১৫ মে, ২০২৬
২৮ এপ্রিল, ২০২৬
২৭ এপ্রিল, ২০২৬
মতামত
দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি নাগরিকের এনআইডির মূল তথ্য ফরম নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে নেই বলে জানা গেছে। এসব ফরম কোথায় আছে, আদৌ সংরক্ষিত আছে কি না তা নিয়েই এখন খোঁজে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র বলছে, বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৪ কোটি নাগরিকের ফরম-২ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল তথ্য ফরম সার্ভারে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় যেসব নাগরিক ভোটার হয়েছিলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইডি তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ের বহু এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। পরে সংশোধনের জন্য আবেদন করলে অনেককেই জানানো হয় তাদের ফরম-২ সার্ভারে নেই। ইসি কর্মকর্তাদের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এসব ফরম স্থানীয় নির্বাচন অফিসে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ফরম নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও বৃষ্টির পানিতে, কোথাও উইপোকা ও ইঁদুরে, আবার কোথাও অগ্নিকাণ্ডে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে ফরম-২ স্ক্যান ও সার্ভারে আপলোডের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় নাগরিকের দেওয়া মূল তথ্য সঠিক থাকলেও এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। এমন ক্ষেত্রে ফরম-২ থাকলে বিনা ফিতে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু ফরম না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, জেলার অধিকাংশ উপজেলায় স্ক্যানিংয়ের কাজ প্রায় শেষ। তবে কত ফরম হারিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ফরম অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো কাজ শেষ হলে সঠিক তথ্য জানা যাবে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার উপজেলায় প্রায় দুই লাখ নাগরিকের ফরম-২ আপলোড করা ছিল না। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার ফরম পাওয়া গেছে এবং এখন আপলোডের কাজ চলছে। ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “ফরম-২ সার্ভারে আপলোডের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। এখন সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।” জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, “আট কোটি নাগরিকের তথ্য স্ক্যান ও আপলোড করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। কত তথ্য হারিয়েছে, তা আপলোড শেষ হলে বোঝা যাবে। উল্লেখ্য এই যে বাংলাদেশে এনআইডি এখন শুধু ভোটার পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট, সিম নিবন্ধন, চাকরি, জমি কেনাবেচাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে এটি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নাগরিকের মূল তথ্য ফরম অনুপস্থিত থাকা বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবার সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ডিজিটাল সংরক্ষণ ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। খবরঃ দৈনিক কালের কন্ঠ
গরমের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে, কখনো হঠাৎ বৃষ্টি আবার কখনো তীব্র রোদ। আর রোদে বাইরে বের হলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এখন অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি অনেক সময় হিট স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে, যা সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জীবনঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। হিট স্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা যখন শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সাধারণত দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার পর এটি ঘটে। হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সহজ অভ্যাস মানলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। প্রথমত, রোদে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। দ্বিতীয়ত, সম্ভব হলে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। তৃতীয়ত, বাইরে গেলে হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় পরা ভালো। এতে শরীর সহজে বাতাস পায় এবং ঘাম শুকাতে সাহায্য করে। চতুর্থত, মাথায় টুপি, ছাতা বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে সরাসরি রোদের তাপ কম লাগে। পঞ্চমত, দীর্ঘ সময় কাজ করলে মাঝেমধ্যে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। ষষ্ঠত, শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হলে বা মাথা ঘুরলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জায়গায় চলে যাওয়া উচিত। সপ্তমত, সম্ভব হলে লবণ ও পানি মিশ্রিত পানীয় বা ওআরএস খাওয়া শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তারা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত শীতল স্থানে যেতে হবে এবং শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন হিট স্ট্রোক বাড়ছে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরমের তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। শহরে কংক্রিটের ঘনত্ব, গাছপালা কমে যাওয়া এবং যানবাহনের চাপও তাপমাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গ্রাম ও শহর উভয় জায়গাতেই শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ তারা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করেন। হিট স্ট্রোক কোনো সাধারণ ক্লান্তি নয়, এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই গরমে শরীরকে অবহেলা করা ঠিক নয়। পানি পান, বিশ্রাম এবং রোদের সময় সচেতনতা এই তিনটি অভ্যাসই পারে আপনাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে। গরম যতই বাড়ুক, একটু সচেতন থাকলেই হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ আগামী ১৭ মে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি)। সংস্থাটির গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, সেই হিসেবে আগামী ২৭ মে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। আইএসির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ মে মুসলিম দেশগুলোতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওইদিন পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চল থেকে টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ দেখা যেতে পারে। এছাড়া মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ এলাকা থেকে খালি চোখেও চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ১৮ মে থেকে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। সে হিসেবে ২৭ মে ঈদুল আজহার প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পরই নিশ্চিত হবে ঈদ উদযাপনের দিন।
দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি নাগরিকের এনআইডির মূল তথ্য ফরম নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে নেই বলে জানা গেছে। এসব ফরম কোথায় আছে, আদৌ সংরক্ষিত আছে কি না তা নিয়েই এখন খোঁজে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র বলছে, বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৪ কোটি নাগরিকের ফরম-২ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল তথ্য ফরম সার্ভারে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় যেসব নাগরিক ভোটার হয়েছিলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইডি তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ের বহু এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। পরে সংশোধনের জন্য আবেদন করলে অনেককেই জানানো হয় তাদের ফরম-২ সার্ভারে নেই। ইসি কর্মকর্তাদের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এসব ফরম স্থানীয় নির্বাচন অফিসে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ফরম নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও বৃষ্টির পানিতে, কোথাও উইপোকা ও ইঁদুরে, আবার কোথাও অগ্নিকাণ্ডে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে ফরম-২ স্ক্যান ও সার্ভারে আপলোডের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় নাগরিকের দেওয়া মূল তথ্য সঠিক থাকলেও এনআইডিতে ভুল তথ্য চলে আসে। এমন ক্ষেত্রে ফরম-২ থাকলে বিনা ফিতে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু ফরম না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, জেলার অধিকাংশ উপজেলায় স্ক্যানিংয়ের কাজ প্রায় শেষ। তবে কত ফরম হারিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ফরম অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো কাজ শেষ হলে সঠিক তথ্য জানা যাবে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার উপজেলায় প্রায় দুই লাখ নাগরিকের ফরম-২ আপলোড করা ছিল না। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার ফরম পাওয়া গেছে এবং এখন আপলোডের কাজ চলছে। ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “ফরম-২ সার্ভারে আপলোডের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। এখন সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।” জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, “আট কোটি নাগরিকের তথ্য স্ক্যান ও আপলোড করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। কত তথ্য হারিয়েছে, তা আপলোড শেষ হলে বোঝা যাবে। উল্লেখ্য এই যে বাংলাদেশে এনআইডি এখন শুধু ভোটার পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট, সিম নিবন্ধন, চাকরি, জমি কেনাবেচাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে এটি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নাগরিকের মূল তথ্য ফরম অনুপস্থিত থাকা বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবার সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ডিজিটাল সংরক্ষণ ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। খবরঃ দৈনিক কালের কন্ঠ
১৫ মে, ২০২৬ | দুপুর ১২:২৫
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ডিমের দাম ডজনে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, আর ব্রয়লার মুরগির কেজি ঠেকেছে ২০০ টাকায়। আজ শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অস্বস্তিকর চিত্র দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহে যে ডিম ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে, আজ তা কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকায়। বাজারে ডিম বিক্রেতা বজলুর রশিদ জানান, সাইজ ও রঙের ওপর ভিত্তি করে ডিমের দাম ওঠানামা করছে। আজ বাজারে ব্রয়লারের বড় সাইজের ডিম ১৬০ টাকা, বাদামি ডিম ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের পাশাপাশি মুরগির বাজারও বেশ চড়া। রোজার ঈদের পর ব্রয়লারের কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় নামলেও, আজ তা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় ঠেকেছে। রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা আনিস মিয়া জানান, বাজারে দেশি মুরগি তো পাওয়াই যাচ্ছে না; দু-এক দোকানে মিললেও দাম হাঁকানো হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। মোহাম্মদপুর টাউন হলের ব্যবসায়ী রমজান আলী এই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বলেন, "মুরগির চাহিদা বেশি, কিন্তু সরবরাহ কম। তাছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবারে বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান বেশি থাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় দাম একটু বাড়তি থাকে।"
