়। এই শুরুর দিনগুলোতে গর্ভের শিশুর শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো তৈরি হওয়া শুরু হয়, তাই মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টির জোগান দেওয়া ভীষণ জরুরি। সঠিক খাবার মা ও শিশু দুজনকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক ধকল কাটাতে সাহায্য করে। এই সময়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু সহজ ও পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত যা হজম করা সহজ এবং যা শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে। প্রথম ৩ মাসে ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক গঠনের জন্য প্রথম ৩ মাস ফলিক অ্যাসিড খাওয়া অনেক জরুরি। এর জন্য আপনার প্রতিদিনের খাবারে সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, লাল শাক এবং ব্রকলি রাখা উচিত। পাশাপাশি ডাল, শিম এবং বিভিন্ন ধরণের লেবুতে প্রচুর ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই খাবারগুলো মায়ের শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতেও দারুণ কাজ করে। ডিম ও চর্বিহীন মাংস ডিমকে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউজ। গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রতিদিন অন্তত একটি করে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ডিমে থাকা প্রোটিন এবং কোলিন শিশুর কোষ গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া চর্বিহীন মুরগির মাংস এবং ছোট-বড় মাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া যায়, যা এই সময়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করে। ক্যালসিয়ামের জন্য দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার শিশুর হাড় ও দাঁত মজবুত করার জন্য এই সময়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম দরকার। প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস ফোটানো তরল দুধ বা এক বাটি টকদই খাওয়ার চেষ্টা করুন। যারা সরাসরি দুধ খেতে পারেন না বা যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তারা ছানা বা পনির খেতে পারেন। এটি মায়ের শরীরের হাড়ের ক্ষয় রোধ করতেও সাহায্য করে। শুকনো ফল ও বাদাম প্রথম ৩ মাসে অনেক মায়েরই সকালের দিকে বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরার সমস্যা হয়। এই সময়ে এক মুঠো কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা চিনা বাদাম খেলে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। শুকনো ফল যেমন খেজুর বা কিসমিসও এই সময়ে বিকেলের নাস্তা হিসেবে খুব ভালো ও পুষ্টিকর অপশন। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার এই সময়ে শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। বমি বা গ্যাস্ট্রিকের কারণে শরীর যেন ডিহাইড্রেটেড না হয়ে পড়ে, সেজন্য দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পরিষ্কার পানি পান করুন। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের রস খেতে পারেন। এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রথম ৩ মাসে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন কিছু খাবার গর্ভাবস্থার শুরুতে বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিম ও মাংস, অপাস্তুরিত দুধ, এবং কাঁচা পেঁপে বা আনারস। এই খাবারগুলো গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এবং বাইরের খোলা বা বাসি খাবার খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা উচিত। প্রথম ৩ মাসের কিছু জরুরি টিপস একবারে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে ৪-৫ বার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে বমি ভাব ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেক কমে আসবে। খাবার তালিকায় বৈচিত্র্য রাখুন যেন সব ধরণের পুষ্টি শরীর সমানভাবে পায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিতে অবহেলা করবেন না। উপসংহার গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস একটু সাবধানে এবং নিয়ম মেনে চললে পুরো জার্নিটা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজের পছন্দের এবং পুষ্টিকর খাবারগুলো তালিকায় রাখুন। যেকোনো নতুন খাবার নিয়মিত শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার গাইনি ডাক্তারের সাথে একবার কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। মুক্ত বাতাসে হালকা হাঁটাচলা করুন এবং সবসময় দুশ্চিন্তামুক্ত ও হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।





বিশ্লেষন
এআই খুঁজে দিচ্ছে হারিয়ে যাওয়া শুক্রাণু, এখন বাবা হতে পারবেন বন্ধ্যাত্ব পুরুষ

বহু বছর চেষ্টা করেও সন্তান নিতে না পারা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার খবর এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা আগে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারছে। ফলে যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের জৈবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েলের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ আড়াই বছরের সংগ্রাম, হতাশা এবং একের পর এক চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তারা জানতে পারেন - পেনেলোপ অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকেরা আগে জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম রয়েছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষদের শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অনেকের শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের শারীরিক জটিলতা ভূমিকা রাখে। আর অ্যাজোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নমুনায় শুক্রাণু থাকলেও সেটি এত কম যে সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই জায়গাতেই কাজ করছে নতুন প্রযুক্তি ‘স্টার সিস্টেম’ বা স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করছে। গবেষকদের ভাষ্য, পুরো নমুনার মধ্যে হয়তো একটি মাত্র শুক্রাণু আছে, যা মানুষের চোখে বা সাধারণ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এআই প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে সেই বিরল শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারছে। স্টার সিস্টেমে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়। এই চিপের ক্ষুদ্র চ্যানেলের মধ্য দিয়ে নমুনা প্রবাহিত হয় এবং শক্তিশালী ইমেজিং প্রযুক্তি তা স্ক্যান করে। এরপর এআই অ্যালগরিদম শুক্রাণুর অবস্থান নির্ধারণ করে এবং রোবোটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে ফেলে। চিকিৎসক জেভ উইলিয়ামস জানান, প্রযুক্তিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, যেসব রোগীকে আগে বলা হয়েছিল তাদের নিজের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্যামুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার শরীরে বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে স্টার সিস্টেম সেই নমুনা থেকে আটটি শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে একটি সফলভাবে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং এখন পেনেলোপের গর্ভে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তান। গবেষকেরা বলছেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা দরকার। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আরও কাজ প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ভবিষ্যতে শুধু শুক্রাণু শনাক্ত নয়, আইভিএফ চিকিৎসার আরও বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিম্বাণু নির্বাচন, ভ্রূণের গুণগত মান যাচাই এবং হরমোনের সঠিক ডোজ নির্ধারণেও মেশিন লার্নিং ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে। কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখো দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন এই প্রযুক্তি তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুরুষকে একসময় “শুক্রাণুহীন” বলা হতো, তাদের ক্ষেত্রেও এখন চিকিৎসকেরা নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পুরো ধারণাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবরঃ বিবিসি বাংলা





অপরাধ
এক ফোনকলেই ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে উধাও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা
এক ফোনকলেই ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে উধাও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

রাজধানীতে আবারও ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে দক্ষিণ বনশ্রীর এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। কাগজপত্র হালনাগাদের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পর মুহূর্তেই ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর নাম সুধন চন্দ্র বর্মন। মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি রাজধানীর খিলগাঁও থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় থাকা অবস্থায় একটি নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র হালনাগাদের জন্য কিছু তথ্য প্রয়োজন বলে জানান। ফোনদাতার কথায় বিশ্বাস করে সুধন চন্দ্র নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও জন্মতারিখ জানান। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি নম্বরে ‘অ্যাড মানি’র মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৭ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া কথিত ব্যাংক কর্মকর্তার দেওয়া আরেকটি নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করছেন খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে টাকা উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিংকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের গোপন তথ্য, ওটিপি বা জন্মতারিখ জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ফোন কল এলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সারাদেশ
খুলনা সহ দেশের কয়েক অঞ্চল দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে

একদিকে বৃষ্টির পূর্বাভাস, অন্যদিকে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে এখনো বইছে তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলায় বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।  সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে।  আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং খুলনায় ৩৬ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে গরমের অনুভূতি এখনই পুরোপুরি কমছে না। 





ভ্রমন ও গাইড
এই বর্ষায় দেশের যে ৫টি জায়গায় ভ্রমণ করতে পারেন

অনেকেই মনে করেন বর্ষাকাল মানেই ঘরে বসে থাকার সময়, কিন্তু সত্যিকারের ভ্রমণপিপাসুরা জানেন বর্ষায় প্রকৃতি যেন একেবারে নতুন রূপে সেজে ওঠে! ধুলোবালিহীন সতেজ সবুজ গাছপালা, পাহাড়ে মেঘের লুকোচুরি আর যৌবন ফিরে পাওয়া ঝর্ণাগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বর্ষার চেয়ে আদর্শ সময় আর নেই। আপনি যদি এই মেঘ-বৃষ্টির মৌসুমে যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে চান, তবে দেশের ভেতরের এই ৫টি চমৎকার জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন। ১. সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর (জলের ওপর ভাসমান জীবন) বর্ষাকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। চারদিকে থৈ থৈ পানি, মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা নীল জলের ঢেউ আর হাউসবোটে রাত কাটানোর রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর বর্ষায় এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। বৃষ্টিতে হাওরের বুকে নৌকায় ভেসে থাকা এবং হাওরের তাজা মাছ খাওয়ার অভিজ্ঞতা আপনার সারা জীবন মনে থাকবে। ২. সিলেটের রাতারগুল ও বিছানাকান্দি (সবুজ আর পাথরের মিতালি) সিলেটের রাতারগুল হলো দেশের একমাত্র মিঠা পানির সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাবন। বর্ষায় এই বনের গাছগুলো অর্ধেক পানিতে ডুবে থাকে, আর এর মধ্য দিয়ে ছোট নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি আমাজনের গহিন অরণ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। এর পাশেই রয়েছে বিছানাকান্দি। বর্ষায় মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার পানিতে বিছানাকান্দির পাথরগুলো স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, যা পর্যটকদের ভীষণ আকর্ষণ করে। ৩. রাঙামাটির কাপ্তাই লেক ও শুভলং ঝর্ণা (পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা জলধারা) পাহাড়ের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে বর্ষায় রাঙামাটি ভ্রমণের বিকল্প নেই। কাপ্তাই লেকের বিশাল নীল জলরাশি এই সময়ে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। লেকে নৌভ্রমণের পাশাপাশি এই সময়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো 'শুভলং ঝর্ণা'। সারা বছর এই ঝর্ণায় পানি কম থাকলেও, বর্ষায় এটি তার রুদ্ররোষে ফিরে আসে। পাহাড়ের অনেক উঁচু থেকে আছড়ে পড়া শুভলংয়ের বিশাল জলধারা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। ৪. বান্দরবানের নীলাচল ও সাজেক ভ্যালি (মেঘ ছোঁয়ার অদ্ভুত অনুভূতি) আপনি যদি মেঘের সাথে আড্ডা দিতে চান, তবে বর্ষায় বান্দরবান বা রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে ছুটে যেতে পারেন। বৃষ্টি ধোয়া বান্দরবানের নীলাচল, মেঘলা কিংবা চিম্বুক পাহাড়ে দাঁড়ালে মনে হবে মেঘেরা আপনার পায়ের কাছে এসে লুটোপুটি খাচ্ছে। আর সাজেক ভ্যালিতে বর্ষার সকালে চারদিক এমনভাবে সাদা মেঘে ঢেকে থাকে যে, নিজেকে মনে হবে মেঘের দেশের কোনো বাসিন্দা। ৫. শ্রীমঙ্গলের চা বাগান (বৃষ্টিভেজা স্নিগ্ধতা) সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। যারা পাহাড়ি দুর্গম পথ বা জলপথে না গিয়ে একটু শান্ত পরিবেশে বর্ষা উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য শ্রীমঙ্গল সেরা। বৃষ্টিভেজা চা বাগানের সবুজ রূপ চোখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। বৃষ্টির দিনে এখানকার বিখ্যাত সাত রঙের চা আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গহিন অরণ্যে হেঁটে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা আপনাকে দারুণ এক সতেজতা দেবে। বর্ষায় ভ্রমণের জন্য বিশেষ সতর্কতা: পাহাড় বা জলপথে ভ্রমণের সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখবেন। এছাড়া বর্ষায় পাহাড়ে ধস নামার ঝুঁকি থাকে, তাই দুর্গম পাহাড়ি পথে ভ্রমণের আগে স্থানীয় আবহাওয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ছাতা, রেইনকোট এবং ফার্স্ট এইড বক্স অবশ্যই ব্যাগে রাখবেন।


লাইফস্টাইল
ঘুম থেকে উঠেই ভুলেও মোবাইল দেখবেন না, নতুন গবেষণায় মিলল ভয়ংকর তথ্য

অনেক মানুষের দিনের শুরুটাই হয় মোবাইল হাতে নিয়ে। চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ফেসবুক দেখেন, কেউ মেসেজ চেক করেন, আবার কেউ নিউজ ফিড স্ক্রল করতে থাকেন। বিষয়টি এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা মস্তিষ্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসায়েন্স গবেষকদের মতে, সকালে ঘুম ভাঙার পরের প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময় অতিরিক্ত তথ্য, নোটিফিকেশন বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করতে পারে। সকালে উঠেই মোবাইল দেখলে মস্তিষ্কে কী ঘটে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে “স্লিপ মোড” থেকে সচল অবস্থায় আসে। কিন্তু হঠাৎ মোবাইলের আলো, শব্দ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য মস্তিষ্ককে এক ধরনের তাত্ক্ষণিক স্ট্রেসে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কাজের মেসেজ দেখলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সকাল থেকেই অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খারাপ খবর, অফিসের চাপ বা অন্যের জীবনযাপন দেখতে শুরু করেন, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি মানসিক ক্লান্তি দেখা যায়। চোখ ও মন দুটোর ওপরই পড়ে প্রভাব চোখ খোলার পরপরই মোবাইলের উজ্জ্বল আলো চোখের ওপরও চাপ তৈরি করে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার সমস্যাও বাড়তে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা অনেক মানুষের মধ্যে “ডোপামিন নির্ভরতা” তৈরি করছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের চেয়ে মোবাইলের দ্রুত উত্তেজনামূলক তথ্যের প্রতি বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া, উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং কাজের প্রতি অনীহা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে সকালে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সারাদিনের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সকালে কী করলে ভালো লাগতে পারে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট মোবাইল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়টায় যা করতে পারেন: এক গ্লাস পানি পান করুন জানালার পাশে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলো নিন হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাহাঁটি করুন ফজরের নামাজ বা মেডিটেশন করতে পারেন দিনের পরিকল্পনা মাথায় গুছিয়ে নিন পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরু শান্তভাবে হলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক স্থির থাকে। ভবিষ্যতে কেন এটি বড় সমস্যা হতে পারে বর্তমানে শিশু থেকে বড় সবাই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া ও দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে এই অভ্যাসও একটি কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন সকালে ফোন দেখা তেমন একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে সেটি মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই সকালে অন্তত কিছু সময় নিজের জন্য রাখা এখন শুধু ভালো অভ্যাস না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।





প্রযুক্তি
chat gpt
চ্যাটজিপিটিতে যুক্ত হলো পার্সোনাল ফাইন্যান্স ড্যাশবোর্ড, এবার মিলবে আর্থিক পরামর্শ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে আরও একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এলো ওপেনএআই। গত শুক্রবার চ্যাটজিপিটিতে ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’ বা ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার নতুন একটি প্রিভিউ ফিচার উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রো-সাবস্ক্রাইবার বা প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হওয়া এই ফিচারের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি সরাসরি ব্যবহারকারীর বিভিন্ন আর্থিক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীর আর্থিক অবস্থার সঠিক প্রেক্ষাপট বুঝে ব্যক্তিগত অর্থ-সংক্রান্ত যেকোনো জটিল প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিতে সক্ষম হবে। নতুন এই ফিচারের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ইন-বিল্ট ড্যাশবোর্ড। এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন খরচ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং মর্টগেজের হিসাব খুব সহজেই ভিজ্যুয়াল বা গ্রাফিক্যাল আকারে এক নজরে দেখতে পারবেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই ফিচার চালুর মূল কারণ হলো ইতিমধ্যেই ২০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী বাজেট তৈরি, বিনিয়োগের পরামর্শ এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। তাই বাস্তব জীবনের ব্যবহারিক দিকগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্য ব্যবহারকারীর জন্য এটি চালু করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রো-সাবস্ক্রাইবারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক এই এআই জায়ান্টটি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ফিচার ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। এই আপডেটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রাসঙ্গিকতা বোঝার ক্ষমতা। আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ব্যবহারকারীকে এখন আর বারবার তার আয়-ব্যয়ের হিসাব টাইপ করে বোঝাতে হবে না; চ্যাটজিপিটি নিজ থেকেই ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা বা কাস্টমাইজড উত্তর তৈরি করে দেবে। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিরাপদে যুক্ত করতে চ্যাটজিপিটি এখন ওয়েব এবং আইওএস (iOS) প্ল্যাটফর্মে ১২ হাজারেরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন যুক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে 'প্লাড' (Plaid)-এর মাধ্যমে এই সুরক্ষিত লিংকিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এতে 'ইনটুইট' (Intuit)-এর সমর্থনও যুক্ত করা হবে। যোগ্য ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সাইডবার থেকে "Finances" নির্বাচন করে "Get started"-এ ক্লিক করে অথবা যেকোনো চ্যাট সেশনে "@Finances, connect my accounts" লিখে সহজেই তাদের অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট সেটআপ করার পর আর্থিক ড্যাশবোর্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে, যেখানে রিয়েল-টাইমে খরচ, আসন্ন পেমেন্ট, বিনিয়োগ পোর্টফোলিও এবং বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনের বিস্তারিত দেখা যাবে। হিসাব রাখার পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই, আনুমানিক ট্যাক্স বা করের হিসাব বের করা এবং ইনটুইট-এর সাহায্যে স্থানীয় কর বিশেষজ্ঞের সাথে সেশন নির্ধারণ করার মতো কাজগুলোও এখন অনায়াসেই করা যাবে। তথ্য সুরক্ষা এবং গোপনীয়তার বিষয়ে ওপেনএআই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় তাদের আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলো চ্যাটজিপিটি থেকে বিচ্ছিন্ন (Disconnect) করতে পারবেন। ওপেনএআই নিশ্চিত করেছে যে, অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করার ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে সিঙ্ক হওয়া সব ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে। এছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের চ্যাট হিস্ট্রি থেকে নির্দিষ্ট আর্থিক তথ্য বা চ্যাটজিপিটির 'ফাইন্যান্সিয়াল মেমোরি'ও মুছে ফেলতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্ত করা আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে চ্যাটজিপিটির এই সম্পূর্ণ কথোপকথন এবং বিশ্লেষণ পরিচালিত হবে অত্যাধুনিক 'জিপিটি-৫.৫ থিংকিং' (GPT-5.5 Thinking) মডেলের মাধ্যমে, যা দেবে সর্বোচ্চ স্তরের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা।





ক্যারিয়ার
ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে এসবিএসি ব্যাংক, শুরুতেই বেতন ৩৫ হাজার টাকা

দেশের স্বনামধন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক 'এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি' (SBAC Bank PLC) সম্প্রতি তাদের সম্প্রসারণশীল ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য নতুন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। 'ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার (জেনারেল ও ক্যাশ)' পদে স্মার্ট ও উদ্যমী তরুণদের খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংকিং খাতে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীরা আগামী ২০ জুন, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এক নজরে এসবিএসি ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রতিষ্ঠানের নাম: এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি (SBAC Bank PLC) পদের নাম: ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার (জেনারেল ও ক্যাশ) চাকরির ধরন: ফুল টাইম (বেসরকারি চাকরি) কর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে প্রকাশের তারিখ: ২১ মে ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ জুন ২০২৬ চাকরির খবর: দিগন্ত পোস্ট জবস আবেদন করার মাধ্যম: অনলাইন পদের বিবরণ: ১. পদের নাম: ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার (জেনারেল ও ক্যাশ) পদসংখ্যা: নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি (অনির্ধারিত) বেতন স্কেল: মাসিক ৩৫,০০০ টাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এমবিএম (MBM), এমবিএ (MBA), স্নাতকোত্তর বা ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (Bachelor/Honors) ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনে কোনো পর্যায়েই তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ বা সমমানের সিজিপিএ থাকা যাবে না এবং অন্তত একটিতে প্রথম শ্রেণি/বিভাগ থাকতে হবে। বয়সসীমা: আবেদনের শেষ দিনে (অর্থাৎ ২০ জুন ২০২৬ তারিখে) প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি পাঠানো সিভি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। আবেদনের সময় সদ্য তোলা একটি রঙিন ছবি (Photograph) আপলোড করা বাধ্যতামূলক। আবেদন ফি: অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ফি জমা দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। শর্তাবলি ও নির্দেশনা: নির্বাচিত প্রার্থীদের বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। নারী ও পুরুষ উভয়েই পদটির জন্য আবেদনের যোগ্য। জেনারেল ব্যাংকিং এবং ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে আগ্রহ ও প্রাথমিক দক্ষতা থাকতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে (Merit-based) সম্পন্ন হবে। বাছাই করা শর্টলিস্টেড প্রার্থীদের প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই চূড়ান্ত ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পাবেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যেকোনো আবেদন বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করে। আবেদন যেভাবে: আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা এসবিএসি ব্যাংকের নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে খুব সহজেই আবেদন করতে পারবেন। পদের বিস্তারিত দেখতে এবং সরাসরি আপনার আবেদন সাবমিট করতে এখানে ক্লিক করুন ।





খেলাধুলা
বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন কোচ থমাস ঢুলি, কে এই ব্যাক্তি? কি তার পরিচয় ?

বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন কোচ হতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন থমাস ঢুলি। আজ (শুক্রবার) সকাল ৯টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইটে তিনি বাংলাদেশে আসেন। ঘণ্টাখানেক সময় বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হন এই কোচ। বাফুফে স্টাফরাই বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে কোচকে স্বাগত জানিয়েছেন।  ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই বাফুফে ফেসবুক পেজে ঢুলিকে কোচ হিসেবে ঘোষণা করে। ফেসবুকের পাশাপাশি গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে ফেডারেশন। বাংলাদেশ ফুটবল সমর্থকদের বড় একটি অংশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই অপেক্ষা করছিলেন ইউরোপিয়ান মানের কোনো পরিচিত কোচের জন্য। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাবেক ওয়েলস কোচ ক্রিস কোলম্যান। ইউরো ২০১৬ এ ওয়েলসকে সেমিফাইনালে তোলার নায়ককে বাংলাদেশে আনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন আশার জন্ম হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। আর তার জায়গায় সামনে আসে এমন একটি নাম, যাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিতর্ক কম নেই। তিনি থমাস ঢুলি । ফুটবল বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদের প্রশ্ন এখন একটাই, জেনেশুনেও কেন থমাস ডুলির মতো বিতর্কিত একজন কোচকে বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করল ? কলম্যানকে নিয়ে স্বপ্ন, তারপর হঠাৎ মোড় সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাফুফে প্রথম পছন্দ হিসেবে ক্রিস কলম্যানকেই চেয়েছিল। আলোচনা অনেক দূরও এগিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্থিক বিষয়, এজেন্ট ফি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে জটিলতায় সেই আলোচনা ভেঙে যায়। এরপর দ্রুত বিকল্প খুঁজতে গিয়ে বাফুফে থমাস ডুলির দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে সমালোচনা। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ডুলির পরিচয় শুধু অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে নয়, ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা তৈরি করা এক কঠোর ও বিতর্কিত চরিত্র হিসেবেও আছে। খেলোয়াড় হিসেবে সফল, কিন্তু কোচ হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ থমাস ডুলি খেলোয়াড় হিসেবে নিঃসন্দেহে বড় নাম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ৮১ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল। ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন: হ্যামবার্গার এসভি , এফসি কাইজারস্লটার্ন , বায়ার লেভারকুসে ,  শাল্কে ০৪ ক্যারিয়ারে ৬০০ এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। একজন ডিফেন্ডার হয়েও করেছেন প্রায় ৮০ গোল। কিন্তু কোচিং ক্যারিয়ারে তার সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতা এবং বিতর্কও বেশ বড় হয়ে সামনে এসেছে। ফিলিপাইনে সাফল্য, কিন্তু ভেতরে জমেছিল ক্ষোভ ডুলি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ফিলিপাইন জাতীয় ফুটবল দল এর কোচ হিসেবে। তার অধীনে দলটি প্রথমবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। বাইরে থেকে এটি বড় সাফল্য মনে হলেও, ভেতরের চিত্র ছিল ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিবেদনে একাধিকবার উঠে আসে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি। কিছু খেলোয়াড় অভিযোগ করেছিলেন, ডুলি ড্রেসিংরুমে ভয়ভীতি ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার বাদ দেওয়া, খেলোয়াড়দের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তির অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, ফিলিপাইনের ড্রেসিংরুমে বিভাজন তৈরির পেছনে ডুলির ভূমিকাও ছিল। ৯০ দিনের মধ্যেই বরখাস্ত ডুলির সবচেয়ে বড় সমালোচনা আসে মালয়েশিয়ার ক্লাব স্রি পাহাং এফসি এ দায়িত্ব নেওয়ার পর। বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকে আনা হলেও মাত্র প্রায় ৯০ দিনের মধ্যেই তাকে বরখাস্ত করা হয়। ক্লাবটির খারাপ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির অভিযোগও সামনে আসে। মালয়েশিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে তখন উল্লেখ করা হয়েছিল, ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়াই তার দ্রুত বিদায়ের অন্যতম কারণ। এমন অতীত থাকার পরও কেন তাকে বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশ, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সর্বশেষ কোচের দায়িত্বে ছিলেন গায়ানায় সবশেষে তিনি ছিলেন গায়ানা ন্যাশনাল ফুটবল টিম এর কোচ। তবে গায়ানাতেও তার সময় খুব বেশি আলোচিত হয়নি। সম্প্রতি সেই দায়িত্ব ছাড়ার পরই বাংলাদেশের সঙ্গে তার আলোচনা সামনে আসে। অনেকেই বলছেন, বড় কোনো ফুটবল শক্তি তাকে নিতে আগ্রহ না দেখানোয় বাংলাদেশের প্রস্তাব তার জন্য সহজ সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে কেন ডুলিকেই আনছে বাফুফে? ফুটবল সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, মূল কারণ অর্থনৈতিক বাস্তবতা। ইউরোপিয়ান বড় কোচদের আনতে যে বাজেট দরকার, সেটি বাফুফের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে ডুলি তুলনামূলক কম খরচে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। এছাড়া এশিয়ান ফুটবলে তার কিছু অভিজ্ঞতা থাকায় বাফুফে তাকে “বাস্তবসম্মত সমাধান” হিসেবে দেখছে। তবে সমর্থকদের বড় অংশ এতে সন্তুষ্ট নন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখছেন, বাংলাদেশ ফুটবল যখন নতুন যুগের স্বপ্ন দেখছিল, তখন শেষ পর্যন্ত আবারও “কম বাজেটের পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্তে” ফিরে গেল বাফুফে। বাংলাদেশের ফুটবলের সামনে এখন কী বাংলাদেশ ফুটবল এখন কঠিন সময় পার করছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা, দুর্বল লিগ কাঠামো, আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভাব এবং পেশাদার পরিবেশের সংকট সব মিলিয়ে নতুন কোচের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন একটি সময়ে ড্রেসিংরুম বিতর্কে জড়ানো একজন কোচ কি সত্যিই দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন? নাকি কয়েক মাস পর আবারও নতুন কোচ খোঁজার চক্রে ঘুরবে বাংলাদেশ ফুটবল? এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।





বিনোদন
কেডি পাঠকের নাম ভাঙ্গিয়ে নারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিক ‘আদালত’-এর বুদ্ধিদীপ্ত আইনজীবী ‘কেডি পাঠক’ অর্থাৎ অভিনেতা রণিত রায়ের নাম ভাঙিয়ে নারীদের সঙ্গে প্রতারণার ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। অভিনয়ে সুযোগ দেওয়া বা ইভেন্ট বুকিংয়ের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এই অভিনেতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি এক প্রতারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে রণিত রায় হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। এরপর সে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিনয়ে সুযোগ দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে টাকা চাইছে। বিষয়টি নজরে আসামাত্রই ভক্তদের সতর্ক করতে বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন রণিত। ওই পোস্টে প্রতারকের ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ই-মেইল আইডি প্রকাশ করে দেন এই তারকা। সবাইকে সতর্ক করে তিনি লেখেন, "আমি জানতে পেরেছি এক ব্যক্তি আমার নাম ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে, বিশেষ করে নারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে এবং টাকা চাইছে। এমনকি সে আমার নামে বুকিং পর্যন্ত নিচ্ছে। আপনারা সবাই সাবধানে থাকুন।" প্রতারককে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও লেখেন, "পুলিশ খুব শিগগিরই তোমার কাছে পৌঁছে যাবে।" ভক্তদের কাছে নিজের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার করে দিয়ে অভিনেতা জানান, তিনি কখনোই সামাজিক মাধ্যম বা অন্য কোনো উপায়ে নারীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন না। আর সেখানে টাকা চাওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। পোস্টের সঙ্গে বেশ কিছু চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, তারকাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়ে যেন সবাই সতর্ক থাকেন এবং এমন কিছু দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট তারকাকে জানান।