মতামত

জাতীয়
স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না: সিইসি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার থাকছে না কোনো দলীয় প্রতীক। দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও, তৃণমূলের এই ভোটে সংঘাত ও রক্তপাত এড়াতে নির্বাচন কমিশন এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)’-এর নতুন কমিটির দায়িত্বগ্রহণ ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হলেও রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছে। আর এই বিষয়টিই মাঠপর্যায়ে নির্বাচনকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হতে পারে। কারণ, বিগত কয়েক বছরে গ্রামে-গঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মার্কার কারণে একই এলাকার মানুষ, এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও তীব্র বিভেদ ও হানাহানি দেখা গেছে। মার্কা তুলে দেওয়ার ফলে প্রার্থীরা এখন দলের চেয়ে নিজেদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে ভোট চাইবেন, যা তৃণমূলের রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। এতে সাধারণ ভোটাররাও দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিইসি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি রক্তপাতহীন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করা দরকার। শুধু সামনের একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচন যেন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, সেটাই বর্তমান কমিশনের মূল লক্ষ্য। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু নির্বাচন কমিশনের একার চেষ্টাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সিইসি নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক এবং সাধারণ ভোটারসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলেই কেবল একটি সফল নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। এই লক্ষ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এবার দেশজুড়ে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

১৮ মে, ২০২৬ | বিকেল ৪:৩২






রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে ৫টি বিপদ আসে

এখন অনেক মানুষই রাতে দেরি করে খাবার খান। কেউ অফিস থেকে দেরিতে ফেরেন, কেউ আবার রাত জেগে মোবাইল দেখেন বা কাজ করেন। ফলে রাত ১১টা কিংবা তারও পরে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু ডাক্তারদের মতে, প্রতিদিন দেরি করে রাতের খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো না। আমাদের শরীরেরও একটা নির্দিষ্ট রুটিন আছে। রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন বেশি দেরি করে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে কি হয়?  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং রাত জাগার অভ্যাস স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণায়ও দেখা গেছে, গভীর রাতে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কারণ রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ার ওপর চাপ পড়ে। মূলত রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে সমস্ত পরিবর্তন হতে পারে তা হলো-  ১. গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে রাতে দেরি করে খাওয়ার পর অনেকেই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে খাবার ঠিকভাবে হজম হতে চায় না। পাকস্থলীর গ্যাস বা টক পানি উপরের দিকে উঠে এসে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। ঢাকার অনেক চিকিৎসক বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২ ঘণ্টা জেগে থাকা ভালো। ২. শরীর মোটা হতে পারে রাতে শরীরের নড়াচড়া কম থাকে। তখন বেশি খেলে সেই খাবার সহজে চর্বি হয়ে জমে যেতে পারে। বিশেষ করে বিরিয়ানি, ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া বা বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার রাতে দেরি করে খেলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। ৩. ঘুম ভালো নাও হতে পারে অনেকে ভাবেন পেট ভরে খেলেই ভালো ঘুম হবে। কিন্তু অনেক সময় উল্টোটা হয়। রাতে বেশি বা ভারী খাবার খেলে শরীর খাবার হজম করতেই ব্যস্ত থাকে। ফলে গভীর ঘুম আসে না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ক্লান্ত লাগার সমস্যাও হতে পারে। ৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে ডাক্তাররা বলছেন, প্রতিদিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের চিনির ভারসাম্যে সমস্যা করতে পারে। বিশেষ করে যারা রাত জাগেন এবং অনিয়ম করে খান, তাদের ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ৫. হার্টের ওপর চাপ পড়তে পারে দেরি করে খেলে শরীরে চর্বি বাড়ে, ওজন বাড়ে এবং অনেক সময় রক্তচাপও বেড়ে যেতে পারে। এসব কারণে ধীরে ধীরে হার্টের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তাই শুধু কম খাওয়াই না, সঠিক সময়েও খাওয়া জরুরি। রাতে খাবার খাওয়ার ভালো সময় কখন ডাক্তারদের মতে, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া ভালো। যদি রাত ১১টায় ঘুমান, তাহলে চেষ্টা করুন রাত ৮টার মধ্যে খাওয়া শেষ করতে। রাতে সুস্থ থাকতে যা করতে পারেন ১ - রাতে খুব বেশি ভাজাপোড়া খাবার খাবেন না, ২- খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না, ৩- রাতে কম মোবাইল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, ৪- খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, ৫ - রাতে বেশি কোমল পানীয় বা কফি না খাওয়াই ভালো অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করছে। রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাসও তেমন একটি বিষয়। তাই সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছেন না, কখন খাচ্ছেন সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, আবারো বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে চরম অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায়, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে লাফিয়ে বেড়েছে, যা টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক নতুন অশনিসংকেত। বাজারের পরিসংখ্যান বলছে, সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ১১১ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এই দাম ১১২ ডলার পর্যন্ত ছুঁয়েছিল, যা গত ৫ মের পর সর্বোচ্চ। একই চিত্র দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ক্ষেত্রেও। সেখানে দাম ২ দশমিক ৩১ ডলার বেড়ে ১০৭ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণেই গত এক সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন মধ্যপ্রাচ্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হয়তো কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা হতে পারে, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও জব্দের মতো ঘটনাগুলো কমে আসবে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই আশার আলো অনেকটাই নিভিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আমিরাত সরকার জানিয়েছে, তাদের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উৎস নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এটিকে তারা একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবেই বিবেচনা করছে। দেশটি এর কড়া জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে আসা তিনটি ড্রোন তারা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এমন যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রিয়াদ। আইজি মার্কেটসের বিশিষ্ট বিশ্লেষক টনি সাইক্যামোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলাগুলো একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ, আত্মরক্ষার জবাবে ইরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো পুরো অঞ্চলে প্রক্সি হামলা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা জ্বালানি সরবরাহকে সরাসরি ব্যাহত করবে। এরই মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই খবর প্রকাশের পরপরই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে ভাবিয়ে তুলেছে রাশিয়ার তেল রপ্তানি নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন অনিশ্চয়তাও। ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় যে বিশেষ অব্যাহতি দিয়ে আসছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। ফলে ভারতসহ যেসব দেশ এতদিন বিশেষ সুবিধায় রুশ তেল আমদানি করছিল, তাদের জ্বালানি নিরাপত্তাও এখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক এই সংকট নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রেস্টিজ ইকোনমিকসের জেসন শেঙ্কার এক গুরুতর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি এক ভয়াবহ চাপ তৈরি হবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হবে। আর এই পুরো পরিস্থিতির সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাবটি পড়বে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের ওপর, যার প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ।

আন্তর্জাতিক
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

আপনার জন্য






জাতীয়
স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না: সিইসি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার থাকছে না কোনো দলীয় প্রতীক। দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও, তৃণমূলের এই ভোটে সংঘাত ও রক্তপাত এড়াতে নির্বাচন কমিশন এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)’-এর নতুন কমিটির দায়িত্বগ্রহণ ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হলেও রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছে। আর এই বিষয়টিই মাঠপর্যায়ে নির্বাচনকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হতে পারে। কারণ, বিগত কয়েক বছরে গ্রামে-গঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মার্কার কারণে একই এলাকার মানুষ, এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও তীব্র বিভেদ ও হানাহানি দেখা গেছে। মার্কা তুলে দেওয়ার ফলে প্রার্থীরা এখন দলের চেয়ে নিজেদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে ভোট চাইবেন, যা তৃণমূলের রাজনীতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। এতে সাধারণ ভোটাররাও দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিইসি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি রক্তপাতহীন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করা দরকার। শুধু সামনের একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচন যেন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, সেটাই বর্তমান কমিশনের মূল লক্ষ্য। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু নির্বাচন কমিশনের একার চেষ্টাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সিইসি নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক এবং সাধারণ ভোটারসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলেই কেবল একটি সফল নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। এই লক্ষ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এবার দেশজুড়ে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

১৮ মে, ২০২৬ | বিকেল ৪:৩২

অর্থনীতি ও বাণিজ্য
কোরবানির আগেই আদা-রসুনের দাম ঊর্ধ্বমুখী, কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা

সামনেই পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। মাংস রান্নার জন্য এই সময়ে মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা থাকে বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। আর এই বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে প্রতিবারের মতোই কোরবানির আগে অস্থির হতে শুরু করেছে ঢাকার মসলার বাজার। পেঁয়াজের দাম বাড়ার খবরের পরপরই এবার উত্তাপ ছড়িয়েছে আদা, রসুন, শুকনা মরিচ থেকে শুরু করে জিরা ও এলাচের বাজারে। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা এবং মহাখালী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি মসলা জাতীয় পণ্যই গত সপ্তাহের তুলনায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর রবিবারের (১৭ মে) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করেও বাজার দরের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সত্যতা পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি দেখা গেছে রসুন ও আদার দামে। টিসিবি’র তথ্য ও খুচরা বাজারের চিত্র বলছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি ও আমদানি করা উভয় ধরনের রসুনের দামই বেশ খানিকটা বেড়েছে। আজ বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও সর্বনিম্ন ৬০ টাকায় পাওয়া যেত। একইভাবে আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকার মতো বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২২০ টাকায়। রসুনের পাশাপাশি আমদানি করা আদার দামও কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ১৫০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে (গত সপ্তাহে যা ছিল ১২০-২০০ টাকা)। রামপুরা ও মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা এই দাম বৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো মসলার দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার খিলগাঁও, শ্যামবাজার বা কারওয়ান বাজার থেকেই তাদের বাড়তি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে ডলারের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি খরচের অজুহাত দেখিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই দাম বাড়াচ্ছেন বলে দাবি খুচরা বিক্রেতাদের

শিক্ষা
ষষ্ঠ শ্রেণি ও একাদশের উপবৃত্তি আবেদন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, বাড়লো সময়সীমা

২০২৬ সালের ষষ্ঠ শ্রেণি এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষের উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রির সময় বাড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ২২ মে রাত ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রি ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠাতে পারবে। রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে তথ্য এন্ট্রির শেষ সময় ছিল ১৪ মে। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধ এবং কারিগরি জটিলতার বিষয় বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো HSP-MIS সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড করতে পারবে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপশন বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু তথ্য এন্ট্রির সময়ই নয়, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা উপদেষ্টা কমিটির সভার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে সুপারিশকৃত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ৪ জুন পর্যন্ত HSP/PMEAT-এ পাঠাতে পারবেন। এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর মধ্যে। কারণ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সমস্যা, তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব এবং সফটওয়্যার জটিলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠাতে পারেনি। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাড়তি সময় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ উপবৃত্তির এই অর্থ অনেক পরিবারের জন্য শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেওয়ার বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে তথ্য এন্ট্রি বা কারিগরি জটিলতা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে। অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ০১৩১৬৬৫৮২৩০ এবং ০১৩১৬৬৫৮৫২৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

১৮ মে, ২০২৬ | সকাল ১১:৪৬

রাজনীতি
ncp
এনসিপিতে বড় রদবদল: বাদ পড়ছে মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) তাদের দলের ভেতরে বড় ধরনের রদবদল আনতে যাচ্ছে। দলের শীর্ষ কয়েকটি পদ একেবারে বাদ দিয়ে নতুন করে পুরো কাঠামো সাজানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হওয়া ইসি (নির্বাহী কমিটি) কমিটির এক দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত আসে। আমাদের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ৬১ সদস্যের ইসি কমিটির অর্ধেকের বেশি নেতা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই আলোচনা শেষে দলের বেশিরভাগ নেতাই সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর পক্ষে একমত হন। নতুন এই সিদ্ধান্তে দলের বেশ কিছু ভারী পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মুখ্য সংগঠক’, ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ ও ‘মুখপাত্র’ পদ। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের জন্য যে আলাদা ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ পদ ছিল, সেগুলোও আর থাকছে না। এর বদলে দলটি এখন চলবে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে। এই কমিটিতে থাকবেন একজন আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিব এবং সাধারণ সদস্যরা। মূলত পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত এই নেতারাই দলের হাল ধরবেন। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দল গোছাতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন। দলীয় সূত্র আরও জানায়, আজ শুক্রবার (১৫ মে) দলের সাধারণ সভায় এই প্রস্তাবগুলো তোলা হবে। সেখানে সবার সম্মতি মিললে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে বৈঠকে বেশির ভাগ নেতা পরিবর্তনের পক্ষে থাকলেও, কয়েকজন পুরনো কাঠামোই ধরে রাখার পক্ষে তাদের মতামত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি মূলত দলে কাজের গতি বাড়াতে চাইছে। অনেক সময় দলে ভারী পদ বা আলংকারিক পদ বেশি থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে জটিলতা তৈরি হয় বা নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। ‘মুখ্য সংগঠক’ বা ‘মুখপাত্র’ পদগুলো বাতিল করে সরাসরি আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মডেলে ফিরে যাওয়ার অর্থ হলো, দলের চেইন অব কমান্ড বা নির্দেশনার জায়গাটি আরও পরিষ্কার ও দ্রুত করা। এছাড়া, প্রতিটি বিভাগে নতুন করে সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, দলটি এখন কেন্দ্র থেকে মনোযোগ সরিয়ে তৃণমূল বা মাঠ পর্যায়ে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে। সামনে যদি কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচন থাকে, তবে এই নতুন কাঠামো দলকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

ধর্ম
মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায়? ইসলামি দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা

মৃত্যু - পৃথিবীর সবচেয়ে অমোঘ এবং সুনিশ্চিত সত্য। প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, এটি মহান আল্লাহর শাশ্বত ঘোষণা। কিন্তু মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে একটি কৌতূহল বিরাজমান, মৃত্যুর পর আমাদের আত্মা বা রুহ কোথায় যায়? কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এই রহস্যের সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত সমাধান দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায়? ইসলামি দৃষ্টিতে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা ১. মৃত্যুর মুহূর্ত এবং রুহ কবজ করার প্রক্রিয়া মৃত্যুর সময় মানুষের কাছে মালাকুল মউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা আসেন। মুমিনের কাছে তাঁরা আসেন জান্নাতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তি নিয়ে, আর পাপীদের কাছে আসেন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। কোরআনের ঘোষণা:   ۞ قُلْ يَتَوَفَّـٰكُم مَّلَكُ ٱلْمَوْتِ ٱلَّذِى وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ "বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমাদের রবের কাছেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।" (সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ১১) ২. আলমে বারযাখ: অন্তর্বর্তীকালীন জগৎ মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আত্মা যে জগতে অবস্থান করে, ইসলামি পরিভাষায় তাকে 'বারযাখ' বলা হয়। এটি হলো দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যবর্তী একটি অন্তরায় বা পর্দা। কোরআনের ঘোষণা:  لَعَلِّىٓ أَعْمَلُ صَـٰلِحًا فِيمَا تَرَكْتُ‌ۚ كَلَّآ‌ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَا‌ۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ "আর তাদের সামনে বারযাখ (পর্দা বা অন্তরায়) থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।" (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ১০০) অর্থাৎ, মৃত্যুর পর আত্মা দুনিয়ায় ফিরে আসতে পারে না, বরং কিয়ামত পর্যন্ত এই বারযাখ জগতেই অবস্থান করে। ৩. মুমিনের আত্মা বনাম পাপীর আত্মা: গন্তব্য কোথায়? মৃত্যুর পর আত্মার গন্তব্য নিয়ে সুনানে আবু দাউদ (হাদিস নং: ৪৭৫৩) এবং মুসনাদে আহমাদ-এ হজরত বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ ও বিখ্যাত সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই যাত্রার চমৎকার ও ভয়াবহ উভয় রূপই তুলে ধরেছেন: নেককার মুমিনের আত্মার গন্তব্য (ইল্লিয়্যিন): মুমিনের রুহ যখন বের করা হয়, তা সুগন্ধি ছড়াতে থাকে। ফেরেশতারা সম্মানের সাথে তা নিয়ে প্রথম আসমান থেকে সপ্তম আসমান পর্যন্ত যান। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন: "আমার বান্দার আমলনামা 'ইল্লিয়্যিন'-এ রেখে দাও এবং তাকে জমিনে তার শরীরে ফিরিয়ে দাও, কারণ আমি তাদের মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি।" কোরআনের ঘোষণা: كَلَّآ إِنَّ كِتَـٰبَ ٱلْأَبْرَارِ لَفِى عِلِّيِّي "কখনো নয়, নিশ্চয়ই পুণ্যবানদের আমলনামা ‘ইল্লিয়্যিন’-এ রয়েছে।" (সূরা আল-মুতাফফিফিন, আয়াত: ১৮) পাপী বা অবিশ্বাসী ব্যক্তির আত্মার গন্তব্য (সিজ্জিন): পাপীর রুহ বের করার সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফেরেশতারা তা নিয়ে আসমানের দিকে গেলে আসমানের দরজা তাদের জন্য খোলা হয় না। তখন আল্লাহ নির্দেশ দেন: "তার আমলনামা জমিনের সর্বনিম্নে 'সিজ্জিন'-এ রেখে দাও।" এরপর তার রুহকে সজোরে নিক্ষেপ করা হয়। কোরআনের ঘোষণা:  كَلَّآ إِنَّ كِتَـٰبَ ٱلْفُجَّارِ لَفِى سِجِّي "কখনো নয়, নিশ্চয়ই পাপাচারীদের আমলনামা ‘সিজ্জিন’-এ রয়েছে।" (সূরা আল-মুতাফফিফিন, আয়াত: ৭) ৪. কবরের প্রশ্নোত্তর ও আত্মার অবস্থান আমলনামা ইল্লিয়্যিন বা সিজ্জিনে রাখার পর, রুহকে পুনরায় কবরে দেহের সাথে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় (যা আমাদের দুনিয়াবি কল্পনার বাইরে) যুক্ত করা হয়। এরপর মুনকার ও নাকির নামক দুই ফেরেশতা এসে তিনটি প্রশ্ন করেন: ১. তোমার রব কে? ২. তোমার দ্বীন কী? ৩. এই ব্যক্তি (রাসূল সা.) কে, যাঁকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল? মুমিন ব্যক্তি সঠিক উত্তর দিলে তার কবরকে প্রশস্ত করে জান্নাতের সাথে একটি জানালা খুলে দেওয়া হয়। আর পাপী ব্যক্তি উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে তার জন্য জাহান্নামের জানালা খুলে দেওয়া হয় এবং কবর তাকে এমনভাবে চেপে ধরে যে তার একদিকের পাঁজর অন্যদিকের পাঁজরে ঢুকে যায়। (সুনানে আত-তিরমিজি, হাদিস নং: ৩১২০, হাসান সহিহ) ৫. শহিদদের আত্মা কোথায় থাকে? সাধারণ মুমিনদের আত্মার চেয়ে শহিদদের আত্মার মর্যাদা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা বারযাখ জগতেই সরাসরি জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করতে থাকেন। সহিহ হাদিসের ঘোষণা: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, "শহিদদের আত্মাসমূহ জান্নাতে সবুজ রঙের পাখির পেটে অবস্থান করে। জান্নাতে ঝুলন্ত আরশের নিচে তাদের জন্য অনেকগুলো ঝাড়বাতি রয়েছে। তারা পুরো জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করে এবং শেষে ওই ঝাড়বাতিগুলোতে ফিরে আসে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৮৮৭) উপসংহার ও আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায় এই প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি দার্শনিক কৌতূহল মেটানোর জন্য নয়, বরং এটি আমাদের আখেরাতের প্রস্তুতির একটি সতর্কবার্তা। রুহ বের হওয়ার পরের অনন্ত যাত্রায় আমাদের সঙ্গী হবে কেবল আমাদের ঈমান ও নেক আমল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে মৃত্যুর পর 'ইল্লিয়্যিন'-এ স্থান পাওয়ার তৌফিক দান করুন এবং কবরের আজাব থেকে হেফাজত করুন। আমিন।





স্বাস্থ্য
রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে ৫টি বিপদ আসে

এখন অনেক মানুষই রাতে দেরি করে খাবার খান। কেউ অফিস থেকে দেরিতে ফেরেন, কেউ আবার রাত জেগে মোবাইল দেখেন বা কাজ করেন। ফলে রাত ১১টা কিংবা তারও পরে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু ডাক্তারদের মতে, প্রতিদিন দেরি করে রাতের খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো না। আমাদের শরীরেরও একটা নির্দিষ্ট রুটিন আছে। রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন বেশি দেরি করে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে কি হয়?  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং রাত জাগার অভ্যাস স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণায়ও দেখা গেছে, গভীর রাতে ভারী খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কারণ রাতে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। তখন অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ার ওপর চাপ পড়ে। মূলত রাতে দেরি করে খাবার খেলে শরীরে যে সমস্ত পরিবর্তন হতে পারে তা হলো-  ১. গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে রাতে দেরি করে খাওয়ার পর অনেকেই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে খাবার ঠিকভাবে হজম হতে চায় না। পাকস্থলীর গ্যাস বা টক পানি উপরের দিকে উঠে এসে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। ঢাকার অনেক চিকিৎসক বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২ ঘণ্টা জেগে থাকা ভালো। ২. শরীর মোটা হতে পারে রাতে শরীরের নড়াচড়া কম থাকে। তখন বেশি খেলে সেই খাবার সহজে চর্বি হয়ে জমে যেতে পারে। বিশেষ করে বিরিয়ানি, ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া বা বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার রাতে দেরি করে খেলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। ৩. ঘুম ভালো নাও হতে পারে অনেকে ভাবেন পেট ভরে খেলেই ভালো ঘুম হবে। কিন্তু অনেক সময় উল্টোটা হয়। রাতে বেশি বা ভারী খাবার খেলে শরীর খাবার হজম করতেই ব্যস্ত থাকে। ফলে গভীর ঘুম আসে না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ক্লান্ত লাগার সমস্যাও হতে পারে। ৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে ডাক্তাররা বলছেন, প্রতিদিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের চিনির ভারসাম্যে সমস্যা করতে পারে। বিশেষ করে যারা রাত জাগেন এবং অনিয়ম করে খান, তাদের ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ৫. হার্টের ওপর চাপ পড়তে পারে দেরি করে খেলে শরীরে চর্বি বাড়ে, ওজন বাড়ে এবং অনেক সময় রক্তচাপও বেড়ে যেতে পারে। এসব কারণে ধীরে ধীরে হার্টের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তাই শুধু কম খাওয়াই না, সঠিক সময়েও খাওয়া জরুরি। রাতে খাবার খাওয়ার ভালো সময় কখন ডাক্তারদের মতে, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া ভালো। যদি রাত ১১টায় ঘুমান, তাহলে চেষ্টা করুন রাত ৮টার মধ্যে খাওয়া শেষ করতে। রাতে সুস্থ থাকতে যা করতে পারেন ১ - রাতে খুব বেশি ভাজাপোড়া খাবার খাবেন না, ২- খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না, ৩- রাতে কম মোবাইল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, ৪- খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, ৫ - রাতে বেশি কোমল পানীয় বা কফি না খাওয়াই ভালো অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করছে। রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাসও তেমন একটি বিষয়। তাই সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছেন না, কখন খাচ্ছেন সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।





বিশ্লেষন
এআই খুঁজে দিচ্ছে হারিয়ে যাওয়া শুক্রাণু, এখন বাবা হতে পারবেন বন্ধ্যাত্ব পুরুষ

বহু বছর চেষ্টা করেও সন্তান নিতে না পারা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার খবর এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা আগে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারছে। ফলে যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের জৈবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েলের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ আড়াই বছরের সংগ্রাম, হতাশা এবং একের পর এক চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তারা জানতে পারেন - পেনেলোপ অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকেরা আগে জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম রয়েছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষদের শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অনেকের শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের শারীরিক জটিলতা ভূমিকা রাখে। আর অ্যাজোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নমুনায় শুক্রাণু থাকলেও সেটি এত কম যে সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই জায়গাতেই কাজ করছে নতুন প্রযুক্তি ‘স্টার সিস্টেম’ বা স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করছে। গবেষকদের ভাষ্য, পুরো নমুনার মধ্যে হয়তো একটি মাত্র শুক্রাণু আছে, যা মানুষের চোখে বা সাধারণ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এআই প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে সেই বিরল শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারছে। স্টার সিস্টেমে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়। এই চিপের ক্ষুদ্র চ্যানেলের মধ্য দিয়ে নমুনা প্রবাহিত হয় এবং শক্তিশালী ইমেজিং প্রযুক্তি তা স্ক্যান করে। এরপর এআই অ্যালগরিদম শুক্রাণুর অবস্থান নির্ধারণ করে এবং রোবোটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে ফেলে। চিকিৎসক জেভ উইলিয়ামস জানান, প্রযুক্তিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, যেসব রোগীকে আগে বলা হয়েছিল তাদের নিজের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্যামুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার শরীরে বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে স্টার সিস্টেম সেই নমুনা থেকে আটটি শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে একটি সফলভাবে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং এখন পেনেলোপের গর্ভে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তান। গবেষকেরা বলছেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা দরকার। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আরও কাজ প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ভবিষ্যতে শুধু শুক্রাণু শনাক্ত নয়, আইভিএফ চিকিৎসার আরও বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিম্বাণু নির্বাচন, ভ্রূণের গুণগত মান যাচাই এবং হরমোনের সঠিক ডোজ নির্ধারণেও মেশিন লার্নিং ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে। কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখো দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন এই প্রযুক্তি তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুরুষকে একসময় “শুক্রাণুহীন” বলা হতো, তাদের ক্ষেত্রেও এখন চিকিৎসকেরা নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পুরো ধারণাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবরঃ বিবিসি বাংলা





অপরাধ
এক ফোনকলেই ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে উধাও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা
এক ফোনকলেই ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে উধাও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

রাজধানীতে আবারও ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে দক্ষিণ বনশ্রীর এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। কাগজপত্র হালনাগাদের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পর মুহূর্তেই ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর নাম সুধন চন্দ্র বর্মন। মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি রাজধানীর খিলগাঁও থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় থাকা অবস্থায় একটি নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র হালনাগাদের জন্য কিছু তথ্য প্রয়োজন বলে জানান। ফোনদাতার কথায় বিশ্বাস করে সুধন চন্দ্র নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও জন্মতারিখ জানান। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি নম্বরে ‘অ্যাড মানি’র মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৭ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া কথিত ব্যাংক কর্মকর্তার দেওয়া আরেকটি নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করছেন খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে টাকা উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিংকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের গোপন তথ্য, ওটিপি বা জন্মতারিখ জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ফোন কল এলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সারাদেশ
গরুর হাট
কোরবানির হাটে দরপতনের আভাস, রাজস্ব হারানোর ভয় চসিকের

কোরবানির ঈদ আসতে এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি, কিন্তু চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে এখনই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্যবসায়ীদের কপালে। মানুষ এখন অনলাইনে বা সরাসরি খামার থেকে গরু কিনতে বেশি পছন্দ করায় এবার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারামূল্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এমনকি কোনো কোনো হাটে ইজারা নেওয়ার জন্য কেউ দরপত্রই জমা দেয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবার নগরের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে। এর মধ্যে নগরের সবচেয়ে বড় সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি দামে ইজারা নিয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী। তবে মুরাদপুরের বিবিরহাটের দাম গত বছরের ১ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে এবার মাত্র ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি দামে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা অস্থায়ী হাটগুলোর। কর্ণফুলী এলাকার অস্থায়ী হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং মুসলিমাবাদ হাটে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দর উঠেছে। আর ওয়াজেদিয়া হাটে কেউ দরপত্রই জমা দেয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী হাটে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ এখন ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে বা খামার থেকে পশু কিনছেন। আবার খরচ কমাতে অনেকেই ভাগাভাগি করে কোরবানি দিচ্ছেন। এর ওপর পাড়া-মহল্লায় অবৈধ হাট বসায় বড় হাটগুলোতে ক্রেতা কমে গেছে। সাগরিকা হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, "এত টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি, টাকা উঠবে কি না তা নিয়ে ভয়ে আছি। উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।" অবৈধ হাটের বিষয়ে সিটি করপোরেশন এবার বেশ কঠোর। চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন জানিয়েছেন, অনুমোদিত হাটের বাইরে কোথাও বাজার বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। পাশাপাশি বৈধ হাটগুলোতে জাল টাকা চেনার মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও পশু চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হবে।





ভ্রমন ও গাইড
এই বর্ষায় দেশের যে ৫টি জায়গায় ভ্রমণ করতে পারেন

অনেকেই মনে করেন বর্ষাকাল মানেই ঘরে বসে থাকার সময়, কিন্তু সত্যিকারের ভ্রমণপিপাসুরা জানেন বর্ষায় প্রকৃতি যেন একেবারে নতুন রূপে সেজে ওঠে! ধুলোবালিহীন সতেজ সবুজ গাছপালা, পাহাড়ে মেঘের লুকোচুরি আর যৌবন ফিরে পাওয়া ঝর্ণাগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বর্ষার চেয়ে আদর্শ সময় আর নেই। আপনি যদি এই মেঘ-বৃষ্টির মৌসুমে যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে চান, তবে দেশের ভেতরের এই ৫টি চমৎকার জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন। ১. সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর (জলের ওপর ভাসমান জীবন) বর্ষাকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। চারদিকে থৈ থৈ পানি, মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা নীল জলের ঢেউ আর হাউসবোটে রাত কাটানোর রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর বর্ষায় এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। বৃষ্টিতে হাওরের বুকে নৌকায় ভেসে থাকা এবং হাওরের তাজা মাছ খাওয়ার অভিজ্ঞতা আপনার সারা জীবন মনে থাকবে। ২. সিলেটের রাতারগুল ও বিছানাকান্দি (সবুজ আর পাথরের মিতালি) সিলেটের রাতারগুল হলো দেশের একমাত্র মিঠা পানির সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাবন। বর্ষায় এই বনের গাছগুলো অর্ধেক পানিতে ডুবে থাকে, আর এর মধ্য দিয়ে ছোট নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি আমাজনের গহিন অরণ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। এর পাশেই রয়েছে বিছানাকান্দি। বর্ষায় মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার পানিতে বিছানাকান্দির পাথরগুলো স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, যা পর্যটকদের ভীষণ আকর্ষণ করে। ৩. রাঙামাটির কাপ্তাই লেক ও শুভলং ঝর্ণা (পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা জলধারা) পাহাড়ের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে বর্ষায় রাঙামাটি ভ্রমণের বিকল্প নেই। কাপ্তাই লেকের বিশাল নীল জলরাশি এই সময়ে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। লেকে নৌভ্রমণের পাশাপাশি এই সময়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো 'শুভলং ঝর্ণা'। সারা বছর এই ঝর্ণায় পানি কম থাকলেও, বর্ষায় এটি তার রুদ্ররোষে ফিরে আসে। পাহাড়ের অনেক উঁচু থেকে আছড়ে পড়া শুভলংয়ের বিশাল জলধারা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। ৪. বান্দরবানের নীলাচল ও সাজেক ভ্যালি (মেঘ ছোঁয়ার অদ্ভুত অনুভূতি) আপনি যদি মেঘের সাথে আড্ডা দিতে চান, তবে বর্ষায় বান্দরবান বা রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে ছুটে যেতে পারেন। বৃষ্টি ধোয়া বান্দরবানের নীলাচল, মেঘলা কিংবা চিম্বুক পাহাড়ে দাঁড়ালে মনে হবে মেঘেরা আপনার পায়ের কাছে এসে লুটোপুটি খাচ্ছে। আর সাজেক ভ্যালিতে বর্ষার সকালে চারদিক এমনভাবে সাদা মেঘে ঢেকে থাকে যে, নিজেকে মনে হবে মেঘের দেশের কোনো বাসিন্দা। ৫. শ্রীমঙ্গলের চা বাগান (বৃষ্টিভেজা স্নিগ্ধতা) সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। যারা পাহাড়ি দুর্গম পথ বা জলপথে না গিয়ে একটু শান্ত পরিবেশে বর্ষা উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য শ্রীমঙ্গল সেরা। বৃষ্টিভেজা চা বাগানের সবুজ রূপ চোখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। বৃষ্টির দিনে এখানকার বিখ্যাত সাত রঙের চা আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গহিন অরণ্যে হেঁটে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা আপনাকে দারুণ এক সতেজতা দেবে। বর্ষায় ভ্রমণের জন্য বিশেষ সতর্কতা: পাহাড় বা জলপথে ভ্রমণের সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখবেন। এছাড়া বর্ষায় পাহাড়ে ধস নামার ঝুঁকি থাকে, তাই দুর্গম পাহাড়ি পথে ভ্রমণের আগে স্থানীয় আবহাওয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ছাতা, রেইনকোট এবং ফার্স্ট এইড বক্স অবশ্যই ব্যাগে রাখবেন।


লাইফস্টাইল
ঘুম থেকে উঠেই ভুলেও মোবাইল দেখবেন না, নতুন গবেষণায় মিলল ভয়ংকর তথ্য

অনেক মানুষের দিনের শুরুটাই হয় মোবাইল হাতে নিয়ে। চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ফেসবুক দেখেন, কেউ মেসেজ চেক করেন, আবার কেউ নিউজ ফিড স্ক্রল করতে থাকেন। বিষয়টি এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা মস্তিষ্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসায়েন্স গবেষকদের মতে, সকালে ঘুম ভাঙার পরের প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময় অতিরিক্ত তথ্য, নোটিফিকেশন বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করতে পারে। সকালে উঠেই মোবাইল দেখলে মস্তিষ্কে কী ঘটে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে “স্লিপ মোড” থেকে সচল অবস্থায় আসে। কিন্তু হঠাৎ মোবাইলের আলো, শব্দ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য মস্তিষ্ককে এক ধরনের তাত্ক্ষণিক স্ট্রেসে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কাজের মেসেজ দেখলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সকাল থেকেই অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খারাপ খবর, অফিসের চাপ বা অন্যের জীবনযাপন দেখতে শুরু করেন, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি মানসিক ক্লান্তি দেখা যায়। চোখ ও মন দুটোর ওপরই পড়ে প্রভাব চোখ খোলার পরপরই মোবাইলের উজ্জ্বল আলো চোখের ওপরও চাপ তৈরি করে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার সমস্যাও বাড়তে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা অনেক মানুষের মধ্যে “ডোপামিন নির্ভরতা” তৈরি করছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের চেয়ে মোবাইলের দ্রুত উত্তেজনামূলক তথ্যের প্রতি বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া, উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং কাজের প্রতি অনীহা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে সকালে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সারাদিনের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সকালে কী করলে ভালো লাগতে পারে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট মোবাইল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়টায় যা করতে পারেন: এক গ্লাস পানি পান করুন জানালার পাশে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলো নিন হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাহাঁটি করুন ফজরের নামাজ বা মেডিটেশন করতে পারেন দিনের পরিকল্পনা মাথায় গুছিয়ে নিন পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরু শান্তভাবে হলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক স্থির থাকে। ভবিষ্যতে কেন এটি বড় সমস্যা হতে পারে বর্তমানে শিশু থেকে বড় সবাই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া ও দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে এই অভ্যাসও একটি কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন সকালে ফোন দেখা তেমন একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে সেটি মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই সকালে অন্তত কিছু সময় নিজের জন্য রাখা এখন শুধু ভালো অভ্যাস না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।





প্রযুক্তি
chat gpt
চ্যাটজিপিটিতে যুক্ত হলো পার্সোনাল ফাইন্যান্স ড্যাশবোর্ড, এবার মিলবে আর্থিক পরামর্শ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে আরও একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এলো ওপেনএআই। গত শুক্রবার চ্যাটজিপিটিতে ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’ বা ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার নতুন একটি প্রিভিউ ফিচার উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রো-সাবস্ক্রাইবার বা প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হওয়া এই ফিচারের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি সরাসরি ব্যবহারকারীর বিভিন্ন আর্থিক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীর আর্থিক অবস্থার সঠিক প্রেক্ষাপট বুঝে ব্যক্তিগত অর্থ-সংক্রান্ত যেকোনো জটিল প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিতে সক্ষম হবে। নতুন এই ফিচারের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ইন-বিল্ট ড্যাশবোর্ড। এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন খরচ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং মর্টগেজের হিসাব খুব সহজেই ভিজ্যুয়াল বা গ্রাফিক্যাল আকারে এক নজরে দেখতে পারবেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই ফিচার চালুর মূল কারণ হলো ইতিমধ্যেই ২০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী বাজেট তৈরি, বিনিয়োগের পরামর্শ এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। তাই বাস্তব জীবনের ব্যবহারিক দিকগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্য ব্যবহারকারীর জন্য এটি চালু করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রো-সাবস্ক্রাইবারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক এই এআই জায়ান্টটি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ফিচার ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। এই আপডেটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রাসঙ্গিকতা বোঝার ক্ষমতা। আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ব্যবহারকারীকে এখন আর বারবার তার আয়-ব্যয়ের হিসাব টাইপ করে বোঝাতে হবে না; চ্যাটজিপিটি নিজ থেকেই ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা বা কাস্টমাইজড উত্তর তৈরি করে দেবে। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিরাপদে যুক্ত করতে চ্যাটজিপিটি এখন ওয়েব এবং আইওএস (iOS) প্ল্যাটফর্মে ১২ হাজারেরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন যুক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে 'প্লাড' (Plaid)-এর মাধ্যমে এই সুরক্ষিত লিংকিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এতে 'ইনটুইট' (Intuit)-এর সমর্থনও যুক্ত করা হবে। যোগ্য ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সাইডবার থেকে "Finances" নির্বাচন করে "Get started"-এ ক্লিক করে অথবা যেকোনো চ্যাট সেশনে "@Finances, connect my accounts" লিখে সহজেই তাদের অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট সেটআপ করার পর আর্থিক ড্যাশবোর্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে, যেখানে রিয়েল-টাইমে খরচ, আসন্ন পেমেন্ট, বিনিয়োগ পোর্টফোলিও এবং বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনের বিস্তারিত দেখা যাবে। হিসাব রাখার পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই, আনুমানিক ট্যাক্স বা করের হিসাব বের করা এবং ইনটুইট-এর সাহায্যে স্থানীয় কর বিশেষজ্ঞের সাথে সেশন নির্ধারণ করার মতো কাজগুলোও এখন অনায়াসেই করা যাবে। তথ্য সুরক্ষা এবং গোপনীয়তার বিষয়ে ওপেনএআই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় তাদের আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলো চ্যাটজিপিটি থেকে বিচ্ছিন্ন (Disconnect) করতে পারবেন। ওপেনএআই নিশ্চিত করেছে যে, অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করার ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে সিঙ্ক হওয়া সব ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে। এছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের চ্যাট হিস্ট্রি থেকে নির্দিষ্ট আর্থিক তথ্য বা চ্যাটজিপিটির 'ফাইন্যান্সিয়াল মেমোরি'ও মুছে ফেলতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্ত করা আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে চ্যাটজিপিটির এই সম্পূর্ণ কথোপকথন এবং বিশ্লেষণ পরিচালিত হবে অত্যাধুনিক 'জিপিটি-৫.৫ থিংকিং' (GPT-5.5 Thinking) মডেলের মাধ্যমে, যা দেবে সর্বোচ্চ স্তরের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা।





ক্যারিয়ার
ব্র্যাকে অফিসার পদে চাকরির সুযোগ: ২৩ বছর বয়স হলেই আবেদন

দেশের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক  সম্প্রতি তাদের 'ক্যারিয়ার হাব' প্রজেক্টের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। 'অফিসার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন' পদে চুক্তিভিত্তিক জনবল খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহীরা আগামী ২৪ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এক নজরে ব্র্যাকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রতিষ্ঠানের নাম: ব্র্যাক (BRAC) পদের নাম: অফিসার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন (প্রজেক্ট স্টাফ) চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক  পদসংখ্যা: অনির্ধারিত কর্মস্থল: খুলনা ও রংপুর বিভাগ বেতন ও সুবিধা: আলোচনা সাপেক্ষে প্রকাশের তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২৪ মে ২০২৬ চাকরির খবর: দিগন্ত পোস্ট জবস আবেদন করার মাধ্যম: অনলাইন পদের বিবরণ: ১. পদের নাম: অফিসার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন (প্রজেক্ট স্টাফ) পদসংখ্যা: নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি (অনির্ধারিত) বেতন স্কেল: আলোচনা সাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন (BBA), শিক্ষা বা এ ধরনের যেকোনো বিষয়ে স্নাতক (Bachelor/Honors) ডিগ্রি থাকতে হবে। যুব উন্নয়ন, ইভেন্ট কোঅর্ডিনেশন বা ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে ১ থেকে ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্নশিপ) বা স্বেচ্ছাসেবী (Voluntary) হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও তা এই চাকরির জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। বয়সসীমা: আবেদনকারী প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২৩ বছর হতে হবে। এর নিচে কেউ আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনের নিয়ম: এই পদের জন্য সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। বিডিজবস (BDJobs) পোর্টালের সাহায্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, সরাসরি বা ইমেইলে পাঠানো সিভি গ্রহণ করা হবে না। শর্তাবলি ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা: এটি একটি চুক্তিভিত্তিক চাকরি, তাই প্রজেক্টের মেয়াদ অনুযায়ী কাজের সুযোগ থাকবে। খুলনা ও রংপুর বিভাগের যেকোনো স্থানে কাজ করার এবং নিয়মিত ৮ থেকে ১০টি জেলায় ভ্রমণের মানসিকতা থাকতে হবে। ক্যাম্পাসে ইভেন্ট আয়োজন, তরুণদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সাথে কাজের সমন্বয় করার দক্ষতা থাকতে হবে। নারী ও পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন। তরুণদের ক্যারিয়ার গঠনে সাহায্য করার বিষয়ে প্রবল আগ্রহ থাকতে হবে। কম্পিউটারে মাইক্রোসফট অফিস (MS Office) এবং বিভিন্ন ডেটা ট্র্যাকিং টুল ব্যবহারে ভালো দক্ষতা থাকা জরুরি। আবেদন যেভাবে করবেন: আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে খুব সহজেই আবেদন করতে পারবেন। পদের বিস্তারিত দায়িত্ব দেখতে এবং সরাসরি আপনার সিভি সাবমিট করতে এখানে ক্লিক করুন ।





খেলাধুলা
অবশেষে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেল চীন

অবশেষে ২০২৬ ও ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি (CCTV)। শুক্রবার যৌথভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে সিসিটিভি ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপ শুরু হতে এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও এতদিন চীনের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নিশ্চিত ছিলেন না তারা কোথায় ম্যাচ দেখতে পারবেন। শেষ মুহূর্তে হওয়া এই চুক্তিতে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সিসিটিভি জানিয়েছে, নতুন এই চুক্তির আওতায় ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপও সম্প্রচার করা হবে। চুক্তিতে টেলিভিশন, ইন্টারনেট এবং মোবাইল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। যদিও চীন এবার বিশ্বকাপে খেলছে না, তবুও দেশটিতে ফুটবল বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ চলাকালে ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মোট ভিউয়ের প্রায় ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল চীন থেকে। ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেছেন, “বিশ্ব ফুটবলের জন্য চীনের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” ফিফা আরও জানিয়েছে, এই চুক্তি তরুণ দর্শকদের কাছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বকাপকে আরও জনপ্রিয় করতে সহায়তা করবে। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য নিয়েও আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চুক্তির মূল্য প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি সিসিটিভি। কেউ এই চুক্তিকে বড় সাফল্য বললেও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এত বিপুল অর্থ ব্যয় কতটা যৌক্তিক। চীনের গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী রোববার সম্প্রচার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (CMG)। এদিকে সময়ের পার্থক্যের কারণে বেইজিং ও সাংহাইয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল শুরু হবে রাত ৩টায়।  বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরগুলোর একটি। চীনের মতো বিশাল দর্শকবাজারে সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করা ফিফার জন্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তরুণ দর্শকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ফিফা চীনা বাজারকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।





বিনোদন
ফাঁস হলো মৌনী রায়ের গোপন ইচ্ছা, ১৯ বছরেই বিয়ে করতে মরিয়া ছিলেন!

বলিউড অভিনেত্রী মৌনী রায় আবারও আলোচনায়। সম্প্রতি স্বামী সূরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে তার বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই সামনে এসেছে অভিনেত্রীর এক পুরনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, মাত্র ১৯ বছর বয়স থেকেই তিনি বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, খুব অল্প বয়স থেকেই জীবনসঙ্গী নিয়ে ভীষণ আবেগপ্রবণ ছিলেন মৌনী। তার বিশ্বাস ছিল, জীবনে একজন সঠিক মানুষ থাকলে কঠিন সময়ও সহজ হয়ে যায়। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে মৌনী বলেছিলেন, বিয়ে তার কাছে শুধু সামাজিক সম্পর্ক নয়, বরং এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া, যার সঙ্গে সুখ-দুঃখ সব ভাগ করে নেওয়া যায়। তিনি মনে করতেন, একজন ভালো সঙ্গী মানসিক নিরাপত্তা ও সাহস জোগায়। মৌনীর ভাষায়, জীবনের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো একজন মানুষ থাকা খুব জরুরি। আর সেই কারণেই কৈশোর পেরোনোর পর থেকেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ সঙ্গীকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এর আগে অভিনেতা মোহিত রায়না ও পুলকিত সম্রাটের সঙ্গে মৌনীর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী সূরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। গোয়ায় অনুষ্ঠিত সেই বিয়েতে বাঙালি ও মালয়ালি দুই রীতিতেই আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠান। তবে সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদের খবর ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, দুজনেই নাকি আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি মৌনী বা সূরজ। বিনোদন জগতে সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে মৌনীর পুরনো বক্তব্য আবারও আলোচনায় এসেছে কারণ, তিনি সবসময় সম্পর্ক ও মানসিক নিরাপত্তাকে খুব গুরুত্ব দিতেন। তাই তার বিচ্ছেদের গুঞ্জন ভক্তদের মাঝেও কৌতূহল তৈরি করেছে। কারো কারো মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ অনেক সময় মানসিক চাপও তৈরি করে। আর সম্পর্কের ভাঙন নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা হলে সেটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও কাজের দিক থেকে এখনো বেশ সক্রিয় মৌনী রায়। বিভিন্ন ওয়েব সিরিজ, বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন ইভেন্টে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বেশ সক্রিয় এবং ভক্তদের সঙ্গে নিজের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন। খবরঃ আনন্দ বাজার