মতামত

পে স্কেল
অর্থনীতি ও বাণিজ্য
জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল শুরু - অর্থ মন্ত্রণালয়

দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনারদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে আসছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অর্থনীতিতে যেন হঠাৎ কোনো বড় চাপ তৈরি না হয়, সে জন্যই ধাপে ধাপে এই পে-স্কেল কার্যকরের কৌশল নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করার বিষয়ে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই বৈঠকেই তিনি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই যুগান্তকারী নির্দেশনা দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে আগামী জুলাই থেকেই যে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পেতে যাচ্ছেন, তাতে আর কোনো সংশয় নেই। নতুন এই বেতন কাঠামোটি মূলত তিনটি অর্থবছরে বা তিন ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের (বেসিক স্যালারি) ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দেওয়া হবে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ। আর চূড়ান্ত ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতাগুলো। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। একসাথে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে হঠাৎ করেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যেত, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বা মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ পড়ত। ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড়ের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর যেমন চাপ সামলানো যাবে, তেমনি সরকারের জন্যও এই বিপুল অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি সহজ হবে। হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আর আগামী অর্থবছর থেকে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের অর্ধেক কার্যকর করার জন্য বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত সংস্থান রাখা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর খসড়া বাজেট বক্তব্যে এই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখাটি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের এই যৌক্তিক প্রসঙ্গটি তুলে ধরলে তিনি তাতে তাৎক্ষণিক সম্মতি দিয়ে জুলাই থেকেই তা কার্যকর করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

১৭ মে, ২০২৬ | বিকেল ৫:২৪






রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে ৫টি বিপদ আসে

এখন অনেক মানুষই রাতে দেরি করে খাবার খান। কেউ অফিস থেকে দেরিতে ফেরেন, কেউ আবার রাত জেগে মোবাইল দেখেন বা কাজ করেন। ফলে রাত ১১টা কিংবা তারও পরে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু ডাক্তারদের মতে, প্রতিদিন দেরি করে রাতের খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো না। আমাদের শরীরেরও একটা নির্দিষ্ট রুটিন আছে। রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন বেশি দেরি করে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে কি হয়?  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং রাত জাগার অভ্যাস স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণায়ও দেখা গেছে, গভীর রাতে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কারণ রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ার ওপর চাপ পড়ে। মূলত রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে সমস্ত পরিবর্তন হতে পারে তা হলো-  ১. গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে রাতে দেরি করে খাওয়ার পর অনেকেই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে খাবার ঠিকভাবে হজম হতে চায় না। পাকস্থলীর গ্যাস বা টক পানি উপরের দিকে উঠে এসে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। ঢাকার অনেক চিকিৎসক বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২ ঘণ্টা জেগে থাকা ভালো। ২. শরীর মোটা হতে পারে রাতে শরীরের নড়াচড়া কম থাকে। তখন বেশি খেলে সেই খাবার সহজে চর্বি হয়ে জমে যেতে পারে। বিশেষ করে বিরিয়ানি, ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া বা বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার রাতে দেরি করে খেলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। ৩. ঘুম ভালো নাও হতে পারে অনেকে ভাবেন পেট ভরে খেলেই ভালো ঘুম হবে। কিন্তু অনেক সময় উল্টোটা হয়। রাতে বেশি বা ভারী খাবার খেলে শরীর খাবার হজম করতেই ব্যস্ত থাকে। ফলে গভীর ঘুম আসে না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ক্লান্ত লাগার সমস্যাও হতে পারে। ৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে ডাক্তাররা বলছেন, প্রতিদিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের চিনির ভারসাম্যে সমস্যা করতে পারে। বিশেষ করে যারা রাত জাগেন এবং অনিয়ম করে খান, তাদের ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ৫. হার্টের ওপর চাপ পড়তে পারে দেরি করে খেলে শরীরে চর্বি বাড়ে, ওজন বাড়ে এবং অনেক সময় রক্তচাপও বেড়ে যেতে পারে। এসব কারণে ধীরে ধীরে হার্টের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তাই শুধু কম খাওয়াই না, সঠিক সময়েও খাওয়া জরুরি। রাতে খাবার খাওয়ার ভালো সময় কখন ডাক্তারদের মতে, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া ভালো। যদি রাত ১১টায় ঘুমান, তাহলে চেষ্টা করুন রাত ৮টার মধ্যে খাওয়া শেষ করতে। রাতে সুস্থ থাকতে যা করতে পারেন ১ - রাতে খুব বেশি ভাজাপোড়া খাবার খাবেন না, ২- খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না, ৩- রাতে কম মোবাইল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, ৪- খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, ৫ - রাতে বেশি কোমল পানীয় বা কফি না খাওয়াই ভালো অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করছে। রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাসও তেমন একটি বিষয়। তাই সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছেন না, কখন খাচ্ছেন সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য
সৌদিতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আযহার তারিখ ঘোষনা

মুসলিম উম্মাহর জন্য এক আনন্দঘন ও পবিত্র খবর। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আর এর মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত হয়ে গেল এবারের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা ও কোরবানির ঈদের দিনক্ষণ। চাঁদ দেখার এই ঘোষণার ফলে দেশটিতে আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আজ রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন অর্থাৎ আরাফাত দিবস পালিত হবে আগামী ৯ জিলহজ বা ২৬ মে (মঙ্গলবার)। সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ-ভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে দেশটির আকাশে চাঁদ দেখার এই খবর নিশ্চিত করেছে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে আজ রোববার ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আজ রাত থেকেই বরকতময় জিলহজ মাসের গণনা শুরু হবে এবং আগামী ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ইসলামি শরিয়ত ও ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জমায়েত পবিত্র হজের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। আগামী ২৫ মে থেকে পবিত্র মক্কায় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে তা চলবে কয়েকদিন ধরে। ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে চাঁদ দেখার এই ঘোষণার সরাসরি একটি প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। ভৌগোলিক কারণে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে নতুন চাঁদ দেখা যায় এবং ঈদ পালিত হয়। সেই চিরাচরিত হিসাব অনুযায়ী, সৌদিতে ২৭ মে ঈদ হলে বাংলাদেশে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তবে বাংলাদেশে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ জানতে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক সভা পর্যন্ত দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

আপনার জন্য






জাতীয়
বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নিবে দুবাই, খরচ পড়বে ১ লাখ টাকার নিচে

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী ও আধুনিক শহর দুবাইয়ে কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। চলতি বছরেই বাংলাদেশ থেকে নতুন করে মোট ৬ হাজার দক্ষ ড্রাইভার বা চালক নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার থেকেই রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই চালক নিয়োগের প্রাথমিক ইন্টারভিউ বা বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আজ রোববার (১৭ মে) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই বিশাল নিয়োগের সুখবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা দেশের শ্রমবাজারের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ট্যাক্সি ও লিমুজিন চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো, এই ১৫ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি নাগরিক! মূলত বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, সততা ও পরিশ্রমের কারণেই চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধিদল জানায়, আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নতুন করে দেড় হাজার চালককে প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে মোট ৬ হাজার চালক নিয়োগের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুবাইয়ের মতো বিলাসবহুল শহরে এত বিপুলসংখ্যক চালক নিয়োগ দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তবে এই বিশাল সুযোগের পেছনে অভিবাসন ব্যয়ের একটি বড় চিন্তাও জড়িয়ে আছে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সেই বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, দুবাই যেতে একজন বাংলাদেশি চালকের অনেক অর্থ ব্যয় হয় এবং অধিকাংশ কর্মী দরিদ্র হওয়ায় তাঁদের ঋণ করে বিদেশে যেতে হয়। তাই সাধারণ কর্মীদের সুবিধার্থে এই অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি। এদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কর্মীদের কল্যাণে একটি চমৎকার প্রস্তাব রাখেন। তিনি দুবাই যাওয়ার পর কর্মীদের প্রশিক্ষণকালীন সময়েও বেতন-ভাতা চালুর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চালকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্য পেশাজীবী কর্মী নিয়োগেরও বিশেষ অনুরোধ করেন তিনি। সরকার যে কোনোভাবেই শুধু শ্রমিক নয়, বরং পেশাজীবীদের বিদেশে পাঠাতে চাইছে, এটি তারই একটি পরিষ্কার বার্তা। এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী পাঠানোর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘আল আনাস ওভারসিজ’-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, শুধু ড্রাইভার নয়, বরং বাংলাদেশ থেকে ক্লিনার, টেকনিশিয়ান ও মেকানিক নিয়োগের বিষয়েও তাঁরা বেশ আগ্রহী। সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

১৭ মে, ২০২৬ | বিকেল ৫:৪৮

অর্থনীতি ও বাণিজ্য
কোরবানির আগে রেমিট্যান্সের ঢল: ১৬ দিনেই দেশে এলো ২৪ হাজার কোটি টাকা

চলতি মাসের শেষেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আগেভাগেই দেশে অর্থ পাঠাতে শুরু করেছেন। ফলে মে মাসজুড়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে দারুণ এক ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। মূলত কোরবানির পশু কেনাসহ ঈদের বাড়তি খরচের জোগান দিতেই প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ১৬ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ১৯৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। দেশীয় মুদ্রায় হিসাব করলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে)। এই হিসাবে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রবাসী আয়। আজ রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১২৯ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ঈদ নয়, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধপথে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবার মান উন্নয়নও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি প্রমাণ করে যে, বৈধ চ্যানেলগুলো যখন প্রবাসীদের জন্য সহজ ও লাভজনক করা হয়, তখন তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ হুন্ডির পথ এড়িয়ে ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকা পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে কত রেমিট্যান্স এলো, তারও একটি সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মাধ্যমে, যার পরিমাণ ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক (২৩ কোটি ৮১ লাখ ডলার), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (২৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার), ট্রাস্ট ব্যাংক (১৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার) এবং অগ্রণী ব্যাংক (১৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার)। চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে রেমিট্যান্সের একটি ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া যায়। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে আসে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এরপর আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ এবং এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মে মাস শেষে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসতে পারে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মে মাসের বাকি সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডলার সংকট কাটাতে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শিক্ষা
একজন কলেজের প্রভাষকের বেতন কত, কি কি সুবিধা পান?

বর্তমানে বাংলাদেশে ২০১৫ সালের পে স্কেল কাঠামোতে বেতন চলমান রয়েছে, এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছে তবে এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। আবার এই সময়ে অনেকেই কলেজে প্রভাষক পদের বেতন নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন। বিশেষ করে যারা নতুন চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা পরিবারে কেউ শিক্ষকতায় আছেন, তাদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে কলেজ পর্যায়ের প্রভাষক পদটি সাধারণত নবম গ্রেডভুক্ত। তবে সরকারি কলেজ ও এমপিওভুক্ত (বেসরকারি কিন্তু সরকারিভাবে বেতনপ্রাপ্ত) কলেজে বেতন কাঠামো কিছুটা ভিন্ন হয়। এমপিওভুক্ত কলেজ প্রভাষকের বেতন বর্তমান পে স্কেল অনুযায়ী একজন এমপিওভুক্ত কলেজে প্রভাষক পদে (৯ম গ্রেড) শুরুতে মূল বেতন থাকে প্রায় ২২,০০০ টাকা। এর সাথে যোগ হয়: বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রায় ১,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রায় ৫০০ টাকা সব মিলিয়ে মোট বেতন দাঁড়ায় প্রায় ২৩,৫০০ টাকার মতো। তবে কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধার জন্য ১০ শতাংশ কেটে নেওয়ার পর হাতে পাওয়া টাকা কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে বাস্তব হিসেবে টেক হোম স্যালারি প্রায় ২১,০০০ থেকে ২১,৫০০ টাকার মধ্যে থাকে বলে বিভিন্ন সরকারি বেতন কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়  সরকারি কলেজ প্রভাষকের বেতন সরকারি কলেজে প্রভাষকের পদও নবম গ্রেডে থাকে, তবে এখানে সুবিধা তুলনামূলক বেশি। মূল বেতন একই হলেও ভাতা অনেক বেশি হয়। সাধারণভাবে সরকারি কলেজ শিক্ষকরা পান: মূল বেতন (নবম গ্রেড) বাড়ি ভাড়া ভাতা চিকিৎসা ভাতা উৎসব ভাতা বছরে দুইবার বৈশাখী ভাতা শুধু উৎসব ভাতা হিসেবে সরকারি কলেজ শিক্ষকরা মূল বেতনের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পান, এ কারণে সরকারি কলেজ প্রভাষকের মোট আয় এমপিওর তুলনায় অনেক বেশি হয়। কেন বেতনে এত পার্থক্য একই “প্রভাষক” পদ হলেও সরকারি ও এমপিও কলেজের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ভাতা ও সুবিধা কাঠামো। সরকারি কলেজে পেনশন, নিয়মিত পদোন্নতি এবং বেশি ভাতা থাকে। অন্যদিকে এমপিও কলেজে মূল বেতন একই হলেও ভাতা সীমিত থাকে। এটাই দুই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পার্থক্য। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, একজন নতুন প্রভাষকের বেতন দিয়ে শহরে জীবনযাপন অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ঢাকা বা বড় শহরে ভাড়া, খাবার ও যাতায়াত খরচ বাড়ার কারণে অনেক শিক্ষক অতিরিক্ত প্রাইভেট টিউশন বা অন্য কাজের ওপর নির্ভর করেন। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলেন, শিক্ষকদের মান উন্নত করতে হলে শুধু বেতন নয়, ভাতা ও কর্মপরিবেশেও ভারসাম্য আনা জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বেতন কাঠামো সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে। নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে বেতন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ সরকারি গেজেট বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপডেট দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

১৫ মে, ২০২৬ | রাত ১১:৪৩

রাজনীতি
ncp
এনসিপিতে বড় রদবদল: বাদ পড়ছে মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) তাদের দলের ভেতরে বড় ধরনের রদবদল আনতে যাচ্ছে। দলের শীর্ষ কয়েকটি পদ একেবারে বাদ দিয়ে নতুন করে পুরো কাঠামো সাজানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হওয়া ইসি (নির্বাহী কমিটি) কমিটির এক দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত আসে। আমাদের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ৬১ সদস্যের ইসি কমিটির অর্ধেকের বেশি নেতা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই আলোচনা শেষে দলের বেশিরভাগ নেতাই সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর পক্ষে একমত হন। নতুন এই সিদ্ধান্তে দলের বেশ কিছু ভারী পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মুখ্য সংগঠক’, ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ ও ‘মুখপাত্র’ পদ। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের জন্য যে আলাদা ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ পদ ছিল, সেগুলোও আর থাকছে না। এর বদলে দলটি এখন চলবে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে। এই কমিটিতে থাকবেন একজন আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিব এবং সাধারণ সদস্যরা। মূলত পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত এই নেতারাই দলের হাল ধরবেন। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দল গোছাতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন। দলীয় সূত্র আরও জানায়, আজ শুক্রবার (১৫ মে) দলের সাধারণ সভায় এই প্রস্তাবগুলো তোলা হবে। সেখানে সবার সম্মতি মিললে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে বৈঠকে বেশির ভাগ নেতা পরিবর্তনের পক্ষে থাকলেও, কয়েকজন পুরনো কাঠামোই ধরে রাখার পক্ষে তাদের মতামত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি মূলত দলে কাজের গতি বাড়াতে চাইছে। অনেক সময় দলে ভারী পদ বা আলংকারিক পদ বেশি থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে জটিলতা তৈরি হয় বা নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। ‘মুখ্য সংগঠক’ বা ‘মুখপাত্র’ পদগুলো বাতিল করে সরাসরি আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মডেলে ফিরে যাওয়ার অর্থ হলো, দলের চেইন অব কমান্ড বা নির্দেশনার জায়গাটি আরও পরিষ্কার ও দ্রুত করা। এছাড়া, প্রতিটি বিভাগে নতুন করে সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, দলটি এখন কেন্দ্র থেকে মনোযোগ সরিয়ে তৃণমূল বা মাঠ পর্যায়ে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে। সামনে যদি কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচন থাকে, তবে এই নতুন কাঠামো দলকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

ধর্ম
মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায়? ইসলামি দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা

মৃত্যু - পৃথিবীর সবচেয়ে অমোঘ এবং সুনিশ্চিত সত্য। প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, এটি মহান আল্লাহর শাশ্বত ঘোষণা। কিন্তু মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে একটি কৌতূহল বিরাজমান, মৃত্যুর পর আমাদের আত্মা বা রুহ কোথায় যায়? কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এই রহস্যের সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত সমাধান দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায়? ইসলামি দৃষ্টিতে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা ১. মৃত্যুর মুহূর্ত এবং রুহ কবজ করার প্রক্রিয়া মৃত্যুর সময় মানুষের কাছে মালাকুল মউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা আসেন। মুমিনের কাছে তাঁরা আসেন জান্নাতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তি নিয়ে, আর পাপীদের কাছে আসেন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। কোরআনের ঘোষণা:   ۞ قُلْ يَتَوَفَّـٰكُم مَّلَكُ ٱلْمَوْتِ ٱلَّذِى وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ "বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমাদের রবের কাছেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।" (সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ১১) ২. আলমে বারযাখ: অন্তর্বর্তীকালীন জগৎ মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আত্মা যে জগতে অবস্থান করে, ইসলামি পরিভাষায় তাকে 'বারযাখ' বলা হয়। এটি হলো দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যবর্তী একটি অন্তরায় বা পর্দা। কোরআনের ঘোষণা:  لَعَلِّىٓ أَعْمَلُ صَـٰلِحًا فِيمَا تَرَكْتُ‌ۚ كَلَّآ‌ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَا‌ۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ "আর তাদের সামনে বারযাখ (পর্দা বা অন্তরায়) থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।" (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ১০০) অর্থাৎ, মৃত্যুর পর আত্মা দুনিয়ায় ফিরে আসতে পারে না, বরং কিয়ামত পর্যন্ত এই বারযাখ জগতেই অবস্থান করে। ৩. মুমিনের আত্মা বনাম পাপীর আত্মা: গন্তব্য কোথায়? মৃত্যুর পর আত্মার গন্তব্য নিয়ে সুনানে আবু দাউদ (হাদিস নং: ৪৭৫৩) এবং মুসনাদে আহমাদ-এ হজরত বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ ও বিখ্যাত সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই যাত্রার চমৎকার ও ভয়াবহ উভয় রূপই তুলে ধরেছেন: নেককার মুমিনের আত্মার গন্তব্য (ইল্লিয়্যিন): মুমিনের রুহ যখন বের করা হয়, তা সুগন্ধি ছড়াতে থাকে। ফেরেশতারা সম্মানের সাথে তা নিয়ে প্রথম আসমান থেকে সপ্তম আসমান পর্যন্ত যান। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন: "আমার বান্দার আমলনামা 'ইল্লিয়্যিন'-এ রেখে দাও এবং তাকে জমিনে তার শরীরে ফিরিয়ে দাও, কারণ আমি তাদের মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি।" কোরআনের ঘোষণা: كَلَّآ إِنَّ كِتَـٰبَ ٱلْأَبْرَارِ لَفِى عِلِّيِّي "কখনো নয়, নিশ্চয়ই পুণ্যবানদের আমলনামা ‘ইল্লিয়্যিন’-এ রয়েছে।" (সূরা আল-মুতাফফিফিন, আয়াত: ১৮) পাপী বা অবিশ্বাসী ব্যক্তির আত্মার গন্তব্য (সিজ্জিন): পাপীর রুহ বের করার সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফেরেশতারা তা নিয়ে আসমানের দিকে গেলে আসমানের দরজা তাদের জন্য খোলা হয় না। তখন আল্লাহ নির্দেশ দেন: "তার আমলনামা জমিনের সর্বনিম্নে 'সিজ্জিন'-এ রেখে দাও।" এরপর তার রুহকে সজোরে নিক্ষেপ করা হয়। কোরআনের ঘোষণা:  كَلَّآ إِنَّ كِتَـٰبَ ٱلْفُجَّارِ لَفِى سِجِّي "কখনো নয়, নিশ্চয়ই পাপাচারীদের আমলনামা ‘সিজ্জিন’-এ রয়েছে।" (সূরা আল-মুতাফফিফিন, আয়াত: ৭) ৪. কবরের প্রশ্নোত্তর ও আত্মার অবস্থান আমলনামা ইল্লিয়্যিন বা সিজ্জিনে রাখার পর, রুহকে পুনরায় কবরে দেহের সাথে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় (যা আমাদের দুনিয়াবি কল্পনার বাইরে) যুক্ত করা হয়। এরপর মুনকার ও নাকির নামক দুই ফেরেশতা এসে তিনটি প্রশ্ন করেন: ১. তোমার রব কে? ২. তোমার দ্বীন কী? ৩. এই ব্যক্তি (রাসূল সা.) কে, যাঁকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল? মুমিন ব্যক্তি সঠিক উত্তর দিলে তার কবরকে প্রশস্ত করে জান্নাতের সাথে একটি জানালা খুলে দেওয়া হয়। আর পাপী ব্যক্তি উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে তার জন্য জাহান্নামের জানালা খুলে দেওয়া হয় এবং কবর তাকে এমনভাবে চেপে ধরে যে তার একদিকের পাঁজর অন্যদিকের পাঁজরে ঢুকে যায়। (সুনানে আত-তিরমিজি, হাদিস নং: ৩১২০, হাসান সহিহ) ৫. শহিদদের আত্মা কোথায় থাকে? সাধারণ মুমিনদের আত্মার চেয়ে শহিদদের আত্মার মর্যাদা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা বারযাখ জগতেই সরাসরি জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করতে থাকেন। সহিহ হাদিসের ঘোষণা: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, "শহিদদের আত্মাসমূহ জান্নাতে সবুজ রঙের পাখির পেটে অবস্থান করে। জান্নাতে ঝুলন্ত আরশের নিচে তাদের জন্য অনেকগুলো ঝাড়বাতি রয়েছে। তারা পুরো জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করে এবং শেষে ওই ঝাড়বাতিগুলোতে ফিরে আসে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৮৮৭) উপসংহার ও আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায় এই প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি দার্শনিক কৌতূহল মেটানোর জন্য নয়, বরং এটি আমাদের আখেরাতের প্রস্তুতির একটি সতর্কবার্তা। রুহ বের হওয়ার পরের অনন্ত যাত্রায় আমাদের সঙ্গী হবে কেবল আমাদের ঈমান ও নেক আমল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে মৃত্যুর পর 'ইল্লিয়্যিন'-এ স্থান পাওয়ার তৌফিক দান করুন এবং কবরের আজাব থেকে হেফাজত করুন। আমিন।





স্বাস্থ্য
রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে ৫টি বিপদ আসে

এখন অনেক মানুষই রাতে দেরি করে খাবার খান। কেউ অফিস থেকে দেরিতে ফেরেন, কেউ আবার রাত জেগে মোবাইল দেখেন বা কাজ করেন। ফলে রাত ১১টা কিংবা তারও পরে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু ডাক্তারদের মতে, প্রতিদিন দেরি করে রাতের খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো না। আমাদের শরীরেরও একটা নির্দিষ্ট রুটিন আছে। রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন বেশি দেরি করে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে কি হয়?  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং রাত জাগার অভ্যাস স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণায়ও দেখা গেছে, গভীর রাতে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কারণ রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ার ওপর চাপ পড়ে। মূলত রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে সমস্ত পরিবর্তন হতে পারে তা হলো-  ১. গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে রাতে দেরি করে খাওয়ার পর অনেকেই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে খাবার ঠিকভাবে হজম হতে চায় না। পাকস্থলীর গ্যাস বা টক পানি উপরের দিকে উঠে এসে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। ঢাকার অনেক চিকিৎসক বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২ ঘণ্টা জেগে থাকা ভালো। ২. শরীর মোটা হতে পারে রাতে শরীরের নড়াচড়া কম থাকে। তখন বেশি খেলে সেই খাবার সহজে চর্বি হয়ে জমে যেতে পারে। বিশেষ করে বিরিয়ানি, ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া বা বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার রাতে দেরি করে খেলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। ৩. ঘুম ভালো নাও হতে পারে অনেকে ভাবেন পেট ভরে খেলেই ভালো ঘুম হবে। কিন্তু অনেক সময় উল্টোটা হয়। রাতে বেশি বা ভারী খাবার খেলে শরীর খাবার হজম করতেই ব্যস্ত থাকে। ফলে গভীর ঘুম আসে না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ক্লান্ত লাগার সমস্যাও হতে পারে। ৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে ডাক্তাররা বলছেন, প্রতিদিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের চিনির ভারসাম্যে সমস্যা করতে পারে। বিশেষ করে যারা রাত জাগেন এবং অনিয়ম করে খান, তাদের ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ৫. হার্টের ওপর চাপ পড়তে পারে দেরি করে খেলে শরীরে চর্বি বাড়ে, ওজন বাড়ে এবং অনেক সময় রক্তচাপও বেড়ে যেতে পারে। এসব কারণে ধীরে ধীরে হার্টের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তাই শুধু কম খাওয়াই না, সঠিক সময়েও খাওয়া জরুরি। রাতে খাবার খাওয়ার ভালো সময় কখন ডাক্তারদের মতে, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া ভালো। যদি রাত ১১টায় ঘুমান, তাহলে চেষ্টা করুন রাত ৮টার মধ্যে খাওয়া শেষ করতে। রাতে সুস্থ থাকতে যা করতে পারেন ১ - রাতে খুব বেশি ভাজাপোড়া খাবার খাবেন না, ২- খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না, ৩- রাতে কম মোবাইল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, ৪- খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, ৫ - রাতে বেশি কোমল পানীয় বা কফি না খাওয়াই ভালো অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করছে। রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাসও তেমন একটি বিষয়। তাই সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছেন না, কখন খাচ্ছেন সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।





বিশ্লেষন
এআই খুঁজে দিচ্ছে হারিয়ে যাওয়া শুক্রাণু, এখন বাবা হতে পারবেন বন্ধ্যাত্ব পুরুষ

বহু বছর চেষ্টা করেও সন্তান নিতে না পারা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার খবর এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা আগে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারছে। ফলে যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের জৈবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েলের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ আড়াই বছরের সংগ্রাম, হতাশা এবং একের পর এক চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তারা জানতে পারেন - পেনেলোপ অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকেরা আগে জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম রয়েছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষদের শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অনেকের শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের শারীরিক জটিলতা ভূমিকা রাখে। আর অ্যাজোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নমুনায় শুক্রাণু থাকলেও সেটি এত কম যে সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই জায়গাতেই কাজ করছে নতুন প্রযুক্তি ‘স্টার সিস্টেম’ বা স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করছে। গবেষকদের ভাষ্য, পুরো নমুনার মধ্যে হয়তো একটি মাত্র শুক্রাণু আছে, যা মানুষের চোখে বা সাধারণ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এআই প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে সেই বিরল শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারছে। স্টার সিস্টেমে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়। এই চিপের ক্ষুদ্র চ্যানেলের মধ্য দিয়ে নমুনা প্রবাহিত হয় এবং শক্তিশালী ইমেজিং প্রযুক্তি তা স্ক্যান করে। এরপর এআই অ্যালগরিদম শুক্রাণুর অবস্থান নির্ধারণ করে এবং রোবোটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে ফেলে। চিকিৎসক জেভ উইলিয়ামস জানান, প্রযুক্তিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, যেসব রোগীকে আগে বলা হয়েছিল তাদের নিজের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্যামুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার শরীরে বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে স্টার সিস্টেম সেই নমুনা থেকে আটটি শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে একটি সফলভাবে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং এখন পেনেলোপের গর্ভে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তান। গবেষকেরা বলছেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা দরকার। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আরও কাজ প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ভবিষ্যতে শুধু শুক্রাণু শনাক্ত নয়, আইভিএফ চিকিৎসার আরও বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিম্বাণু নির্বাচন, ভ্রূণের গুণগত মান যাচাই এবং হরমোনের সঠিক ডোজ নির্ধারণেও মেশিন লার্নিং ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে। কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখো দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন এই প্রযুক্তি তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুরুষকে একসময় “শুক্রাণুহীন” বলা হতো, তাদের ক্ষেত্রেও এখন চিকিৎসকেরা নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পুরো ধারণাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবরঃ বিবিসি বাংলা





অপরাধ
এক ফোনকলেই ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে উধাও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা
এক ফোনকলেই ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে উধাও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

রাজধানীতে আবারও ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে দক্ষিণ বনশ্রীর এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। কাগজপত্র হালনাগাদের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পর মুহূর্তেই ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর নাম সুধন চন্দ্র বর্মন। মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি রাজধানীর খিলগাঁও থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় থাকা অবস্থায় একটি নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র হালনাগাদের জন্য কিছু তথ্য প্রয়োজন বলে জানান। ফোনদাতার কথায় বিশ্বাস করে সুধন চন্দ্র নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও জন্মতারিখ জানান। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি নম্বরে ‘অ্যাড মানি’র মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৭ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া কথিত ব্যাংক কর্মকর্তার দেওয়া আরেকটি নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করছেন খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে টাকা উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিংকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের গোপন তথ্য, ওটিপি বা জন্মতারিখ জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ফোন কল এলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সারাদেশ
গরুর হাট
কোরবানির হাটে দরপতনের আভাস, রাজস্ব হারানোর ভয় চসিকের

কোরবানির ঈদ আসতে এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি, কিন্তু চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে এখনই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্যবসায়ীদের কপালে। মানুষ এখন অনলাইনে বা সরাসরি খামার থেকে গরু কিনতে বেশি পছন্দ করায় এবার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারামূল্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এমনকি কোনো কোনো হাটে ইজারা নেওয়ার জন্য কেউ দরপত্রই জমা দেয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবার নগরের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে। এর মধ্যে নগরের সবচেয়ে বড় সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি দামে ইজারা নিয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী। তবে মুরাদপুরের বিবিরহাটের দাম গত বছরের ১ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে এবার মাত্র ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি দামে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা অস্থায়ী হাটগুলোর। কর্ণফুলী এলাকার অস্থায়ী হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং মুসলিমাবাদ হাটে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দর উঠেছে। আর ওয়াজেদিয়া হাটে কেউ দরপত্রই জমা দেয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী হাটে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ এখন ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে বা খামার থেকে পশু কিনছেন। আবার খরচ কমাতে অনেকেই ভাগাভাগি করে কোরবানি দিচ্ছেন। এর ওপর পাড়া-মহল্লায় অবৈধ হাট বসায় বড় হাটগুলোতে ক্রেতা কমে গেছে। সাগরিকা হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, "এত টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি, টাকা উঠবে কি না তা নিয়ে ভয়ে আছি। উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।" অবৈধ হাটের বিষয়ে সিটি করপোরেশন এবার বেশ কঠোর। চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন জানিয়েছেন, অনুমোদিত হাটের বাইরে কোথাও বাজার বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। পাশাপাশি বৈধ হাটগুলোতে জাল টাকা চেনার মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও পশু চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হবে।





ভ্রমন ও গাইড
গ্রাফিকঃ দিগন্ত পোস্ট , ছবিঃ ৫ দেশের পতাকা ,
মাত্র ১ লাখ টাকায় ২ জন মিলে ভিসা ছাড়াই এই ৫টি দেশ ঘুরে আসুন

বিদেশের মাটিতে ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু ভিসা পাওয়ার ঝক্কি আর বিশাল বাজেটের কথা ভেবে অনেকেই পিছিয়ে যান। তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে পরিকল্পনা করেন, তবে মাত্র ১ লাখ টাকার বাজেটে অনায়াসেই জীবনসঙ্গী বা বন্ধুকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার সব দেশ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন কিছু দেশ আছে যেখানে যাওয়ার জন্য কোনো আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই বেঁচে যায়। আজ আপনাদের এমন ৫টি দেশের কথা জানাব, যেখানে কম খরচে রাজকীয় ভ্রমণ উপভোগ করা যায়। পাহাড় ও মেঘের রাজ্য নেপাল বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নেপাল সব সময়ই তালিকার শীর্ষে থাকে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপালে প্রথমবার প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ভিসা ফি লাগে না। ১ লাখ টাকার বাজেটে কাঠমান্ডু, পোখরা এবং নাগরকোট। এই তিন শহর দুই জন মিলে খুব চমৎকারভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা এই দেশটিতে যেমন কম খরচে থাকা যায়, তেমনি পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা বা প্যারাগ্লাইডিং করার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ অনেকেই মনে করেন মালদ্বীপ মানেই লাখ লাখ টাকার খরচ, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। লাক্সারি রিসোর্ট এড়িয়ে যদি আপনি মাফুশি বা হুলহুমালের মতো লোকাল আইল্যান্ডগুলোতে থাকেন, তবে ১ লাখ টাকায় দুই জন মিলে চার দিন কাটিয়ে আসা সম্ভব। নীল সমুদ্রের ওপর ওয়াটার স্পোর্টস কিংবা ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতা কোনো ভিসা ছাড়াই পেয়ে যাবেন অন-অ্যারাইভাল সুবিধার মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লঙ্কা দ্বীপ শ্রীলঙ্কা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত বন্ধুসুলভ একটি দেশ। পাহাড়, চা বাগান আর ঐতিহাসিক সব স্থাপনায় ঘেরা এই দেশে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা। ক্যান্ডির পাহাড় থেকে শুরু করে নুয়ারা এলিয়ার ঝরনা পর্যন্ত দুই জন মিলে ৫ থেকে ৬ দিনের একটি ট্রিপ ১ লাখ টাকার মধ্যেই বেশ আয়েশ করে শেষ করা যায়। এখানকার আবহাওয়া এবং খাবার দুই-ই বাঙালির খুব পছন্দের। বাজেট ফ্রেন্ডলি ভিয়েতনাম বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের কাছে ভিয়েতনাম একটি দারুণ আকর্ষণীয় গন্তব্য। যদিও এখানে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সরাসরি নেই, তবে খুব স্বল্প খরচে অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে নেওয়া যায়। ১ লাখ টাকার বাজেটে ভিয়েতনামের বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড, হ্যালং বের ক্রুজ ভ্রমণ এবং হো চি মিন সিটির জাঁকজমক অনায়াসেই উপভোগ করা সম্ভব। যারা একটু ভিন্ন ধাঁচের সংস্কৃতি দেখতে চান, তাদের জন্য ভিয়েতনাম সেরা পছন্দ হতে পারে। শপিং ও বিনোদনের থাইল্যান্ড থাইল্যান্ড মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফি মওকুফ বা ভিসা ফ্রি সুবিধা দিয়ে থাকে। যখন এই সুযোগ থাকে, তখন ব্যাংকক আর পাতায়াতে দুই জন মিলে ৪-৫ দিনের ভ্রমণ ১ লাখ টাকার বাজেটে খুব সহজেই সম্ভব হয়। স্ট্রিট ফুড আর কেনাকাটার জন্য থাইল্যান্ডের কোনো তুলনা হয় না। তাই আপনার পরবর্তী ট্রিপের পরিকল্পনা শুরু করার আগে এই দেশগুলোর তালিকাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে পারেন। সঠিক সময়ে টিকিট বুক করলে এই বাজেটেও আপনি পেতে পারেন রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ।

লাইফস্টাইল
ঘুম থেকে উঠেই ভুলেও মোবাইল দেখবেন না, নতুন গবেষণায় মিলল ভয়ংকর তথ্য

অনেক মানুষের দিনের শুরুটাই হয় মোবাইল হাতে নিয়ে। চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ফেসবুক দেখেন, কেউ মেসেজ চেক করেন, আবার কেউ নিউজ ফিড স্ক্রল করতে থাকেন। বিষয়টি এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা মস্তিষ্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসায়েন্স গবেষকদের মতে, সকালে ঘুম ভাঙার পরের প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময় অতিরিক্ত তথ্য, নোটিফিকেশন বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করতে পারে। সকালে উঠেই মোবাইল দেখলে মস্তিষ্কে কী ঘটে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে “স্লিপ মোড” থেকে সচল অবস্থায় আসে। কিন্তু হঠাৎ মোবাইলের আলো, শব্দ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য মস্তিষ্ককে এক ধরনের তাত্ক্ষণিক স্ট্রেসে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কাজের মেসেজ দেখলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সকাল থেকেই অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খারাপ খবর, অফিসের চাপ বা অন্যের জীবনযাপন দেখতে শুরু করেন, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি মানসিক ক্লান্তি দেখা যায়। চোখ ও মন দুটোর ওপরই পড়ে প্রভাব চোখ খোলার পরপরই মোবাইলের উজ্জ্বল আলো চোখের ওপরও চাপ তৈরি করে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার সমস্যাও বাড়তে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা অনেক মানুষের মধ্যে “ডোপামিন নির্ভরতা” তৈরি করছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের চেয়ে মোবাইলের দ্রুত উত্তেজনামূলক তথ্যের প্রতি বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া, উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং কাজের প্রতি অনীহা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে সকালে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সারাদিনের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সকালে কী করলে ভালো লাগতে পারে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট মোবাইল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়টায় যা করতে পারেন: এক গ্লাস পানি পান করুন জানালার পাশে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলো নিন হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাহাঁটি করুন ফজরের নামাজ বা মেডিটেশন করতে পারেন দিনের পরিকল্পনা মাথায় গুছিয়ে নিন পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরু শান্তভাবে হলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক স্থির থাকে। ভবিষ্যতে কেন এটি বড় সমস্যা হতে পারে বর্তমানে শিশু থেকে বড় সবাই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া ও দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে এই অভ্যাসও একটি কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন সকালে ফোন দেখা তেমন একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে সেটি মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই সকালে অন্তত কিছু সময় নিজের জন্য রাখা এখন শুধু ভালো অভ্যাস না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।





প্রযুক্তি
হাইস্পিড ইন্টারনেট পৌঁছাবে গ্রামে গ্রামে, সরকারের নতুন রোডম্যাপ

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবার জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হাতে সস্তায় স্মার্টফোন তুলে দেওয়া এবং রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রি না করে এতে বড় বিনিয়োগ আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এই সম্ভাবনার কথা জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আমরা স্মার্ট কানেক্টিভিটি গড়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল সার্ভারের নিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। টেলিটক নিয়ে অনেকের জল্পনা-কল্পনা থাকলেও মন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন যে এটি বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এনে এটি নতুন করে সাজানো হবে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে আয় বাড়াতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এআই ট্রেনিং সেন্টার করার সুখবর দিয়েছেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ বেচে টাকা আয় করা নয়, বরং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করা। সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই স্মার্টফোন কিনতে পারে, সেই চেষ্টাও চলছে। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতি বা জিডিপিতে টেলিকম খাত থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় আসা সম্ভব। এই খাতকে বিশ্বের শীর্ষ ২০-এর তালিকায় নিতে বাজেটের পরপরই ৫ বছর মেয়াদি একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হবে। গত কয়েক সপ্তাহে টেলিকম খাতের মানুষের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছে সরকার। এই খাতে কর তুলনামূলক বেশি, তাই কর কমালে এর প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। তৈরি পোশাক খাত যেমন সুবিধা পেয়ে দেশের অর্থনীতি পাল্টে দিয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেকে ইলেকট্রনিকস খাতের হাব হিসেবে গড়ে তুলতেও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানান উপদেষ্টা। সরকারের এই পরিকল্পনাগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে তা সাধারণ মানুষের জীবন ও ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে। গ্রামে বসে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও এআই প্রশিক্ষণ পেলে তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন দরজা খুলবে। অন্যদিকে স্মার্টফোন সস্তা হলে দেশের প্রান্তিক স্তরের মানুষও সহজেই ডিজিটাল সেবার আওতায় আসতে পারবে। আর সাধারণ গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা হলো ইন্টারনেটের দাম। টেলিকম খাত থেকে সরকার বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর পায়। এই করের বোঝা কমানো না হলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেটের দাম কমানো অপারেটরদের জন্য কঠিন হবে। বাজেটের পর যে ৫ বছরের রোডম্যাপ আসার কথা বলা হচ্ছে, সেটির ওপরই নির্ভর করছে এই খাতের আসল ভবিষ্যৎ। পোশাক খাতের মতো ইলেকট্রনিকস খাতে সুবিধা দেওয়ার ঘোষণাও বেকার তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের আশা জাগাচ্ছে।





ক্যারিয়ার
নিয়োগ দিচ্ছে এসিআই লিমিটেডে, স্নাতক পাসেই আবেদনের সুযোগ

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি (এসিআই) সম্প্রতি তাদের হাইজিন ব্যবসার জন্য নতুন কর্মী নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম)’ পদে দক্ষ জনবল খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্পোরেট কাস্টমার সার্ভিসে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ। আজ ১৭ মে থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত। এক নজরে এসিআই লিমিটেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রতিষ্ঠানের নাম: অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি (এসিআই) পদের নাম: এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম) - হাইজিন বিজনেস চাকরির ধরন: ফুল টাইম (বেসরকারি চাকরি) পদসংখ্যা: নির্দিষ্ট নয় কর্মস্থল: ঢাকা (এসিআই সেন্টার, তেজগাঁও শিল্প এলাকা) বেতন ও সুবিধা: আলোচনা সাপেক্ষে প্রকাশের তারিখ: ১৭ মে ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৩১ মে ২০২৬ চাকরির খবর: দিগন্ত পোস্ট জবস আবেদন করার মাধ্যম: অনলাইন শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (Bachelor/Honors) পাস প্রার্থীরাই এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দায়িত্ব ও কর্তব্য: ফোন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য মাধ্যমে গ্রাহকদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা, অভিযোগ, মতামত এবং সেবার অনুরোধগুলো পেশাদারিত্বের সাথে সামলানো। গ্রাহকের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের জন্য সেলস, ডিস্ট্রিবিউশন, কোয়ালিটি, ব্র্যান্ড এবং সাপ্লাই চেইন টিমের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় করা। সেবার মান নিশ্চিত করতে গ্রাহক, পরিবেশক এবং রিটেইলারদের কাছ থেকে নিয়মিত ফিডব্যাক নেওয়া। গ্রাহকদের মতামত ও অভিযোগ বিশ্লেষণ করে নিয়মিত রিপোর্ট তৈরি করা এবং ম্যানেজমেন্টের কাছে তা উপস্থাপন করা। সেবার মান এবং কাজের প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য গ্রাহকদের সাধারণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও শর্তাবলি: আবেদনকারী প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা এবং গ্রাহকদের সাথে সবসময় ইতিবাচক আচরণ বজায় রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে। নারী ও পুরুষ উভয়েই পদটির জন্য আবেদনের যোগ্য। নির্বাচিত প্রার্থীকে ঢাকায় এসিআই-এর হেড অফিসে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে চাকরির আবেদন করতে হবে। সরাসরি অফিসে, ডাকযোগে বা ইমেইলে পাঠানো কোনো সিভি বা কাগজপত্র কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। বিডিজবস (BDJobs) পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন যেভাবে করবেন: আগ্রহী প্রার্থীরা পদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেখতে এবং সরাসরি আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।





খেলাধুলা
অবশেষে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেল চীন

অবশেষে ২০২৬ ও ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি (CCTV)। শুক্রবার যৌথভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে সিসিটিভি ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপ শুরু হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও এতদিন চীনের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নিশ্চিত ছিলেন না তারা কোথায় ম্যাচ দেখতে পারবেন। শেষ মুহূর্তে হওয়া এই চুক্তিতে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সিসিটিভি জানিয়েছে, নতুন এই চুক্তির আওতায় ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপও সম্প্রচার করা হবে। চুক্তিতে টেলিভিশন, ইন্টারনেট এবং মোবাইল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। যদিও চীন এবার বিশ্বকাপে খেলছে না, তবুও দেশটিতে ফুটবল বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ চলাকালে ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মোট ভিউয়ের প্রায় ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল চীন থেকে। ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেছেন, “বিশ্ব ফুটবলের জন্য চীনের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” ফিফা আরও জানিয়েছে, এই চুক্তি তরুণ দর্শকদের কাছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বকাপকে আরও জনপ্রিয় করতে সহায়তা করবে। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য নিয়েও আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চুক্তির মূল্য প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি সিসিটিভি। কেউ এই চুক্তিকে বড় সাফল্য বললেও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এত বিপুল অর্থ ব্যয় কতটা যৌক্তিক। চীনের গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী রোববার সম্প্রচার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG)। এদিকে সময়ের পার্থক্যের কারণে বেইজিং ও সাংহাইয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল শুরু হবে রাত ৩টায়।  বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরগুলোর একটি। চীনের মতো বিশাল দর্শকবাজারে সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করা ফিফার জন্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তরুণ দর্শকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ফিফা চীনা বাজারকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।





বিনোদন
ফাঁস হলো মৌনী রায়ের গোপন ইচ্ছা, ১৯ বছরেই বিয়ে করতে মরিয়া ছিলেন!

বলিউড অভিনেত্রী মৌনী রায় আবারও আলোচনায়। সম্প্রতি স্বামী সূরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে তার বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই সামনে এসেছে অভিনেত্রীর এক পুরনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, মাত্র ১৯ বছর বয়স থেকেই তিনি বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, খুব অল্প বয়স থেকেই জীবনসঙ্গী নিয়ে ভীষণ আবেগপ্রবণ ছিলেন মৌনী। তার বিশ্বাস ছিল, জীবনে একজন সঠিক মানুষ থাকলে কঠিন সময়ও সহজ হয়ে যায়। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে মৌনী বলেছিলেন, বিয়ে তার কাছে শুধু সামাজিক সম্পর্ক নয়, বরং এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া, যার সঙ্গে সুখ-দুঃখ সব ভাগ করে নেওয়া যায়। তিনি মনে করতেন, একজন ভালো সঙ্গী মানসিক নিরাপত্তা ও সাহস জোগায়। মৌনীর ভাষায়, জীবনের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো একজন মানুষ থাকা খুব জরুরি। আর সেই কারণেই কৈশোর পেরোনোর পর থেকেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ সঙ্গীকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এর আগে অভিনেতা মোহিত রায়না ও পুলকিত সম্রাটের সঙ্গে মৌনীর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী সূরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। গোয়ায় অনুষ্ঠিত সেই বিয়েতে বাঙালি ও মালয়ালি দুই রীতিতেই আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠান। তবে সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদের খবর ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, দুজনেই নাকি আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি মৌনী বা সূরজ। বিনোদন জগতে সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে মৌনীর পুরনো বক্তব্য আবারও আলোচনায় এসেছে কারণ, তিনি সবসময় সম্পর্ক ও মানসিক নিরাপত্তাকে খুব গুরুত্ব দিতেন। তাই তার বিচ্ছেদের গুঞ্জন ভক্তদের মাঝেও কৌতূহল তৈরি করেছে। কারো কারো মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ অনেক সময় মানসিক চাপও তৈরি করে। আর সম্পর্কের ভাঙন নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা হলে সেটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও কাজের দিক থেকে এখনো বেশ সক্রিয় মৌনী রায়। বিভিন্ন ওয়েব সিরিজ, বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন ইভেন্টে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বেশ সক্রিয় এবং ভক্তদের সঙ্গে নিজের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন। খবরঃ আনন্দ বাজার