প্রধানমন্ত্রী

টাইম ১০০ - ছবি দিগন্ত পোস্ট
টাইমের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশ্বের রাজনীতি ও নেতৃত্বে প্রভাবশালী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী 'টাইম'-এর ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় নাম উঠেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের এই তালিকাটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকীটি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নেতৃত্বের এই স্বীকৃতি দেশে ও বিদেশে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। টাইম ম্যাগাজিনের এই তালিকায় বিভিন্ন বিভাগ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থান করে নিয়েছেন ‘লিডারস’ বা নেতা বিভাগে। এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনি ১৬তম অবস্থানে রয়েছেন। ম্যাগাজিনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা এবং বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়, আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।  প্রতি বছরই টাইম সাময়িকী বিশ্বের এমন ১০০ জন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে, যারা তাদের কাজ, চিন্তা বা নেতৃত্বের মাধ্যমে সারা বিশ্বে পরিবর্তনের ছাপ রাখছেন। ২০২৬ সালের এই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তিকে বিশ্লেষকরা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারেক রহমানের এই অর্জনে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। যদিও এর আগে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজনকে টাইমসের এই ১০০ জনের তালিকায় দেখা গেছে।  এ বছরের টাইম ম্যাগাজিনের এই বিশেষ সংখ্যাটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাতও করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তার ব্যক্তিগত জীবনের এক ট্র্যাজিক মুহূর্তের কথা উঠে এসেছে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান যখন ঢাকায় পা রাখেন, তার মাত্র পাঁচ দিন পরেই তার মা এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরলোকগমন করেন। মায়ের মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই তিনি দেশ পরিচালনার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। টাইম-এর সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত শোককে তিনি দেশের ১৭ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার শক্তিতে রূপান্তর করতে চান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব দূর করাকে তিনি প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে তলানিতে ঠেকে যাওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করাও তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তবে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগগুলো আদালত কর্তৃক খারিজ হওয়ার পর, তিনি এখন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন। তারেক রহমান টাইম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, তার হাতে নষ্ট করার মতো আর সময় নেই। তিনি বলেন, “আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে যাতে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।” দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই এখন তার মূল লক্ষ্য। টাইমের এই স্বীকৃতি বিশ্বমঞ্চে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অবস্থানকেই আরও দৃঢ় করল।

ডিপি প্রতিবেদন ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ 0
ছবিঃ কালেক্টেড
সবার জন্য ই-হেলথ কার্ড: বড় ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরের সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এবং দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি জেলার মানুষ এই বিশেষ কার্ডের সুবিধা পাবেন। জেলাগুলো হলো— খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী। এই কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি খাল খনন ও নদী সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী জুন ২০২৬ সালের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রায় ২৭০০ কিলোমিটার খাল খনন ও সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো আগামী ৫ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন করা, যা কৃষি ও পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনবে। পরিবেশ রক্ষায় সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যার মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ চারা এখনই রোপণের জন্য তৈরি আছে। শুধু পরিবেশ নয়, শিক্ষাখাতেও আসছে বড় চমক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলগুলোতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এছাড়া ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসায় আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় বড় খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আইসিটি খাতের উন্নয়নে এবং বাংলাদেশে দ্রুত ‘পেপাল’ (PayPal) সেবা চালুর জন্য এরই মধ্যে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা এবং ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় ঋণের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতেও আসছে বড় পরিবর্তন। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বেকারদের জন্য বড় খবর হলো, সরকার মোট ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কর্মসংস্থান—সব খাতেই একগুচ্ছ নতুন সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ 0
জনপ্রিয়
বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে জেনে নিন

ফুটবল বিশ্ব সব সময়ই তর্কে মেতে থাকে এটা নিয়ে যে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে ? পেলে নাকি ম্যারাডোনা? তবে বর্তমান যুগে সেই তর্কের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং হালান্ডরা। ফিফা র‍্যাংকিং, ব্যালন ডি'অর এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায়, কিছু খেলোয়াড় নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফুটবল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নানান রকমের নাটকীয়তা দেখতে হয়, নতুন নতুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত,  নতুন স্টাইল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন হয়, আর তাই প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার পরিবর্তন হয়। আজ আমরা আলোচনা করব বর্তমান সময়ের সেই সেরা ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে, যারা তাদের পরিসংখ্যান এবং জাদুকরী খেলা দিয়ে নিজেদের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১. লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল জাদুকর, যাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহাতারকা তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন এবং সেখানে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন।  কেন তিনি সেরা? কারণ, তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন। মেসির ড্রিবলিং, ভিশন এবং প্লে-মেকিং ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৮০০ এর বেশি গোল করেছেন এবং ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী। জন্য মেসিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলা হয়  ২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো  ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। ১৯৮৫ সালে জন্মানো এই মহাতারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্টাসের হয়ে ইউরোপ শাসন করেছেন। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো তিনি শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। তিনি ৫ বার ব্যালন ডি'অর এবং ৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাঁর অদম্য মানসিকতা এবং ফিটনেস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে তিনি সবার উপরে , অফিসিয়াল ম্যাচে ৯০০ এর বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য মাইলফলক তিনি স্পর্শ করেছেন। ৩. কাইলিয়ান এমবাপ্পে  কাইলিয়ান এমবাপ্পে আধুনিক ফুটবলের গতি এবং কৌশলের এক দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। তিনি ফরাসি লিগের ক্লাব পিএসজি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এমবাপ্পে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং তাঁকে ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন করে তুলেছে। তিনি সর্বকালের সেরাদের পথে হাঁটছেন কারণ, মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, তিনি ইতিমধ্যেই ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৩০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৪. আর্লিং হালান্ড  নরওয়ের এই তরুণ স্ট্রাইকার বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর 'গোলমেশিন' হিসেবে পরিচিত। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা হালান্ড তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি কেন সেরাদের তালিকায়? কারণ, তিনি প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ট্রেবল (একই মৌসুমে তিনটি প্রধান শিরোপা) জেতাতে মূল ভূমিকা রেখেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে, তাঁর গোল প্রতি ম্যাচের অনুপাত অবিশ্বাস্য; খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৫০-এর বেশি গোল করে ফেলেছেন। ৫. কেভিন ডি ব্রুইন  বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডারকে বর্তমান বিশ্বের সেরা 'প্লে-মেকার' বা মাঝমাঠের জাদুকর বলা হয়। তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ডি ব্রুইন তাঁর মাপা পাস এবং দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। স্ট্রাইকাররা গোল করেন ঠিকই, কিন্তু সেই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ডি ব্রুইন। তিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবকিছু জিতেছেন। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টের দিক দিয়ে বেশি সমৃদ্ধ; তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এবং দ্রুততম ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ডধারী। ৬. ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ছন্দের বর্তমান ধারক ও বাহক হলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তরুণ তারকা তাঁর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে ওস্তাদ। তিনি বর্তমানে ব্যালন ডি'অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিমধ্যেই বড় ম্যাচগুলোতে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করছেন। ৭. রড্রি  রড্রিগো হার্নান্দেজ বা রড্রি হলেন স্পেনের একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়কে বর্তমান ফুটবলের 'ইঞ্জিন' বলা হয়। তিনি মাঠে থাকলে তাঁর দল খুব কমই হারে। তিনি দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং খেলা তৈরি করেন। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয় এবং স্পেনের ইউরো জয়ে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। পরিসংখ্যান হয়তো তাঁর প্রভাব পুরোপুরি বোঝাতে পারবে না, কিন্তু তাঁর পাসের নির্ভুলতা এবং ট্যাকল করার ক্ষমতা বিশ্বসেরা। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ৮. হ্যারি কেন হ্যারি কেন একজন ইংলিশ পেশাদার ফুটবলার এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা কমপ্লিট স্ট্রাইকার। তিনি জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হ্যারি কেন কেবল গোল করেন না, তিনি নিচে নেমে খেলা তৈরি করতেও দক্ষ। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে তিনি রেকর্ড গোলদাতা ছিলেন এবং বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখেও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯. মোহামেদ সালাহ  মিশরের এই ফরোয়ার্ডকে বলা হয় 'ইজিপশিয়ান কিং'। তিনি ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা সালাহ বর্তমানে বিশ্বের সেরা রাইট-উইংগারদের একজন। তাঁর বাম পায়ের জাদুকরী শট এবং গতি লিভারপুলকে বহু শিরোপা জিতিয়েছে। তিনি আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন এবং ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১০. জুড বেলিংহাম জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের একজন তরুণ মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ এর হয়ে খেলছেন। ২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়কর খেলোয়ার খুব অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। মিডফিল্ডার হয়েও তিনি স্ট্রাইকারের মতো গোল করার ক্ষমতা রাখেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমেই তিনি লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরিপক্বতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে ভবিষ্যৎ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তাঁর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান এখনো ছোট হলেও, ইমপ্যাক্ট বা প্রভাবের দিক দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে। বর্তমান বিশ্বে যত প্রকারের খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ফুটবল একটি জনপ্রিয় এবং র‍্যাংকিং এর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আর  এই খেলাটি সারা বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই জনপ্রিয়।  ফুটবল খেলায় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকেন এর মধ্যে কিছু কিছু খেলোয়াড় তাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা ও খেলার ধরনের কারণে বেশ সুনাম কুরিয়েছেন। আর তাই কিছু কিছু খেলোয়াড় এখনো বিশ্বসেরা।  তবে সেরাদের ও সেরা থাকে থাকে।  বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে এটা আসলে বলা বাহুল্য, তবে আজ আমাদের পরিচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আপনার কাছে কোন খেলোয়াড়টি সবচাইতে বিশ্বের সেরা মনে হয়?  অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার দিয়ে আপনার মন্তব্য জানাবেন। সোর্সঃ FIFA + ESPN + Ballon d'Or + Opta / Sofascore and Transfermarkt বিশ্লেষণ

আজকের পেঁয়াজের দাম - Onion Price in Bangladesh

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ আজকের পেঁয়াজের দাম কত জানুন। শহর কিংবা গ্রামে পেঁয়াজের দামের কেমন পার্থক্য সেটা জানুন। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অবাধ যোগান রয়েছে তাই পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্বস্তিতে বা হাতের নাগালে।  আজকের পেঁয়াজের দাম সর্বশেষ ৮ এপ্রিল ২০২৬ এ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় মোহাম্মাদপুর বাজারে, এছাড়াও অঞ্চল ভেদে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে। দিগন্ত পোষ্টের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে পেঁয়াজের এই সর্বশেষ দামের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন।  আর অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে। বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজ, দেশি পেঁয়াজের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না কমবে এ বিষয়টি নির্ভর করে পেঁয়াজের সরবরাহের উপর, অর্থাৎ কি পরিমান পেয়াজ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে তার ওপর নির্ভর করছে পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।  আর তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের পরিমাণের উপর। পেঁয়াজের আমদানি বেশি হলে দেশি পেয়াজের দাম কমবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।  সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত জানুন

সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা চার লাখের সমান। বর্তমানে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা "জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫" অনুযায়ী বেতন পান।  জানার বিষয় হলো একজন শিক্ষক যিনি শিক্ষাদান করেন তিনি কি পরিমান টাকা বেতন হিসেবে পান। তবে  বাস্তবতা হলো এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত নানান বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বর্তমানে সরকারের নিকট আন্দোলন চলমান। জানা যাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কত। অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষকের বেতন কত টাকা এবং বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য কি সুযোগ-সুবিধা পান।   এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কারা?  এমপিও (MPO) হলো Monthly Pay Order। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (যেমন: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন।  যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলা হয়,  এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন । তবে মনে রাখা ভালো সব শিক্ষকই এমপিও ভুক্ত নন। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হতে হলে NTRCA নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।  কিন্তু একটা জিনিস অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে , এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন একজন সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষক এক নন। সম্পূর্ণ সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা পান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হলেও সরকারের কাছ থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পান। আর এই বৈষম্যের কারণেই সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা বেতন ভাতা নিয়ে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন।  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন- শিক্ষাস্তর অনুযায়ী পদের নাম ও বেতন গ্রেড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তাদের পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১. এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত? পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) সহকারী শিক্ষক (বি.এড) গ্রেড ১১ ১২,৫০০ - ৩০,২৩০ সহকারী শিক্ষক (বি.এড ছাড়া) গ্রেড ১২ ১১,৩০০ - ২৭,৩০০ সিনিয়র শিক্ষক (১০ বছর পূর্তিতে) গ্রেড ১০ ১৬,০০০ - ৩৮,৬৪০ সহকারী প্রধান শিক্ষক / সহকারী সুপার গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ প্রধান শিক্ষক / সুপার গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ দ্রষ্টব্য: উচ্চতর গ্রেড (সাধারণত ৬ষ্ঠ গ্রেড) পাওয়ার সুযোগও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রয়েছে। ২. এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের বেতন কত?  পদের নাম গ্রেড মূল বেতন স্কেল (টাকায়) প্রভাষক গ্রেড ৯ ২২,০০০ - ৫৩,০৬০ সহকারী অধ্যাপক (পদোন্নতিতে) গ্রেড ৭ ২৯,০০০ - ৬৩,৪১০ সহযোগী অধ্যাপক গ্রেড ৬ ৩৫,৫০০ - ৬৭,০১০ অধ্যক্ষ গ্রেড ৫ / ৪ ৪৩,০০০ - ৬৯,৮৫০ / ৫০,০০০ - ৭১,২০০ মূল বেতনের বাইরে যা পান (ভাতা) এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পান, যা সরকারি চাকরিজীবীদের থেকে ভিন্ন: বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ১,০০০ টাকা (স্থির)। চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা (স্থির)। উৎসব ভাতা: শিক্ষক: মূল বেতনের ২৫% (বছরে দুবার)। কর্মচারী: মূল বেতনের ৫০% (বছরে দুবার)। বৈশাখী ভাতা: মূল বেতনের ২০% (বছরে একবার)। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের ৫% (বছরে একবার)। বেতন থেকে যা কর্তন করা হয় প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে মোট ১০% অর্থ কর্তন করা হয়, যা তাদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য জমা থাকে। অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ৬%। কল্যাণ ট্রাস্ট: মূল বেতনের ৪%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের সাথে মূল পার্থক্য যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের সাথে সরকারি শিক্ষকদের বেতন এবং ভাতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের মাঝে আলোচনার বিষয়। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া হিসেবে পান মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে (শহর বা গ্রাম ভেদে ৪০-৬০%), যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ১,০০০ টাকা। চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পান ফিক্সড ১,৫০০ টাকা, যেখানে এমপিওভুক্তরা পান ফিক্সড ৫০০ টাকা। অন্যদিকে উৎসব ভাতা  পান মূল বেতনের ১০০%, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মাত্র ২৫%। এই পার্থক্যগুলো নিরসনের দাবিতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন। সর্বশেষে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদল। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দাবি প্রস্তাব দিয়েছেন।  

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসনে বিএনপির প্রার্থী কে, দেখে নিন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ২৩৭ জন প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে বাকিগুলো জোটের শরিকদের জন্য এবং কিছু আসনে প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করার জন্য রাখা হয়েছে। সোমবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন (ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩) থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।  এই ঘোষণার আগে, দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠকে বসে। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করতে পারে এবং নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো–

পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

যদি আপনি সর্বোপরি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন করেন পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে? তাহলে তার একটা উত্তর হবে তা হলো দুজাহানের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব , সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব , খাতামুন নাবিইয়ীন -  প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) শুধুমাত্র মুসলমানদের কাছেই নয় তদারকি পৃথিবীর অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছেই ইহকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বকালীন ভালো ব্যক্তিত্ব বলতে একটা মানুষকেই নির্দেশনা করে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম। তিনি শুধুমাত্র একজন নবী এবং রাসুল নন, তিনি মানবজাতির জন্য প্রেরিত সর্বোত্তম আদর্শ। তাকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ বলার কারণ কেবল তার ধর্মীয় অবস্থান নয় বরং তার অনন্য চারিত্রিক গুণাবলী, মানব কল্যাণ ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে ২৩ বছরের জীবনে সমগ্র আরবে যে আমুল পরিবর্তন তিনি এনেছিলেন এজন্য।  মাইকেল এইচ হার্ট যিনি একজন ঐতিহাসিক নিরপেক্ষ গবেষক এবং খ্রিস্টান ধর্মালম্বী তাদের মতো অনেক গবেষকরাও হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে ধর্মীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ উভয় ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য তাদের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের রেংকিংয়ে প্রথম স্থানে রেখেছেন।  কেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ বলা হয় কেন হযরত মুহাম্মদ সাঃ পৃথিবীর সবথেকে ভালো মানুষ ছিলেন তার ব্যাখ্যা এবং উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবেনা। পৃথিবীর সবথেকে ভালো মানুষ ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং আজীবন থাকবেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত দুত , সর্বশেষ নবী বা শেষ নবী। মুসলিম উম্মাহ তাকে পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে গণ্য করে। তিনি ছিলেন উত্তম আদর্শের ধারক। তার জীবনকে সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরবরা তাকে আল আমিন হিসেবে উপাধি দিয়েছিল, নবুওয়াত লাভের আগে মক্কার লোকেরা তার সততা ও বিশ্বস্ততার জন্য তাকে এই নামে ডাকতো।  এক নজরে হযরত মুহাম্মদ সাঃ হযরত মুহাম্মদ সঃ ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী এবং মানবজাতির জন্য আল্লাহর প্রেরিত মহান পথপ্রদর্শক। তাকে সর্বশেষ্ঠ মানুষ বলা হয় কারণ তিনি চরম অরাজকতার যুগে সততা ন্যায় বিচার ও মানবতার এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন একজন স্নেহপরায়ণ স্বামী ও পিতা ছিলেন, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলেন বিচক্ষণ ও ন্যায় পরায়ন শাসক। চরম শত্রুকেও তিনি হাসিমুখে ক্ষমা করেছেন এবং সমাজের নিপীড়িত নারী ও দাসদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তা রেখে যাওয়া আদর্শ ও পবিত্র কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তির অনন্য উৎস।  একটা সময় আরবজাহান ছিল ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত।  তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। মূর্তি পূজা,  মারামারি, হানাহানিতে লিপ্ত ছিল মানুষ । এ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে, তাদের আলোর পথ দেখাতে আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। যাকে সৃষ্টি করা না হলে এই পৃথিবী সৃষ্টি হতো না স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কোরআনের মধ্যে এটি ঘোষণা দিয়েছেন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরবের মক্কায় কুরাইশ গোত্রের বনি হাসিম বংশের মা আমিনার কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান এবং ছয় বছর বয়সে মাকে হারান। এতিম হিসেবে তার শৈশব শুরু হয়।  এরপরের প্রথমে তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব এবং দাদার মৃত্যুর পরে চাচা আবু তালিব তাকে লালন পালন করেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি ধৈর্য, কষ্ট সহিষ্ণুতা, এবং স্বাবলম্বিতার শিক্ষা লাভ করেন। তিনি চাচাদের সাহায্য করেন এবং মক্কায় পাহাড়ের ছাগল চরাতেন, পরে ব্যবসায়ী কাজে বিভিন্ন কাফেলায় অংশগ্রহণ করতেন। এরই মাঝে তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন এবং হেদায়েতের বার্তা নিয়ে মানুষকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।  তিনি ছিলেন ক্ষমা ও দয়ার মূর্ত প্রতীক মক্কা বিজয়ের পর যখন তিনি বিজয়ী বেশে সর্ববস করলেন তখন তার হাতে ছিল সকল পুরনো শত্রুর বিচার করার ক্ষমতা। কিন্তু তিনি সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করলেন। যারা তাকে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে অকথ্য নির্যাতন করেছে, যাদের কারণে তিনি তার এলাকা ত্যাগ করে অন্য এলাকায় হিজরত করেছেন, তিনি সকলকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেন। আবার আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, তিনি যখন দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তায়েফবাসীর কাছে গেলেন তখন তাকে তায়েব বাসীরা পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছিলেন, তখন তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেস্তা প্রেরিত হয়, তবে তিনি ফেরেশতাকে থামিয়ে তায়েফবাসীর হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।  আর এখান থেকেই ক্ষমা একটি মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি ছিলেন অতুলনীয় নম্র এবং বিনয়ী তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং বিনয়ী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজের যত নিজে সেলাই করতেন, ঘরের কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করতেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে মাটিতে বসে আহার করতেন, তিনি নিজে খালি পেটে থেকেও তার উম্মতদের নিয়ে চিন্তা করতেন, এবং সাহাবাগণদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি কখনোই নিজেকে নিয়ে অহংকার করতেন না এমনকি কাউকে নিয়ে হিংসাও করতেন না, এমনকি তিনি সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন " তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, আমি কেবল আল্লাহর একজন বান্দা" । তিনি ছিলেন নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অনন্য উদাহরণ আইয়ামে জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগে যখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করা দেয়া হতো তখন হযরত মুহাম্মদ সাঃ ছিলেন এক আলোর বার্তা, প্রাচীন আরবের সমাজে আরো গোত্রে কন্যা সন্তান জন্মদেয়া কে চরম অপমানজনক ও দারিদ্র্যের কারণ মনে করা হতো। পাষাণ হৃদয়ের বাবারা সামাজিক লজ্জার ভয় নিজেদের নিষ্পাপ কনা শিশুদের মরুভূমির বাড়িতে জীবন্ত দাফন করে ফেলত।  একবার এক ব্যক্তি যখন মহানবীর কাছে নিজের কন্যাকে অতীতে জীবন্ত কবর দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা বর্ণনা করেন তখন নবীজি সঃ তা শুনে অঝোরে কেঁদেছিলেন। এরপরে তিনি এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি ইসলামের মাধ্যমে কঠোরভাবে এই হত্যাযজ্ঞ নিষিদ্ধকরণ করেন। এবং ঘোষণা করেন যে কন্যা সন্তান বোঝা নয়, বরং জান্নাত লাভের মাধ্যম। তার এই পদক্ষেপেই সমাজের নারীরা বেঁচে থাকার সম্মানজনক অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়।  তিনি ছিলেন মানবিক ও সামাজিক ন্যায় বিচারক তিনি শুধুমাত্র ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করেননি বরং ইসলামের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি তৎকালীন আরবে সুদের মতো শাসন মূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করেন, তিনি শ্রমিকের কল্যাণে কাজ করেন। এবং তখন তিনি একটি বাণী প্রদান করেন " শ্রমিকের মজুরি তার ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগে দিয়ে দাও"। তিনি ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিতেন, এক্ষেত্রে তিনি বলেছিলেন যে তার মেয়ে ফাতেমা ও যদি চুরি করত তবে তিনি তার হাত কেটে দিতেন। এক্ষেত্রে তিনি ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ে সারা পৃথিবীতে থাকবে।  তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত এবং সৎ ব্যক্তিত্ব তিনি নবুওয়ত লাভের আগেই তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মক্কা নগরীর বিভিন্ন মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। মক্কার মানুষ তাকে " আল আমিন" বা বিশ্বস্ত উপাধি দিয়েছিলেন। নবুওয়ত লাভের পরে যখন মক্কার লোকেরা তাকে মারতে চেয়েছিল, তখনও তারা তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র তার কাছে গচ্ছিত রাখতো, যা তিনি মদিনায় হিজরতের সময়ও ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।  হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার জীবনে এতিম হিসেবে শুরু হলেও ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পর তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে জ্ঞান, ন্যায় বিচার এবং একত্ববাদের আলোয় উদ্ভাসিত করেন। কষ্ট সহ্য করেও তিনি একটি আদর্শ সমাজ ও মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছেন।  তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যে নৈতিকতা, দয়া, ক্ষমা , বিনয় ও ন্যায় বিচারের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তা ১৪০০ বছর পরেও কোটি কোটি মানুষের জীবনের প্রভাব ফেলেছে। একজন ধর্মীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতা হিসেবে তার সাফল্য এবং ঔদার্য তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর আদর্শকে ধারণ করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।  ভুল ত্রুটি মার্জনীয় - লেখার মধ্যে কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন -  শফিক/ডিপি  

সপ্তাহের সেরা

ছবিঃ পেয়াজ
অর্থনীতি

আজকের পেঁয়াজের দাম - Onion Price in Bangladesh

ডিপি প্রতিবেদন ৮ এপ্রিল, ২০২৬ 0