রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় চলন্ত মেট্রোরেল লাইনের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের (কেআইবি) সামনের ফুটপাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই যুবকের নাম আবুল কালাম, যিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন নিশ্চিত করেছেন, ভারী ধাতব বস্তুটি (বিয়ারিং প্যাড) ওই পথচারীর মাথায় আঘাত করায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে আবুল কালাম ব্যাগ হাতে ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় মেট্রোরেল পিলারের ওপর থেকে বিকট শব্দে বস্তুটি নিচে এসে পড়ে। বস্তুর আঘাতে পথচারী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনার ফলে পথচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার পরপরই মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে অবশ্য উত্তরা-আগারগাঁও-উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এটি প্রথম দুর্ঘটনা নয়; এর আগেও গত বছর সেপ্টেম্বরে ফার্মগেট এলাকাতেই মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল, যদিও সেবার কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে সেই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। প্রকৌশল সূত্র বলছে, এই বিয়ারিং প্যাডগুলো মূলত ট্রেন চলাচলের সময় লাইনের কম্পন শোষণ করে কাঠামোর স্থিতি রক্ষা করে এবং এর প্রতিটির ওজন ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বারবার এই ধরনের যন্ত্রাংশ খুলে পড়ার ঘটনা মেট্রোরেল প্রকল্পের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর প্রশ্ন তুলছে।
মেট্রোরেলের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফার্মগেটের খেজুরবাগান মোড়ে নির্মাণ নকশায় ত্রুটি ছিল এবং জাপানিজ ঠিকাদারদের এই বিষয়ে ঠিক করতে বলা হলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে আহ্বায়ক করে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
এদিকে, নিহত আবুল কালামের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং পরিবারের কোনো কর্মক্ষম সদস্যকে মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে বলে সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্ঘটনা নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, এটি নিরাপত্তা জনিত গুরুতর গাফিলতির ফল।
দুর্ঘটনার পর এলাকার দোকানদার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে ট্রেন চলাচলের সময় অস্বাভাবিক শব্দ ও কম্পন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। ঢাকাবাসী এখন মেট্রোরেলের নিচে দিয়ে চলাচল করতেও আতঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অর্থাৎ উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনতে পারেন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ই-পাসপোর্ট ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময় হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণে এই সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিগত ৬ মাসের গড় বিনিময় হার এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের ১০ শতাংশ সারচার্জসহ সংশোধিত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ক্যাটাগরির জন্য ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট এখন ১৬৪ রিঙ্গিত লাগবে, যা আগে ছিল ১৪০ রিঙ্গিত। একই ক্যাটাগরিতে ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য ২৭৩ রিঙ্গিত দিতে হবে, যা আগে ছিল ২৩৩ রিঙ্গিত। ৬৪ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৬৯৫ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৮১৭ রিঙ্গিত হয়েছে এবং ১০ বছর মেয়াদির ক্ষেত্রে ৮১০ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৯৫৩ রিঙ্গিত হয়েছে। অন্যদিকে পেশাজীবী ও অন্যান্য ক্যাটাগরির জন্য ৪৮ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৪৬৫ রিঙ্গিত থেকে বেড়ে ৫৪৫ রিঙ্গিত হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদির জন্য ৫৮০ রিঙ্গিতের পরিবর্তে এখন ৬৮১ রিঙ্গিত দিতে হবে। ৬৪ পাতার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৮১৭ রিঙ্গিত এবং ১০ বছর মেয়াদির জন্য ৯৫৩ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ইএসকেএল সার্ভিস চার্জ হিসেবে আবেদন ফরম পূরণ, ডকুমেন্ট প্রস্তুতকরণ, ইন্টারভিউ, বায়ো-এনরোলমেন্ট, স্ক্যানিং এবং পাসপোর্ট ডেলিভারির অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবার জন্য সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের ৩২ রিঙ্গিত এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের ৬০ রিঙ্গিত প্রদান করতে হবে। হাইকমিশন জানিয়েছে, ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের মান কমে যাওয়ায় সরকারি ফি এবং কল্যাণ তহবিলের সারচার্জ সমন্বয় করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের নির্ধারিত তারিখের পর থেকে নতুন হারে ফি পরিশোধ করে সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সব রাজনৈতিক দলের জন্য পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রটোকল প্রদান করবে অন্তর্বর্তী সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তা প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতা ও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের বাসভবন, কার্যালয়, যাতায়াত, জনসভা এবং সাইবার স্পেসে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
By using this site, you agree to our Cookie Policy .