প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) মাগুরার শ্রীপুরে একটি রেললাইন প্রকল্প পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠিক একইভাবে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনও একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচন বানচাল করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কতটি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে সেটা না জানাটা এখন বড় একটা ঝুঁকি। অনেকেই জানেন না যে তাদের NID ব্যবহার করে অন্য কেউ সিম তুলে রেখেছে। সেই সিম দিয়ে অপরাধমূলক কাজ হলে বিপদে পড়তে পারেন আপনি। আজই চেক করুন NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে । রাজশাহীর একজন তরুণ জানিয়েছেন, হঠাৎ একদিন পুলিশের ফোন পেয়ে জানতে পারেন তার NID দিয়ে তোলা একটি সিম থেকে প্রতারণামূলক কল করা হয়েছে। অথচ সেই সিমের কথা তিনি জানতেনই না। পরে BTRC-তে অভিযোগ করে বিষয়টা সমাধান হয়, কিন্তু মাসখানেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাকে। NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে জানার উপায় এটা জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো যেকোনো মোবাইল থেকে সরাসরি *16001# ডায়াল করুন। ডায়াল করার পর NID নম্বর শেষ 4 ডিজিট দিতে বলবে, দিলেই আপনার NID-র বিপরীতে নিবন্ধিত সব সিমের তালিকা সামনে চলে আসবে। কোনো ইন্টারনেট লাগবে না, স্মার্টফোনও লাগবে না, বাটন ফোন থেকেও করা যাবে। আবার অন্যদিকে, মোবাইল অপারেটরের নিজস্ব অ্যাপ ব্যবহার করে এ তথ্যগুলো জানা যায়। গ্রামীণফোন ব্যবহারকারীরা MyGP অ্যাপ, রবি ব্যবহারকারীরা MyRobi অ্যাপ, বাংলালিংক ব্যবহারকারীরা MyBL অ্যাপ এবং টেলিটক ব্যবহারকারীরা MyTeletalk অ্যাপে লগইন করে অ্যাপের মেনু থেকে সিম সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পাবেন। অ্যাপের মধ্যেও আপনার এনআইডির শেষ 4 ডিজিট দিতে হবে। প্রতিটি অ্যাপেই NID দিয়ে রেজিস্ট্রেশন হওয়া সিমের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। বিটিআরসি এর নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে একটি NID দিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি সিম নিবন্ধন করা যায়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে যত কম সিম থাকে ততই ভালো। তালিকায় অপরিচিত কোনো সিম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন এবং BTRC-তে অভিযোগ দায়ের করুন। অভিযোগ করতে BTRC-র হেল্পলাইন নম্বর 100 অথবা complaints.btrc.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন। অভিযোগ দেওয়ার সময় NID নম্বর, সন্দেহজনক সিম নম্বর এবং আপনার যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে।
আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই আশ্বাস দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে; আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।" সিলেট জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হবে। বিশেষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বড় বড় ডিজিটাল স্কিম গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে বর্তমান বিশ্বে অন্যরা আমাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।" খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।" এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় চলন্ত মেট্রোরেল লাইনের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের (কেআইবি) সামনের ফুটপাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবকের নাম আবুল কালাম, যিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন নিশ্চিত করেছেন, ভারী ধাতব বস্তুটি (বিয়ারিং প্যাড) ওই পথচারীর মাথায় আঘাত করায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে আবুল কালাম ব্যাগ হাতে ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় মেট্রোরেল পিলারের ওপর থেকে বিকট শব্দে বস্তুটি নিচে এসে পড়ে। বস্তুর আঘাতে পথচারী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনার ফলে পথচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার পরপরই মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে অবশ্য উত্তরা-আগারগাঁও-উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রয়েছে। এটি প্রথম দুর্ঘটনা নয়; এর আগেও গত বছর সেপ্টেম্বরে ফার্মগেট এলাকাতেই মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল, যদিও সেবার কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে সেই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। প্রকৌশল সূত্র বলছে, এই বিয়ারিং প্যাডগুলো মূলত ট্রেন চলাচলের সময় লাইনের কম্পন শোষণ করে কাঠামোর স্থিতি রক্ষা করে এবং এর প্রতিটির ওজন ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বারবার এই ধরনের যন্ত্রাংশ খুলে পড়ার ঘটনা মেট্রোরেল প্রকল্পের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর প্রশ্ন তুলছে। মেট্রোরেলের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফার্মগেটের খেজুরবাগান মোড়ে নির্মাণ নকশায় ত্রুটি ছিল এবং জাপানিজ ঠিকাদারদের এই বিষয়ে ঠিক করতে বলা হলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে আহ্বায়ক করে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। এদিকে, নিহত আবুল কালামের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং পরিবারের কোনো কর্মক্ষম সদস্যকে মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে বলে সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্ঘটনা নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, এটি নিরাপত্তা জনিত গুরুতর গাফিলতির ফল। দুর্ঘটনার পর এলাকার দোকানদার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে ট্রেন চলাচলের সময় অস্বাভাবিক শব্দ ও কম্পন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। ঢাকাবাসী এখন মেট্রোরেলের নিচে দিয়ে চলাচল করতেও আতঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .