২৮ এপ্রিল, ২০২৬
২৭ এপ্রিল, ২০২৬
১৯ এপ্রিল, ২০২৬
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
মতামত
ঈদুল আজহা আসলেই অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরতে থাকে, “আমার উপর কি কোরবানি ওয়াজিব?” কেউ চাকরি করেন, কেউ ব্যবসা করেন, আবার কেউ পরিবারে নির্ভরশীল। ফলে কে কোরবানি দেবেন আর কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি দেখা যায়। ইসলামিক স্কলারদের মতে, কোরবানি মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু পশু জবাই না, বরং ত্যাগ, তাকওয়া এবং সামর্থ্যের পরীক্ষা। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব। অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করলে গুনাহ হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার সামর্থ্য আছে কিন্তু কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।” - সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩ অনেক মুহাদ্দিস হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। কোরবানি কাদের উপর ওয়াজিব ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, যেসব মুসলমানের মধ্যে নিচের শর্তগুলো পাওয়া যাবে, তাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। প্রথমত তিনি মুসলিম হতে হবে।দ্বিতীয়ত তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে। তৃতীয়ত তিনি মুসাফির না হয়ে নিজ এলাকায় অবস্থানকারী হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন সম্পদ থাকতে হবে, যা নেসাব পরিমাণে পৌঁছে। নেসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে কী বোঝায় হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কারও কাছে যদি সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। এই সম্পদের মধ্যে থাকতে পারে: নগদ টাকা, স্বর্ণ বা রূপা, ব্যবসার পণ্য, সঞ্চয়, অতিরিক্ত জমি। তবে বসবাসের ঘর, ব্যবহারিক আসবাবপত্র বা প্রয়োজনীয় গাড়ি সাধারণত নেসাবের হিসেবে ধরা হয় না। নারীদের উপর কি কোরবানি ওয়াজিব অনেকেই মনে করেন কোরবানি শুধু পুরুষদের জন্য। কিন্তু ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্য থাকলে নারীদের উপরও কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। যদি কোনো নারীর নিজের স্বর্ণালংকার, সঞ্চয় বা সম্পদ নেসাব পরিমাণে পৌঁছে যায়, তাহলে তার উপরও কোরবানি ওয়াজিব হবে। এ বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, আল আজহারসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের আলেমরা একই মত প্রকাশ করেছেন। প্রশ্নঃ বাবা জীবিত থাকলে সন্তানের উপর কোরবানি হবে? এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলোর একটি। ইসলামে প্রত্যেক ব্যক্তির কোরবানি তার নিজের সামর্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাবা ধনী হলেই সন্তানের উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। আবার সন্তান উপার্জনক্ষম ও নেসাবের মালিক হলে বাবার সঙ্গে থাকলেও তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। আরো স্পষ্ট তথ্যের জন্য একজন অভিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হবেন। আপনি আর্থিকভাবে ঋণী হলে কোরবানি ওয়াজিব নয় যদি কারও ওপর এমন ঋণ থাকে যা পরিশোধ করার পর তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। ইসলামিক স্কলাররা বলেন, ইসলাম কখনো মানুষের ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করে না। কোরবানির গুরুত্ব কেন এত বেশি যে কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম না। কোরআনে আল্লাহ বলেন: “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩৭ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা ও আনুগত্য প্রকাশ করা। কোরবানি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিজের সম্পদের হিসাব আগে থেকেই মিলিয়ে নিন ঋণ ও প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে নেসাব নির্ধারণ করুন শুধু লোক দেখানোর জন্য কোরবানি করবেন না পশু কেনার আগে সুস্থতা যাচাই করুন কোরবানির মাংস আত্মীয় ও গরিবদের মাঝে ভাগ করে দিন কোরবানি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল হলো সমাজের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া। অনেকে ধার করে বা কষ্ট করে শুধু মানুষের কথা ভেবে কোরবানি দেন, আবার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ অবহেলা করেন। অথচ ইসলাম ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। তাই কোরবানি আপনার ওপর ওয়াজিব কি না, সেটি আবেগ দিয়ে না, বরং সহিহ মাসআলা ও আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
গরমে ফ্রিজের বরফঠান্ডা পানি খেতে খুব ভালো লাগে। মুখে দিলেই যেন শরীরটা একদম শান্ত হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে নিয়মিত খুব ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো গলা ব্যথা, টনসিলের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, হজমে ধীরগতি এবং অনেকের ক্ষেত্রে দাঁতে সেনসিটিভিটি বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে খাওয়ার ঠিক পরপরই খুব ঠান্ডা পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হতে পারে, কারণ খাবারের চর্বি দ্রুত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়। এছাড়া গরম শরীর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যেতে পারে, যার ফলে মাথা ভারী লাগা বা অস্বস্তি অনুভব করা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তবে আসল বিষয়টা আরও গভীর, যা খুব কম মানুষ জানে অনেকেই ভাবেন ঠান্ডা পানি শুধু গলা বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ফিজিওলজিক্যাল পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, খুব ঠান্ডা পানি পান করার পর শরীরের ভ্যাগাস নার্ভ সাময়িকভাবে সক্রিয় হয়ে যেতে পারে। এই নার্ভ হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কিছু সংবেদনশীল মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ বরফঠান্ডা পানি পান করলে “vagal response” নামে একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেখানে সাময়িকভাবে হার্ট রেট কমে যায় বা মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। এটি খুবই বিরল হলেও পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। আরেকটি কম আলোচিত বিষয় হলো ঠান্ডা পানির কারণে খাদ্যনালীর মাংসপেশি সাময়িকভাবে সংকুচিত হতে পারে, ফলে কারও কারও বুকের মাঝখানে অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হয়, যা অনেক সময় গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে ভুল করা হয়। আরো পড়ূনঃ দিনে কত টুকু পানি খাওয়া উচিৎ গরমে কীভাবে পানি খাওয়া সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকদের মতে গরমে হালকা ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি সবচেয়ে নিরাপদ। একসাথে অনেক ঠান্ডা পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। বিশেষ করে ব্যায়াম বা রোদে বাইরে থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে বরফঠান্ডা পানি না খাওয়াই ভালো। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করা একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে খুব বেশি ঠান্ডা পানি খেলে শরীর কিছুটা স্ট্রেসে পড়তে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকে ঠান্ডা রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটি যেন অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে ক্ষতির কারণ না হয়, সেটাই খেয়াল রাখা দরকার।
স্কেটবোর্ড সাধারণত তরুণদের দ্রুতগতির কসরত আর রোমাঞ্চের প্রতীক হিসেবেই পরিচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ডেভিড রাশ সেই পরিচিত ধারণাকেই বদলে দিলেন এক অবিশ্বাস্য কীর্তিতে। পায়ের বদলে তিনি একটি স্কেটবোর্ড নিজের থুতনির ওপর টানা ১ ঘণ্টার বেশি সময় ব্যালেন্স করে গড়েছেন নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে ডেভিড রাশ নিজের ক্যারিয়ারে ৩৫০টির বেশি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্পর্শ করলেন, যা তাকে বিশ্বজুড়ে রেকর্ডপ্রেমীদের আলোচনায় আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোইস শহরের ওয়াইএমসিএ জিমনেসিয়ামে একটি পিৎজা বল সেশনের বিরতির সময় এই অদ্ভুত চ্যালেঞ্জে অংশ নেন তিনি। সময় গড়াতে গড়াতে যখন ঘড়ির কাঁটা ১ ঘণ্টা ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড অতিক্রম করে, তখন তিনি থুতনি থেকে স্কেটবোর্ডটি নামিয়ে আনেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্প্রতি এই ক্যাটাগরিটি নতুনভাবে চালু করেছে। আর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সেই তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন ডেভিড রাশ। তবে এই রেকর্ড গড়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। ডেভিড জানান, স্কেটবোর্ডের গঠনই ছিল তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারি স্কেটবোর্ডের ধারালো প্রান্ত থুতনিতে তীব্র ব্যথা তৈরি করছে। মনে হচ্ছিল থুতনির হাড় ছিদ্র হয়ে যাবে।” একপর্যায়ে ব্যথার কারণে রেকর্ড গড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়লেও পরে এক বন্ধুর স্কেটবোর্ড সংগ্রহশালা থেকে অপেক্ষাকৃত মসৃণ ও ভোঁতা প্রান্তের একটি বোর্ড খুঁজে পান তিনি। সেটি গিনেসের নির্ধারিত ওজন ও আকারের শর্ত পূরণ করায় আবার নতুন উদ্যমে চ্যালেঞ্জ শুরু করেন। ডেভিড রাশ পেশায় একজন প্রকৌশলী। তবে শুধু শখের বশে নয়, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় তরুণদের আগ্রহী করে তুলতেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী রেকর্ড গড়ে আসছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এ ধরনের অদ্ভুত ও সৃজনশীল বিশ্ব রেকর্ড তরুণদের মাঝে বিজ্ঞানভিত্তিক চর্চা ও নতুন কিছু করার আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দর নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যেখানে গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। গরুর পাশাপাশি ছাগলের চামড়ার দামও নির্ধারণ করেছে সরকার। খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সারা দেশে কার্যকর থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এবার কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ী, মসজিদ ও মাদরাসার মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, কোরবানির পর কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ও মাদরাসার সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি শেখানো হবে, যাতে বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যায়।
১৩ মে, ২০২৬ | বিকেল ৫:৫৫
ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারা গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ০ দশমিক ৫ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ নিতে পারবে। আগে এই হার ছিল সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। পরে সেটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি আংশিক বা পুরোপুরি বকেয়া হয়ে গেলে ওই সময়ের জন্য দণ্ড সুদ আরোপ করা যাবে। চলমান ঋণ ও তলবি ঋণের ক্ষেত্রে পুরো ঋণস্থিতির ওপর এবং মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বকেয়া কিস্তির ওপর এই সুদ হিসাব করা হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই তা ০ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এর আগে একই ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত দণ্ড সুদ নিতে পারত। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ মে জারি করা আগের সার্কুলারের কিছু অংশ সংশোধন করে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আগের বাকি নির্দেশনাগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে উচ্চ সুদের চাপের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ ঋণগ্রহীতা সাম্প্রতিক সময়ে কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত দণ্ড সুদ অনেক সময় বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দণ্ড সুদ কমানো হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অতিরিক্ত জরিমানার ভয় কমলে অনেক গ্রাহক পুনরায় নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে আগ্রহী হতে পারেন। তবে ব্যাংক খাতের কেউ কেউ বলছেন, শুধু দণ্ড সুদ কমালেই হবে না, ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সঠিক তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদরাসাগুলোতে একযোগে এই ছুটি কার্যকর হবে। তবে শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) শেষ ক্লাস শেষে ছুটিতে যাচ্ছে। কারণ ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিন থেকেই অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান বন্ধ থাকবে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের মূল ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে। এরপর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি চলবে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। ৫ ও ৬ জুন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ৭ জুন (রোববার) থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। এই হিসাবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট প্রায় ১৬ দিনের ছুটি উপভোগ করবে। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ছুটি আরও দীর্ঘ হবে। আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ছুটি থাকবে ২৪ মে থেকে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। এরপর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন (রোববার) থেকে ক্লাস শুরু হবে। ফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ প্রায় ২১ থেকে ২৩ দিনের দীর্ঘ ছুটি পাবে।
১৩ মে, ২০২৬ | দুপুর ২:২৯
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দলটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিজীবী রয়েছেন। তাদের বেতন স্কেল সর্বশেষ বৃদ্ধি পেয়েছিল প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে। অথচ গত এক দশকে ৫০ শতাংশেরও বেশি মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে এবং জীবনযাপনের নানামুখী ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি বর্তমান জীবনমান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দ্রুততম সময়ে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় সরকারি খাতের এই বিপুল সংখ্যক চাকরিজীবী ও তাদের পরিবার বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি বেতনের অন্তর্ভুক্ত চাকরিজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৪৮টি সভা ও মতামত গ্রহণের মাধ্যমে গত ২১ জানুয়ারি ৯ম বেতন কমিশনের প্রস্তাব প্রদান করেছে। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ে শুরু থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টি সোচ্চার ছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু থেকেই বিভিন্ন পেশাজীবীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিল। ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের আন্দোলনেও সরকারি বেতনভুক্ত চাকরিজীবীদের আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
ঈদুল আজহা আসলেই অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরতে থাকে, “আমার উপর কি কোরবানি ওয়াজিব?” কেউ চাকরি করেন, কেউ ব্যবসা করেন, আবার কেউ পরিবারে নির্ভরশীল। ফলে কে কোরবানি দেবেন আর কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি দেখা যায়। ইসলামিক স্কলারদের মতে, কোরবানি মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু পশু জবাই না, বরং ত্যাগ, তাকওয়া এবং সামর্থ্যের পরীক্ষা। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব। অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করলে গুনাহ হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার সামর্থ্য আছে কিন্তু কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।” - সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩ অনেক মুহাদ্দিস হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। কোরবানি কাদের উপর ওয়াজিব ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, যেসব মুসলমানের মধ্যে নিচের শর্তগুলো পাওয়া যাবে, তাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। প্রথমত তিনি মুসলিম হতে হবে।দ্বিতীয়ত তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে। তৃতীয়ত তিনি মুসাফির না হয়ে নিজ এলাকায় অবস্থানকারী হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন সম্পদ থাকতে হবে, যা নেসাব পরিমাণে পৌঁছে। নেসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে কী বোঝায় হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কারও কাছে যদি সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। এই সম্পদের মধ্যে থাকতে পারে: নগদ টাকা, স্বর্ণ বা রূপা, ব্যবসার পণ্য, সঞ্চয়, অতিরিক্ত জমি। তবে বসবাসের ঘর, ব্যবহারিক আসবাবপত্র বা প্রয়োজনীয় গাড়ি সাধারণত নেসাবের হিসেবে ধরা হয় না। নারীদের উপর কি কোরবানি ওয়াজিব অনেকেই মনে করেন কোরবানি শুধু পুরুষদের জন্য। কিন্তু ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্য থাকলে নারীদের উপরও কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। যদি কোনো নারীর নিজের স্বর্ণালংকার, সঞ্চয় বা সম্পদ নেসাব পরিমাণে পৌঁছে যায়, তাহলে তার উপরও কোরবানি ওয়াজিব হবে। এ বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, আল আজহারসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের আলেমরা একই মত প্রকাশ করেছেন। প্রশ্নঃ বাবা জীবিত থাকলে সন্তানের উপর কোরবানি হবে? এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলোর একটি। ইসলামে প্রত্যেক ব্যক্তির কোরবানি তার নিজের সামর্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাবা ধনী হলেই সন্তানের উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। আবার সন্তান উপার্জনক্ষম ও নেসাবের মালিক হলে বাবার সঙ্গে থাকলেও তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। আরো স্পষ্ট তথ্যের জন্য একজন অভিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হবেন। আপনি আর্থিকভাবে ঋণী হলে কোরবানি ওয়াজিব নয় যদি কারও ওপর এমন ঋণ থাকে যা পরিশোধ করার পর তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। ইসলামিক স্কলাররা বলেন, ইসলাম কখনো মানুষের ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করে না। কোরবানির গুরুত্ব কেন এত বেশি যে কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম না। কোরআনে আল্লাহ বলেন: “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩৭ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা ও আনুগত্য প্রকাশ করা। কোরবানি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিজের সম্পদের হিসাব আগে থেকেই মিলিয়ে নিন ঋণ ও প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে নেসাব নির্ধারণ করুন শুধু লোক দেখানোর জন্য কোরবানি করবেন না পশু কেনার আগে সুস্থতা যাচাই করুন কোরবানির মাংস আত্মীয় ও গরিবদের মাঝে ভাগ করে দিন কোরবানি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল হলো সমাজের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া। অনেকে ধার করে বা কষ্ট করে শুধু মানুষের কথা ভেবে কোরবানি দেন, আবার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ অবহেলা করেন। অথচ ইসলাম ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। তাই কোরবানি আপনার ওপর ওয়াজিব কি না, সেটি আবেগ দিয়ে না, বরং সহিহ মাসআলা ও আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
গরমে ফ্রিজের বরফঠান্ডা পানি খেতে খুব ভালো লাগে। মুখে দিলেই যেন শরীরটা একদম শান্ত হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে নিয়মিত খুব ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো গলা ব্যথা, টনসিলের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, হজমে ধীরগতি এবং অনেকের ক্ষেত্রে দাঁতে সেনসিটিভিটি বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে খাওয়ার ঠিক পরপরই খুব ঠান্ডা পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হতে পারে, কারণ খাবারের চর্বি দ্রুত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়। এছাড়া গরম শরীর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যেতে পারে, যার ফলে মাথা ভারী লাগা বা অস্বস্তি অনুভব করা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তবে আসল বিষয়টা আরও গভীর, যা খুব কম মানুষ জানে অনেকেই ভাবেন ঠান্ডা পানি শুধু গলা বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ফিজিওলজিক্যাল পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, খুব ঠান্ডা পানি পান করার পর শরীরের ভ্যাগাস নার্ভ সাময়িকভাবে সক্রিয় হয়ে যেতে পারে। এই নার্ভ হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কিছু সংবেদনশীল মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ বরফঠান্ডা পানি পান করলে “vagal response” নামে একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেখানে সাময়িকভাবে হার্ট রেট কমে যায় বা মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। এটি খুবই বিরল হলেও পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। আরেকটি কম আলোচিত বিষয় হলো ঠান্ডা পানির কারণে খাদ্যনালীর মাংসপেশি সাময়িকভাবে সংকুচিত হতে পারে, ফলে কারও কারও বুকের মাঝখানে অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হয়, যা অনেক সময় গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে ভুল করা হয়। আরো পড়ূনঃ দিনে কত টুকু পানি খাওয়া উচিৎ গরমে কীভাবে পানি খাওয়া সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকদের মতে গরমে হালকা ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি সবচেয়ে নিরাপদ। একসাথে অনেক ঠান্ডা পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। বিশেষ করে ব্যায়াম বা রোদে বাইরে থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে বরফঠান্ডা পানি না খাওয়াই ভালো। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করা একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে খুব বেশি ঠান্ডা পানি খেলে শরীর কিছুটা স্ট্রেসে পড়তে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকে ঠান্ডা রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটি যেন অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে ক্ষতির কারণ না হয়, সেটাই খেয়াল রাখা দরকার।
বহু বছর চেষ্টা করেও সন্তান নিতে না পারা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার খবর এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা আগে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারছে। ফলে যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের জৈবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েলের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ আড়াই বছরের সংগ্রাম, হতাশা এবং একের পর এক চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তারা জানতে পারেন - পেনেলোপ অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকেরা আগে জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম রয়েছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষদের শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অনেকের শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের শারীরিক জটিলতা ভূমিকা রাখে। আর অ্যাজোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নমুনায় শুক্রাণু থাকলেও সেটি এত কম যে সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই জায়গাতেই কাজ করছে নতুন প্রযুক্তি ‘স্টার সিস্টেম’ বা স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করছে। গবেষকদের ভাষ্য, পুরো নমুনার মধ্যে হয়তো একটি মাত্র শুক্রাণু আছে, যা মানুষের চোখে বা সাধারণ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এআই প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে সেই বিরল শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারছে। স্টার সিস্টেমে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়। এই চিপের ক্ষুদ্র চ্যানেলের মধ্য দিয়ে নমুনা প্রবাহিত হয় এবং শক্তিশালী ইমেজিং প্রযুক্তি তা স্ক্যান করে। এরপর এআই অ্যালগরিদম শুক্রাণুর অবস্থান নির্ধারণ করে এবং রোবোটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে ফেলে। চিকিৎসক জেভ উইলিয়ামস জানান, প্রযুক্তিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, যেসব রোগীকে আগে বলা হয়েছিল তাদের নিজের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্যামুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার শরীরে বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে স্টার সিস্টেম সেই নমুনা থেকে আটটি শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে একটি সফলভাবে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং এখন পেনেলোপের গর্ভে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তান। গবেষকেরা বলছেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা দরকার। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আরও কাজ প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ভবিষ্যতে শুধু শুক্রাণু শনাক্ত নয়, আইভিএফ চিকিৎসার আরও বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিম্বাণু নির্বাচন, ভ্রূণের গুণগত মান যাচাই এবং হরমোনের সঠিক ডোজ নির্ধারণেও মেশিন লার্নিং ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে। কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখো দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন এই প্রযুক্তি তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুরুষকে একসময় “শুক্রাণুহীন” বলা হতো, তাদের ক্ষেত্রেও এখন চিকিৎসকেরা নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পুরো ধারণাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবরঃ বিবিসি বাংলা
রাজধানীতে আবারও ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে দক্ষিণ বনশ্রীর এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। কাগজপত্র হালনাগাদের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পর মুহূর্তেই ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর নাম সুধন চন্দ্র বর্মন। মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি রাজধানীর খিলগাঁও থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় থাকা অবস্থায় একটি নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র হালনাগাদের জন্য কিছু তথ্য প্রয়োজন বলে জানান। ফোনদাতার কথায় বিশ্বাস করে সুধন চন্দ্র নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও জন্মতারিখ জানান। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি নম্বরে ‘অ্যাড মানি’র মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৭ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া কথিত ব্যাংক কর্মকর্তার দেওয়া আরেকটি নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করছেন খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে টাকা উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিংকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের গোপন তথ্য, ওটিপি বা জন্মতারিখ জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ফোন কল এলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
কোরবানির ঈদ সামনে আসতেই জামালপুরের পশুর খামারগুলোতে বেড়েছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটি গরু নাম তার ‘ক্রিস গেইল’। বিশাল আকৃতির এই গরুকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। ৮০০ কেজি ওজনের গরুটি ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার ময়না এগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, গাঢ় লালচে-বাদামী রঙের বিশালদেহী গরুটি খামারের আলাদা আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। নেপালি ‘গির’ জাতের এই গরুর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। খামারে থাকা ২৬টি গরুর মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে বেশি দেখতে আসছেন মানুষ। খামারের মালিক মো. দিয়া মিয়া জানান, তিন বছর আগে মাত্র ৬ মাস বয়সে ৬৫ হাজার টাকায় গরুটি কেনেন তিনি। ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের ভক্ত হওয়ায় নিজের প্রিয় খেলোয়াড়ের নামেই গরুটির নাম রাখেন ‘ক্রিস গেইল’। তিনি বলেন, “তিন বছর ধরে অনেক যত্ন করে গরুটাকে বড় করেছি। কখনো একটা বেত দিয়েও মারিনি। ওকে যখন খামার থেকে নিয়ে যাবে, তখন আমার কেমন লাগবে সেটা শুধু আমিই জানি।” সরেজমিনে দেখা গেছে, গরুটি কিছুটা রাগি স্বভাবের। অপরিচিত কেউ কাছে গেলে তেড়ে আসার চেষ্টা করে। তবে খামারের লোকজনের সঙ্গে বেশ শান্ত আচরণ করে। গরুটির গলায় ছোট ছোট কালো ও বাদামী দাগ রয়েছে, আর শিং দুটি ছোট ও পেছনের দিকে বাঁকানো। খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘ক্রিস গেইলকে’ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে তাকে ১০ কেজি সাইলেজ, ৭ কেজি ঘাস এবং দেড় কেজি গমের ভুসি দেওয়া হয়। নিয়মিত গোসল ও বিশেষ যত্নও নেওয়া হয় তার। গরুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী ইমরান হোসেন বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই গরুর দেখাশোনা করি। এই গরুগুলোকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসি। ঈদের সময় যখন বিক্রি হয়ে যায় তখন খুব খারাপ লাগে।” বর্তমানে ‘ক্রিস গেইল’-এর দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা গরুটি দেখতে এলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় বিক্রি করেননি মালিক দিয়া মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, ভালো দাম পেলে তবেই বিক্রি করবেন, না হলে ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। গরুটি কিনতে আসা আব্বাস বেপারি বলেন, “গরুটি দেখতে খুব ভালো, মাংসও ভালো হবে। তবে মালিক যে দাম চাচ্ছেন, ওই দামে কিনে লাভ করা কঠিন।” জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. এ.টি.এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ক্রিস গেইল’ সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং মেডিকেল টিম খামার পরিদর্শন করেছে। তিনি জানান, জেলায় মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ৮২ হাজার ১৫টি। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যতিক্রমধর্মী নামের কারণে বড় আকৃতির গরুগুলো এখন কোরবানির বাজারে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করছে। এতে খামারিরা যেমন বাড়তি পরিচিতি পাচ্ছেন, তেমনি দেশীয় খামার শিল্পও নতুনভাবে উৎসাহিত হচ্ছে।
বিদেশের মাটিতে ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু ভিসা পাওয়ার ঝক্কি আর বিশাল বাজেটের কথা ভেবে অনেকেই পিছিয়ে যান। তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে পরিকল্পনা করেন, তবে মাত্র ১ লাখ টাকার বাজেটে অনায়াসেই জীবনসঙ্গী বা বন্ধুকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার সব দেশ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন কিছু দেশ আছে যেখানে যাওয়ার জন্য কোনো আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই বেঁচে যায়। আজ আপনাদের এমন ৫টি দেশের কথা জানাব, যেখানে কম খরচে রাজকীয় ভ্রমণ উপভোগ করা যায়। পাহাড় ও মেঘের রাজ্য নেপাল বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নেপাল সব সময়ই তালিকার শীর্ষে থাকে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপালে প্রথমবার প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ভিসা ফি লাগে না। ১ লাখ টাকার বাজেটে কাঠমান্ডু, পোখরা এবং নাগরকোট। এই তিন শহর দুই জন মিলে খুব চমৎকারভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা এই দেশটিতে যেমন কম খরচে থাকা যায়, তেমনি পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা বা প্যারাগ্লাইডিং করার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ অনেকেই মনে করেন মালদ্বীপ মানেই লাখ লাখ টাকার খরচ, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। লাক্সারি রিসোর্ট এড়িয়ে যদি আপনি মাফুশি বা হুলহুমালের মতো লোকাল আইল্যান্ডগুলোতে থাকেন, তবে ১ লাখ টাকায় দুই জন মিলে চার দিন কাটিয়ে আসা সম্ভব। নীল সমুদ্রের ওপর ওয়াটার স্পোর্টস কিংবা ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতা কোনো ভিসা ছাড়াই পেয়ে যাবেন অন-অ্যারাইভাল সুবিধার মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লঙ্কা দ্বীপ শ্রীলঙ্কা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত বন্ধুসুলভ একটি দেশ। পাহাড়, চা বাগান আর ঐতিহাসিক সব স্থাপনায় ঘেরা এই দেশে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা। ক্যান্ডির পাহাড় থেকে শুরু করে নুয়ারা এলিয়ার ঝরনা পর্যন্ত দুই জন মিলে ৫ থেকে ৬ দিনের একটি ট্রিপ ১ লাখ টাকার মধ্যেই বেশ আয়েশ করে শেষ করা যায়। এখানকার আবহাওয়া এবং খাবার দুই-ই বাঙালির খুব পছন্দের। বাজেট ফ্রেন্ডলি ভিয়েতনাম বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের কাছে ভিয়েতনাম একটি দারুণ আকর্ষণীয় গন্তব্য। যদিও এখানে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সরাসরি নেই, তবে খুব স্বল্প খরচে অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে নেওয়া যায়। ১ লাখ টাকার বাজেটে ভিয়েতনামের বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড, হ্যালং বের ক্রুজ ভ্রমণ এবং হো চি মিন সিটির জাঁকজমক অনায়াসেই উপভোগ করা সম্ভব। যারা একটু ভিন্ন ধাঁচের সংস্কৃতি দেখতে চান, তাদের জন্য ভিয়েতনাম সেরা পছন্দ হতে পারে। শপিং ও বিনোদনের থাইল্যান্ড থাইল্যান্ড মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফি মওকুফ বা ভিসা ফ্রি সুবিধা দিয়ে থাকে। যখন এই সুযোগ থাকে, তখন ব্যাংকক আর পাতায়াতে দুই জন মিলে ৪-৫ দিনের ভ্রমণ ১ লাখ টাকার বাজেটে খুব সহজেই সম্ভব হয়। স্ট্রিট ফুড আর কেনাকাটার জন্য থাইল্যান্ডের কোনো তুলনা হয় না। তাই আপনার পরবর্তী ট্রিপের পরিকল্পনা শুরু করার আগে এই দেশগুলোর তালিকাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে পারেন। সঠিক সময়ে টিকিট বুক করলে এই বাজেটেও আপনি পেতে পারেন রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ।
বাংলাদেশে পরিবর্তনশীল ঋতুতে গরম পড়লেই ছোট বাচ্চাদের ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। ঘামাচি, র্যাশ, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি কিংবা শুষ্কতা অনেক পরিবারের জন্য সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যেসব শিশুর বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে, তাদের ত্বক তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় গরমে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ও ত্বক চিকিৎসকদের মতে, গরমে বাচ্চাদের জন্য লোশন বাছাই করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেটি যেন মাইল্ড, হালকা এবং কম কেমিক্যালযুক্ত হয়। কারণ অনেক সুগন্ধিযুক্ত বা বেশি কেমিক্যাল থাকা লোশন শিশুর ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমে শিশুদের জন্য ওয়াটার বেসড ও নন স্টিকি লোশন তুলনামূলক ভালো কাজ করে। যেসব লোশনে অ্যালোভেরা, ওটমিল, ক্যামোমাইল বা নারিকেল নির্যাস থাকে, সেগুলো অনেক সময় ত্বক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে অনেক অভিভাবক বর্তমানে বেবি লোশন কেনার সময় “Hypoallergenic”, “Paraben Free” এবং “Dermatologically Tested” লেখা আছে কি না সেটি দেখেন। কারণ এসব বৈশিষ্ট্য সাধারণত সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। চিকিৎসকরা কোন ধরনের লোশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন ঢাকার কয়েকজন শিশু বিশেষজ্ঞের মতে, গরমের সময় ভারী ক্রিম বা অতিরিক্ত তেলতেলে লোশন ব্যবহার না করাই ভালো। এতে শিশুর ঘাম আরও আটকে যেতে পারে এবং ঘামাচি বাড়তে পারে। তারা বলেন, গোসলের পর হালকা ভেজা ত্বকে অল্প পরিমাণ লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। তবে দিনে বারবার লোশন লাগানোর প্রয়োজন হয় না, যদি না শিশুর ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হয়। গরমে বাচ্চাদের জন্য জনপ্রিয় কিছু লোশন বাংলাদেশি অভিভাবকদের মধ্যে বর্তমানে কয়েকটি বেবি লোশন বেশি ব্যবহার হতে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে: Johnson’s Baby এর Milk + Rice Lotion Aveeno Baby Daily Moisture Lotion Cetaphil Baby Daily Lotion Sebamed Baby Lotion Kodomo Baby Lotion তবে চিকিৎসকদের মতে, সব শিশুর ত্বক এক রকম না। তাই একটি লোশন অন্য বাচ্চার জন্য ভালো হলেও আপনার শিশুর ত্বকে সেটি মানাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন ভুলগুলো অনেক অভিভাবক করেন অনেকেই গরমে বাচ্চার ত্বক ঠান্ডা রাখতে বড়দের মেনথলযুক্ত লোশন ব্যবহার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এসব উপাদান শিশুর ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। আবার অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত লোশনও অনেক শিশুর ত্বকে অ্যালার্জির কারণ হয়। শিশুর ত্বক ভালো রাখতে আরও যা করবেন গরমে শিশুকে ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরানো ভালো। নিয়মিত গোসল করানো এবং ঘাম হলে দ্রুত শরীর মুছে দেওয়া দরকার। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার শিশুর শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও শিশুর ত্বককে ভালো রাখতে তেল এবং ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। শিশুর ত্বকে যদি লালচে দাগ, ফুসকুড়ি বা অতিরিক্ত চুলকানি দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আরো পড়তে পারেনঃ গরমে শিশুদের কোন তেল এবং কোন ক্রিম ব্যবহার করা ভালো মূল কথা হচ্ছে গরমে বাচ্চাদের জন্য কোন লোশন ভালো, তার উত্তর সবার জন্য এক রকম না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালকা, কম কেমিক্যালযুক্ত এবং শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তৈরি লোশনই সবচেয়ে নিরাপদ। লোশন কেনার আগে শুধু বিজ্ঞাপন না দেখে উপাদান, ত্বকের ধরন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবার ইনস্টাগ্রামের ডিএম (ডাইরেক্ট মেসেজ) অপশন থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে এখন থেকে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও এবং ভয়েস নোটের তথ্য মেটার কাছে উন্মুক্ত থাকবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে শুধু বার্তা পাঠানো ব্যক্তি এবং গ্রহণকারীই তথ্য দেখতে পারেন। মাঝখানে অন্য কেউ, এমনকি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানও সেই বার্তা পড়তে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে ইনস্টাগ্রামে এই সুবিধাকে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখা হতো। মেটার নতুন এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর প্রযুক্তি ও গোপনীয়তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, এটি ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর হাতে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে। গোপনীয়তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘বিগ ব্রাদার ওয়াচ’-এর অ্যাডভোকেসি প্রধান জ্যাক কুলসন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। এতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে।” তবে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা কিছু সংগঠন মেটার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিশু সুরক্ষা সংস্থা এনএসপিসিসির নীতিনির্ধারণ বিভাগের সহযোগী প্রধান রানি গোবিন্দর বলেন, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু থাকলে অনেক সময় শিশু নির্যাতন বা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলিমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ হজসন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইনস্টাগ্রামে এনক্রিপশন সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও মেটা দাবি করেছে, বর্তমানে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা, ভয়েস নোট বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য বিজ্ঞাপন লক্ষ্য নির্ধারণ কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয় না। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করার চাপে রয়েছে। তবে ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে এনক্রিপশন সুবিধা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের আস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র দ্যা মেইল
বাংলাদেশ রেলওয়েতে সহকারী স্টেশনমাস্টার পদে নিয়োগ পরীক্ষার বাছাই পরীক্ষার তারিখ ও আসনবিন্যাস প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৬ মে ঢাকার ৪৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রেলওয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ মে ২০২৬ তারিখে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত। এবারের পরীক্ষায় মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৬১৮ জন প্রার্থী অংশ নেবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, প্রার্থীদের জন্য কেন্দ্রভিত্তিক আসনবিন্যাস ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষার বিস্তারিত আসনবিন্যাস ও কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার এবং প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণে কোনো অনিয়ম বা অসদুপায় গ্রহণ করলে প্রার্থিতা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আর মাত্র কয়েক মাস বাকি ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে, অথচ বাংলাদেশে এখনো টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দর্শকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই, এবার কি সত্যিই টিভিতে বা অনলাইনে খেলা দেখা যাবে? দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একটিপ্রতিষ্ঠান। তবে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো স্থানীয় টিভি চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সেই স্বত্ব কিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচার নিশ্চিত করেনি। ফলে বিগত বিশ্বকাপগুলোর মতো এবারও দর্শকদের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কেন তৈরি হলো এই অনিশ্চয়তা মূল সমস্যার জায়গা হলো সম্প্রচার স্বত্বের উচ্চ মূল্য। বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে সম্প্রচারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করছে যা বাংলাদেশী টাকায় আনুমানিক ২২০ কোটি, স্থানীয় টিভি চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে এ বিশাল পরিমাণ অর্থ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বাস্তবতা, রাতের সময়সূচি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাংলাদেশ সময় ভোররাতে বা গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হবে, ফলে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কম হওয়ার আশঙ্কাও দেখছেন সম্প্রচারকারীরা। এ কারণে এখন পর্যন্ত কেউ ঝুঁকি নিয়ে পুরো প্যাকেজ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। দর্শকরা কীভাবে খেলা দেখতে পারেন? যদি শেষ মুহূর্তে কোনো স্থানীয় টিভি চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নেয়, তাহলে দর্শকরা সাধারণত যেমন দেখা যায় তেমনি টিভি বা মোবাইল অ্যাপে সরাসরি খেলা দেখতে পারবেন। আর সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যথাযোগ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে যদি আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে দর্শকদের বিকল্প হিসেবে থাকতে পারে বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যম বা অনুমোদিত অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, এরপর দেশীয় কয়েকটি অননুমোদিত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম যেমন স্পোরটজিফাই এর মতো অ্যাপে খেলা দেখা যাবে অনায়াসে । তবে নিয়ম অনুযায়ী ফিফা অনুমোদন ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচার অনেক সময় বাংলাদেশে বৈধভাবে দেখা যায় না। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশে টিভি ও ওটিটি দুই মাধ্যমেই ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা ছিল। বিটিভি এবং বেসরকারি চ্যানেল টি স্পোর্টস, এবং ও টি টি প্লাটফর্ম টফি তে তখন সম্প্রচার স্বত্ব কিনে দর্শকদের জন্য সরাসরি খেলা দেখিয়েছিল। এবার সেই একই পরিস্থিতি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা আসেনি। শেষ মুহূর্তে যদি কোনো সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে দর্শকরা আগের মতোই টিভি ও মোবাইলে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। আর যদি না হয়, তাহলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার একটি আসর। বর্তমান অবস্থায় সবচেয়ে নিরাপদ তথ্য হলো, অফিসিয়াল ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের ওপর নির্ভর না করা।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .