মতামত

সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, বন্ধ হলো বিল পরিশোধ
জাতীয়
সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট: তদন্ত কমিটি গঠন, বন্ধ হলো বিল পরিশোধ

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেনাকাটায় অনিয়ম ও ‘হরিলুট’ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার সব ধরণের বিল পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে “সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে সংসদ সচিবালয়ের ক্রয়কার্য নিয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সচিবালয় জানিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটির রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত ওই কেনাকাটার বিপরীতে কোনো অর্থ বা বিল পরিশোধ করা হবে না। এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্রয়ে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। এই ‘হরিলুটের’ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

২০ এপ্রিল, ২০২৬ | রাত ১:২৬






নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ
নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ

সন্তান জন্মের পর নতুন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পুষ্টির ওপরই নির্ভর করে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। তবে অনেক সময় না বুঝেই মায়েরা এমন কিছু খাবার খান, যা নবজাতকের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নিই নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা। সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত একজন মা যেমন প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন, সন্তান জন্মের পর সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ মায়ের গ্রহণ করা খাবারের পুষ্টিগুণ ও বিভিন্ন উপাদান বুকের দুধের মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, স্তন্যদানকালীন সময়ে অসচেতন খাদ্যাভ্যাস কেবল শিশুর অস্বস্তি নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক সময় মা নিজের পছন্দমতো খাবার খেয়ে ফেলেন, যার তীব্র ঘ্রাণ বা শক্তিশালী উপাদান বুকের দুধের স্বাদ বদলে দেয়। অনেক শিশু এই স্বাদের পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না, ফলে তারা দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবার সুস্থ সবল শিশু পেতে হলে প্রসূতি মায়েদের কিছু নির্দিষ্ট খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, কিছু খাবার বুকের দুধের গুণমান পরিবর্তন করে দেয়। এতে শিশুর পেটে গ্যাস, অ্যালার্জি কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। চা ও কফির অতিরিক্ত ক্যাফেইন নতুন মায়েদের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই বারবার চা বা কফি পান করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এতে নবজাতকের ঘুমের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটে এবং শিশু সারাক্ষণ খিটখিটে মেজাজে থাকে। তাই কফি বা কড়া চা পানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সামুদ্রিক মাছ  সব সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। টুনা, কিং ম্যাকেরেল বা শার্কের মতো মাছে উচ্চমাত্রায় পারদ বা মার্কারি থাকে। এই উপাদানটি শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্তন্যদানকালীন সময়ে পারদযুক্ত মাছ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। অতিরিক্ত ঝাল ও কড়া মশলা আমাদের দেশের মায়েরা ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মশলাযুক্ত খাবার খেলে তা শিশুর পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিশুর পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশু দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। টক জাতীয় ফল ভিটামিন সি শরীরের জন্য জরুরি হলেও অতিরিক্ত টক ফল যেমন লেবু বা কমলা মায়েদের এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে থাকা এসিড শিশুর পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং অনেক সময় ডায়াপার র‍্যাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরিমিত পরিমাণে টক খাবার গ্রহণ করুন। প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড রাস্তার ধারের ভাজা পোড়া কিংবা প্যাকেটজাত খাবারে প্রচুর ট্রান্স ফ্যাট ও প্রিজারভেটিভ থাকে। এসব খাবার মায়ের বুকের দুধের পুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করে। কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত খাবার নবজাতকের সেনসিটিভ লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার যদি পরিবারের কারো আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তবে মাকেও সাবধান হতে হবে। যেমন; চিনাবাদাম, গরুর দুধ বা চিংড়ি মাছ খাওয়ার পর যদি দেখেন শিশুর শরীরে র‍্যাশ হচ্ছে, তবে সেই খাবারটি তৎক্ষণাৎ খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন। গ্যাস উৎপাদনকারী সবজি কিছু সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি বা ব্রকলি মায়ের শরীরে প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাসের প্রভাব অনেক সময় শিশুর পেটে ব্যথার কারণ হয়। যদি দেখেন এসব সবজি খাওয়ার পর শিশু অস্বাভাবিক কাঁদছে, তবে কিছুদিন এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাকেই তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন হতে হবে। কোনো নতুন খাবার খাওয়ার পর শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, মায়ের সচেতনতাই শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের প্রধান চাবিকাঠি।

স্বাস্থ্য
হরমোজ প্রণালী আবার বন্ধ করে দিল ইরান
হরমুজ প্রণালী আবারো বন্ধ করে দিল ইরান

শেষ কয়েক ঘন্টা বৈদেশিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা থাকলেও আবারো এটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।  মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় একে জলদস্যুতা উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজ শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে পুনরায় সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে থাকবে।  ইরানের জয়েন্ট মিলিটারি কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, "হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এখন থেকে এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।" বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গত শুক্রবার ইরান হরমোজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আভাস দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য পরিস্থিতি বদলে দেয়। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরান যতক্ষণ পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে না পৌঁছাবে, ততক্ষণ মার্কিন অবরোধ "পুরো শক্তিতে" জারি থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান শনিবার সকালে পুনরায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। হরমোজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এমন আশায় তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু হরমোজ প্রণালী ফের বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।

আন্তর্জাতিক
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

আপনার জন্য






জাতীয়
সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, বন্ধ হলো বিল পরিশোধ
সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট: তদন্ত কমিটি গঠন, বন্ধ হলো বিল পরিশোধ

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেনাকাটায় অনিয়ম ও ‘হরিলুট’ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার সব ধরণের বিল পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে “সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে সংসদ সচিবালয়ের ক্রয়কার্য নিয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সচিবালয় জানিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটির রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত ওই কেনাকাটার বিপরীতে কোনো অর্থ বা বিল পরিশোধ করা হবে না। এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্রয়ে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। এই ‘হরিলুটের’ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

২০ এপ্রিল, ২০২৬ | রাত ১:২৬

অর্থনীতি
আজকের স্বর্ণের দাম: ২০ এপ্রিল ২০২৬
আজকের স্বর্ণের দাম: ২০ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত ১৫ এপ্রিল নির্ধারিত দামেই আজও (২০ এপ্রিল ২০২৬) দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে। এর ফলে টানা পাঁচ দিন ধরে একই দামে স্থিতিশীল রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ গত বুধবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী, সবথেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম গত সপ্তাহের নির্ধারিত হারেই কার্যকর রয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকায় নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি বা কমানোর প্রয়োজন মনে করছে না বাজুস।  আরো দেখুনঃ সোনার দাম সর্বশেষ আপডেট দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা।  এছাড়া প্রচলিত গহনা তৈরির জন্য জনপ্রিয় ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকায়। অন্যদিকে,  ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হচ্ছে ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা। এবং পুরনো ঐতিহ্যবাহী বা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায়। 

শিক্ষা
এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ না হলে বেতন জটিলতার আশঙ্কা
এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ না হলে বেতন জটিলতার আশঙ্কা

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য হালনাগাদ না হলে বেতন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ১৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় তথ্য যাচাই, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংশোধনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে বা iBAS++ পদ্ধতিতে যাচাই হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে বেতন বিল নিষ্পত্তিতে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করে জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইএফটি পদ্ধতিতে সরাসরি বেতন পাঠানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তথ্যভান্ডার সঠিক রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তথ্যগত ত্রুটি থাকলে নির্ধারিত সময়ে বেতন না পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। 

১৯ এপ্রিল, ২০২৬ | দুপুর ১:৫১

রাজনীতি
৯ম জাতীয় পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি এনসিপির

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দলটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিজীবী রয়েছেন। তাদের বেতন স্কেল সর্বশেষ বৃদ্ধি পেয়েছিল প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে। অথচ গত এক দশকে ৫০ শতাংশেরও বেশি মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে এবং জীবনযাপনের নানামুখী ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি বর্তমান জীবনমান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দ্রুততম সময়ে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় সরকারি খাতের এই বিপুল সংখ্যক চাকরিজীবী ও তাদের পরিবার বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি বেতনের অন্তর্ভুক্ত চাকরিজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৪৮টি সভা ও মতামত গ্রহণের মাধ্যমে গত ২১ জানুয়ারি ৯ম বেতন কমিশনের প্রস্তাব প্রদান করেছে। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ে শুরু থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টি সোচ্চার ছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু থেকেই বিভিন্ন পেশাজীবীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিল। ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের আন্দোলনেও সরকারি বেতনভুক্ত চাকরিজীবীদের আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

ধর্ম
বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, এবার হজ খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং আগামী বছর আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে। উদ্বোধনের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই ফ্লাইটে ৪১৮ জন হজযাত্রী রয়েছে। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখানে ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি। হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন এবং একটি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন এবং এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ এর যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন এবং দু'হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। দোয়া করেন তারা যাতে নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারেন। হজ ফ্লাইট উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সরকার গঠন করেছি ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ। এবার হজের ব্যবস্থাপনা হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে। সেজন্য আমরা এসে এবার খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাইনি। তারপরও চেষ্টা করেছি যতটুকু করা যায়। এবার একটা জিনিস করতে পেরেছি সেটা হলো ১২ হাজার টাকার মত খরচ কমাতে পেরেছি।' তিনি আরও বলেন, 'আশা করি আগামী বছর যারা হজে যাবেন, তাদের জন্য আরেকটু কমাতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি আরও ভালো করার জন্য যাতে হাজীদের আগামী বছর কষ্ট কম হয়।' হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আমি দোয়া করি আপনারা যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন।' এই সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি মাধ্যম অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যাবেন। সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।





স্বাস্থ্য
নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ
নবজাতকের মায়ের জন্য যে খাবার নিষিদ্ধ

সন্তান জন্মের পর নতুন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পুষ্টির ওপরই নির্ভর করে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। তবে অনেক সময় না বুঝেই মায়েরা এমন কিছু খাবার খান, যা নবজাতকের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নিই নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা। সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত একজন মা যেমন প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন, সন্তান জন্মের পর সেই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ মায়ের গ্রহণ করা খাবারের পুষ্টিগুণ ও বিভিন্ন উপাদান বুকের দুধের মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, স্তন্যদানকালীন সময়ে অসচেতন খাদ্যাভ্যাস কেবল শিশুর অস্বস্তি নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক সময় মা নিজের পছন্দমতো খাবার খেয়ে ফেলেন, যার তীব্র ঘ্রাণ বা শক্তিশালী উপাদান বুকের দুধের স্বাদ বদলে দেয়। অনেক শিশু এই স্বাদের পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না, ফলে তারা দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। নবজাতকের মায়ের নিষিদ্ধ খাবার সুস্থ সবল শিশু পেতে হলে প্রসূতি মায়েদের কিছু নির্দিষ্ট খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, কিছু খাবার বুকের দুধের গুণমান পরিবর্তন করে দেয়। এতে শিশুর পেটে গ্যাস, অ্যালার্জি কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। চা ও কফির অতিরিক্ত ক্যাফেইন নতুন মায়েদের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই বারবার চা বা কফি পান করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এতে নবজাতকের ঘুমের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটে এবং শিশু সারাক্ষণ খিটখিটে মেজাজে থাকে। তাই কফি বা কড়া চা পানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সামুদ্রিক মাছ  সব সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। টুনা, কিং ম্যাকেরেল বা শার্কের মতো মাছে উচ্চমাত্রায় পারদ বা মার্কারি থাকে। এই উপাদানটি শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্তন্যদানকালীন সময়ে পারদযুক্ত মাছ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। অতিরিক্ত ঝাল ও কড়া মশলা আমাদের দেশের মায়েরা ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মশলাযুক্ত খাবার খেলে তা শিশুর পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিশুর পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশু দুধ খেতে অনীহা প্রকাশ করে। টক জাতীয় ফল ভিটামিন সি শরীরের জন্য জরুরি হলেও অতিরিক্ত টক ফল যেমন লেবু বা কমলা মায়েদের এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে থাকা এসিড শিশুর পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং অনেক সময় ডায়াপার র‍্যাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরিমিত পরিমাণে টক খাবার গ্রহণ করুন। প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড রাস্তার ধারের ভাজা পোড়া কিংবা প্যাকেটজাত খাবারে প্রচুর ট্রান্স ফ্যাট ও প্রিজারভেটিভ থাকে। এসব খাবার মায়ের বুকের দুধের পুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করে। কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত খাবার নবজাতকের সেনসিটিভ লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার যদি পরিবারের কারো আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকে, তবে মাকেও সাবধান হতে হবে। যেমন; চিনাবাদাম, গরুর দুধ বা চিংড়ি মাছ খাওয়ার পর যদি দেখেন শিশুর শরীরে র‍্যাশ হচ্ছে, তবে সেই খাবারটি তৎক্ষণাৎ খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন। গ্যাস উৎপাদনকারী সবজি কিছু সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি বা ব্রকলি মায়ের শরীরে প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাসের প্রভাব অনেক সময় শিশুর পেটে ব্যথার কারণ হয়। যদি দেখেন এসব সবজি খাওয়ার পর শিশু অস্বাভাবিক কাঁদছে, তবে কিছুদিন এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাকেই তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন হতে হবে। কোনো নতুন খাবার খাওয়ার পর শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, মায়ের সচেতনতাই শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের প্রধান চাবিকাঠি।





বিশ্লেষন
নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে
নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে? প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো এক নজরে

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। ২০১৫ সালের পর দশ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন বেতন কাঠামো ঘোষিত হয়নি। বিভিন্ন সংগঠনের দাবি ও প্রস্তাবনার আলোকে নবম বা নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে? কী কী প্রস্তাব এসেছে, সুযোগ-সুবিধা এবং গ্রেড সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। নতুন পে স্কেলে বেতন কত হতে পারে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান প্রস্তাবগুলো হলো: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের প্রস্তাব সর্বনিম্ন বেতন: ৩৫,০০০ টাকা (বর্তমান ৮,২৫০ টাকা) সর্বোচ্চ বেতন: ১,৪০,০০০ টাকা (বর্তমান ৭৮,০০০ টাকা) গ্রেড সংখ্যা: ২০টি থেকে কমিয়ে ১২টি করার সুপারিশ এই প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৪ গুণ এবং সর্বোচ্চ বেতন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের প্রস্তাব সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৩২,০০০ টাকা সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,২৮,০০০ টাকা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি পে কমিশনের সুপারিশে প্রত্যাশিত বেতন একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, পে কমিশন সুপারিশে: সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২৫,০০০ টাকা সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৫০,০০০ টাকা গ্রেড সংখ্যা কমানো এবং বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ৩০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাবে: প্রথম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন: ২,৩৪,০০০ টাকা দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন: ১,৮৮,০০০ থেকে ২,৪০,৬৭০ টাকা তৃতীয় গ্রেডের বেতন: ১,৮০,০০০ থেকে ২,২৫,৩৫০ টাকা তবে সচিবরা ৩-৪ গুণ বেতন বৃদ্ধির এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেননি। তারা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রস্তাবিত সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা বৃদ্ধি নবম পে স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে: বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রস্তাবিত হার: মূল বেতনের ৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত (পদভেদে) কর্মচারী সংগঠনগুলো ২০% এর নিচে বাড়ি ভাড়া মানতে রাজি নয় বর্তমানে অনেক গ্রেডে মাত্র ৫-১০% বাড়ি ভাড়া রয়েছে চিকিৎসা ভাতা প্রস্তাবিত: ৩,০০০ টাকা (বর্তমান ১,৫০০ টাকা) বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয়ের দাবি শিক্ষা ভাতা প্রস্তাবিত: ২,০০০ টাকা সন্তানদের শিক্ষা খরচের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুপারিশ ধোলাই ভাতা প্রস্তাবিত: ১,০০০ টাকা বর্তমান খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ অস্থায়ী মহার্ঘ ভাতা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আগে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৫০% মহার্ঘ ভাতা চালুর দাবি উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই দাবি জোরদার হচ্ছে। গবেষণা অনুদান (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবে: অধ্যাপক: ১০ লাখ টাকা বার্ষিক সহযোগী অধ্যাপক: ৫ লাখ টাকা সহকারী অধ্যাপক: ৩ লাখ টাকা প্রভাষক: ২ লাখ টাকা পেনশন সুবিধা নিম্ন বেতনভোগীদের জন্য ১০০% পেনশন চালুর দাবি পেনশন গ্রাচুইটি হার ১ টাকা = ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব গ্রেড সংস্কার: সুবিধা ও অসুবিধা নবম পে স্কেলে গ্রেড সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এর সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ: বর্তমান পরিস্থিতি বর্তমান গ্রেড সংখ্যা: ২০টি প্রথম থেকে দশম গ্রেড: কর্মকর্তা পর্যায় একাদশ থেকে বিংশ গ্রেড: কর্মচারী পর্যায় গ্রেড কমানোর সুবিধা ১. বেতন বৈষম্য হ্রাস: গ্রেড কম হলে বেতনের পার্থক্য যৌক্তিক হবে ২. পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি: কম গ্রেডে পদোন্নতি দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা ৩. প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস: কম গ্রেড মানে সহজ বেতন কাঠামো ৪. সমতা প্রতিষ্ঠা: উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যে ব্যবধান কমবে গ্রেড কমানোর সম্ভাব্য অসুবিধা ১. পদের স্বল্পতা: কম গ্রেডে একই পদে বেশি কর্মচারী থাকলে পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে ২. পুনর্বিন্যাস জটিলতা: বর্তমান কর্মচারীদের নতুন গ্রেডে স্থাপন জটিল হবে ৩. বিশেষায়িত পদের সমস্যা: কিছু বিশেষায়িত পদের গ্রেড নির্ধারণে জটিলতা প্রস্তাবিত গ্রেড কাঠামো বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাব: ১২ গ্রেড: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন ১৬ গ্রেড: কিছু সূত্রে ১৬ গ্রেডের কথা উল্লেখ রয়েছে ১০ গ্রেড: কিছু কর্মচারী সংগঠন মাত্র ১০টি গ্রেডের পক্ষে গ্রেড ভিত্তিক বেতন পার্থক্যের প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের ১২ গ্রেড প্রস্তাবে: ১ম থেকে ২য় গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ২য় থেকে ৩য় গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৩য় থেকে ৪র্থ গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৪র্থ থেকে ৫ম গ্রেড পার্থক্য: ১৫,০০০ টাকা ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড: ৫,০০০ টাকা করে কমছে ৯ম থেকে ১০ম গ্রেড পার্থক্য: ১০,০০০ টাকা ১০ম থেকে ১১তম গ্রেড পার্থক্য: ৮,০০০ টাকা ১১তম থেকে ১২তম গ্রেড পার্থক্য: ৭,০০০ টাকা এই কাঠামোতে উচ্চ গ্রেডে বেশি পার্থক্য এবং নিম্ন গ্রেডে কম পার্থক্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান বেতন ব্যবস্থার সমস্যা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়। পূর্বে: ৪ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড ৮, ১২, ১৫ বছর পূর্তিতে টাইম স্কেল বর্তমানে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের নামে ১০ বছর ও ১৬ বছর চাকরি করে মাত্র ১০ টাকা বেতন বৃদ্ধি হয়, যা কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। পদোন্নতি বৈষম্য ১-১০ গ্রেডের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পান ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫-২০ বছরেও পদোন্নতি পান না ব্লক পোস্টের কারণে অনেকে সারাজীবন একই গ্রেডে থাকেন বেতন বৈষম্যের চিত্র অষ্টম পে স্কেলে: ২০তম থেকে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত মোট ৮টি গ্রেডে বেতন বাড়ে মাত্র ৩,০৫০ টাকা ১-১০ গ্রেডে গ্রেড ভিত্তিক ব্যবধানের হার সর্বনিম্ন ২.২২% ও সর্বোচ্চ ৯.৬০% একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগে বেতন গ্রেড ও পদ মর্যাদায় বৈষম্য দাবি সংস্কার: সংগঠনগুলোর দাবিনামা সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো নবম পে স্কেলে যেসব সংস্কার চায়: মূল দাবিসমূহ ১. বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামো - গ্রেড অনুযায়ী বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ ২. এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন ৩. ৫ বছর পর পর পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড প্রদান ৪. টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল সহ জ্যেষ্ঠতা বজায় ৫. সচিবালয়ে ন্যায় পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন ৬. সকল ভাতা বাজার চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় ৭. নিম্ন বেতনভোগীদের জন্য রেশন ও ১০০% পেনশন ৮. কাজের ধরণ অনুযায়ী পদ, নাম ও গ্রেড একীভূতকরণ বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে দাবি কর্মচারী সংগঠনগুলো যুক্তি দিয়েছে: ২০১৫ সালের পর অন্তত দুটি কমিশন হওয়া উচিত ছিল দুইবারের সময়ে একবার পে স্কেল হওয়ায় অন্তত ১৫০% বৃদ্ধি হওয়া উচিত ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালে মূল বেতন প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল সর্বশেষ আপডেট ও সরকারের অবস্থান পে কমিশনের অগ্রগতি কমিশন গঠন: জুলাই ২০২৫, চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সভা সংখ্যা: ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫টি পূর্ণ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত মতামত সংগ্রহ: প্রায় আড়াই শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সাথে আলোচনা সম্পন্ন সময়সীমা: জানুয়ারি ২০২৫-এ সুপারিশ জমা দেওয়ার লক্ষ্য তিন ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ১. প্রথম ধাপ: জানুয়ারিতে কমিশনের সুপারিশ জমা ২. দ্বিতীয় ধাপ: সচিব কমিটিতে পর্যালোচনা ও অনুমোদন ৩. তৃতীয় ধাপ: উপদেষ্টা পরিষদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও গেজেট জারি সরকারের বক্তব্য অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে এটি বাস্তবায়ন করবেন। তবে পে কমিশনের সুপারিশ দ্রুত জমা হওয়ার আশা করা হচ্ছে। কর্মচারীদের আলটিমেটাম বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের সুপারিশসহ গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছে। তবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০ ডিসেম্বর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মূল্যস্ফীতি ও বাস্তবতা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০১৫ থেকে ৭ বছরে ৪০% বেতন বৃদ্ধি হলেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১০০-১৫০% বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে একজন মানুষ দিনে তিন বেলা ডাল-ভাত-ভর্তা খেলে খরচ প্রায় ১৫০ টাকা ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য মাসে অন্তত ২৭ হাজার টাকা খাবার খরচ বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সব খরচে ৫০ হাজার টাকাতেও চলে না জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ১৭-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমান বেতনে: বাসা ভাড়া দিতে পারেন না যথাযথ পরিবারের ৬ জন সদস্যের মাসের বাজার সদাই সামাল দিতে হিমশিম ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে কষ্ট মাস শেষ হওয়ার আগেই ঋণ করে সংসার চালাতে হয় প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা কর্মচারীদের প্রত্যাশা ১. যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধি - মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ২. বৈষম্য নিরসন - সব গ্রেডে সমান বৃদ্ধির হার ৩. দ্রুত বাস্তবায়ন - আর বিলম্ব না করা ৪. সার্ভিস বেনিফিট - পুরাতন কর্মচারীরাও যেন সুবিধা পান বিশেষজ্ঞদের মতামত মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা কম তবে মোট বেতন (Gross Salary) এবং ভাতার ওপর জোর দেওয়া হবে নিম্ন গ্রেডের বেতন আনুপাতিক হারে বেশি বাড়ানোর সম্ভাবনা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবসম্মত বৃদ্ধি হবে সম্ভাব্য বাস্তবায়নের সময় সুপারিশ জমা: জানুয়ারি ২০২৫ চূড়ান্ত অনুমোদন: ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৫ কার্যকর হওয়া: ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে সম্ভাবনা সতর্কতা: ভুয়া তথ্য থেকে সাবধান সোশ্যাল মিডিয়াতে পে স্কেল নিয়ে প্রায়ই ভিত্তিহীন খবর বা ভুয়া গেজেট ছড়িয়ে পড়ে। যেমন: "আগামী মাসেই বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে" "১০টি গ্রেড বাতিল হচ্ছে" "পে স্কেল ঘোষণা হয়ে গেছে" মনে রাখবেন: পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। এর আগে যা শোনা যায়, তা মূলত প্রস্তাবনা বা আলোচনা। উপসংহার নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সবকিছু মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১২টি করা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামো এবং ভাতা বৃদ্ধির দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত একটি সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। জাতীয় বেতন কমিশন জানুয়ারিতে তাদের সুপারিশ জমা দিলে এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশিত হলে দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হবে। নবম পে স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। সর্বশেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ বিঃদ্রঃ এই তথ্যগুলো বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবনা এবং সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত। চূড়ান্ত বেতন কাঠামো পে কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো প্রস্তাবনা হিসেবেই বিবেচিত হবে।


ভ্রমন ও গাইড
গ্রাফিকঃ দিগন্ত পোস্ট , ছবিঃ ৫ দেশের পতাকা ,
মাত্র ১ লাখ টাকায় ২ জন মিলে ভিসা ছাড়াই এই ৫টি দেশ ঘুরে আসুন

বিদেশের মাটিতে ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু ভিসা পাওয়ার ঝক্কি আর বিশাল বাজেটের কথা ভেবে অনেকেই পিছিয়ে যান। তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে পরিকল্পনা করেন, তবে মাত্র ১ লাখ টাকার বাজেটে অনায়াসেই জীবনসঙ্গী বা বন্ধুকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার সব দেশ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন কিছু দেশ আছে যেখানে যাওয়ার জন্য কোনো আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই বেঁচে যায়। আজ আপনাদের এমন ৫টি দেশের কথা জানাব, যেখানে কম খরচে রাজকীয় ভ্রমণ উপভোগ করা যায়। পাহাড় ও মেঘের রাজ্য নেপাল বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নেপাল সব সময়ই তালিকার শীর্ষে থাকে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপালে প্রথমবার প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ভিসা ফি লাগে না। ১ লাখ টাকার বাজেটে কাঠমান্ডু, পোখরা এবং নাগরকোট। এই তিন শহর দুই জন মিলে খুব চমৎকারভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা এই দেশটিতে যেমন কম খরচে থাকা যায়, তেমনি পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা বা প্যারাগ্লাইডিং করার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ অনেকেই মনে করেন মালদ্বীপ মানেই লাখ লাখ টাকার খরচ, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। লাক্সারি রিসোর্ট এড়িয়ে যদি আপনি মাফুশি বা হুলহুমালের মতো লোকাল আইল্যান্ডগুলোতে থাকেন, তবে ১ লাখ টাকায় দুই জন মিলে চার দিন কাটিয়ে আসা সম্ভব। নীল সমুদ্রের ওপর ওয়াটার স্পোর্টস কিংবা ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতা কোনো ভিসা ছাড়াই পেয়ে যাবেন অন-অ্যারাইভাল সুবিধার মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লঙ্কা দ্বীপ শ্রীলঙ্কা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত বন্ধুসুলভ একটি দেশ। পাহাড়, চা বাগান আর ঐতিহাসিক সব স্থাপনায় ঘেরা এই দেশে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা। ক্যান্ডির পাহাড় থেকে শুরু করে নুয়ারা এলিয়ার ঝরনা পর্যন্ত দুই জন মিলে ৫ থেকে ৬ দিনের একটি ট্রিপ ১ লাখ টাকার মধ্যেই বেশ আয়েশ করে শেষ করা যায়। এখানকার আবহাওয়া এবং খাবার দুই-ই বাঙালির খুব পছন্দের। বাজেট ফ্রেন্ডলি ভিয়েতনাম বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের কাছে ভিয়েতনাম একটি দারুণ আকর্ষণীয় গন্তব্য। যদিও এখানে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সরাসরি নেই, তবে খুব স্বল্প খরচে অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে নেওয়া যায়। ১ লাখ টাকার বাজেটে ভিয়েতনামের বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড, হ্যালং বের ক্রুজ ভ্রমণ এবং হো চি মিন সিটির জাঁকজমক অনায়াসেই উপভোগ করা সম্ভব। যারা একটু ভিন্ন ধাঁচের সংস্কৃতি দেখতে চান, তাদের জন্য ভিয়েতনাম সেরা পছন্দ হতে পারে। শপিং ও বিনোদনের থাইল্যান্ড থাইল্যান্ড মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফি মওকুফ বা ভিসা ফ্রি সুবিধা দিয়ে থাকে। যখন এই সুযোগ থাকে, তখন ব্যাংকক আর পাতায়াতে দুই জন মিলে ৪-৫ দিনের ভ্রমণ ১ লাখ টাকার বাজেটে খুব সহজেই সম্ভব হয়। স্ট্রিট ফুড আর কেনাকাটার জন্য থাইল্যান্ডের কোনো তুলনা হয় না। তাই আপনার পরবর্তী ট্রিপের পরিকল্পনা শুরু করার আগে এই দেশগুলোর তালিকাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে পারেন। সঠিক সময়ে টিকিট বুক করলে এই বাজেটেও আপনি পেতে পারেন রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ।

লাইফস্টাইল
সারারাত এসি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল আসবে অর্ধেক! জেনে নিন এই গোপন ট্রিকস।
সারারাত এসি চালিয়েও বিদ্যুৎ বিল আসবে অর্ধেক! জেনে নিন এই গোপন ট্রিকস।

তীব্র গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে অনেকেই এখন সারারাত এসি (AC) চালিয়ে রাখছেন। কিন্তু মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিলের ভুতুড়ে কাগজ দেখে সেই স্বস্তি নিমেষেই দুশ্চিন্তায় রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞরা এমন কিছু ট্রিকস বা কৌশলের কথা জানিয়েছেন, যা মেনে চললে এসি চললেও বিদ্যুৎ বিল আসবে অর্ধেক।  সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণই আসল ম্যাজিক অনেকেই মনে করেন এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং বিল কম আসে। এটি একটি ভুল ধারণা। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE) অনুযায়ী, এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালানো সবচেয়ে সাশ্রয়ী। তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ালে প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। তাই ২৪ ডিগ্রিতে এসি চালিয়ে একটি সিলিং ফ্যান হালকা গতিতে ছেড়ে দিন, এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে এবং কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমবে। টাইমার এবং স্লিপ মোডের ব্যবহার সারারাত এসি চালানোর ক্ষেত্রে ‘স্লিপ মোড’ (Sleep Mode) ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই মোড চালু থাকলে প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘরের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি করে বাড়িয়ে দেয়। এতে রাতের শেষভাগে যখন বাইরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে, তখন এসি বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ করে না। এছাড়া ভোররাতের দিকে এসি বন্ধ হওয়ার জন্য ‘টাইমার’ সেট করে রাখতে পারেন, যা আপনার অজান্তেই বিল কমিয়ে আনবে। ঘর যাতে বাইরের বাতাসমুক্ত থাকে এসি চালানোর আগে নিশ্চিত করুন ঘরের জানালা ও দরজা পুরোপুরি বায়ুরোধী বা এয়ারটাইট কি না। ঘরের কোনো ছিদ্র বা জানালার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে গেলে ঘর ঠান্ডা হতে সময় বেশি লাগে, ফলে কম্প্রেসর দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে। জানালার পর্দা টেনে দিলে বাইরের সূর্যের তাপ ঘরে ঢুকতে পারে না, যা এসিকে দ্রুত ঘর ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। নিয়মিত সার্ভিসিং এবং ফিল্টার পরিষ্কার নোংরা ফিল্টার এসির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফিল্টারে ধুলো জমে থাকলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে এসিকে ঘর ঠান্ডা করতে দ্বিগুণ শক্তি ব্যয় করতে হয়। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর এসির ফিল্টার নিজে পরিষ্কার করুন এবং মৌসুমে অন্তত একবার পেশাদার টেকনিশিয়ান দিয়ে সার্ভিসিং করান। পরিষ্কার এসি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ খরচ করে। ইনভার্টার এসি এবং সঠিক স্টার রেটিং আপনার এসি যদি পুরনো মডেলের হয়, তবে সেটি পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারেন। আধুনিক ইনভার্টার এসিগুলো ঘর ঠান্ডা হওয়ার পর কম্প্রেসর পুরোপুরি বন্ধ না করে খুব ধীর গতিতে চালায়, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক। এছাড়া এসি কেনার সময় সবসময় ৫-স্টার রেটিং দেখে কেনা উচিত, কারণ এগুলো কম বিদ্যুৎ খরচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। এই সহজ কিন্তু কার্যকর ট্রিকসগুলো মেনে চললে আপনি যেমন প্রাণভরে এসি ব্যবহার করতে পারবেন, তেমনি মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের বড় বোঝা থেকেও রেহাই পাবেন।





প্রযুক্তি
ছবিঃ দিগন্ট পোস্ট
ভোটার আইডি কার্ডে ছবি পরিবর্তন করবেন কীভাবে? ধাপে ধাপে জানুন!

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের ছবি অনেক আগের হওয়ায় অনেকেরই বর্তমান চেহারার সাথে তা মেলে না। আবার অনেক সময় ছবি অস্পষ্ট আসার কারণে বিভিন্ন জায়গায় ভেরিফিকেশনে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই, আপনি চাইলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে আপনার আইডি কার্ডে ছবি পরিবর্তন করে নিতে পারেন। এই কাজটি কীভাবে করবেন তা নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো। ভোটার আইডি কার্ডে ছবি পরিবর্তন করার নিয়ম ছবি পরিবর্তনের জন্য প্রথমেই আপনাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। যদি আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট করা থাকে, তবে আপনার ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। লগইন করার পর আপনার প্রোফাইলে গিয়ে 'সংশোধন' বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখানে মনে রাখা ভালো যে, ছবি পরিবর্তনের আবেদনটি অনলাইনে শুরু করা গেলেও এটি পুরোপুরি শেষ করতে আপনাকে সশরীরে অফিসে যেতে হতে হবে।  অনলাইনে সংশোধনের ফরমে আপনি ছবি পরিবর্তনের অপশনটি সিলেক্ট করবেন। এই পর্যায়ে আপনাকে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র আপলোড করতে হতে পারে। সাধারণত বর্তমান ছবি পরিবর্তনের জন্য আপনার বর্তমান চেহারার সাথে মিল আছে এমন কোনো প্রমাণপত্র, যেমন পাসপোর্ট বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের কপি স্ক্যান করে জমা দিতে হয়। এরপর সরকারি নির্ধারিত ফি বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে জমা দিয়ে আবেদনের অনলাইন ধাপটি শেষ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি দিনক্ষণ দেখে আপনার নিকটস্থ উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। কারণ ছবি যেহেতু একটি বায়োমেট্রিক তথ্য, তাই এটি অনলাইনের মাধ্যমে নিজে নিজে পরিবর্তন করা যায় না। অফিসে যাওয়ার সময় আপনার সাথে আবেদনের অনলাইন কপির প্রিন্ট কপি এবং অরিজিনাল এনআইডি কার্ডটি নিয়ে যাবেন। নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পর দায়িত্বরত কর্মকর্তা আপনার তথ্যগুলো যাচাই করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তারা ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে আপনার নতুন ছবি তুলে নেবেন এবং আপনার আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট পুনরায় গ্রহণ করবেন। এই নতুন ছবিই আপনার পরবর্তী এনআইডি কার্ডে যুক্ত করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কিছুদিন পর আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে যে আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে। তখন আপনি অনলাইন থেকে নতুন ছবির এনআইডি কার্ডটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে একটু সময় লাগলেও আপনার পরিচয়পত্রের ছবি একদম আপ-টু-ডেট হয়ে যাবে, যা পরবর্তী সব ধরণের ভেরিফিকেশনে আপনাকে সাহায্য করবে।





ক্যারিয়ার
ছবিঃ আকিজ রিসোর্স
নিয়োগ দিচ্ছে আকিজ রিসোর্সেস, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদনের সুযোগ

আপনি কি ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ইনফরমেশন গভর্নেন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী? দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড (Akij Resources Limited) তাদের ডকুমেন্ট কন্ট্রোল বিভাগে 'Assistant Manager' পদে জনবল নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে । পেশাদার পরিবেশে যারা নিজেদের ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। এক নজরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে ছক আকারে বিজ্ঞপ্তির মূল তথ্যগুলো দেওয়া হলো: বিষয় বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম আকিজ রিসোর্সেস (Akij Resources) পদের নাম Assistant Manager - Document Control Management শিক্ষাগত যোগ্যতা BBA (Management/MIS) অথবা BA (Library Management) প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ৩ থেকে ৭ বছর বেতন আলোচনা সাপেক্ষে আবেদনের শেষ সময় ২২ এপ্রিল ২০২৬ আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কিছু বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকতে হবে: শিক্ষাগত পটভূমি: প্রার্থীদের ম্যানেজমেন্ট (Management), এমআইএস (MIS) অথবা ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে স্নাতক হতে হবে । বিশেষ প্রশিক্ষণ: ISO ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ইন্টারনাল অডিট বা ডকুমেন্ট কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS)-এর ওপর প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেশন থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে । অভিজ্ঞতা: ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা রেকর্ড ম্যানেজমেন্টে ৩ থেকে ৫ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে । কারিগরি জ্ঞান: গুগল ওয়ার্কস্পেস (Google Workspace), ইআরপি (ERP) এবং এইচআরএমএস (HRMS) পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে । প্রধান দায়িত্বসমূহ একজন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে আপনার প্রধান কাজ হবে প্রতিষ্ঠানের এন্টারপ্রাইজ-ওয়াইড ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS) তদারকি করা । যার মধ্যে থাকবে: নথিপত্রের কোডিং, ফাইলিং স্ট্রাকচার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা । ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল উভয় সিস্টেমে তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা । আইএসও (ISO) বা আইএমএস (IMS) অডিটের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা । বিভিন্ন বিভাগকে নথিপত্র সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের বিষয়ে সহায়তা প্রদান করা । কিভাবে আবেদন করবেন? আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি Bdjobs.com-এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে । আবেদনের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬ ।




খেলাধুলা
ছবিঃ ইন্টারনেট
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা

আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন এক আলোচিত ঘটনা যুক্ত হয়েছে। সৌদি আরবের শীর্ষ ক্লাব আল নাসেরের নারী দলের অধিনায়ক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ক্যাথলিন সৌজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করেছেন। তার জীবনে এটি একটি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা যায়, সৌজা বর্তমানে সৌদি আরবেই বসবাস করছেন এবং আল নাসেরের হয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফুটবলের প্রতি তার পরিশ্রম ও নিষ্ঠা, পাশাপাশি ধর্মীয় অঙ্গীকার দুই ক্ষেত্রেই তার আন্তরিকতা তাকে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এনে দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের এই সিদ্ধান্ত তার প্রতি সেই শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আল নাসেরের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বার্তায় সৌজার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে ওমরাহ পালনের সময়কার তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও সমর্থনের বার্তা ভেসে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের অনেকেই নতুন বিশ্বাসের মাধ্যমে পাওয়া শান্তি ও তৃপ্তির কথা প্রকাশ্যে শেয়ার করেছেন। সৌজার সিদ্ধান্তও সেই ধারারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। আল নাসর এক বিবৃতিতে সৌজার এই যাত্রাকে সুন্দর ও অনুপ্রেরণামূলক পথচলা বলে উল্লেখ করেছে এবং তার ক্রীড়া ও আধ্যাত্মিক জীবনে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অনেক ক্রীড়াপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার ও নতুন ধর্মীয় জীবনের মধ্যে যে ভারসাম্য তিনি গড়ে তুলছেন, তা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। সৌজার ইসলাম গ্রহণ ও ওমরাহ পালন শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বহুমাত্রিকতা ও বিভিন্ন সংস্কৃতি-ধর্মের প্রতি উন্মুক্ততারও প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফুটবল মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার এই আধ্যাত্মিক যাত্রা তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রীড়াবিদদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।