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ৩১ ডিসেম্বর শুরু করার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সবকিছু ঠিক থাকলে লিখিত পরীক্ষা জানুয়ারিজুড়ে চলবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করা হবে। বুধবার (১৪ মে) শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর একটি প্রাথমিক খসড়া সময়সূচি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর থেকে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হবে এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তা শেষ করা হবে। এরপর ১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য রোজার ছুটি শুরু হওয়ার আগেই পুরো পরীক্ষা শেষ করতে চায় সরকার। কারণ আগামী বছর ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজার ছুটি শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষামন্ত্রী আগেই ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ হঠাৎ করে পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিপক্ষে মত দেয় এবং জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানায়। পরে দুই পক্ষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাব আসে। তিনি আরও বলেন, এতে একদিকে যেমন শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে মিল থাকবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও পুরো জানুয়ারি সময় পাবে পরীক্ষার জন্য। এদিকে ২০২৭ সালের এসএসসিতে প্রথমবারের মতো সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পুরোপুরি ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
১৪ মে, ২০২৬ | দুপুর ১২:৫
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) তাদের দলের ভেতরে বড় ধরনের রদবদল আনতে যাচ্ছে। দলের শীর্ষ কয়েকটি পদ একেবারে বাদ দিয়ে নতুন করে পুরো কাঠামো সাজানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হওয়া ইসি (নির্বাহী কমিটি) কমিটির এক দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত আসে। আমাদের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ৬১ সদস্যের ইসি কমিটির অর্ধেকের বেশি নেতা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই আলোচনা শেষে দলের বেশিরভাগ নেতাই সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর পক্ষে একমত হন। নতুন এই সিদ্ধান্তে দলের বেশ কিছু ভারী পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মুখ্য সংগঠক’, ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ ও ‘মুখপাত্র’ পদ। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের জন্য যে আলাদা ‘মুখ্য সমন্বয়ক’ পদ ছিল, সেগুলোও আর থাকছে না। এর বদলে দলটি এখন চলবে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে। এই কমিটিতে থাকবেন একজন আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিব এবং সাধারণ সদস্যরা। মূলত পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত এই নেতারাই দলের হাল ধরবেন। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দল গোছাতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন। দলীয় সূত্র আরও জানায়, আজ শুক্রবার (১৫ মে) দলের সাধারণ সভায় এই প্রস্তাবগুলো তোলা হবে। সেখানে সবার সম্মতি মিললে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে বৈঠকে বেশির ভাগ নেতা পরিবর্তনের পক্ষে থাকলেও, কয়েকজন পুরনো কাঠামোই ধরে রাখার পক্ষে তাদের মতামত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি মূলত দলে কাজের গতি বাড়াতে চাইছে। অনেক সময় দলে ভারী পদ বা আলংকারিক পদ বেশি থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে জটিলতা তৈরি হয় বা নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। ‘মুখ্য সংগঠক’ বা ‘মুখপাত্র’ পদগুলো বাতিল করে সরাসরি আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মডেলে ফিরে যাওয়ার অর্থ হলো, দলের চেইন অব কমান্ড বা নির্দেশনার জায়গাটি আরও পরিষ্কার ও দ্রুত করা। এছাড়া, প্রতিটি বিভাগে নতুন করে সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, দলটি এখন কেন্দ্র থেকে মনোযোগ সরিয়ে তৃণমূল বা মাঠ পর্যায়ে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে। সামনে যদি কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচন থাকে, তবে এই নতুন কাঠামো দলকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
মৃত্যু - পৃথিবীর সবচেয়ে অমোঘ এবং সুনিশ্চিত সত্য। প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, এটি মহান আল্লাহর শাশ্বত ঘোষণা। কিন্তু মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে একটি কৌতূহল বিরাজমান, মৃত্যুর পর আমাদের আত্মা বা রুহ কোথায় যায়? কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এই রহস্যের সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত সমাধান দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায়? ইসলামি দৃষ্টিতে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা ১. মৃত্যুর মুহূর্ত এবং রুহ কবজ করার প্রক্রিয়া মৃত্যুর সময় মানুষের কাছে মালাকুল মউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা আসেন। মুমিনের কাছে তাঁরা আসেন জান্নাতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তি নিয়ে, আর পাপীদের কাছে আসেন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। কোরআনের ঘোষণা: ۞ قُلْ يَتَوَفَّـٰكُم مَّلَكُ ٱلْمَوْتِ ٱلَّذِى وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ "বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমাদের রবের কাছেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।" (সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ১১) ২. আলমে বারযাখ: অন্তর্বর্তীকালীন জগৎ মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আত্মা যে জগতে অবস্থান করে, ইসলামি পরিভাষায় তাকে 'বারযাখ' বলা হয়। এটি হলো দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যবর্তী একটি অন্তরায় বা পর্দা। কোরআনের ঘোষণা: لَعَلِّىٓ أَعْمَلُ صَـٰلِحًا فِيمَا تَرَكْتُۚ كَلَّآۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَاۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ "আর তাদের সামনে বারযাখ (পর্দা বা অন্তরায়) থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।" (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ১০০) অর্থাৎ, মৃত্যুর পর আত্মা দুনিয়ায় ফিরে আসতে পারে না, বরং কিয়ামত পর্যন্ত এই বারযাখ জগতেই অবস্থান করে। ৩. মুমিনের আত্মা বনাম পাপীর আত্মা: গন্তব্য কোথায়? মৃত্যুর পর আত্মার গন্তব্য নিয়ে সুনানে আবু দাউদ (হাদিস নং: ৪৭৫৩) এবং মুসনাদে আহমাদ-এ হজরত বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ ও বিখ্যাত সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই যাত্রার চমৎকার ও ভয়াবহ উভয় রূপই তুলে ধরেছেন: নেককার মুমিনের আত্মার গন্তব্য (ইল্লিয়্যিন): মুমিনের রুহ যখন বের করা হয়, তা সুগন্ধি ছড়াতে থাকে। ফেরেশতারা সম্মানের সাথে তা নিয়ে প্রথম আসমান থেকে সপ্তম আসমান পর্যন্ত যান। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন: "আমার বান্দার আমলনামা 'ইল্লিয়্যিন'-এ রেখে দাও এবং তাকে জমিনে তার শরীরে ফিরিয়ে দাও, কারণ আমি তাদের মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি।" কোরআনের ঘোষণা: كَلَّآ إِنَّ كِتَـٰبَ ٱلْأَبْرَارِ لَفِى عِلِّيِّي "কখনো নয়, নিশ্চয়ই পুণ্যবানদের আমলনামা ‘ইল্লিয়্যিন’-এ রয়েছে।" (সূরা আল-মুতাফফিফিন, আয়াত: ১৮) পাপী বা অবিশ্বাসী ব্যক্তির আত্মার গন্তব্য (সিজ্জিন): পাপীর রুহ বের করার সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফেরেশতারা তা নিয়ে আসমানের দিকে গেলে আসমানের দরজা তাদের জন্য খোলা হয় না। তখন আল্লাহ নির্দেশ দেন: "তার আমলনামা জমিনের সর্বনিম্নে 'সিজ্জিন'-এ রেখে দাও।" এরপর তার রুহকে সজোরে নিক্ষেপ করা হয়। কোরআনের ঘোষণা: كَلَّآ إِنَّ كِتَـٰبَ ٱلْفُجَّارِ لَفِى سِجِّي "কখনো নয়, নিশ্চয়ই পাপাচারীদের আমলনামা ‘সিজ্জিন’-এ রয়েছে।" (সূরা আল-মুতাফফিফিন, আয়াত: ৭) ৪. কবরের প্রশ্নোত্তর ও আত্মার অবস্থান আমলনামা ইল্লিয়্যিন বা সিজ্জিনে রাখার পর, রুহকে পুনরায় কবরে দেহের সাথে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় (যা আমাদের দুনিয়াবি কল্পনার বাইরে) যুক্ত করা হয়। এরপর মুনকার ও নাকির নামক দুই ফেরেশতা এসে তিনটি প্রশ্ন করেন: ১. তোমার রব কে? ২. তোমার দ্বীন কী? ৩. এই ব্যক্তি (রাসূল সা.) কে, যাঁকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল? মুমিন ব্যক্তি সঠিক উত্তর দিলে তার কবরকে প্রশস্ত করে জান্নাতের সাথে একটি জানালা খুলে দেওয়া হয়। আর পাপী ব্যক্তি উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে তার জন্য জাহান্নামের জানালা খুলে দেওয়া হয় এবং কবর তাকে এমনভাবে চেপে ধরে যে তার একদিকের পাঁজর অন্যদিকের পাঁজরে ঢুকে যায়। (সুনানে আত-তিরমিজি, হাদিস নং: ৩১২০, হাসান সহিহ) ৫. শহিদদের আত্মা কোথায় থাকে? সাধারণ মুমিনদের আত্মার চেয়ে শহিদদের আত্মার মর্যাদা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা বারযাখ জগতেই সরাসরি জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করতে থাকেন। সহিহ হাদিসের ঘোষণা: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, "শহিদদের আত্মাসমূহ জান্নাতে সবুজ রঙের পাখির পেটে অবস্থান করে। জান্নাতে ঝুলন্ত আরশের নিচে তাদের জন্য অনেকগুলো ঝাড়বাতি রয়েছে। তারা পুরো জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করে এবং শেষে ওই ঝাড়বাতিগুলোতে ফিরে আসে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৮৮৭) উপসংহার ও আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায় এই প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি দার্শনিক কৌতূহল মেটানোর জন্য নয়, বরং এটি আমাদের আখেরাতের প্রস্তুতির একটি সতর্কবার্তা। রুহ বের হওয়ার পরের অনন্ত যাত্রায় আমাদের সঙ্গী হবে কেবল আমাদের ঈমান ও নেক আমল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে মৃত্যুর পর 'ইল্লিয়্যিন'-এ স্থান পাওয়ার তৌফিক দান করুন এবং কবরের আজাব থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
গরমের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে, কখনো হঠাৎ বৃষ্টি আবার কখনো তীব্র রোদ। আর রোদে বাইরে বের হলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এখন অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি অনেক সময় হিট স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে, যা সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জীবনঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। হিট স্ট্রোক হলো এমন একটি অবস্থা যখন শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সাধারণত দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার পর এটি ঘটে। হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সহজ অভ্যাস মানলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। প্রথমত, রোদে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। দ্বিতীয়ত, সম্ভব হলে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। তৃতীয়ত, বাইরে গেলে হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় পরা ভালো। এতে শরীর সহজে বাতাস পায় এবং ঘাম শুকাতে সাহায্য করে। চতুর্থত, মাথায় টুপি, ছাতা বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে সরাসরি রোদের তাপ কম লাগে। পঞ্চমত, দীর্ঘ সময় কাজ করলে মাঝেমধ্যে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। ষষ্ঠত, শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হলে বা মাথা ঘুরলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জায়গায় চলে যাওয়া উচিত। সপ্তমত, সম্ভব হলে লবণ ও পানি মিশ্রিত পানীয় বা ওআরএস খাওয়া শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তারা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত শীতল স্থানে যেতে হবে এবং শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন হিট স্ট্রোক বাড়ছে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরমের তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। শহরে কংক্রিটের ঘনত্ব, গাছপালা কমে যাওয়া এবং যানবাহনের চাপও তাপমাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গ্রাম ও শহর উভয় জায়গাতেই শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ তারা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করেন। হিট স্ট্রোক কোনো সাধারণ ক্লান্তি নয়, এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই গরমে শরীরকে অবহেলা করা ঠিক নয়। পানি পান, বিশ্রাম এবং রোদের সময় সচেতনতা এই তিনটি অভ্যাসই পারে আপনাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে। গরম যতই বাড়ুক, একটু সচেতন থাকলেই হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
বহু বছর চেষ্টা করেও সন্তান নিতে না পারা দম্পতিদের জন্য নতুন আশার খবর এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা আগে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারছে। ফলে যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের জৈবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েলের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ আড়াই বছরের সংগ্রাম, হতাশা এবং একের পর এক চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তারা জানতে পারেন - পেনেলোপ অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকেরা আগে জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম রয়েছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষদের শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অনেকের শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে একেবারেই পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই পুরুষের শারীরিক জটিলতা ভূমিকা রাখে। আর অ্যাজোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- নমুনায় শুক্রাণু থাকলেও সেটি এত কম যে সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই জায়গাতেই কাজ করছে নতুন প্রযুক্তি ‘স্টার সিস্টেম’ বা স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করছে। গবেষকদের ভাষ্য, পুরো নমুনার মধ্যে হয়তো একটি মাত্র শুক্রাণু আছে, যা মানুষের চোখে বা সাধারণ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এআই প্রতি সেকেন্ডে শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে সেই বিরল শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারছে। স্টার সিস্টেমে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফ্লুইড চিপ ব্যবহার করা হয়। এই চিপের ক্ষুদ্র চ্যানেলের মধ্য দিয়ে নমুনা প্রবাহিত হয় এবং শক্তিশালী ইমেজিং প্রযুক্তি তা স্ক্যান করে। এরপর এআই অ্যালগরিদম শুক্রাণুর অবস্থান নির্ধারণ করে এবং রোবোটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে ফেলে। চিকিৎসক জেভ উইলিয়ামস জানান, প্রযুক্তিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, যেসব রোগীকে আগে বলা হয়েছিল তাদের নিজের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্যামুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার শরীরে বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া না যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অণ্ডকোষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে স্টার সিস্টেম সেই নমুনা থেকে আটটি শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে একটি সফলভাবে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং এখন পেনেলোপের গর্ভে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তান। গবেষকেরা বলছেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা দরকার। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আরও কাজ প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ভবিষ্যতে শুধু শুক্রাণু শনাক্ত নয়, আইভিএফ চিকিৎসার আরও বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিম্বাণু নির্বাচন, ভ্রূণের গুণগত মান যাচাই এবং হরমোনের সঠিক ডোজ নির্ধারণেও মেশিন লার্নিং ইতোমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে। কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লাখো দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন এই প্রযুক্তি তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুরুষকে একসময় “শুক্রাণুহীন” বলা হতো, তাদের ক্ষেত্রেও এখন চিকিৎসকেরা নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পুরো ধারণাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবরঃ বিবিসি বাংলা
রাজধানীতে আবারও ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে দক্ষিণ বনশ্রীর এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। কাগজপত্র হালনাগাদের কথা বলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পর মুহূর্তেই ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর নাম সুধন চন্দ্র বর্মন। মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি রাজধানীর খিলগাঁও থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় থাকা অবস্থায় একটি নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র হালনাগাদের জন্য কিছু তথ্য প্রয়োজন বলে জানান। ফোনদাতার কথায় বিশ্বাস করে সুধন চন্দ্র নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও জন্মতারিখ জানান। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি নম্বরে ‘অ্যাড মানি’র মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৭ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর তিনি ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া কথিত ব্যাংক কর্মকর্তার দেওয়া আরেকটি নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করছেন খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে টাকা উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিংকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে গেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের গোপন তথ্য, ওটিপি বা জন্মতারিখ জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ফোন কল এলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গায় নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে এক নারীর দাফনে আপত্তি জানিয়েছে স্থানীয়দের একটি অংশ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার জন্য দাফন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সমঝোতার মাধ্যমে রাতে দাফন সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বিকেলে মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয়দের আপত্তির কারণে কিছু সময়ের জন্য দাফন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। সেখানে তিনি তার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিজ বাড়ি দৌলতদিয়াড় এলাকায় আনা হয়। তবে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের একটি অংশ দাফনে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, ওই নারী ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন কেউ কেউ। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মহল্লাবাসীরা আলোচনায় বসেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে রাত ১০টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায়। সেই সংসারে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি আগের সংসার ছেড়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন। আর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। একজন মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে আপত্তি ওঠায় সামাজিক সহনশীলতা, ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক বিচার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিদেশের মাটিতে ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু ভিসা পাওয়ার ঝক্কি আর বিশাল বাজেটের কথা ভেবে অনেকেই পিছিয়ে যান। তবে আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে পরিকল্পনা করেন, তবে মাত্র ১ লাখ টাকার বাজেটে অনায়াসেই জীবনসঙ্গী বা বন্ধুকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার সব দেশ। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন কিছু দেশ আছে যেখানে যাওয়ার জন্য কোনো আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না, ফলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই বেঁচে যায়। আজ আপনাদের এমন ৫টি দেশের কথা জানাব, যেখানে কম খরচে রাজকীয় ভ্রমণ উপভোগ করা যায়। পাহাড় ও মেঘের রাজ্য নেপাল বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য নেপাল সব সময়ই তালিকার শীর্ষে থাকে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপালে প্রথমবার প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ভিসা ফি লাগে না। ১ লাখ টাকার বাজেটে কাঠমান্ডু, পোখরা এবং নাগরকোট। এই তিন শহর দুই জন মিলে খুব চমৎকারভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা এই দেশটিতে যেমন কম খরচে থাকা যায়, তেমনি পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা বা প্যারাগ্লাইডিং করার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ অনেকেই মনে করেন মালদ্বীপ মানেই লাখ লাখ টাকার খরচ, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। লাক্সারি রিসোর্ট এড়িয়ে যদি আপনি মাফুশি বা হুলহুমালের মতো লোকাল আইল্যান্ডগুলোতে থাকেন, তবে ১ লাখ টাকায় দুই জন মিলে চার দিন কাটিয়ে আসা সম্ভব। নীল সমুদ্রের ওপর ওয়াটার স্পোর্টস কিংবা ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতা কোনো ভিসা ছাড়াই পেয়ে যাবেন অন-অ্যারাইভাল সুবিধার মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লঙ্কা দ্বীপ শ্রীলঙ্কা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত বন্ধুসুলভ একটি দেশ। পাহাড়, চা বাগান আর ঐতিহাসিক সব স্থাপনায় ঘেরা এই দেশে বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা। ক্যান্ডির পাহাড় থেকে শুরু করে নুয়ারা এলিয়ার ঝরনা পর্যন্ত দুই জন মিলে ৫ থেকে ৬ দিনের একটি ট্রিপ ১ লাখ টাকার মধ্যেই বেশ আয়েশ করে শেষ করা যায়। এখানকার আবহাওয়া এবং খাবার দুই-ই বাঙালির খুব পছন্দের। বাজেট ফ্রেন্ডলি ভিয়েতনাম বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের কাছে ভিয়েতনাম একটি দারুণ আকর্ষণীয় গন্তব্য। যদিও এখানে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সরাসরি নেই, তবে খুব স্বল্প খরচে অনলাইনে ই-ভিসা নিয়ে নেওয়া যায়। ১ লাখ টাকার বাজেটে ভিয়েতনামের বিখ্যাত স্ট্রিট ফুড, হ্যালং বের ক্রুজ ভ্রমণ এবং হো চি মিন সিটির জাঁকজমক অনায়াসেই উপভোগ করা সম্ভব। যারা একটু ভিন্ন ধাঁচের সংস্কৃতি দেখতে চান, তাদের জন্য ভিয়েতনাম সেরা পছন্দ হতে পারে। শপিং ও বিনোদনের থাইল্যান্ড থাইল্যান্ড মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফি মওকুফ বা ভিসা ফ্রি সুবিধা দিয়ে থাকে। যখন এই সুযোগ থাকে, তখন ব্যাংকক আর পাতায়াতে দুই জন মিলে ৪-৫ দিনের ভ্রমণ ১ লাখ টাকার বাজেটে খুব সহজেই সম্ভব হয়। স্ট্রিট ফুড আর কেনাকাটার জন্য থাইল্যান্ডের কোনো তুলনা হয় না। তাই আপনার পরবর্তী ট্রিপের পরিকল্পনা শুরু করার আগে এই দেশগুলোর তালিকাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে পারেন। সঠিক সময়ে টিকিট বুক করলে এই বাজেটেও আপনি পেতে পারেন রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ।
অনেক মানুষের দিনের শুরুটাই হয় মোবাইল হাতে নিয়ে। চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ফেসবুক দেখেন, কেউ মেসেজ চেক করেন, আবার কেউ নিউজ ফিড স্ক্রল করতে থাকেন। বিষয়টি এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেই পারেন না, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা মস্তিষ্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসায়েন্স গবেষকদের মতে, সকালে ঘুম ভাঙার পরের প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময় অতিরিক্ত তথ্য, নোটিফিকেশন বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করতে পারে। সকালে উঠেই মোবাইল দেখলে মস্তিষ্কে কী ঘটে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে “স্লিপ মোড” থেকে সচল অবস্থায় আসে। কিন্তু হঠাৎ মোবাইলের আলো, শব্দ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য মস্তিষ্ককে এক ধরনের তাত্ক্ষণিক স্ট্রেসে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কাজের মেসেজ দেখলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে সকাল থেকেই অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে যেসব মানুষ ঘুম থেকে উঠেই খারাপ খবর, অফিসের চাপ বা অন্যের জীবনযাপন দেখতে শুরু করেন, তাদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি মানসিক ক্লান্তি দেখা যায়। চোখ ও মন দুটোর ওপরই পড়ে প্রভাব চোখ খোলার পরপরই মোবাইলের উজ্জ্বল আলো চোখের ওপরও চাপ তৈরি করে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার সমস্যাও বাড়তে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা অনেক মানুষের মধ্যে “ডোপামিন নির্ভরতা” তৈরি করছে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের চেয়ে মোবাইলের দ্রুত উত্তেজনামূলক তথ্যের প্রতি বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। গবেষণায় কী পাওয়া গেছে কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া, উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং কাজের প্রতি অনীহা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে সকালে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সারাদিনের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সকালে কী করলে ভালো লাগতে পারে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট মোবাইল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়টায় যা করতে পারেন: এক গ্লাস পানি পান করুন জানালার পাশে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলো নিন হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাহাঁটি করুন ফজরের নামাজ বা মেডিটেশন করতে পারেন দিনের পরিকল্পনা মাথায় গুছিয়ে নিন পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরু শান্তভাবে হলে মস্তিষ্কও তুলনামূলক স্থির থাকে। ভবিষ্যতে কেন এটি বড় সমস্যা হতে পারে বর্তমানে শিশু থেকে বড় সবাই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখার অভ্যাস ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া ও দ্রুত বিরক্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে এই অভ্যাসও একটি কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন সকালে ফোন দেখা তেমন একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে সেটি মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই সকালে অন্তত কিছু সময় নিজের জন্য রাখা এখন শুধু ভালো অভ্যাস না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবার ইনস্টাগ্রামের ডিএম (ডাইরেক্ট মেসেজ) অপশন থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে এখন থেকে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও এবং ভয়েস নোটের তথ্য মেটার কাছে উন্মুক্ত থাকবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে শুধু বার্তা পাঠানো ব্যক্তি এবং গ্রহণকারীই তথ্য দেখতে পারেন। মাঝখানে অন্য কেউ, এমনকি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানও সেই বার্তা পড়তে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে ইনস্টাগ্রামে এই সুবিধাকে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখা হতো। মেটার নতুন এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর প্রযুক্তি ও গোপনীয়তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, এটি ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর হাতে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে। গোপনীয়তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘বিগ ব্রাদার ওয়াচ’-এর অ্যাডভোকেসি প্রধান জ্যাক কুলসন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। এতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে।” তবে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা কিছু সংগঠন মেটার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিশু সুরক্ষা সংস্থা এনএসপিসিসির নীতিনির্ধারণ বিভাগের সহযোগী প্রধান রানি গোবিন্দর বলেন, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু থাকলে অনেক সময় শিশু নির্যাতন বা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলিমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ হজসন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইনস্টাগ্রামে এনক্রিপশন সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও মেটা দাবি করেছে, বর্তমানে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা, ভয়েস নোট বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য বিজ্ঞাপন লক্ষ্য নির্ধারণ কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয় না। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করার চাপে রয়েছে। তবে ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে এনক্রিপশন সুবিধা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের আস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র দ্যা মেইল
ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য দারুণ একটি খবর! সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি তাদের 'এসএমই এবং এগ্রি ক্রেডিট' বিভাগে নতুন জনবল নেওয়ার জন্য একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা আগামী ৩১ মে, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে এই চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। পদের বিবরণ: ১. পদের নাম: জেও-এসইও (এসএমই এবং এগ্রি ক্রেডিট) পদসংখ্যা: নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি (অনির্ধারিত) বেতন স্কেল: আলোচনা সাপেক্ষে (বেতনের পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড, ইন্স্যুরেন্স, গ্র্যাচুইটি এবং বছরে ২টি উৎসব ভাতার সুবিধা দেওয়া হবে) শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে। সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনে কোনো তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে ফিন্যান্স, মার্কেটিং বা ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স, এমবিএ বা বিবিএ করা থাকলে প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। আবেদনের নিয়ম: এই চাকরির আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। সরাসরি, ইমেইল বা ডাকযোগে পাঠানো কোনো আবেদনপত্র ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। কেবল বাছাই করা প্রার্থীদেরই ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হবে। শর্তাবলী ও নির্দেশনা: নিয়োগ পেলে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। নারী ও পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীদের এসএমই বা এগ্রি ক্রেডিট প্রস্তাবনা তৈরি, ডিরেক্ট সেলস এবং রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। চাপের মধ্যে কাজ করার এবং বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা (সেলস টার্গেট) পূরণের সক্ষমতা থাকতে হবে। ইংরেজিতে সাবলীল যোগাযোগের পাশাপাশি কম্পিউটারে (বিশেষ করে এমএস অফিসে) ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। বাছাই প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে কারো সুপারিশ বা তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে ধরা হবে। আবেদন যেভাবে: আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা বিডিজবস (bdjobs.com)-এর মাধ্যমে অনলাইনে খুব সহজেই আবেদন করতে পারবেন। মূল বিজ্ঞপ্তিটি পড়তে এবং সরাসরি আবেদন করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন:
মাত্র কয়েক মাস আগে দায়িত্ব ছাড়লেও আবারও কুরাসাও জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ৭৮ বছর বয়সী অ্যাডভোকাটের এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হওয়ার পথে এগোচ্ছেন তিনি। পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়েন অ্যাডভোকাট। জানা গেছে, তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সে সময় সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আবারও কোচিংয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার প্রথমবারের মতো কুরাসাওকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেবেন এই অভিজ্ঞ কোচ। মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপে জায়গা করে ইতিহাস গড়েছে। এটিই বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নতুন রেকর্ড। অ্যাডভোকাটের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফ্রেড রুটেন। তবে মার্চে তার অধীনে দুটি প্রীতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারে কুরাসাও। চীনের কাছে ৫-১ এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে একই ব্যবধানে পরাজয়ের পর দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই ম্যাচের পর খেলোয়াড় পরিষদ দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গিলবার্ট মার্টিনার সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা স্পষ্টভাবে জানায়, রুটেনের বদলে অ্যাডভোকাটকেই তারা বেশি পছন্দ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, কুরাসাও দলের অন্যতম বড় স্পন্সর কোরেনডন এয়ারলাইন্সের মালিক আতিলাই উসলুও কোচ পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন। এমনকি অ্যাডভোকাটকে ফেরানো না হলে বছরে ১০ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ সহায়তা বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত নিজেই পদত্যাগ করেন রুটেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দল ও কোচিং স্টাফের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক নষ্ট হয় এমন পরিবেশ থাকা উচিত নয়। তাই সরে দাঁড়ানোই সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেছি।” আগামী ১৪ জুন হিউস্টনে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কুরাসাও।
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় তারকা রজনীকান্ত। তার স্টাইল, সংলাপ আর পর্দার উপস্থিতিতে এখনও প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমে লাখো দর্শকের। তবে এমন এক জায়গার অভিজ্ঞতা এবার শেয়ার করলেন অভিনেতা, যেখানে নাকি কেউ ফিরেও তাকায়নি তার দিকে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে আধ্যাত্মিক গুরু রবিশঙ্করের ‘আর্ট অব লিভিং’ ফাউন্ডেশনের ৪৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেন রজনীকান্ত। সেখানেই নিজের জীবনের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলেন তিনি। রজনীকান্ত জানান, আশ্রমে যাওয়ার আগে তিনি ভেবেছিলেন অন্য জায়গার মতো সেখানেও মানুষ তাকে ঘিরে ধরবে। বিশেষ করে সেখানে তামিলনাড়ু থেকেও অনেক মানুষ ছিলেন বলে জানান তিনি। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে পুরো উল্টো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন এই সুপারস্টার। রজনীকান্ত বলেন, “শত শত মানুষ ছিল সেখানে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, একজন মানুষও আমার দিকে ফিরে তাকাচ্ছিল না।” এই অভিজ্ঞতা তাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে বলেও জানান অভিনেতা। তার ভাষায়, “সেই মুহূর্তেই বুঝেছিলাম আধ্যাত্মিকতার শক্তি কতটা গভীর। সত্যিকারের স্টারডম আসলে কী, সেটা আমি সেখানে গিয়ে অনুভব করেছি।” অনুষ্ঠানে রজনীকান্ত আরও জানান, আশ্রমের পরিবেশ তাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। প্রকৃতি, সরোবর এবং প্রাণীদের সঙ্গে কাটানো সময়কে তিনি জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। মজার ছলে অভিনেতা বলেন, “ওখানে অনেক হাতি, ঘোড়া আর গরু ছিল। এমনকি একটি ঘোড়ার নামও ছিল ‘রজনী’।” এক সময় বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করা রজনীকান্ত আজ ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ধনী অভিনেতাদের একজন। তবে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও তার সাধারণ জীবনযাপন ও বিনয়ী আচরণ প্রায়ই আলোচনায় আসে। এর আগেও বিমানের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করা কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার কারণে ভক্তদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেতা। রজনীকান্তের এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন তারকার গল্প নয়, বরং খ্যাতির বাইরের বাস্তবতাও তুলে ধরে। যেখানে সিনেমার জগতে কোটি মানুষের ভালোবাসা একজন অভিনেতাকে ঘিরে থাকে, সেখানে আধ্যাত্মিক পরিবেশে ব্যক্তি পরিচয়ের চেয়ে মানসিক শান্তি ও আত্মিক চর্চাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর সেটিই হয়তো নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন রজনীকান্ত।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .