১৮ মে, ২০২৬
১৫ মে, ২০২৬
মতামত
ব্যাংক কার্ড থেকে মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট) টাকা আনার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে কার্ড জালিয়াতি ও ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকাতে এখন থেকে প্রথমবার কার্ড যুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি কড়া নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যখন প্রথমবার আপনার ব্যাংক কার্ডটি এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করবেন, তখন যাচাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি টোকেন লেনদেন করতে হবে। এই লেনদেন সফল হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর আপনার কার্ডটি পুরোপুরি সক্রিয় হবে এবং এরপর আপনি স্বাভাবিকভাবে যেকোনো অঙ্কের টাকা 'অ্যাড মানি' করতে পারবেন। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্তটি সাধারণ গ্রাহকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতদিন হ্যাকার বা প্রতারকেরা কোনোভাবে মানুষের কার্ডের তথ্য চুরি করতে পারলেই মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন বেনামি এমএফএস অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলত। নতুন নিয়মের কারণে এখন আর তারা সাথে সাথে বড় অঙ্কের টাকা সরাতে পারবে না এবং ২৪ ঘণ্টার এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে গ্রাহক বা ব্যাংক জালিয়াতির বিষয়টি ধরে ফেলতে পারবে। এতে প্রথমবার কার্ড যুক্ত করার সময় সাধারণ গ্রাহকদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের কষ্টার্জিত টাকার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে প্রকৃত গ্রাহকদের লেনদেন আরও সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক দারুণ একটি বিকল্পও রেখেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে যদি ব্যাংক কার্ডধারী এবং মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর নাম হুবহু মিলে যায়, তবে এই ৫০০ টাকার টোকেন লেনদেনের কোনো প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ নিজের নামের কার্ড থেকে নিজের নামের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আগের মতোই কোনো বাধা ছাড়া টাকা আনা যাবে। এছাড়া লেনদেনের স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে ‘অ্যাড মানি’ লেনদেনকে কোনো কেনাকাটা বা ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ বা তহবিল স্থানান্তর হিসেবে দেখাতে হবে। একই সঙ্গে কার্ড থেকে ঠিক কোন নম্বরে (বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর) টাকা যাচ্ছে, সেই নম্বরটি যেন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক স্পষ্টভাবে দেখতে পায়, সেটাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে ১ আগস্ট থেকে তাদের কার্ডের মাধ্যমে এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রতি সাতজন রোগীর পাঁচজনই নারী। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আক্রান্তদের ৬০ ভাগই জানেন না যে তারা এই নীরব ঘাতক রোগে ভুগছেন; তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়াতে জন্মের পরপরই শিশুদের থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২৬ ও ‘আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক ও সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, গলার সামনের দিকে থাকা ছোট প্রজাপতি আকৃতির এই থাইরয়েড গ্রন্থিটি মানুষের শরীরের ওজন, হৃদস্পন্দন ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে অনেকেই অকারণে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শীত লাগা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই অবহেলা বন্ধ্যাত্ব থেকে শুরু করে গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার মতো ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু একটু সচেতনতা আর প্রাথমিক একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগটি শনাক্ত করে সাধারণ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। বৈঠকে চিকিৎসকরা জানান, দেশে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগতভাবেই থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে বড় হচ্ছে। সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর মতোই থাইরয়েড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ধারণা করা হয়, দেশের প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন। কিন্তু নিজস্ব কোনো গবেষণার অভাবে প্রকৃত হিসাব আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী আক্ষেপ করে বলেন, থাইরয়েড শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সরকারিভাবে তেমন কোনো নির্দিষ্ট বাজেট বা কর্মসূচি নেই। তাই পরিবারে কারও থাইরয়েড থাকলে সবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন গোলটেবিল বৈঠকের পাশাপাশি নিনমাসের অডিটোরিয়ামে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ.এম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের আকস্মিক উন্নতির ফলে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে বেশ স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর একটি স্বস্তির ইঙ্গিত। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন নতুন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এর সরাসরি প্রভাব হিসেবে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬০ ডলার ৩৯ সেন্টে নেমে এসেছে। তবে স্পট গোল্ডের দাম কমলেও জুন ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম সামান্য (শূন্য দশমিক ১ শতাংশ) বেড়ে ৪ হাজার ৫৬৩ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বড় ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পরই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসার এই সিদ্ধান্ত নেয়। এই খবরের জেরে বিশ্ববাজারে শুধু স্বর্ণ নয়, জ্বালানি তেলের দামও ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও তেলের এই দরপতন বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমাদের দেশের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। সাধারণত যুদ্ধ বা সংকটের সময় মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কিনে জমিয়ে রাখে, ফলে দাম হু হু করে বাড়ে। এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কারণে স্বর্ণের দাম কমে আসছে। পাশাপাশি তেলের দাম কমায় আমদানি ব্যয় কমবে, যা সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতেও সাহায্য করবে। দেখুনঃ আমাদের দেশের সোনা রুপার সর্বশেষ দাম তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনার বাজারের ভবিষ্যৎ গতিবিধি বুঝতে বিনিয়োগকারীদের এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের এপ্রিল মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। আগামীকাল বুধবার ওই গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যেখান থেকে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে ভবিষ্যৎ নীতির পরিষ্কার ইঙ্গিত মিলতে পারে। এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও আজ বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৬৯ ডলার ৮৪ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪০১ ডলার ৭৪ সেন্টে এসে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষের জমিজমা সংক্রান্ত হয়রানি কমানো এবং ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সারা দেশে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একযোগে এই মেলা চলবে বলে জানানো হয়েছে। মূলত ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে কাজ করে তা হাতে-কলমে শেখানো এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। যুগ যুগ ধরে ভূমি অফিসে নামজারি, পর্চা বা খতিয়ান তোলার কাজ সাধারণ মানুষের কাছে এক দীর্ঘমেয়াদি আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ ও কৃষকেরা প্রায়ই দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়ে সময় ও অর্থ দুটোই হারান। সেই পুরোনো ও জটিল পরিস্থিতি থেকে মানুষকে মুক্তি দিতেই সরকার এখন পুরোপুরি ডিজিটাল বা অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে এই ভূমিসেবা মেলার আয়োজন সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে মানুষ এখন সরাসরি জানতে পারবেন কীভাবে কোনো রকম বাড়তি খরচ বা দালালের সাহায্য ছাড়াই ঘরে বসে জমির খাজনা দেওয়া বা দরকারি কাগজ তোলা যায়। এতে করে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হয়রানি অনেকটাই কমে আসবে। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ বুথ বসানো হয়েছে। সরাসরি বিভিন্ন সেবা নেওয়ার পাশাপাশি মেলায় আসা মানুষেরা ভূমি সংক্রান্ত নানা আইনি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শও বিনা মূল্যে নিতে পারবেন।
১৯ মে, ২০২৬ | দুপুর ১২:১৫
ব্যাংক কার্ড থেকে মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট) টাকা আনার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে কার্ড জালিয়াতি ও ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকাতে এখন থেকে প্রথমবার কার্ড যুক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি কড়া নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যখন প্রথমবার আপনার ব্যাংক কার্ডটি এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করবেন, তখন যাচাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি টোকেন লেনদেন করতে হবে। এই লেনদেন সফল হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর আপনার কার্ডটি পুরোপুরি সক্রিয় হবে এবং এরপর আপনি স্বাভাবিকভাবে যেকোনো অঙ্কের টাকা 'অ্যাড মানি' করতে পারবেন। আমাদের পোর্টালের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্তটি সাধারণ গ্রাহকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতদিন হ্যাকার বা প্রতারকেরা কোনোভাবে মানুষের কার্ডের তথ্য চুরি করতে পারলেই মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন বেনামি এমএফএস অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলত। নতুন নিয়মের কারণে এখন আর তারা সাথে সাথে বড় অঙ্কের টাকা সরাতে পারবে না এবং ২৪ ঘণ্টার এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে গ্রাহক বা ব্যাংক জালিয়াতির বিষয়টি ধরে ফেলতে পারবে। এতে প্রথমবার কার্ড যুক্ত করার সময় সাধারণ গ্রাহকদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের কষ্টার্জিত টাকার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে প্রকৃত গ্রাহকদের লেনদেন আরও সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক দারুণ একটি বিকল্পও রেখেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে যদি ব্যাংক কার্ডধারী এবং মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর নাম হুবহু মিলে যায়, তবে এই ৫০০ টাকার টোকেন লেনদেনের কোনো প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ নিজের নামের কার্ড থেকে নিজের নামের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আগের মতোই কোনো বাধা ছাড়া টাকা আনা যাবে। এছাড়া লেনদেনের স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে ‘অ্যাড মানি’ লেনদেনকে কোনো কেনাকাটা বা ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ বা তহবিল স্থানান্তর হিসেবে দেখাতে হবে। একই সঙ্গে কার্ড থেকে ঠিক কোন নম্বরে (বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর) টাকা যাচ্ছে, সেই নম্বরটি যেন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক স্পষ্টভাবে দেখতে পায়, সেটাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে ১ আগস্ট থেকে তাদের কার্ডের মাধ্যমে এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
২০২৬ সালের ষষ্ঠ শ্রেণি এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষের উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রির সময় বাড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ২২ মে রাত ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রি ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠাতে পারবে। রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে তথ্য এন্ট্রির শেষ সময় ছিল ১৪ মে। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধ এবং কারিগরি জটিলতার বিষয় বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো HSP-MIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড করতে পারবে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপশন বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু তথ্য এন্ট্রির সময়ই নয়, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা উপদেষ্টা কমিটির সভার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে সুপারিশকৃত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ৪ জুন পর্যন্ত HSP/PMEAT-এ পাঠাতে পারবেন। এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর মধ্যে। কারণ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সমস্যা, তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব এবং সফটওয়্যার জটিলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠাতে পারেনি। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাড়তি সময় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ উপবৃত্তির এই অর্থ অনেক পরিবারের জন্য শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেওয়ার বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে তথ্য এন্ট্রি বা কারিগরি জটিলতা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে। অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ০১৩১৬৬৫৮২৩০ এবং ০১৩১৬৬৫৮৫২৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৮ মে, ২০২৬ | সকাল ১১:৪৬
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) তাদের দলের ভেতরে বড় ধরনের রদবদল আনতে যাচ্ছে। দলের শীর্ষ কয়েকটি পদ একেবারে বাদ দিয়ে নতুন করে পুরো কাঠামো সাজানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হওয়া ইসি (নির্বাহী কমিটি) কমিটির এক দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত আসে। আমাদের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ৬১ সদস্যের ইসি কমিটির অর্ধেকের বেশি নেতা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই আলোচনা শেষে দলের বেশিরভাগ নেতাই সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর পক্ষে একমত হন। নতুন এই সিদ্ধান্তে দলের বেশ কিছু ভারী পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মুখ্য সংগঠক’, ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ ও ‘মুখপাত্র’ পদ। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের জন্য যে আলাদা ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ পদ ছিল, সেগুলোও আর থাকছে না। এর বদলে দলটি এখন চলবে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে। এই কমিটিতে থাকবেন একজন আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিব এবং সাধারণ সদস্যরা। মূলত পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত এই নেতারাই দলের হাল ধরবেন। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দল গোছাতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন। দলীয় সূত্র আরও জানায়, আজ শুক্রবার (১৫ মে) দলের সাধারণ সভায় এই প্রস্তাবগুলো তোলা হবে। সেখানে সবার সম্মতি মিললে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে বৈঠকে বেশির ভাগ নেতা পরিবর্তনের পক্ষে থাকলেও, কয়েকজন পুরনো কাঠামোই ধরে রাখার পক্ষে তাদের মতামত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি মূলত দলে কাজের গতি বাড়াতে চাইছে। অনেক সময় দলে ভারী পদ বা আলংকারিক পদ বেশি থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে জটিলতা তৈরি হয় বা নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। ‘মুখ্য সংগঠক’ বা ‘মুখপাত্র’ পদগুলো বাতিল করে সরাসরি আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মডেলে ফিরে যাওয়ার অর্থ হলো, দলের চেইন অব কমান্ড বা নির্দেশনার জায়গাটি আরও পরিষ্কার ও দ্রুত করা। এছাড়া, প্রতিটি বিভাগে নতুন করে সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, দলটি এখন কেন্দ্র থেকে মনোযোগ সরিয়ে তৃণমূল বা মাঠ পর্যায়ে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে। সামনে যদি কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচন থাকে, তবে এই নতুন কাঠামো দলকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
ইসলামি ক্যালেন্ডারে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ একটি সময়। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এই দিনগুলোর শপথ করেছেন, যা এর বিশাল মর্যাদার প্রমাণ দেয়। এই দিনগুলোতে ইবাদতের সওয়াব অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল এবং ফজিলত যা অবশ্যই আপনার পালন করা উচিৎ তা নিচে আলোচনা করা হলো। জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল ইসলামে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনকে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ সময়গুলোর একটি বলা হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন: “ফজরের শপথ এবং দশ রাতের শপথ” (সূরা আল ফজর, আয়াত ১ ও ২)। ইসলামিক স্কলারদের মতে, এই “দশ রাত” বলতে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনকে বোঝানো হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এই দিনগুলোর আমল আল্লাহর কাছে অন্য দিনের চেয়ে বেশি প্রিয়।” (সুনান আবু দাউদ)। তাই একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হিসেবে আপনার আমার উচিত জেলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল করা। সবচাইতে বেশি যে নয়টি আমল মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হয় তা হল - ১. খাঁটি মনে তাওবা করা তাওবা মানে হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। অতীতের সব পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তা চিরতরে ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আল্লাহর অবাধ্য না হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করাই হলো সত্যিকারের তাওবা। জিলহজের এই পবিত্র দিনগুলোতে তাওবা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশাল সুযোগ রয়েছে। কুরআনের আয়াত: ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ تُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ تَوۡبَةٗ نَّصُوحًا عَسَىٰ رَبُّكُمۡ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمۡ سَئَِّاتِكُمۡ وَيُدۡخِلَكُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ ﴾ অর্থ: ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা কর—বিশুদ্ধ তাওবা; সম্ভবত তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সূরা আত-তাহরীম: ৮) ২. ফরজ ও নফল সালাত গুরুত্ব দিয়ে আদায় করা এই দিনগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত ঠিকমতো আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করা উচিত। নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি কাছে যেতে পারে। হাদিসে কুদসি: «وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه، فإذا أحببته كنت سمعه الذي يسمع به، وبصره الذي يبصر به، ويده التي يبطش بها، ورجله التي يمشي بها» অর্থ: আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দা নফল ইবাদত দ্বারাই সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নিই যে, আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে এবং পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে হাঁটে।’ (সহিহ বুখারি) ৩. সিয়াম বা রোজা পালন করা জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা একটি বিশেষ আমল। বিশেষ করে এই দিনগুলোতে রোজা রাখলে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হাদিস: «ما من عبد يصوم يوماً في سبيل الله إلا باعد الله بذلك اليوم وجهه عن النار سبعين خريفاً» অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখবে, ওই একদিনের রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম) ৪. হজ ও ওমরাহ পালন করা যাদের আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য আছে, তাদের জন্য এই দিনগুলোতে হজ ও ওমরাহ পালন করা শ্রেষ্ঠ ইবাদত। হাদিস: «العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما، والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجـنة» অর্থ: ‘এক ওমরাহ থেকে অন্য ওমরাহ হলো মধ্যবর্তী পাপসমূহের কাফফারা। আর কবুল হজের একমাত্র পুরস্কার হলো জান্নাত।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) ৫. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা জিলহজের প্রথম দশ দিনে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই সময়ে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ পড়া সবচেয়ে উত্তম। কুরআনের আয়াত: ﴿ وَيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡلُومَٰتٍ ﴾ অর্থ: ‘...এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তারা যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ (সূরা আল-হজ: ২৮) > হাদিস: «ما من أيام أعظم عند الله ولا أحب إليه من العمل فيهن من هذه العشر، فأكثروا فيهن من التهليل والتكبير والتحميد» অর্থ: নবী (সা.) বলেন, ‘এ দশ দিনে আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ও মহান আর কোনো আমল নেই। তাই তোমরা এই সময়ে বেশি করে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ আদায় করো।’ (মুসনাদে আহমাদ) ৬. তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ পাঠ করা এই দিনগুলোতে সশব্দে তাকবির পাঠ করা সুন্নত। সাহাবিরা এই সময়ে বাজারে গিয়ে সশব্দে তাকবির পাঠ করতেন। তাকবিরটি হলো: আরবি তাকবির: اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَاإِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।) ৭. আরাফার দিন রোজা রাখা যারা হজে যাননি, তাদের জন্য ৯ জিলহজ বা আরাফার দিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতের। হাদিস: «احتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده» অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এই রোজাটি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম) ৮. কুরবানির দিনের বিশেষ মর্যাদা জিলহজের ১০ তারিখকে ‘ইয়াওমুন নাহার’ বা শ্রেষ্ঠ হজের দিন বলা হয়। হাদিস: «إن أعظم الأيام عند الله تبارك وتعالى: يوم النحر ثم يوم القر» অর্থ: ‘আল্লাহর নিকট দিবসসমূহের মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হলো কুরবানির দিন, তারপর পরবর্তী দিনগুলো।’ (সুনানে আবু দাউদ) ৯. কুরবানি করা ঈদুল আজহার দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু জবেহ করাই হলো কুরবানি। সামর্থ্যবানদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কুরআনের আয়াত: ﴿ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ﴾ অর্থ: ‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও কুরবানি করো।’ (সূরা আল-কাওসার: ২) হাদিস: «من ذبح بعد الصلاة، فقد تم نسكه، وأصاب سنة المسلمين» অর্থ: ‘যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের পর কুরবানির পশু জবেহ করল, তার কুরবানি পরিপূর্ণ হলো এবং সে মুসলিমদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করল।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল আমাদের জন্য আল্লাহর অফুরন্ত রহমত ও ক্ষমা লাভের এক দারুণ সুযোগ। তাই দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নেক আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা আমাদের সবার একান্ত কর্তব্য।
দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রতি সাতজন রোগীর পাঁচজনই নারী। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আক্রান্তদের ৬০ ভাগই জানেন না যে তারা এই নীরব ঘাতক রোগে ভুগছেন; তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়াতে জন্মের পরপরই শিশুদের থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২৬ ও ‘আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক ও সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, গলার সামনের দিকে থাকা ছোট প্রজাপতি আকৃতির এই থাইরয়েড গ্রন্থিটি মানুষের শরীরের ওজন, হৃদস্পন্দন ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে অনেকেই অকারণে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শীত লাগা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই অবহেলা বন্ধ্যাত্ব থেকে শুরু করে গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করার মতো ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু একটু সচেতনতা আর প্রাথমিক একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগটি শনাক্ত করে সাধারণ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। বৈঠকে চিকিৎসকরা জানান, দেশে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগতভাবেই থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে বড় হচ্ছে। সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর মতোই থাইরয়েড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ধারণা করা হয়, দেশের প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন। কিন্তু নিজস্ব কোনো গবেষণার অভাবে প্রকৃত হিসাব আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী আক্ষেপ করে বলেন, থাইরয়েড শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সরকারিভাবে তেমন কোনো নির্দিষ্ট বাজেট বা কর্মসূচি নেই। তাই পরিবারে কারও থাইরয়েড থাকলে সবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন গোলটেবিল বৈঠকের পাশাপাশি নিনমাসের অডিটোরিয়ামে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ.এম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।
বহু বছর চেষ্টা করেও সন্তান নিতে না পারা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার খবর এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা আগে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারছে। ফলে যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের জৈবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েলের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ আড়াই বছরের সংগ্রাম, হতাশা এবং একের পর এক চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তারা জানতে পারেন - পেনেলোপ অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকেরা আগে জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম রয়েছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষদের শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অনেকের শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের শারীরিক জটিলতা ভূমিকা রাখে। আর অ্যাজোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নমুনায় শুক্রাণু থাকলেও সেটি এত কম যে সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই জায়গাতেই কাজ করছে নতুন প্রযুক্তি ‘স্টার সিস্টেম’ বা স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করছে। গবেষকদের ভাষ্য, পুরো নমুনার মধ্যে হয়তো একটি মাত্র শুক্রাণু আছে, যা মানুষের চোখে বা সাধারণ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এআই প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে সেই বিরল শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারছে। স্টার সিস্টেমে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়। এই চিপের ক্ষুদ্র চ্যানেলের মধ্য দিয়ে নমুনা প্রবাহিত হয় এবং শক্তিশালী ইমেজিং প্রযুক্তি তা স্ক্যান করে। এরপর এআই অ্যালগরিদম শুক্রাণুর অবস্থান নির্ধারণ করে এবং রোবোটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে ফেলে। চিকিৎসক জেভ উইলিয়ামস জানান, প্রযুক্তিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, যেসব রোগীকে আগে বলা হয়েছিল তাদের নিজের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্যামুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার শরীরে বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে স্টার সিস্টেম সেই নমুনা থেকে আটটি শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে একটি সফলভাবে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং এখন পেনেলোপের গর্ভে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তান। গবেষকেরা বলছেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা দরকার। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আরও কাজ প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ভবিষ্যতে শুধু শুক্রাণু শনাক্ত নয়, আইভিএফ চিকিৎসার আরও বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিম্বাণু নির্বাচন, ভ্রূণের গুণগত মান যাচাই এবং হরমোনের সঠিক ডোজ নির্ধারণেও মেশিন লার্নিং ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে। কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখো দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন এই প্রযুক্তি তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুরুষকে একসময় “শুক্রাণুহীন” বলা হতো, তাদের ক্ষেত্রেও এখন চিকিৎসকেরা নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পুরো ধারণাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবরঃ বিবিসি বাংলা
রাজধানীতে আবারও ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে দক্ষিণ বনশ্রীর এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। কাগজপত্র হালনাগাদের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পর মুহূর্তেই ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর নাম সুধন চন্দ্র বর্মন। মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি রাজধানীর খিলগাঁও থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় থাকা অবস্থায় একটি নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র হালনাগাদের জন্য কিছু তথ্য প্রয়োজন বলে জানান। ফোনদাতার কথায় বিশ্বাস করে সুধন চন্দ্র নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও জন্মতারিখ জানান। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি নম্বরে ‘অ্যাড মানি’র মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৭ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া কথিত ব্যাংক কর্মকর্তার দেওয়া আরেকটি নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করছেন খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে টাকা উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিংকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের গোপন তথ্য, ওটিপি বা জন্মতারিখ জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ফোন কল এলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
রাজশাহীর কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছের শাখা-প্রশাখা কাটার কাজের জন্য এই সাময়িক বন্ধ রাখা হচ্ছে। রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫ এর আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ সময় বনগ্রাম ফিডারের মোহনপুর আইসোলেটর থেকে শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত কিসমত কুখন্ডি, কুখন্ডি, সোনারপাড়া ও বামনশিখড় (মা ভাটা) এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। নেসকো জানিয়েছে, ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের খুব কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা কেটে ফেলার কাজ করা হবে। ঈদের সময় যেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট কম হয় এবং ঝুঁকি এড়ানো যায়, সেজন্য আগেভাগেই এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে সকাল থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো।
অনেকেই মনে করেন বর্ষাকাল মানেই ঘরে বসে থাকার সময়, কিন্তু সত্যিকারের ভ্রমণপিপাসুরা জানেন বর্ষায় প্রকৃতি যেন একেবারে নতুন রূপে সেজে ওঠে! ধুলোবালিহীন সতেজ সবুজ গাছপালা, পাহাড়ে মেঘের লুকোচুরি আর যৌবন ফিরে পাওয়া ঝর্ণাগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বর্ষার চেয়ে আদর্শ সময় আর নেই। আপনি যদি এই মেঘ-বৃষ্টির মৌসুমে যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে চান, তবে দেশের ভেতরের এই ৫টি চমৎকার জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন। ১. সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর (জলের ওপর ভাসমান জীবন) বর্ষাকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। চারদিকে থৈ থৈ পানি, মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা নীল জলের ঢেউ আর হাউসবোটে রাত কাটানোর রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর বর্ষায় এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। বৃষ্টিতে হাওরের বুকে নৌকায় ভেসে থাকা এবং হাওরের তাজা মাছ খাওয়ার অভিজ্ঞতা আপনার সারা জীবন মনে থাকবে। ২. সিলেটের রাতারগুল ও বিছানাকান্দি (সবুজ আর পাথরের মিতালি) সিলেটের রাতারগুল হলো দেশের একমাত্র মিঠা পানির সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাবন। বর্ষায় এই বনের গাছগুলো অর্ধেক পানিতে ডুবে থাকে, আর এর মধ্য দিয়ে ছোট নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি আমাজনের গহিন অরণ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। এর পাশেই রয়েছে বিছানাকান্দি। বর্ষায় মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার পানিতে বিছানাকান্দির পাথরগুলো স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, যা পর্যটকদের ভীষণ আকর্ষণ করে। ৩. রাঙামাটির কাপ্তাই লেক ও শুভলং ঝর্ণা (পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা জলধারা) পাহাড়ের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে বর্ষায় রাঙামাটি ভ্রমণের বিকল্প নেই। কাপ্তাই লেকের বিশাল নীল জলরাশি এই সময়ে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। লেকে নৌভ্রমণের পাশাপাশি এই সময়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো 'শুভলং ঝর্ণা'। সারা বছর এই ঝর্ণায় পানি কম থাকলেও, বর্ষায় এটি তার রুদ্ররোষে ফিরে আসে। পাহাড়ের অনেক উঁচু থেকে আছড়ে পড়া শুভলংয়ের বিশাল জলধারা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। ৪. বান্দরবানের নীলাচল ও সাজেক ভ্যালি (মেঘ ছোঁয়ার অদ্ভুত অনুভূতি) আপনি যদি মেঘের সাথে আড্ডা দিতে চান, তবে বর্ষায় বান্দরবান বা রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে ছুটে যেতে পারেন। বৃষ্টি ধোয়া বান্দরবানের নীলাচল, মেঘলা কিংবা চিম্বুক পাহাড়ে দাঁড়ালে মনে হবে মেঘেরা আপনার পায়ের কাছে এসে লুটোপুটি খাচ্ছে। আর সাজেক ভ্যালিতে বর্ষার সকালে চারদিক এমনভাবে সাদা মেঘে ঢেকে থাকে যে, নিজেকে মনে হবে মেঘের দেশের কোনো বাসিন্দা। ৫. শ্রীমঙ্গলের চা বাগান (বৃষ্টিভেজা স্নিগ্ধতা) সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। যারা পাহাড়ি দুর্গম পথ বা জলপথে না গিয়ে একটু শান্ত পরিবেশে বর্ষা উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য শ্রীমঙ্গল সেরা। বৃষ্টিভেজা চা বাগানের সবুজ রূপ চোখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। বৃষ্টির দিনে এখানকার বিখ্যাত সাত রঙের চা আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গহিন অরণ্যে হেঁটে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা আপনাকে দারুণ এক সতেজতা দেবে। বর্ষায় ভ্রমণের জন্য বিশেষ সতর্কতা: পাহাড় বা জলপথে ভ্রমণের সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখবেন। এছাড়া বর্ষায় পাহাড়ে ধস নামার ঝুঁকি থাকে, তাই দুর্গম পাহাড়ি পথে ভ্রমণের আগে স্থানীয় আবহাওয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ছাতা, রেইনকোট এবং ফার্স্ট এইড বক্স অবশ্যই ব্যাগে রাখবেন।
অনেক মানুষের দিনের শুরুটাই হয় মোবাইল হাতে নিয়ে। চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ফেসবুক দেখেন, কেউ মেসেজ চেক করেন, আবার কেউ নিউজ ফিড স্ক্রল করতে থাকেন। বিষয়টি এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা মস্তিষ্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসায়েন্স গবেষকদের মতে, সকালে ঘুম ভাঙার পরের প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময় অতিরিক্ত তথ্য, নোটিফিকেশন বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করতে পারে। সকালে উঠেই মোবাইল দেখলে মস্তিষ্কে কী ঘটে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে “স্লিপ মোড” থেকে সচল অবস্থায় আসে। কিন্তু হঠাৎ মোবাইলের আলো, শব্দ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য মস্তিষ্ককে এক ধরনের তাত্ক্ষণিক স্ট্রেসে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কাজের মেসেজ দেখলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সকাল থেকেই অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খারাপ খবর, অফিসের চাপ বা অন্যের জীবনযাপন দেখতে শুরু করেন, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি মানসিক ক্লান্তি দেখা যায়। চোখ ও মন দুটোর ওপরই পড়ে প্রভাব চোখ খোলার পরপরই মোবাইলের উজ্জ্বল আলো চোখের ওপরও চাপ তৈরি করে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার সমস্যাও বাড়তে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা অনেক মানুষের মধ্যে “ডোপামিন নির্ভরতা” তৈরি করছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের চেয়ে মোবাইলের দ্রুত উত্তেজনামূলক তথ্যের প্রতি বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া, উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং কাজের প্রতি অনীহা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে সকালে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সারাদিনের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সকালে কী করলে ভালো লাগতে পারে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট মোবাইল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়টায় যা করতে পারেন: এক গ্লাস পানি পান করুন জানালার পাশে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলো নিন হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাহাঁটি করুন ফজরের নামাজ বা মেডিটেশন করতে পারেন দিনের পরিকল্পনা মাথায় গুছিয়ে নিন পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরু শান্তভাবে হলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক স্থির থাকে। ভবিষ্যতে কেন এটি বড় সমস্যা হতে পারে বর্তমানে শিশু থেকে বড় সবাই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া ও দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে এই অভ্যাসও একটি কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন সকালে ফোন দেখা তেমন একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে সেটি মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই সকালে অন্তত কিছু সময় নিজের জন্য রাখা এখন শুধু ভালো অভ্যাস না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে আরও একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এলো ওপেনএআই। গত শুক্রবার চ্যাটজিপিটিতে ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’ বা ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার নতুন একটি প্রিভিউ ফিচার উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রো-সাবস্ক্রাইবার বা প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হওয়া এই ফিচারের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি সরাসরি ব্যবহারকারীর বিভিন্ন আর্থিক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীর আর্থিক অবস্থার সঠিক প্রেক্ষাপট বুঝে ব্যক্তিগত অর্থ-সংক্রান্ত যেকোনো জটিল প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিতে সক্ষম হবে। নতুন এই ফিচারের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ইন-বিল্ট ড্যাশবোর্ড। এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন খরচ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং মর্টগেজের হিসাব খুব সহজেই ভিজ্যুয়াল বা গ্রাফিক্যাল আকারে এক নজরে দেখতে পারবেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই ফিচার চালুর মূল কারণ হলো ইতিমধ্যেই ২০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী বাজেট তৈরি, বিনিয়োগের পরামর্শ এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। তাই বাস্তব জীবনের ব্যবহারিক দিকগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্য ব্যবহারকারীর জন্য এটি চালু করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রো-সাবস্ক্রাইবারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক এই এআই জায়ান্টটি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ফিচার ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। এই আপডেটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রাসঙ্গিকতা বোঝার ক্ষমতা। আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ব্যবহারকারীকে এখন আর বারবার তার আয়-ব্যয়ের হিসাব টাইপ করে বোঝাতে হবে না; চ্যাটজিপিটি নিজ থেকেই ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা বা কাস্টমাইজড উত্তর তৈরি করে দেবে। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিরাপদে যুক্ত করতে চ্যাটজিপিটি এখন ওয়েব এবং আইওএস (iOS) প্ল্যাটফর্মে ১২ হাজারেরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন যুক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে 'প্লাড' (Plaid)-এর মাধ্যমে এই সুরক্ষিত লিংকিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এতে 'ইনটুইট' (Intuit)-এর সমর্থনও যুক্ত করা হবে। যোগ্য ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সাইডবার থেকে "Finances" নির্বাচন করে "Get started"-এ ক্লিক করে অথবা যেকোনো চ্যাট সেশনে "@Finances, connect my accounts" লিখে সহজেই তাদের অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট সেটআপ করার পর আর্থিক ড্যাশবোর্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে, যেখানে রিয়েল-টাইমে খরচ, আসন্ন পেমেন্ট, বিনিয়োগ পোর্টফোলিও এবং বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনের বিস্তারিত দেখা যাবে। হিসাব রাখার পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই, আনুমানিক ট্যাক্স বা করের হিসাব বের করা এবং ইনটুইট-এর সাহায্যে স্থানীয় কর বিশেষজ্ঞের সাথে সেশন নির্ধারণ করার মতো কাজগুলোও এখন অনায়াসেই করা যাবে। তথ্য সুরক্ষা এবং গোপনীয়তার বিষয়ে ওপেনএআই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় তাদের আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলো চ্যাটজিপিটি থেকে বিচ্ছিন্ন (Disconnect) করতে পারবেন। ওপেনএআই নিশ্চিত করেছে যে, অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করার ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে সিঙ্ক হওয়া সব ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে। এছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের চ্যাট হিস্ট্রি থেকে নির্দিষ্ট আর্থিক তথ্য বা চ্যাটজিপিটির 'ফাইন্যান্সিয়াল মেমোরি'ও মুছে ফেলতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্ত করা আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে চ্যাটজিপিটির এই সম্পূর্ণ কথোপকথন এবং বিশ্লেষণ পরিচালিত হবে অত্যাধুনিক 'জিপিটি-৫.৫ থিংকিং' (GPT-5.5 Thinking) মডেলের মাধ্যমে, যা দেবে সর্বোচ্চ স্তরের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা 'কাতার চ্যারিটি' বাংলাদেশে তাদের বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ দেখাশোনার জন্য নতুন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। 'প্রজেক্ট অফিসার (সাইট ইঞ্জিনিয়ার)' পদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তিভিত্তিক এই চাকরিতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এক নজরে কাতার চ্যারিটিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রতিষ্ঠানের নাম: কাতার চ্যারিটি (Qatar Charity) পদের নাম: প্রজেক্ট অফিসার (সাইট ইঞ্জিনিয়ার) চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক (প্রাথমিকভাবে ৬ মাস, কাজের ওপর ভিত্তি করে মেয়াদ বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে) কর্মস্থল: ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ প্রকাশের তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৩১ মে ২০২৬ চাকরির খবর: দিগন্ত পোস্ট জবস আবেদন করার মাধ্যম: অনলাইন পদের বিবরণ: ১. পদের নাম: প্রজেক্ট অফিসার (সাইট ইঞ্জিনিয়ার) পদসংখ্যা: নির্দিষ্ট নয় (অনির্ধারিত) বেতন স্কেল: আলোচনা সাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: আবেদনকারীদের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি (BSc) বা ডিপ্লোমা পাস হতে হবে। ডেভেলপমেন্ট বা হিউম্যানিটারিয়ান (মানবিক) প্রজেক্টে কমপক্ষে ৪ বছর কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এনজিওতে (INGO) একাধিক প্রজেক্ট একসাথে সামলানো এবং টিম সুপারভাইজ করার অন্তত ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের অনলাইনে বিডিজবস (BDJobs) পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কাতার চ্যারিটি সকল তথ্য কঠোর গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষণ করবে। সিভি বা অন্য কোনো কাগজপত্র সরাসরি কিংবা ইমেইলে পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। আবেদন ফি: কাতার চ্যারিটি একটি সমান সুযোগ প্রদানকারী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান (Equal opportunity employer)। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো পর্যায়েই কোনো ধরনের ফি, অর্থ বা তদবিরের প্রয়োজন নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। শর্তাবলি ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা: প্রার্থীরা যে বিভাগের স্থায়ী বাসিন্দা, সেই বিভাগে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা বা রাজশাহী) আবেদনের ক্ষেত্রে তারা বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। নারী ও পুরুষ উভয়েই এই পদের জন্য আবেদনের যোগ্য। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীকে যত দ্রুত সম্ভব (ASAP) চাকরিতে যোগদান করতে হবে। নির্মাণকাজের সাইট পরিদর্শন, ড্রয়িং (Drawings), কাজের ব্যয়ের হিসাব (BOQ) প্রস্তুত, মনিটরিং এবং কাজের মান যাচাই করার দক্ষতা থাকতে হবে। ইংরেজিতে চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা (লেখা এবং বলা) থাকতে হবে। কম্পিউটারে এমএস অফিস প্যাকেজ (ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট) এবং অটোক্যাড (AUTOCAD) ব্যবহারে পারদর্শী হওয়া বাধ্যতামূলক। স্থানীয় প্রশাসন (যেমন: ইউএনও অফিস), স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অফিস, অন্যান্য এনজিও এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। আবেদন যেভাবে করবেন: যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে খুব সহজেই আবেদন করতে পারবেন। পদের বিস্তারিত দায়িত্ব দেখতে এবং সরাসরি আপনার সিভি সাবমিট করতে এখানে ক্লিক করুন ।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়ে আনন্দে রীতিমতো কেঁদে ফেলেছেন সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে প্রেমিকা ব্রুনা বিয়ানকার্দিকে জড়িয়ে তার কান্নায় ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। ২০২৩ সালে মন্তেভিদিওতে ব্রাজিলের হয়ে সবশেষ মাঠে নেমেছিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এরপর গুরুতর চোটের কারণে লম্বা সময় তাকে মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের বয়স আর ফিটনেস বিবেচনায় এটাই হয়তো তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। তাই চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে তাকে নিয়ে ভক্তদের মনে বেশ দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু সব শঙ্কা দূর করে দলে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ায় উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থক। অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন প্রিয় তারকাকে ফের বিশ্বমঞ্চে দেখার আশায়। দলে সুযোগ পাওয়ার খবর শোনার পর বন্ধু-বান্ধবরা যখন উল্লাস করছিলেন, তখন নেইমার নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ চোটের দুঃস্বপ্ন আর মাঠের বাইরে থাকার মানসিক যন্ত্রণা পেরিয়ে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে ফেরার আনন্দে প্রেমিকা ব্রুনাকে জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। দুই হাতে মুখ ঢেকে রাখা সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি নেইমার নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন, যা মুহূর্তেই লুফে নেন নেটিজেনরা। ভিডিওটির ক্যাপশনে নেইমার লিখেছেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তেজনাকর এবং আনন্দের দিনের একটি দৃশ্য আমার ইউটিউব চ্যানেলে দিলাম। ধন্যবাদ, ব্রাজিল।’ ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, নেইমারের এই ফেরা শুধু তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের জন্যও এক বিশাল আবেগের ব্যাপার। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকায় তার ফেরা নিয়ে অনেক সমালোচনা ও সংশয় ছিল। কিন্তু ব্রাজিলের মতো দলে তার এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে, দলের আক্রমণভাগে এখনো তার অভিজ্ঞতা ও জাদুকরী স্কিলের ওপরই কোচ সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছেন। তাছাড়া ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে বিশ্বকাপ শিরোপার আক্ষেপ ঘোচানোর এটাই তার শেষ সুযোগ, যা সাধারণ দর্শকদের কাছে এবারের আসরকে আরও রোমাঞ্চকর ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি মজার ডায়লগ ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। তবে যে ভিডিওটি ঘিরে চারদিকে এত আলোচনা, তার মূল চরিত্র কিন্তু বাস্তবের কোনো কবিরাজ বা গণক নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা। সম্প্রতি ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে ঢুকলেই একটি ভিডিও সবার চোখের সামনে আসছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পাশে বসে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। আর কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি বাক্যের শেষেই তিনি বিশেষ এক ভঙ্গিতে বলে উঠছেন ‘রাগ করলা?’। তার এই বলার ধরন, চোখের ইশারা ও সাবলীল অভিনয় এতই নিখুঁত ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে মিম, ট্রল ও মজার মজার রিলস তৈরি করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই ভেবেছিলেন, ভাইরাল হওয়া এই ব্যক্তি হয়তো বাস্তবেই কোনো রাস্তার জ্যোতিষী বা কবিরাজ। তবে আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে আসেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ঝোঁক ছিল, যা বর্তমানে তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এখন তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে নিয়মিত অভিনয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্যই কবিরাজের এই চরিত্রটি এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ঈমান আলী। ডিজিটাল মাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সহজে অনুকরণযোগ্য এবং হাস্যরসাত্মক ছোট ছোট সংলাপগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে, তাই এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনাটি আমাদের একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা দেখি, তার সবকিছু বাস্তব নয়; নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে কীভাবে খুব সহজেই মানুষকে বিনোদিত করা যায় বা কখনো কখনো বাস্তব বলে বিভ্রমে ফেলা যায়, ঈমান আলীর এই ভাইরাল ভিডিওটি তারই একটি বড় প্রমাণ। নিজের এই হঠাৎ জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী। তিনি পরিষ্কার করেই জানান, তিনি মোটেও কোনো পেশাদার কবিরাজ নন। তিনি বলেন, “অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে শুধু ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পুরোটাই ছিল অভিনয়, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, নিছক বিনোদনের এই ছোট সংলাপটিই এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং সবার মাঝে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .